জার্মানিতে প্রতিবছর ২৬০,০০০ অভিবাসীর প্রয়োজন পড়বে

জার্মানির ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা বলছে, আগামী ২০৬০ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে প্রতিবছর গড়ে কমপক্ষে ২৬০,০০০ জন অভিবাসীর প্রয়োজন পড়বে৷ এর মধ্যে ইউরোপের বাইরে থেকে আনতে হবে অন্তত ১৪৬,০০০ জন৷

ভবিষ্যতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনমানের উন্নয়ন হতে পারে ধরে নিয়ে গবেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কাজ পেতে ইউরোপীয়দের জার্মানিতে আসার যে ধারা শুরু হয়েছিল, সেটা ভবিষ্যতে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি৷সেক্ষেত্রে জার্মানির জনশক্তির চাহিদা মেটাতে ইউরোপের বাইরে থেকে জনশক্তি আমদানি করতে হবে৷

ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইয়র্গ ড্র্যাগার জানান, ২০১৭ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে মাত্র ৩৮ হাজার অভিবাসী জার্মানিতে এসেছেন৷

গবেষকরা বলছেন, জার্মানিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ২০৬০ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৬০ লক্ষ জনশক্তির অভাব দেখা দেবে৷ এই অভাব পূরণ করতে অভিবাসীদের সহায়তা না নিলে বিশ্বের চতুর্থ বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানির অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন৷

গবেষণার ফলাফল বলছে, মাঝারি ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্নঅভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে জার্মানিকে শিগগিরই অভিবাসন আইন প্রণয়ন করতে হবে৷ সেইসঙ্গে ইন্টিগ্রেশন কর্মসূচিরও প্রসার ঘটাতে হবে৷

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ)

অভিবাসীদের সমর্থনে জার্মানিতে বিক্ষোভ

প্ল্যাকার্ড নয়, লাইফ জ্যাকেট

বার্লিনে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা৷ তাঁদের বক্তব্য, যেসব উদ্ধারকারী ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগর থেকে শরণার্থীদের নিয়ে আসছেন, সমর্থন না করে উলটো তাদের অপরাধী বানিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ আয়োজকদের দাবি, অন্তত ১২ হাজার প্রতিবাদকারী এতে যোগ দিয়েছেন৷ এছাড়াও প্রতিবাদ হয়েছে হামবুর্গ, হানোফার, ব্রেমেন, মিউনিখ এবং উলম শহরে৷

অভিবাসীদের সমর্থনে জার্মানিতে বিক্ষোভ

উদ্ধারকারীদের প্রতি সমানুভূতি

হামবুর্গের বিক্ষোভে সিব্রুক নামের সংগঠনের এক সদস্যকে দেখা যাচ্ছে দড়িতে কমলা কাপড় ঝোলাতে৷ উদ্ধারকর্মীদের কাজে সমর্থন জানাতেই এই আয়োজন৷ নিচে ব্যানারে লেখা আছে, ‘‘উদ্ধার করা কোনো অন্যায় নয়৷’’ সিব্রুক শব্দের অর্থ সাগরের সেতু৷ কিছুদিন আগেই দুই শতাধিক শরণার্থী বহনকারী এক জার্মান এনজিওর উদ্ধারকারী জাহাজ লাইফলাইনকে তীরে ভিড়তে বাধা দেয়ার পর গঠন করা হয় এই সংগঠন৷

অভিবাসীদের সমর্থনে জার্মানিতে বিক্ষোভ

‘ওরা সাগরে, ভুলে যেও না’

বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে এমন স্লোগানই উচ্চারিত হয়েছে বারবার৷ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়া মানুষের সংখ্যা কমে আসছে৷ কিন্তু তারপরও কমেনি ভয়াবহতা৷ আফ্রিকা থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ আসতে গিয়ে এ বছর এরই মধ্যে নৌকাডুবিতে ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, অথবা নিখোঁজ রয়েছেন৷

অভিবাসীদের সমর্থনে জার্মানিতে বিক্ষোভ

‘দুয়ার খুলে দাও’

গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপের রাজনীতিবিদদের রোষানলে পড়েছে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকাজ চালানো এনজিওগুলো৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাহাজগুলোকে তীরে ভেড়ার অনুমতি দেয়া হয়নি, দিলেও তা দেয়া হয়েছে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে, অনেক হেনস্তার পর৷ রাজনীতিবিদদের দাবি, মানবপাচারকারীদের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করছে এনজিওগুলো৷ অন্যদিকে উদ্ধারকর্মীদের দাবি, তাঁরা না বাঁচালে প্রাণ হারাতে হতো অনেক শরণার্থীকে৷

অভিবাসীদের সমর্থনে জার্মানিতে বিক্ষোভ

সরকারি নীতি নিয়ে ক্ষোভ

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের ওপরও বেজায় চটেছেন বিক্ষোভকারীরা৷ সেহোফার এককভাবে চাপ প্রয়োগে জার্মান অভিবাসন নীতি কঠোর করার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ এক পর্যায়ে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, অনেকে আশংকা করছিলেন জার্মান জোট সরকারই না ভেঙে পড়ে৷ শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় এসে সেহোফারের বেশ কিছু দাবি মেনে নিতে হয় ম্যার্কেলকে৷