জার্মানি অবশ্যই পারবে!

জার্মান চ্যান্সেলর কোনো রাখঢাক না রেখে স্পষ্ট ভাষায় চলমান শরণার্থী সংকট সম্পর্কে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন৷ ডাগমার এঙেল মনে করেন, ভবিষ্যতেও ঠিক এমনটাই করা উচিত৷ তবে সঠিক সময় সম্পর্কেও ধারণা থাকা উচিত৷

আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর বাৎসরিক সংবাদ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের সামনে জার্মান সরকারের শরণার্থী সংক্রান্ত নীতি তুলে ধরেছেন৷ তিনি যে ভাবে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ও অপরিহার্য মনে হয়েছে৷

- রাজনৈতিক আশ্রয়ের এবং যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে সুরক্ষার মৌলিক অধিকার সবার রয়েছে৷

- মানবিক মর্যাদা এমন এক মৌলিক অধিকার, যা সবার ক্ষেত্রে প্রজোয্য৷ শরণার্থীরা কোন দেশ থেকে এসেছেন, তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সম্ভাবনা আছে কি না, এই সব প্রশ্ন এখানে অবান্তর৷

- যারা এই সব মৌলিক অধিকারকে আক্রমণ করছে, বা জার্মানিতে আসা মানুষের অবমাননা করছে, তাদের বাসস্থানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে৷ এ ক্ষেত্রে কোনো আলোচনার অবকাশ নেই৷

অর্থাৎ চরম দক্ষিণপন্থিদের অবস্থানের প্রতি সামান্যতম সহানুভূতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলার কোনো প্রচেষ্টা নেই৷

Engel Dagmar Kommentarbild App

ডাগমার এঙেল, ডয়চে ভেলে

কারণ শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ঘৃণাভরা হামলার পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না৷ চ্যান্সেলার ম্যার্কেল বিদেশি-বিদ্বেষীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে প্রস্তুত নন৷ এমনকি সম্ভব হলে তিনি তাদের সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করতে চান না৷ কারণ তাদের কোনোরকম গুরুত্ব দিলেই তাদের অবস্থান আরও জোরালো হয়ে উঠবে৷ এর বদলে ম্যার্কেল ইতিবাচক বিষয়গুলিকেই জোরালোভাবে তুলে ধরছেন৷ তিনি বলেছেন, জার্মানিতে এত সংখ্যক মানুষ শরণার্থীদের সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন, যে তিনি এর জন্য অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ৷ বিদেশি বিদ্বেষীদের তুলনায় তাদের সংখ্যা অনেক বেশি৷ তাঁদের অবদান তুলে ধরার জন্য তিনি সংবাদ মাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷

কিন্তু এই বক্তব্য আরও এক সপ্তাহ অথবা তারও আগে শোনা গেলে আরও ভালো হতো৷ স্যাক্সনি রাজ্যের ফ্রাইটাল শহরে পরিকল্পিত শরণার্থী শিবিরের বিরুদ্ধে চরম দক্ষিণপন্থিরা অনেক আগেই মিছিল শুরু করেছিল৷ ম্যার্কেল তখনই মুখ খুললে হয়তো হাইডেনাউ শহরের বিশ্রি ঘটনার খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তো না৷