জার্মানিতে শরণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ

জার্মানিতে যে সমস্ত বিদেশি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস করছেন, তাঁরা নিজেরাই যদি নিজ জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হন, তাহলে কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ দেশে থাকার অনুমতি পেতে পারেন৷

গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা একটি নতুন আইনের খসড়ায় এই সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ তবে এর আওতায় বিদেশি অপরাধীদের তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থাও সহজ করার কথা বলা হয়েছে৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন আইনের আওতায় অবৈধ বিদেশিদের থাকার অনুমতিপত্র পেতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে৷ যেমন জার্মানিতে আট বছরের বেশি সময় ধরে থাকতে হবে, নিজেরা উপার্জন করে চলতে সমর্থ হতে হবে, জার্মান ভাষার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে৷ তবে শরণার্থীরা যদি বাবা-মা হন, তাহলে তাঁদের জার্মানিতে কমপক্ষে ছয় বছর থাকলেই হবে৷

তবে থাকার অনুমতি ছাড়াই যে সব বিদেশি জার্মানিতে বসবাস করছেন, নতুন আইন তাঁদের অবস্থা আরও কঠিন করে তুলতে পারে – বিশেষ করে তাঁরা যদি সহযোগিতা না করেন কিংবা আইনের শর্তগুলো লঙ্ঘন করেন৷

জার্মানিতে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন৷ সেক্ষেত্রে নতুন আইন কর্তৃপক্ষকে ই-মেল অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভের তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় গোপনকারীর পরিচয় উদ্ধারের অনুমতি দেবে৷ উল্লেখ্য, প্রতিবছর জার্মানি থেকে গড়ে ১০ হাজার অবৈধ বিদেশিকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়৷

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা একটি নতুন আইনের খসড়ায় এই সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ তবে এর আওতায় বিদেশি অপরাধীদের তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থাও সহজ করার কথা বলা হয়েছে৷

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন আইনের আওতায় অবৈধ বিদেশিদের থাকার অনুমতিপত্র পেতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে৷ যেমন জার্মানিতে আট বছরের বেশি সময় ধরে থাকতে হবে, নিজেরা উপার্জন করে চলতে সমর্থ হতে হবে, জার্মান ভাষার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে৷ তবে শরণার্থীরা যদি বাবা-মা হন, তাহলে তাঁদের জার্মানিতে কমপক্ষে ছয় বছর থাকলেই হবে৷

তবে থাকার অনুমতি ছাড়াই যে সব বিদেশি জার্মানিতে বসবাস করছেন, নতুন আইন তাঁদের অবস্থা আরও কঠিন করে তুলতে পারে – বিশেষ করে তাঁরা যদি সহযোগিতা না করেন কিংবা আইনের শর্তগুলো লঙ্ঘন করেন৷

জার্মানিতে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন৷ সেক্ষেত্রে নতুন আইন কর্তৃপক্ষকে ই-মেল অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভের তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় গোপনকারীর পরিচয় উদ্ধারের অনুমতি দেবে৷ উল্লেখ্য, প্রতিবছর জার্মানি থেকে গড়ে ১০ হাজার অবৈধ বিদেশিকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়৷

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

এছাড়া অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কোনো বিদেশিকে যদি জার্মানির জন্য হুমকি মনে করা হয় কিংবা তাঁকে যদি কোনো অপরাধে এক বছরের সাজা দেয়া হয়, তাহলে খসড়া আইনে ঐ বিদেশিকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে৷

কিছু পরিসংখ্যান

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, জার্মানিতে বর্তমানে অনুমতিপত্র ছাড়া বসবাস করা বিদেশির সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ৷ এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার বিদেশি আট বছরের বেশি সময় ধরে জার্মানিতে বাস করছেন৷ ফলে খসড়া আইনের আওতায় তাঁরা হয়ত অনুমতিপত্র পেতে পারেন৷ তবে কিছু শর্ত আরও কঠিন হওয়ায় কতজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে, সেটা পরিষ্কার নয়৷

কে কী বলছেন...

জার্মানির শাসক দল বা খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল সিডিইউ প্রস্তাবিত এই খসড়া আইনের প্রশংসা করেছে৷ অন্যদিকে সবুজ ও বাম দল এর সমালোচনা করেছে৷ বাম রাজনীতিক উলা ইয়েল্পকে বলেছেন, খসড়া আইনের মানে হচ্ছে, ‘‘যাঁরা আমাদের কাজে আসছেন এবং যাঁদের থাকতে দিতে সরকারের কোনো খরচ হচ্ছে না, শুধু তাঁরাই থাকতে পারবে৷ এটা অমানবিক৷''

এদিকে ক্যাথলিকদের সংস্থা জেআরসি, যারা শরণার্থীদের সহায়তা দিয়ে থাকে, তাদের জার্মান শাখার একজন পরিচালক ফাদার ফ্রিডো ফ্ল্যুগার বলছেন, ‘‘২০১৪ সালে জার্মানিতে এক লক্ষ ৪০ হাজার শরণার্থী এসেছে৷ জার্মানির মতো ধনী দেশের জন্য সেটা বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷''