জার্মানিতে তুর্কি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে

তুরস্কে গত মাসে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর বর্তমানে অস্থিরতা বিরাজ করছে৷ জার্মান প্রশাসন বলছে, এ বছরের প্রথম ৬ মাসে জার্মানিতে তুর্কি আশ্রয়প্রার্থীর যত আবেদন জমা পড়েছে, তা গত পুরো বছরের আবেদনের প্রায় সমান৷

জার্মানিতে বাড়ছে শরণার্থীদের সংখ্যা

জার্মানির শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক কেন্দ্রীয় অফিস শুক্রবার জানিয়েছে, গত বছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় এ বছর তুরস্ক থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে৷ অফিস বলছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১,৭১৯ জন তুর্কি জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন৷

জার্মানির দৈনিক পত্রিকা টাগেসস্পিগেল বলছে, ২০১৫ সালে তুরস্ক থেকে মোট আবেদন পড়েছিল ১৭৬৭টি৷ এদের বেশিরভাগই তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের সংখ্যালঘু কুর্দি সম্প্রদায়৷ এক বছর আগে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি এবং তুরস্কের নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়৷ এর জেরে এ পর্যন্ত ৫,০০০ কুর্দি জঙ্গি এবং ৬০০ নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি৷ তবে সাধারণ মানুষ নিহতের সংখ্যাটি জানায়নি তারা৷

চিকিৎসক থেকে শরণার্থী

সিরিয়ায় রাজধানী দামেস্কে চিকিৎসক হিসেবে ভালোই ছিলেন হামবার আল-ইসা৷ কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর জন্মভূমির সব সুখ ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে হয় তাঁকে৷

অনেক পথ পেরিয়ে...

মেসিডোনিয়ায় পৌঁছানোর পর সার্বিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়েছে হামবারকে৷ হেঁটে কোনো শহরে পৌঁছালেই শুরু হতো ইন্টারনেট ক্যাফে খুঁজে বের করার চেষ্টা৷ পেলে প্রথম কাজ কোথায় আছেন, কেমন আছেন সে সম্পর্কে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো৷ একা এসেছেন, তাই স্বজনদের তাঁর জন্য খুব চিন্তা৷ তাঁদের চিন্তা দূর করা ও তাঁদের সম্পর্কে জেনে নিজেকে নিশ্চিন্ত রাখতেই পছন্দ করেন হামবার৷

অবশেষে জার্মানিতে...

অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে জার্মানিতে পৌঁছেছেন হামবার৷ সিরিয়াতে সার্জন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন দেশে চাইলেই তো আর চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করা যায় না৷ জার্মান ভাষা শিখে নিজেকে তৈরি করতে হবে সবার আগে৷ সেই চেষ্টা চলছে৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুবাদকের কাজও করছেন৷ তাঁর স্বপ্ন অবশ্য জার্মানিতে বসবাস করা নয়৷ সুসময় ফিরে এলে নিজের দেশেই ফিরতে চান হামবার৷

দেশান্তরী এক আফগান কিশোরী

তোবার বয়স এখন ১৬ বছর৷ আফগানিস্তানের হেরাত থেকে জার্মানিতে এসেছে সে৷ হেরাতে নিয়মিত স্কুলে যেত সে৷ লেখাপড়া করেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নও দেখতো৷ কিন্তু তালেবান বেছে বেছে মেয়েদের স্কুলে হামলা শুরু করায় তোবার পক্ষেও আর দেশে থাকা সম্ভব হয়নি৷

সপরিবারে জার্মানিতে

আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে অবশ্য একা আসেনি তোবা৷ দুই বোন এবং তাঁদের স্বামীও এসেছেন সঙ্গে৷ কাছের এই মানুষগুলো সঙ্গে থাকার কারণেই ইরান, তুরস্ক, গ্রিস এবং বলকান অঞ্চল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছাতে পেরেছে তোবা৷

দুঃস্বপ্নে পোড়া স্কুল, স্বপ্নে সুন্দর আগামী

তালেবান হামলা থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছেড়ে এলেও স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু ছাড়েনি তোবা৷ নিজেকে নতুন করে তৈরি করছে সে৷ জার্মান ভাষা শিখছে৷ স্বাবলম্বী হতে হলে জার্মানিতে ভাষা শেখাটা তো সবার জন্যই জরুরি৷

এক সাংবাদিকের পরিবার

ওপরের ছবির তিনজন জার্মানিতে এসেছেন সিরিয়ার ইদলিব থেকে৷ আহমেদ (মাঝখানে)-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী হেবা এবং বন্ধু সালেহ৷ সিরিয়ায় সাংবাদিক হিসেবে বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন আহমেদ৷

শৈশবেই প্রবাসী

আহমেদ-হেবা দম্পতির এই মেয়েটিও এসেছে জার্মানিতে৷ মাত্র এক বছর বয়সেই শুরু হয়েছে তার প্রবাসজীবন৷ ওর বাবা অবশ্য যুদ্ধ থামলেই ফিরে যেতে চায় সিরিয়ায়৷

গুলেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্কের সরকার৷ তাঁর বিরুদ্ধে তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে৷

জার্মানি ইউরোপ | 29.07.2016

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গুলেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, তুরস্কের বিচার ব্যবস্থা যে স্বাধীনতা নয় এটি তার প্রমাণ৷ এটি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এর্দোয়ানের স্বৈরশাসনের ফল এবং দেশটি যে গণতন্ত্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তার প্রমাণ৷ গুলেন বলেন, তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার বরাবরই বিরোধিতা করে আসছেন তিনি এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছেন৷

গুলেনের ব্যবসায় হস্তক্ষেপ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান বলেছেন, গুলেনের অর্থে পরিচালিত স্কুল, ফার্ম এবং দাতব্য সংস্থা সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি আর এগুলো সমূলে উৎপাটনে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না তিনি৷ তিনি বলেন, অভ্যুত্থান চেষ্টায় বন্দুকধারীদের যারা অর্থ সহায়তা করেছে তাদের কোনোরকম ছাড় দেয়া হবে না৷

এপিবি/জেডএইচ (এপি, এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

জার্মানিতে বাড়ছে শরণার্থীদের সংখ্যা