জার্মানিতে হয়রানির শিকার বাংলাদেশি দম্পতি

জার্মানিতে এক বাস চালকের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি দম্পতি – ফেসবুকে এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে৷ সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানি দুঃখ প্রকাশ করে টিকিটের টাকা ফেরত দিলেও ভুক্তভোগী দম্পতি বলছেন, এটা যথেষ্ট নয়৷

ইউরোপে সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ফ্লিক্সবাসে করে জুরিখ থেকে হাইডেলসহাইমে ফিরছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি আসগর হোসেইন এবং ইউসরা জাফরিন৷ হাইডেলবার্গে যাত্রাবিরতির সময় স্বামীকে বাসে রেখেই পাশ্ববর্তী ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর টয়লেটে গিয়েছিলেন জাফরিন৷ কিন্তু ফিরে দেখেন বাস তাঁর স্বামীকে নিয়ে চলে গেছে৷ সঙ্গে চলে গেছে জাফরিনের শীতের জ্যাকেট, মোবাইল, পার্স, সবকিছু৷

জার্মান ভাষা না জানা, জার্মানিতে নতুন আসা জাফরিন আতঙ্কে কেঁদেছেন তখন, ঠান্ডার মাঝে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে খুঁজেছেন স্বামীকে৷ অন্যদিকে, স্বামী তখন বাসচালকের কাছে কাকুতি মিনতি করছেন বাস থেকে যাতে তাঁকে অন্তত নামিয়ে দেয়া হয়৷ যাতে স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে পারেন তিনি৷ এক পর্যায়ে ক্ষণিকের জন্য বাসের দরজা খুলে দেন চালক৷ তবে লাগেজ, জ্যাকেট ছাড়াই নামতে হয় স্বামীকেও৷ ততক্ষণে স্টেশন থেকে বাস চলে গেছে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে৷

এখন লাইভ
09:18 মিনিট
বিষয় | 21.04.2017

‘বিদেশি বলে আমাদের সঙ্গে এটা করা হয়েছে’

বাসে থাকা অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার না করে ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়েছিলেন জাফরিন৷ পাঁচ ঘণ্টা যাত্রার পর টয়লেট ব্যবহারের চাহিদা অস্বাভাবিক কিছু নয়৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাসের চালক তাঁকে না নিয়ে চলে গেলেন কেন? আসগর হোসেইন পুরো ঘটনাটি ফেসবুকে লিখেছেন৷ দাবি করেছেন, বিদেশি বলেই তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে বাসের চালক৷ তাঁর পোস্টটি ইতোমধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে৷ অনেকেই বাস চালকের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন৷

জার্মানির বাস কোম্পানি ফ্লিক্সবাস-এর একজন মুখপাত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন যে, হাইডেলবার্গে গত ১৮ এপ্রিল হোসেইন এবং তাঁর স্ত্রী'র সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত৷ এজন্য তাদের বাসের টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি৷

ফ্লিক্সবাসের কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স-এর প্রধান বেটিনা এনগার্ট আরো উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে চলে এবং হাইডেলবার্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাঁড়িয়েছিল৷ আর যে চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেও বিদেশি বংশোদ্ভূত এবং তিন বছর ধরে কোম্পানির বাস চালালেও তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়নি৷

হোসেইন জানিয়েছেন, হাইডেলবার্গে যখন বাস ছাড়ছিল, তখন তাঁর স্ত্রীকে ম্যাকডোনাল্ডস থেকে ফিরতে দেখা যাচ্ছিল৷ সাকুল্যে তাঁর স্ত্রী হয়ত দুই মিনিট দেরি করেছেন৷ আর তাতে তাঁদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা, বাস কোম্পানিটির বাস মাঝে মাঝে এমনিতেই অনেক দেরি করে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা পরে যে বাসে করে ফিরেছি, সেটাও ফ্লিক্সবাস ছিল, সেই বাসের চালক এবং সহকারী জানিয়েছেন যে, কোনো প্রয়োজন হলে আমরা  পাঁচ থেকে দশ মিনিট অবধি অপেক্ষা করতে পারি৷ এটা কোনো সমস্যা নয়৷''

বাংলাদেশি দম্পতি আইনের আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন

বেটিনা এনগার্ট জানিয়েছেন, ফ্লিক্সবাস একটি বহুজাতিক কোম্পানি এবং যাত্রী বা কর্মীদের সঙ্গে কোনো রকম বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়৷ হোসেইনের ঘটনার বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট বাস এবং চালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

হোসেইন অবশ্য বাস কোম্পানির এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন৷এখনো তাঁরা নিজেদের লাগেজ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরত পাননি৷ যে হয়রানির শিকার তারা হয়েছেন, তার বিচার দাবি করে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন জার্মানিতে চাকুরিরত এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কি কখনো আসগর হোসেইনের মতো পরিস্থিতিতে পরেছেন? লিখুন মন্তব্যে৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

লাস্ট মিনিট সবসময়েই সস্তা

লাস্ট মিনিট বলতে শেষ মুহূর্তের অফারকে বোঝায়: ফ্লাইট আর হোটেল সুদ্ধু এত দিনের জন্য এত ইউরো – আহা কী সস্তা! জার্মানির যে কোনো এয়ারপোর্টে গেলে এ ধরনের লাস্ট মিনিট অফার ঝুলতে দেখা যায়৷ কিন্তু বাস্তবিক টুর অপারেটরদের হাতে কোনো ঝড়তি-পড়তি বা বাড়তি হোটেলের ঘর থাকে না – এক যদি না তাদের হিসেবে ভুল হয়ে গিয়ে থাকে৷ সব মিলিয়ে তিন থেকে আট সপ্তাহ আগে বুক করাই ভালো৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

সোলারিয়ামে গিয়ে ট্যান করিয়ে নিলে সানবার্ন হয় না

সোলারিয়ামে ত্বক কালো হয় দীর্ঘতরঙ্গ অতিবেগুনি আলোর প্রভাবে৷ কিন্তু সমুদ্রসৈকতে সূর্যস্নান করার সময় যে অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের উপর পড়ে, তা হ্রস্বতরঙ্গ, যা থেকে সানবার্ন বা ক্যানসার হয়৷ কাজেই সানস্ক্রিন ছাড়া এখানে গত্যন্তর নেই৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

প্লেনের পিছন দিকের সিটগুলো নিরাপদ

অথচ সেটা প্রমাণ করার মতো কোনো পরিসংখ্যান নেই বা থাকাও সম্ভব নয়৷ বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধ্বংসাবশেষের সরেজমিন তদন্ত করার কোনো উপায় থাকে না৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

সেলফোনের ফলে বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়

টেক-অফের আগে মোবাইল ফোন সুইচ অফ করতে বলা হয় বটে, কিন্তু কেউ সেটা ভুলে গেলেই যে বিমান সঙ্গে সঙ্গে ক্র্যাশ করবে, এমন নয়৷ যাত্রীদের সেলফোন সারাক্ষণ সিগনালের খোঁজ করার ফলে পাইলটরা কানে একটা ভোঁ ভোঁ আওয়াজ শোনেন, যা বিরক্তিকর৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

অক্সিজেনের মুখোশ থেকে নেশা হয়

ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্টরা নাকি আসল কথাটা বলেন না: অক্সিজেন পেলে নাকি যাত্রীদের নেশা হয়, তাই তারা দুর্ঘটনার সময় আতঙ্কিত হন না! ডাহা মিথ্যে৷ আসলে কেবিন প্রেসার পড়ে গেলে যাত্রীরা বিভ্রান্ত বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, তাই তাদের অক্সিজেন দেওয়া হয়৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

ঘুমের অভাবে জেট ল্যাগ হয়

না, জেট ল্যাগ হয় শরীরের ‘সার্কেডিয়ান রিদম’ বা ২৪ ঘণ্টা আবর্তের অভ্যাসগুলো ভঙ্গ বা ব্যাহত হওয়ার ফলে৷ যখন ঘুমনোর সময়, তখন ঘুমোতে না পারা শরীরের পক্ষে এক ধরনের শক৷ শরীরের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা জৈবিক ঘড়ি যতক্ষণ না স্থানীয় সময়ের সঙ্গে কাঁটা মিলিয়ে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত জেট ল্যাগ থাকে৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

হোটেলের ঘরভাড়া সবসময় এক থাকে

আদৌ না৷ মৌসুম – যেমন শীত না গ্রীষ্ম, স্কুলের ছুটির সময় নাকি স্কি খেলার সময়, এখন কোনো বড় প্রদর্শনী বা মেলা চলছে কিনা – সবচেয়ে বড় কথা, হোটেলের ঘরের চাহিদা কেমন, এ অনুযায়ী ঘরভাড়া বাড়তে কিংবা কমতে পারে৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

হোটেলে কোনো ১৩ নম্বর ঘর কিংবা তলা নেই

১৩ নম্বরটাকে ইউরোপে এতোই অপয়া মনে করা হয় যে, কিছু কিছু হোটেল সত্যিই ১৩ তলা কিংবা ১৩ নম্বর ঘরটা রাখে না – ১২-র পরেই চলে আসে ১৪৷ অনেক বিমানেও দেখবেন ১৩ নম্বর বলে কোনো সিটের রো নেই৷

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

বিশ্বে ভেনিসেই ব্রিজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি

ভেনিলে ৪০০-র বেশি ব্রিজ আছে বটে কিন্তু জার্মানির হামবুর্গ বন্দরনগরীতে কতোগুলো সেতু আছে জানেন? ২,৫০০!

পর্যটন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা

ডেড সি-র পানি সবচেয়ে লবণাক্ত

ডেড সি বা মৃত সাগরের জলে ২৮ শতাংশ নুন আছে, তাই সেখানে জলের উপর শুয়ে বই পড়া যায়৷ কিন্তু হর্ন অফ আফ্রিকার জিবুতি শহরের আসাল হ্রদের পানিতে লবণের পরিমাণ ৩৪ শতাংশের বেশি৷ ওদিকে কুমেরুর ডন জুয়ান পন্ডের স্যালিনিটি ৪০ শতাংশের অনেক উপরে!

আরো প্রতিবেদন...

8 ছবি
মিডিয়া সেন্টার | 7 ঘণ্টা আগে

ধরাছোঁয়ার বাইরে সাকিব

বিশ্ব | 11 ঘণ্টা আগে

‘‌কাটমানি'‌ গানে বিতর্ক‌

আমাদের অনুসরণ করুন