জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ীদের নজর মার্কিন বাজারের দিকে

জার্মান অস্ত্রব্যবসায়ীরা মার্কিন বাজারকে লোভনীয় মনে করছে৷ সম্প্রতি লাস ভেগাসে গণহারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার পর অস্ত্রবিক্রির হার বেড়েছে৷

সোমবার লাস ভেগাসে গণহারে গুলি চালানোর ঘটনায় অন্তত ৫৮ ব্যক্তির মৃত্যুর পর সেদেশে অস্ত্রবিক্রি আবারো বেড়ে গেছে৷ তবে এই বৃদ্ধি বাড়ার পেছনের কারণ অবশ্য ভিন্ন৷ কেউ কেউ মনে করেন, এভাবে হত্যার ঘটনার পর হয়ত অস্ত্র বিক্রির ওপর নতুন কড়াকড়ি আরোপ হবে৷ যদিও সেই শঙ্কা ওবামা প্রশাসনের আমলে যতটা ছিল, এখন ততটা নেই৷ কেননা, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গান লবিস্টদের’ বন্ধু হিসেবে পরিচিত৷

০১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র রপ্তানি করা দেশটি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ গত পাঁচ বছরে বিক্রি হওয়ায় অস্ত্রের ৩৩ শতাংশ সরবরাহ করেছে সেদেশ৷ গত কয়েক বছরে দেশটির অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে৷ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্ক এ সব অস্ত্রের মূল ক্রেতা৷

০২. রাশিয়া

বিশ্বের অপর পরাশক্তি রাশিয়ার দখলে আছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারের ২৫ শতাংশ৷ দেশটিতে উৎপাদিত অস্ত্রের মূল ক্রেতা ভারত৷ চীন এবং ভিয়েতনামও রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে নিয়মিত৷

০৩. চীন

পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কাছাকাছি না হলেও তিন নম্বরে অবস্থান করছে চীন৷ বিশ্বের অস্ত্র বাজারের ৫ দশমিক নয় শতাংশ তাদের দখলে৷ ক্রেতা পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার৷

০৪. ফ্রান্স

চীনের পরেই ফ্রান্সের অবস্থান, গত কয়েক বছরে বিক্রি হওয়া অস্ত্রের ৫ দশমিক ছয় শতাংশ তৈরি করেছে সেদেশে৷ তবে লক্ষণীয় হলো, ফ্রান্সের অস্ত্র রপ্তানির পরিমান আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে৷ মূলত মরক্কো, চীন এবং মিশর সেদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করে৷

০৫. জার্মানি

জার্মানির অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ সিপ্রির হিসেবে গত দশকের তুলনায় অনেক কমেছে৷ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের ৪ দশমিক সাত শতাংশ তাদের দখলে আছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং গ্রিস জার্মানির মূল ক্রেতা৷

০৬. যুক্তরাজ্য

অস্ত্র বিক্রির বাজারে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ষষ্ঠ, সংখ্যার হিসেবে ৪ দশকিম পাঁচ শতাংশ৷ মূলত সৌদি আরব, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাজ্য থেকে অস্ত্র আমদানি করে৷

০৭. স্পেন

স্পেনের দখলে আছে অস্ত্র বাণিজ্যের ৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ৷ অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব এবং তুরস্ক অস্ত্র আমদানি করে স্পেন থেকে৷

ট্রাম্প প্রশাসন যেহেতু অস্ত্র বিক্রির উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে নয়, তাই জার্মান অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মার্কিন বাজারকে অনেক লোভনীয় মনে করছে৷ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বাধার মুখে পড়ছে, তাদের কাছে পশ্চিমা বাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷

জার্মান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হেকলার অ্যান্ড কখ্’ বা এইচঅ্যান্ডকে জর্জিয়ায় একটি ফ্যাক্টরি তৈরি করছে৷ সেখানে শুধুমাত্র মার্কিন বেসামরিক বাজারের জন্য ‘স্পোর্টস অ্যান্ড হন্টিং’ অস্ত্র তৈরি করা হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি৷ আগামী দুই বছরে ফ্যাক্টরিতে ৮৪টি পদে লোক নিয়োগ করা হবে, যেগুলো জার্মান এবং মার্কিন প্রকৌশলীরা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মার্কিন মার্কেটে জার্মান অস্ত্র নির্মাতাদের সম্ভবনার পাশাপাশি শঙ্কাও দেখছেন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট’ নামে যে স্লোগান চালু করেছেন, তার অর্থ হচ্ছে তারা স্থানীয়দের উৎপাদিত পণ্যকে গুরুত্ব দেবে৷ তা সত্ত্বেও এইচঅ্যান্ডকে’র মতো অস্ত্র নির্মাতারা মার্কিন বাজারে নিজেদের অবস্থান চাঙা করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে৷ এক্ষেত্রে জার্মান ব্র্যান্ড ভ্যালু সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

বেন নাইট/এআই