জার্মানিতে শরণার্থীদের পাশে আছেন মুসলমানরা

জার্মানিতে প্রতি দু' জনের এক জন মুসলমান শরণার্থীদের সহায়তা করেছেন, সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গেছে এই তথ্য৷ ২০১৬ সালে প্রতি পাঁচ জনে এক জন জার্মান শরণার্থীদের নানাভাবে সহায়তা করেছেন৷

জার্মান ফাউন্ডেশন বের্টেলসমান স্টিফটুং শরণার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে মুসলমান স্বেচ্ছাসেবীরা এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করছে বলে মনে করে৷ সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানিতে বসবাসরত মুসলমানদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ গত বছর শরণার্থীদের জার্মান ভাষা শিক্ষা দেয়া, কাপড় দান এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক ফর্মপূরণসহ নানাভাবে সহায়তা করেছেন৷

বের্টেলসমানের ‘এনগেজমেন্ট ফর রিফিউজিস - এ রিলিজিয়াস থিং’ শীর্ষক গবেষণায় একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে, আর তা হচ্ছে, যেসব মুসলমান শরণার্থীদের সহায়তা করছেন, তাদের মধ্যে মাত্র দুই শতাংশ ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে অথবা শরণার্থীদের উগ্রবাদে উৎসাহ দেয়ার মানসিকতা নিয়ে তা করছেন৷ তবে সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাদের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কার্যত অন্যান্য ধর্মের প্রতি উদার মানসিকতাকে উৎসাহ দিচ্ছেন৷

জার্মান ফাউন্ডেশনটির সমীক্ষায় শরণার্থীদের প্রতি জার্মানদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে৷ এতে দেখা গেছে, যেসব জার্মান শরণার্থীদের বাসস্থানের আশেপাশে থাকেন, তারা শরণার্থীদের সহায়তায় বেশি আগ্রহী৷ আর যারা দূরে থাকেন, তাদের মধ্যে শরণার্থীদের সহায়তায় আগ্রহ কম৷

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মুসলমানদের পাশাপাশি ২১ শতাংশ খ্রিষ্টানও শরণার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন৷ আর কোনোরকম ধর্মীয় সম্পৃক্ততা নেই, এমন মানুষদের ১৭ শতাংশও একই কাজ করেছেন৷ সামগ্রিকভাবে প্রায় এক পঞ্চমাংশ জার্মান গত বছর শরণার্থীদের জন্য কাজ করেছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নিয়মতি তাদের পাশে ছিলেন৷

Infografik Social engagement for refugees by religious affiliation

বের্টেলসমানের প্রতিবেদনে শরণার্থীদের সহায়তায় আন্তধর্মীয় সহযোগিতা আরো বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে৷ প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য পরিচালিত সমীক্ষায় দেড় হাজার জার্মান অধিবাসীর পাশাপাশি জার্মানিতে বসবাসরত এক হাজার মুসলমানের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে৷

এআই/এসিবি (এএফপি, ইপিডি)

সমাজ

খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে যাবে...

২০১০ সালে সারা বিশ্বে মোট ২১৭ কোটি মানুষ খ্রিষ্ট ধর্ম অনুসরণ করতো৷ তারপরই ছিল ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা৷ তখন বিশ্বে মোট ১৬০ কোটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছিল৷ কিন্তু পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদন বলছে, ৫ দশক পর খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের পিছনে ফেলে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি হয়ে যাবে মুসলমান৷

সমাজ

জন্মহার সবচেয়ে বেশি

কেন এত দ্রুত ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বাড়বে? বলা হচ্ছে, সারা বিশ্বে মুসলমানদের জন্মহার বেশি আর মূলত এ কারণেই সংখ্যায় সব ধর্মকে পিছনে ফেলবে তারা৷ মুসলমানদের শিশু জন্মহার ৩ দশমিক ১ শতাংশ আর খ্রিষ্টানদের ২ দশমিক ৭ শতাংশ৷

সমাজ

তরুণ অনুসারী বেশি

অন্য সব ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মের তরুণ অনুসারী বেশি৷ এ মুহূর্তে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নীচে৷ অন্যদিকে ৩৪ শতাংশ ইসলাম ধর্মবলম্বীর বয়স ১৫ বছরের কম৷ তার মানে, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বেশি দিন সন্তান জন্ম দেয়ার সুযোগও বেশি৷

সমাজ

নাস্তিক কমবে

পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে নাস্তিক অনেক কমবে৷ এখন যেখানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ নাস্তিক, সেখানে ২০৫০ নাগাদ তা কমে হবে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ৷

সমাজ

২০৭০ সালে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মুসলমান

পিউ রিসার্চ সেন্টারের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে আরো যে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে, তা হলো, ২০১০ সাল থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে৷ এই সময়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বী বাড়বে ৭৩ শতাংশ৷ ফলে এক সময় স্বাভাবিক কারণেই সংখ্যায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ছাড়িয়ে যাবে ইসলাম৷ পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭০ নাগাদ সারা বিশ্বে মুসলমানই সবচেয়ে বেশি থাকবে৷