জার্মানি এবং ফ্রান্সে শরণার্থী শিশুদের দুরবস্থা

ইউনিসেফ বলেছে, জার্মানিতে আসা শরণার্থী শিশুরা জার্মান শিশুদের মতো অধিকার ভোগ করতে পারছেনা৷ এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়৷ ওদিকে ফ্রান্সে অনেক শরণার্থী শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, শরণার্থী শিশুরা জার্মান শিশুদের মতো শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে না৷ এছাড়া শিশুদের মধ্যে যাদের জার্মানিতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তারা আরও কম সুবিধা পাচ্ছে৷

ইউনিসেফ জার্মানির প্রধান ক্রিস্টিয়ান শ্নাইডার বলেন, ‘‘শরণার্থী শিশুদের মধ্যে অনেককে জার্মানি পর্যন্ত আসতে ভয়াবহ ও নৃশংস অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে৷ তাদের জন্য বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন৷''

যেসব শরণার্থী পরিবারের জার্মানিতে থাকার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম সেই পরিবারগুলোর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ৷

ফ্রান্সে ৫ ইউরোর বিনিময়ে যৌনকর্ম

কয়েক হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নিরাপদ এবং উন্নত জীবনের আশা নিয়ে প্রবেশ করেছে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায়৷ জার্মানির ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছর জার্মানি বছরে ৫ লক্ষ করে অভিবাসনপ্রত্যাশী নিতে পারবে৷ তিনি আরো জানান, এত শরণার্থী নিলেও সরকার জনগণের ওপর বাড়তি করারোপ করবে না৷

তাদের বাবা-মা বেঁচে আছে কিনা, বেঁচে থাকলে কোথায় আছে- শিশুরা তা বলতে পারেনা৷ প্রাণ বাঁচাতে একা একাই দেশ ছেড়ে তারা চলে এসেছে ইউরোপে৷ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে শুধু সুইডেনেই ৭০০-র মতো এমন শিশু আসছে৷ ওপরের ছবিটি হাঙ্গেরির৷

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, শরণার্থী শিশুরা জার্মান শিশুদের মতো শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে না৷ এছাড়া শিশুদের মধ্যে যাদের জার্মানিতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তারা আরও কম সুবিধা পাচ্ছে৷

ইউনিসেফ জার্মানির প্রধান ক্রিস্টিয়ান শ্নাইডার বলেন, ‘‘শরণার্থী শিশুদের মধ্যে অনেককে জার্মানি পর্যন্ত আসতে ভয়াবহ ও নৃশংস অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে৷ তাদের জন্য বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন৷''

যেসব শরণার্থী পরিবারের জার্মানিতে থাকার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম সেই পরিবারগুলোর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ৷

ফ্রান্সে ৫ ইউরোর বিনিময়ে যৌনকর্ম

উত্তর ফ্রান্সের সাতটি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে প্রায় ৫০০ শিশু অবস্থান করছে যাদের সঙ্গে পরিবারের কেউ নেই৷ এই শিশুরা অনেক সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ৷ তাদের অনেককে অপরাধ করতে এবং শ্রম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি৷

বছরে ৫ লাখ শরণার্থী নেবে জার্মানি

কয়েক হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নিরাপদ এবং উন্নত জীবনের আশা নিয়ে প্রবেশ করেছে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায়৷ জার্মানির ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছর জার্মানি বছরে ৫ লক্ষ করে অভিবাসনপ্রত্যাশী নিতে পারবে৷ তিনি আরো জানান, এত শরণার্থী নিলেও সরকার জনগণের ওপর বাড়তি করারোপ করবে না৷

বাড়িতে শরণার্থী রাখতে আগ্রহী ব্রিটিশরা, সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

শিশু আয়লানের লাশের ছবি নিয়ে আলোড়নের পর বছরে ২০ হাজার শরণার্থী নিতে রাজি হয়েছে ব্রিটেন৷ তবে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের এই ঘোষণায় ব্রিটিশরাই সন্তুষ্ট নয়৷ এখনো অনেক ব্রিটিশ ইন্টারনেটে নিজের বাড়িতে শরণার্থী রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি আরো উদার হবার আহ্বান জানাচ্ছেন৷ প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টিও একই দাবি তুলেছে৷ ব্রিটেন আরো বেশি শরণার্থী নেবে কিনা এ নিয়ে আলোচনা হবে সংসদে৷

গ্রিসে শরণার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ, শঙ্কিত ইইউ সভাপতি

শরণার্থী আর পুলিশের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে গ্রিসের লেসবস দ্বীপে৷ আড়াই হাজারের মতো অভিবাসনপ্রত্যাশী এথেন্সে যাওয়ার জন্য জোর করে জাহাজে উঠতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়৷ তারপরই শুরু হয় সংঘর্ষ৷ এদিকে তুরস্কের কাছাকাছি দেশ হওয়ায় গ্রিসে সিরীয় শরণার্থীর ঢল অব্যাহত রয়েছে৷ ইইউ সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক এ নিয়ে শঙ্কিত৷ তিনি মনে করেন, সিরিয়া থেকে অবাধে লোক আসার এই ধারা আগামী কয়েক বছর ধরে চলতে পারে৷

সুইডেনে ‘এতিম’ শিশু শরণার্থী

তাদের বাবা-মা বেঁচে আছে কিনা, বেঁচে থাকলে কোথায় আছে- শিশুরা তা বলতে পারেনা৷ প্রাণ বাঁচাতে একা একাই দেশ ছেড়ে তারা চলে এসেছে ইউরোপে৷ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে শুধু সুইডেনেই ৭০০-র মতো এমন শিশু আসছে৷ ওপরের ছবিটি হাঙ্গেরির৷

পথে পথে শিশুনির্যাতন

শুধু সিরিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ, এমনকি আফ্রিকা অঞ্চল থেকেও আসছে শিশু শরণার্থী৷ ডেনমার্কের ওরেসুন্ড ব্রিজ হয়ে তারা ঢুকে পড়ছে সুইডেনে৷ শিশুদের অনেকেই আহত, শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনে বিপর্যস্ত৷ চলন্ত ট্রাক থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে আহত হচ্ছে অনেকে৷ অনেকে আবার ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার৷ মানবপাচারকারীরাই করছে ধর্ষণ, নির্যাতন৷

ইউনিসেফের ব্রিটেন শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেলানি টেফ থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেছেন, ‘‘আমরা এমন মেয়েদের কথা জানি যারা মাত্র পাঁচ ইউরোর বিনিময়ে যৌনকর্মে লিপ্ত হচ্ছে৷'' শরণার্থী শিবিরে জায়গা পাওয়ার বিনিময় হিসেবে মেয়েরা এই অর্থ ব্যবহার করছে৷ অনেকে আবার ফ্রান্স থেকে ব্রিটেনে যাওয়ার খরচ হিসেবেও এই অর্থ ব্যয় করছে বলে জানান ঐ ইউনিসেফ কর্মকর্তা৷

ফ্রান্সের সাতটি শিবিরে শিশুদের অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ৷ সেখানে ছেলে শিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে৷

সঙ্গিহীন শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে

ইউনিসেফ বলছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো পরিবার-পরিজন বিহীন শিশুর সংখ্যা চলতি বছর দ্বিগুণ হয়েছে৷ এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সাত হাজারেরও বেশি এমন শিশু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ পৌঁছেছে৷ ইটালিতে পৌঁছানো ১০ জন শিশুর মধ্যে নয়জনই সঙ্গিহীন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি৷

জগৎসেরা হাসি

বাবা-মা-এর কাছে পাসপোর্ট নেই বলে জার্মান পুলিশ তাদের আটকে রেখেছে৷ ফুটফুটে শিশু দুটোর তো তা বোঝার সাধ্য নেই, তাই মিউনিখের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে দিব্যি খেলে বেড়াচ্ছে ওরা৷

তবু যেতে হয়....

বুদাপেস্ট রেল স্টেশন থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেছে পুলিশ৷ অন্যদের সঙ্গে এই মেয়েটিও চেয়েছিল ট্রেনে চড়ে জার্মানি বা অস্ট্রিয়ায় যেতে৷ যাওয়া হলো না৷ মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে মেয়েটি৷

উল্লাসে বেঁচে থাকা

হাঙ্গেরিতে ঢোকাও খুব কঠিন৷ সিরিয়ার এই পরিবারটিও অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে, অনেক বাধা পেরিয়ে এই মাত্র এসেছে হাঙ্গেরির সীমান্তে৷ বাবা-মায়ের আগে কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছে মেয়েটি, চোখে-মুখে দেহভঙ্গিতে সেই আনন্দ৷

অসহায় শিশু, অসহায় কান্না

গ্রিসের সীমান্ত৷ হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে৷ ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে এক শিশু৷

মা-মেয়ে

মেসিডোনিয়ার পুলিশের পাশ দিয়ে যেতে ভয় করছিল তাদের৷ কোথায় মা অভয় দেবে মেয়েকে, তা নয়, মায়ের কান্না দেখে মেয়েই সামলাচ্ছে তাঁকে৷

হাতিয়ার

বুদাপেস্ট রেল স্টেশন থেকে ওদেরও বের করে দেয়া হয়েছে৷ ট্রেনের টিকেট দেখিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে অনেকে৷ অনেকে আবার শিশুকে তুলে ধরে জানাচ্ছেন প্রতিবাদ৷

দরদি পুলিশ

ছোট্ট একটি মেয়ে অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারছিলনা৷ মেসিডোনিয়ার এক মহিলা পুলিশ কোলে তুলে নিলো তাকে৷

ভয়

গ্রিসের কস দ্বীপে নাম, পরিচয় নথিভুক্ত করানোর সময় বাবার সঙ্গে কী নিয়ে যেন ঝগড়া লেগেছে পুলিশের৷ হৈ-চৈ শুনে ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে সিরীয় পরিবারটির শিশু সন্তান৷

তুমি অজেয়

গ্রিসে ওর পরিবারের জীবনযুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে৷ জয়-পরাজয় তো অনেক পরের কথা৷ কিন্তু কার কাছ থেকে যেন ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখাতে শেখা মেয়েটি যখন-তখন যাকে-তাকে দু আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছে ‘ভি’৷ এমন শিশুকে কেইবা হারাতে চায়!

জেডএইচ/এসিবি (কেএনএ, ইপিডি, রয়টার্স)