জার্মানির পাতালপুরিতে সব রহস্যের উন্মোচন হয়নি

জার্মানির ব্লাউটফ জলাধারের রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা অনেক ঝুঁকি নিচ্ছেন৷ পাতালপুরির একের পর এক না দেখা অংশ খুলে যাচ্ছে তাঁদের চোখের সামনে৷ কিন্তু সেখানে আরও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে৷

 পাতালপুরিতে প্রবেশের গর্ত খোঁড়া হয়ে গেছে৷ কিন্তু সত্যি কি গুহার ছাদ ভেদ করা গেছে? হাতেনাতে পরখ করে নিশ্চিত হতে হবে৷ আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, ‘‘আজ স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে৷ আমরা ‘স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন' গুহার মাঝে বেরিয়েছি, পরিকল্পনামতো করিডোরের উচ্চতম অংশে৷''

অবশেষে অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও গুহায় প্রবেশ করে পাথর পরীক্ষা ও পরিমাপ করতে পারেন৷ লেজারের মাধ্যমে গোটা গুহা প্রণালী স্ক্যান করা হচ্ছে৷ ফলে জানা গেল, তার শাখা-প্রশাখা ১০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ৷ বিজ্ঞানীরা পাতাল নদীতে ফ্লুরোসেন্ট রং ঢেলেছেন৷ এর মাধ্যমে তাঁরা নদীর প্রবাহ ও কোথায় তা ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে, তা জানতে পারবেন৷

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষগুলি গুহা প্রণালীর আরও গভীরে প্রবেশ করছেন৷ এর আগে সেখানে কোনো মানুষ পা রাখেনি৷ এই গুহার বয়স কত? ঠিক কবে এর সৃষ্টি হয়েছিল? সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে৷ হয়ত কখনো সেখান থেকে নির্গমনের পথও খুঁজে পাওয়া যাবে৷ আচমকা পথ আরও সরু হয়ে গেল৷ মনে হয় আর এগোনোর উপায় নেই৷ ইয়খেন মালমান বলেন, ‘‘কাদার গর্ত নীচে নেমে গেছে, মাত্র ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু একটা খোলা অংশ আছে৷ মনে হয় গলতে পারবো৷''

যখন বাঁধ ভাঙে

তারিখটা ছিল ৫ই নভেম্বর৷ সেদিন রাত্রে মারিয়ানা শহরের কাছে একটি লোহার খনির ময়লা জল ধরার সুবিশাল ট্যাংকটির বাঁধ ভেঙে পাঁচ কোটি টন কাদা রিও দোসে নদীর উপত্যকায় গিয়ে পড়ে৷ সেই কাদায় আর্সেনিক, সিসা, পারদ ও তামা মেশানো ছিল৷

গ্রাম ডুবে গেল

কাদার স্রোতে প্রথমেই ডুবে যায় বেন্তো রদরিগেস নামের একটি গ্রাম৷ লোহার খনির ময়লা জলের ট্যাংকের ঠিক নীচেই এই গ্রাম৷ ১৩ জন মানুষ প্রাণ হারান, দশজন এখনও নিখোঁজ৷ গ্রামের ছ’শো বাসিন্দার প্রায় সকলেই আজ বাস্তুহারা৷

নিখোঁজদের খোঁজে

বাড়িঘর কাদার স্রোতে ডুবে যাবার আগেই অধিকাংশ মানুষ পালিয়ে যেতে পেরেছেন৷ ত্রাণকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ তবে কাউকে জীবিত খুঁজে পাবার আশা কম৷

খাবার পানি নাই

রিও দোসে নদীর উপত্যকা আয়তনে পর্তুগালের সমান৷ নদীতীরে বাস, এমন প্রায় আড়াই লাখ মানুষের এখন খাবার পানি নাই৷ সেনা আর ত্রাণকর্মীরা প্লাস্টিকের বোতল ও ট্যাংকারে করে জল নিয়ে আসছেন, যদিও অনেক গ্রামে পৌঁছনো শক্ত৷

কাদাজল

কস্টা বলেন, তিনি নাকি আগে রোজ সাঁতার কাটতে যেতেন৷ বাঁধ ভাঙার পরে নদীতীরে তাঁর বাড়ির বারান্দা থেকে যে দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়, তাতে তাঁর আর সাঁতার কাটতে ইচ্ছে করে না৷ স্থানে স্থানে কাদা আর নুড়ি পাথর জমে রয়েছে, পানির কোনো চিহ্ন নেই৷

ধরার মতো আর মাছ নেই

কাদার স্রোতে রিও দোসে নদীর জেলেদের জীবিকা বিপন্ন৷ সর্বত্র মরা মাছ, দুর্গন্ধ৷ পরিবেশ বিপর্যয়ের আগে রিও দোসে তার প্রাণীবৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত ছিল৷

বিষাক্ত কাদা সাগরে পৌঁছেছে

৬৬৬ কিলোমিটার পার হয়ে কাদা গিয়ে পড়ছে অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে৷ ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ গোড়ায় নিষ্ক্রিয় থাকেন, এমনকি সে জন্য জাতিসংঘের কাছে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে৷ ইতিমধ্যে সরকার নদী পরিষ্কারের জন্য সামার্কো খনিসংস্থার কাছ থেকে পাঁচশো কোটি ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন৷

সামার্কো নারাজ

জেলেরা পোভোয়াসাও সৈকতে মরা মাছ, কাঁকড়া ইত্যাদি জড়ো করছেন৷ খনিসংস্থা সামার্কো জেলেদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছে৷ সামার্কো সংস্থাটির মালিক আধা ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় খনিজ পদার্থের কোম্পানি বিএইচপি ও ব্রাজিলের খনিসংস্থা ভালে৷ ক্ষয়ক্ষতি যতোই হোক, সামার্কো বলছে, নদীর কাদা বিষাক্ত নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকরও নয়৷

টুরিস্টরা শঙ্কিত

কাদার স্রোত রিজেন্সিয়া সৈকতাবাস পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে৷ রিও দোসে-র মোহানায় অবস্থিত এই গ্রামটি সার্ফিং আর সুবিশাল সাগরের কাছিমদের জন্য বিখ্যাত৷ কাছিমরা তীরেই ডিম পাড়ে৷ ইতিমধ্যে কিছু কিছু টুরিস্ট তাদের বুকিং ক্যানসেল করতে শুরু করেছেন৷

বিপর্যয়ের পরিধি অজ্ঞাত

ব্রাজিলের এক জীববিজ্ঞানী অন্দ্রে রুশচি জার্মান টেলিভিশন-কে বলেছেন যে, পরিবেশে হানিকর পদার্থের রেশ মিটতে অন্তত আরো একশো বছর লেগে যাবে, বলে তাঁর ধারণা৷ আরেকটি বিপদ হল, মিনাস জেরাইস খনি অঞ্চলের অন্তত ১৬টি জলাধার পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়, বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন৷ যে কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অঞ্চলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্রাজিলের ফুকুশিমা’৷

মাটির গভীরে আটকে পড়ার আশঙ্কা দুর্বলচিত্ত মানুষদের জন্য নয়৷ গবেষকরা সরু অংশ দিয়ে গলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন৷ জাদুময় এক দৃশ্য সেই পরিশ্রম সার্থক করে দিলো৷ ধাতু জমে অপরূপ সব ভাস্কর্য সৃষ্টি হয়েছে৷ জার্মানিতে এর তুলনা পাওয়া যাবে না৷ বিস্ময়ে ভরা এই জগত৷ গবেষকরা নিশ্চিত যে, এটা একটা সূচনা মাত্র৷ আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, ‘‘আরও নতুন গুহার প্রবেশদ্বার ও পথ আবিষ্কার এবং পরিমাপ করা আমাদের লক্ষ্য৷ এই সব গুহার সৌন্দর্য আমরা বাইরের জগতে নিয়ে আসতে চাই৷ অবশ্যই নতুন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করতে চাই৷''

ব্লাউটফ জলাধারে যে আরও অনেক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷

মিউনিখ: মারিয়েনপ্লাৎস স্টেশন

আলো, আকার ও রঙের বিচিত্র সন্নিবেশ ঘটেছে এখানকার চিত্র কর্মে৷ জ্যামিতিক স্থাপত্য ও নকশার মিশেল দেখা যায় মিউনিখের এই স্টেশনে৷

কোলোন: অ্যসেরে কানালস্ট্রাসে স্টেশন

চিত্রগ্রাহক পাভলিৎসকির জন্ম ১৯৭২ সালে৷ তিনি সবসময় ল্যান্ডস্কেপের সাথে স্থাপত্যের মিশ্রণকে তাঁর ফটোগ্রাফির মাধ্যমে বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছেন৷ তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং জিইও ম্যাগাজিনসহ বিশেষ কিছু পত্রিকায় কাজ করেছেন৷ তাঁর বই ও ক্যালেন্ডারের সংখ্যা ১৩০টিরও বেশি৷

ফ্রাংকফুর্ট: ভেস্টেন্ড স্টেশন

পাতাল রেল স্টেশনের নেতিবাচক দিকগুলো পাভলিৎসকির ফটোগ্রাফিতে প্রতিফলিত হয়নি৷ স্টেশনগুলোতে কী পরিমাণ ভীড় হয়, চুরি চামারি কোনটারই ছবি নেই৷

মিউনিখ: হাজেনব্যার্গেল স্টেশন

চিত্তাকর্ষক মোটিফের সন্ধানে পাভলিৎসকি ঘুরে বেড়িয়েছেন জার্মানির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে৷ প্রায় দু বছর ধরে ঘুরে তিনি ছবিগুলো তুলেছেন গভীর রাতে, যখন স্টেশনে কেউ থাকত না৷ ফলে নিশ্চিন্তে শান্ত পরিবেশে নিজের কাজটা করতে পারতেন পাভলিৎসকি৷

স্টুটগার্ট: কিরশটালস্ট্রাসে স্টেশন

পাভলিৎসকির ফটোগ্রাফির কম্পোজিশন জ্যামিতিক৷ পাতাল রেল স্টেশনের এ ধরনের চিত্র এর আগে আর কেউ ধারণ করেননি৷

হামবুর্গ: উবারসিকুয়ার্টির স্টেশন

২০১৩ সালে গ্রেগর ইন্টারন্যাশনাল ক্যালেন্ডার অ্যাওয়ার্ড এর পক্ষ থেকে তাঁর অর্কিড ক্যালেন্ডারের জন্য গোল্ড মেডেল পান পাভলিৎসকি৷

মিউনিখ: ভেস্টফ্রিডহোফ স্টেশন

জার্মানির মধ্যে মিউনিখের পাতাল রেল স্টেশনগুলোই বেশি অনুপ্রাণিত করেছে চিত্রগ্রাহক পাভলিৎসকিকে৷

মিউনিখ: কান্ডিডপ্লাৎস স্টেশন

পাভলিৎসকির দৃষ্টিতে জার্মানির অন্য স্টেশনগুলো থেকে এটি একেবারেই ভিন্ন৷ এর নকশায় রয়েছে বৈচিত্র্য৷

নুরেমব্যার্গ : মাক্সফেল্ড স্টেশন

পাভলিৎসকির এসব ছবি ২০১৩ সালে ফটোগ্রাফির বই থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে৷ বইটির নামই দেয়া হয়েছে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’৷ তবে তাঁর যাত্রা এখানেই শেষ নয়৷ তিনি পাতালরেলের আরো কিছু ছবি তুলবেন৷ সেগুলো হয়ত নতুনভাবে ধরা দেবে আমাদের কাছে৷