জার্মানিতে নির্বাচনের আগে আলোচনায় ‘ফেক নিউজ'

ফেক নিউজ জার্মান নির্বাচনে কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারে, এ আশঙ্কা অমূলক প্রমাণিত হয়েছে৷ এছাড়া রাজনীতির খেলায় অপবাদ বা অপপ্রচার নতুন কিছু নয়৷

২০১৭ সালের জার্মান নির্বাচনে এ পর্যন্ত কোনো বড় কেলেঙ্কারি মাথা চাড়া দেয়নি ও ২৪শে সেপ্টেম্বর অবধি পরিস্থিতি সেরকমই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ নিন্দুকরা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলতে পারবেন, ‘‘নাহ, এবারের নির্বাচনে ফেক নিউজ কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারেনি৷''

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ফেক নিউজ পদবাচ্য সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনাটি ঘটেছে একটি নির্বাচনি পোস্টারকে কেন্দ্র করে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের ঐ ‘ফেক' পোস্টারে স্লোগান হিসেবে যা দেখানো হয়েছিল, ‘‘এমন একটি জার্মানির জন্য, যেখানে আমরা সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করি৷''  সেটি আদতে সাবেক পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট এসইডি দলের একটি পোস্টার থেকে নেওয়া৷ যেহেতু ম্যার্কেল সাবেক পূর্ব জার্মানির মানুষ, সেহেতু এই পন্থায় তাঁকে চিরন্তন কমিউনিস্ট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল৷ অবশ্যই সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ 

সমাজ

মহাকাশ থেকে ফেসবুক লাইভ

একটি ফেসবুক লাইভে দেখাচ্ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে নভোচারীদের স্পেসওয়াক করার দৃশ্য৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ভাইরাল হয়ে যায়৷ ইউএনআইএলএডি, ভাইরাল ইউএসএ এবং ইন্টারেসটিনেট- এটি পোস্ট করার পর ফেসবুকে বিপুল পরিমাণ লাইক ও শেয়ার হয়৷ কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ফুটেজের কোথাও নাসা বা ফেসবুকের লাইভ স্ট্রিম কথাটির উল্লেখ ছিল না৷ পরে নাসা’র এক মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি ২০১৩ সালে রুশ নভোচারীদের ধারণ করা ভিডিও৷

সমাজ

করোনা বিয়ারের প্রতিষ্ঠাতার উইল

২০১৬ সালের অন্যতম ভাইরাল খবর এটি-করোনা বিয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা আন্তোনিও ফার্নান্দেজ মৃত্যুর আগে তাঁর জন্মভূমি স্পেনের একটি গ্রামের ৮০টি পরিবারের মধ্যে ২০ কোটি ইউরো দান করার উইল করে গেছেন৷ ডেইলি মেইল প্রথমে খবরটি প্রকাশ করে স্থানীয় পত্রিকার বরাত দিয়ে৷ পরে আরটি, দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্ট, দ্য মিররসহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রও তা প্রকাশ করে৷ পরে ফার্নান্দেজের পরিবার প্রতিবাদ জানানোয় তারা খবরটি সরিয়ে ফেলে৷

সমাজ

ধর্ষণের ভুয়া খবর

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বার্লিনে লিজা নামের এক জার্মান কিশোরীকে এক দল অভিবাসীর ধর্ষণ করার খবর ভাইরাল হয়ে যায়৷ বিশেষ করে রুশ মিডিয়ায় খবরটি বিপুল কভারেজ পায়৷ পরে কিশোরীটি জানায়, সে সব কিছু বানিয়ে বলেছে৷

সমাজ

মার্কিন নির্বাচন

মার্কিন নির্বাচনে যে ভুয়া খবরটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছিল তাতে ছিল ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধের মাত্রার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের তুলনা৷ এছাড়া নির্বাচনের ফলাফলের এমন একটি মানচিত্র ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশ করেছিল, যেটির দিকে ভালোভাবে তাকালে বোঝা যায় একেবারে ওপরে ২০১২ সালের উল্লেখ রয়েছে৷

সমাজ

ট্রাম্প এবং সিম্পসন

সিম্পসন কার্টুনে বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী থাকে৷ আর এ কারণে ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পর একটি ট্রল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে বলা হয় সিম্পসনে আগেই বলা হয়েছিল, ট্রাম্প নির্বাচনে জিতবেন৷ কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু হয়নি৷ অথচ টুইটারে বাস্তব আর পুরোনো ভুয়া সিম্পসনের ছবি দেয়ায় নিউজটি ভাইরাল হয়ে যায়৷

সমাজ

শোকার্ত ক্যাঙ্গারু

ডেইলি মেইল এমন একটি ছবি প্রকাশ করে যেখানে দেখানো হয় এক পুরুষ ক্যাঙ্গারু নারী ক্যাঙ্গারুকে দুই হাতে ধরে অশ্রুসজল চোখে তাকিয়ে আছে৷ ইভান সুইৎজারের তোলা ছবিটি এভাবে উপস্থাপনের কারণে ভাইরাল হয়ে যায়৷ তবে ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা জানান, নারী ক্যাঙ্গারুর সঙ্গে যৌন মিলনের ইচ্ছে জাগলে পুরুষ ক্যাঙ্গারুর চোখ অশ্রুসজল হয়, তখনই তারা দুই হাত দিয়ে ঝাঁকিয়ে নারী ক্যাঙ্গারুকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে৷

সমাজ

বিখ্যাত গণমাধ্যমের নকল

ভুয়া খবর প্রচারকারীরা জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত ওয়েবসাইটগুলোকে নকল করে ৷ ফলে মানুষ খুব ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে বুঝতে পারে না, সেগুলো প্রকৃত ওয়েবসাইট, নাকি ভুয়া৷ যেমন, এবিসি নিউজ ডট কম এর সঙ্গে ডট সিও যুক্ত করে (ABCnews.com.co), ব্লুমবার্গের সঙ্গে ডট এমএ যুক্ত করে, ওয়াশিংটন পোস্ট ডট কম- এর সঙ্গে ডট সিও যুক্ত করে কয়েকটি ভুয়া সংবাদ সাইট তৈরি করা হয়েছে৷ এসব ওয়েবসাইটের কাজই ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করা৷

জার্মানিতে ফেক নিউজ সংক্রান্ত উদ্বেগ কোনোদিনই আতঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি – এবং সেই উদ্বেগের আদত উৎস ছিল ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ বর্তমানে জার্মানির রাজনৈতিক দলগুলি ফেক নিউজ নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়৷

সিডিইউ

সিডিইউ দলের মূল চিন্তা হল, গণতান্ত্রিক বিতর্কের ধারার উপর ফেক নিউজ কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে৷ সিডিইউ দলের মুখ্য কার্যালয় থেকে ডয়চে ভেলেকে বলা হয় যে, ইন্টারনেটে কোথায় ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে৷ একদিকে যেমন ফেক নিউজকে মাত্রাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, অপরদিকে তেমন ফেক নিউজ সংক্রান্ত গতিবিধিকে নির্দোষ বলেও গণ্য করা হচ্ছে না: ‘‘(ফেক নিউজ) অনাস্থা ছড়ায় ও নাগরিকদের মনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে৷'' তবে অপরাপর দলের মতো সিডিইউ একক ফেক নিউজগুলি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করে না অথবা পালটা পদক্ষেপ নেয় না, বলে দলীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়৷

সবুজ দল 

সবুজরা তাদের ‘ইন্টারনেট দমকলের' উপর ভরসা রাখে৷ এই ‘দমকল' হল মোট ৩,০০০ সদস্যের একটি সীমিত ফেসবুক গোষ্ঠী, যারা দলের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে দেখলেই সতর্ক করে দেয়৷ চলতি নির্বাচনি প্রচার অভিযানে তা দশ-বিশ বার ঘটেছে, বলে ক্যামপেইন পরিচালক রব্যার্ট হাইনরিশ জানালেন৷ তবে সবুজদের ‘দমকল' ইন্টারনেটে যে শুধু আক্রমণের মোকাবিলা করে, এমন নয়, তারা সবুজদের নির্বাচনি বক্তব্যও পেশ করে থাকে – বললেন হাইনরিশ৷

ডিজিটাল বিশ্ব

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল (সিডিইউ)

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নির্বাচনি পোস্টারে এখন আর কোনো অপরিচিত মুখ নন৷ তাঁর দল সিডিইউ ২০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে গোটা জার্মানিতে ২২,০০ প্ল্যাকার্ড বসাচ্ছে৷ এতে জার্মান চ্যান্সেলরের ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে জার্মান পতাকা ব্যবহারে করে দলটির দেশপ্রেম বোঝানো হয়েছে৷ আর স্লোগানে প্রাধান্য পেয়েছে নিরাপত্তা, পরিবার এবং কাজের মতো বিষয়৷

ডিজিটাল বিশ্ব

সামাজিক গণতন্ত্রী (এসপিডি)

সামাজিক গণতন্ত্রীরা তাদের দীর্ঘদিনের লাল আর বর্গাকারের লোগোকে পোস্টারে প্রাধান্য দিয়েছে৷ তাদের পোস্টারে শিক্ষা, পরিবার, পেনশন, বিনিয়োগ এবং বেতন বৈষম্যের মতো বিষয়াদি গুরুত্ব পাচ্ছে৷ ২৪ মিলিয়ন ইউরোর নির্বাচনি প্রচারণার পর নির্বাচনের ঠিক আগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নাকি একটি বোমা ফাটাতে পারে এসপিডি, তবে সেসম্পর্ক কিছু এখনো জানা যায়নি৷

ডিজিটাল বিশ্ব

মুক্তগণতন্ত্রী দল (এফডিপি)

মুক্তগণতন্ত্রীদের নির্বাচনি প্রচারণায় খরচ হচ্ছে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ সাদাকালো ফটোশুটের মাধ্যমে পোস্টারে আধুনিক মার্কেটিংয়ের ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে সেদেল৷ তাদের পোস্টারে শোভা পাচ্ছেন একজন: ক্রিস্টিয়ান লিন্ডার৷ তবে পোস্টারে ছোট করে লেখা নানা কথা পড়তে ভোটারদের বেশ কষ্টই করতে হবে৷ ‘অস্থিরতাও একটা গুণ’, লেখা হয়েছে পোস্টারে৷

ডিজিটাল বিশ্ব

সবুজ দল

সবুজ দল তাদের দলীয় নীতিকেই নির্বাচনের পোস্টারে তুলে ধরছেন৷ সেদলের স্লোগানে জায়গা করে নিয়েছে পরিবেশ, ইন্টিগ্রেশন এবং শান্তির মতো বিষয়৷ তাদের স্লোগান হচ্ছে, ‘‘পরিবেশই সবকিছু নয়, তবে পরিবেশ ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন৷’’

ডিজিটাল বিশ্ব

জার্মানির জন্য বিকল্প (এএফডি)

তবে আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বিতর্কিত প্ল্যাকার্ড তৈরি করেছে ডানপন্থি এএফডি পার্টি৷ আপাত দৃষ্টিতে এই পোস্টারটি দেখলে মনে হবে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী হাসছেন৷ কিন্তু স্লোগান কী বলছে জানেন? ‘‘নতুন জার্মান? তাদের আমরাই তৈরি করবো৷’’ দলটির আরেক পোস্টারে বিকিনি পরা তিন নারীকে দেখা গেছে৷ আর তাতে লেখা: ‘‘বোরকা? আমরা বিকিনি পছন্দ করি৷’’

ডিজিটাল বিশ্ব

বামদল

বামদলের পোস্টারে বিভিন্ন ফস্টের বর্ণিল উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে৷ ‘‘[বর্নিল] মানুষ৷ স্পষ্টভাবে ডানপস্থি ঘৃণার বিরোধী’’, বলছে তাদের স্লোগান৷ দলটির নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে সাশ্রয়ী ভাড়া, আরো স্বচ্ছ পেনশনের নিশ্চয়তা এবং অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের মতো বিষয়৷

বামদল

ফেক নিউজের ব্যাপারে বামদলেরও কোনো আতঙ্ক নেই৷ ‘‘আমাদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ঘটে না, বলা চলে'', জানালেন টোমাস লোমায়ার, যিনি বার্লিনে বামদলের মুখ্য কার্যালয়ে জনসংযোগ সংক্রান্ত গতিবিধির দায়িত্বে৷ কেন যে বামদল ফেক নিউজের লক্ষ্য হয় না, লোমায়ার তা বলতে পারেন না৷ অপরদিকে সাদ্দাম হুসেইনের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র থাকার ‘ফেক নিউজ' থেকেই যে ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, লোমায়ার তা স্মরণ করিয়ে দিলেন৷ কাজেই ফেক নিউজকে নতুন কিছু বলা চলে না৷ 

এসপিডি

ফেক নিউজের ক্ষেত্রে এসপিডি দলের মনোভাব আধা সবুজ দল ও আধা সিডিইউ-এর সঙ্গে মেলে৷ একদিকে যেমন এসপিডি দৃশ্যত সবুজদের মতো সক্রিয় প্রতিরোধে বিশ্বাসী, অপরদিকে তেমন এসপিডি তাদের ফেক নিউজ সংক্রান্ত নীতির খুঁটিনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে রাজি নয়৷ সিডিইউ-এর মতোই ইন্টারনেটের উপর সতর্ক নজর রাখা হয় ও ক্ষেত্রবিশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফেক নিউজের বিরুদ্ধে কী করা হবে বা হবে না – দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে৷

মার্সেল ফ্যুর্স্টেনাউ/এসি

জার্মান নির্বাচন নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

রাজনীতি

প্রাণী সুরক্ষা দল

জার্মানিতে প্রাণী অধিকার বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্টরা সুযোগ পেলে পুরো হাইওয়ে বন্ধ করে দেন যাতে ব্যাঙেরা নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারে৷ এমন দেশে তাই ‘অ্যানিমেল প্রোটেকশন পার্টি’ বা প্রাণী সুরক্ষা দল থাকবে না, তা কি হতে পারে? তবে গ্রিন পার্টির কারণে এ দলের পালে হাওয়া কম থাকে৷ ২০১৩ সালে সাক্যুল্যে ১৪০,০০০ ভোট পেয়েছিল দলটি, যেখানে জার্মানিতে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬২ মিলিয়ন৷

রাজনীতি

দ্য রিপাবলিকানস

ব্যাপারটা কিছুটা বিভ্রান্তিকর৷ জার্মানির রয়েছে নিজস্ব রিপাবলিকান পার্টি, নাম আরইপি৷ তবে এই দলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই৷ জার্মান রিপাবলিকনরা হচ্ছেন ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী, যারা নিজেদের ‘রক্ষণশীল দেশপ্রেমিক’ এবং দেশের ‘সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়’ রক্ষায় লড়াইরত বলে মনে করেন৷

রাজনীতি

দ্য পার্টি

হ্যাঁ, এই দলের নাম ‘দ্য পার্টি’৷ জার্মানির স্যাটায়ার ম্যাগাজিন ‘টাইটানিক’ এর সম্পাদকরা ২০০৪ সালে এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ দলটির প্রধান হচ্ছেন মার্টিন স্যোনেবর্ন (ছবিতে)৷ ২০১৪ সালে তিনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে দলটির জন্য একটি আসন নিশ্চিত করেন৷ ভবিষ্যতে দলটির অবস্থা আরো ভালো হতে পারে৷ গত নির্বাচনে তাদের জুটেছিল সাক্যুলে ৭৯,০০০ ভোট৷

রাজনীতি

গণভোট দল

জার্মানির রেফারেন্ডাম পার্টি বা গণভোট দলের কাছে সুইজারল্যান্ড এক বিশাল অনুপ্রেরণা৷ দলটি চায় দেশের সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গনভোটের মাধ্যমে জনগণ নেবে৷ সুইজারল্যান্ডে ২০১৬ সালে তেরোটি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল৷

রাজনীতি

মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট পার্টি

জার্মানির এমএলপিডি একটি ছোট দল, যদিও দেশটির অর্ধেক মানুষ এক সময় কমিউনিস্ট ছিলেন৷ মানে ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৯ সাল অবধি যখন জার্মানি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল৷ তৎকালীন পূর্ব জার্মানি তখন শাসন করেছিল সোশ্যালিস্ট ইউনিটি পার্টি৷ বর্তমানে উগ্র বামপন্থি এমএলপিডি’র জার্মান রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা নেই৷ গত নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র ২৪,০০০ ভোট৷

রাজনীতি

ক্রিশ্চিয়ানস ফর জার্মানি

‘অ্যালায়েন্স সি - ক্রিশ্চিয়ানস ফর জার্মানি’ একটি ক্রিশ্চিয়ান পার্টি, যেটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে৷ খ্রিষ্টান-মৌলবাদীদের একটি দল এবং শ্রমিক, পরিবেশ এবং পরিবারভিত্তিক একটি দল একত্র হয়ে এই দল গড়ে৷ বাইবেলের মান রক্ষা করে দেশ পরিচালনা করতে চায় এই দল৷

রাজনীতি

দ্য পেনশনারস

এই দলকে ২০১৭ সালের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে আর দেখা যাবে না, কেননা, দলটি অবসর ঘোষণা করেছে৷ দ্য পেনশনারস দলটি ২০১৩ সালের নির্বাচনে ২৫,০০০ ভোট পেয়েছিল৷ গত বছর দলের কর্মকর্তারা দলটি ভেঙ্গে দেন৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়