জার্মান পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

জার্মান পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার সংস্থা৷ পুলিশের বিরুদ্ধে আফগান এক অভিবাসনপ্রত্যাশীর যৌনাঙ্গে আঘাত করা ও তাঁর গলা চেপে ধরার অভিযোগ এনেছে সংস্থাটি৷

সংস্থাটি জার্মান সরকারকে দেশটির পুলিশের এ ধরনের আচরন থামাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে৷

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক মানবাধিকার সংস্থা কমিটি টু প্রিভেনশন অব টর্চার (সিপিটি) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘যৌনাঙ্গে আঘাত করা ও গলা চেপে ধরার এ ঘটনাটি স্পষ্টতই ব্যাক্তিটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যেটি মাত্রাতিরিক্ত এবং অনুপযোগী আচরণ৷’’

শ্বাস নেওয়ার জন্য লড়ছিল

সিপিটি'র প্রতিবেদনটিতে ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট এক আফগান শরণার্থীর সাথে ঘটা একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে৷ একটি চার্টার ফ্লাইটে করে সেদিন আফগানিস্তানের ৪৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে দেশে পাঠানো হচ্ছিল৷ তাঁদের অভিবাসনের আবেদন কর্তৃপক্ষ নাকচ করে দিলে, তাঁদের নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল৷ নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটিতে ১০০ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন৷ পর্যবেক্ষক হিসেবে সিপিটি'র তিনজন প্রতিনিধিও ছিলেন বিমানটিতে৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

তিন ধরনের সুরক্ষা

শরণার্থী, হিউম্যানিটারিয়ান ও সাবসিডিয়ারি – এই তিন ক্যাটাগরিতে আশ্রয় দেয়া হয়ে থাকে৷ যাঁরা শরণার্থী স্ট্যাটাসের যোগ্য নন, কিন্তু দেশে ফিরে গেলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের সাবসিডিয়ারি সুরক্ষা দেয়া হয়৷ আর অসুস্থতা ও অভিভাবকহীন শিশুদের মানবিক (হিউম্যানিটারিয়ান) বিবেচনায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১৭

বাংলাদেশি নাগরিকদের পক্ষ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গতবছর ১৬,০৯৫টি আশ্রয়ের আবেদন পড়েছে৷ আর একই সময়ে বাংলাদেশিদের করা ২,৮৩৫টি আবেদন সফল হয়েছে৷ শতকরা হিসেবে সেটি ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ৷ জার্মানিতে আবেদন পড়েছে ২,৭২৫টি৷ সফল হয়েছে ৩১৫টি৷ এমনিভাবে অন্য কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান এরকম – যুক্তরাজ্য (আবেদন ১,৬৩০; সফল ৬৫), ইটালি (আবেদন ৫,৭৭৫; সফল ১,৮৮৫) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৪,১১৫; সফল ৪৪০)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১৬

বাংলাদেশিরা ১৪,০৮৫টি আবেদন করেছেন৷ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে ২,৩৬৫টি৷ অর্থাৎ সফলতার হার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ৬৬৫; সফল ১১০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ১,৪০৫; সফল ৮০), ইটালি (আবেদন ৬,২২৫; সফল ১,৬১০) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৪,১১০; সফল ৪৪০)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১৫

সেবছর সফলতার হার ছিল ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ৷ আবেদন পড়েছিল ১১,২৫০টি৷ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ১,৭৮৫টি৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ২৬৫; সফল ৩৫), যুক্তরাজ্য (আবেদন ১,০১৫; সফল ১২০), ইটালি (আবেদন ৫,০১০; সফল ১,২২৫) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৩,৫৬০; সফল ৩১৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১৪

আবেদন ৭,৫৮০টি৷ সফল ৭৮৫৷ শতকরা হার ১০ দশমিক ৩৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ৪৬৫; সফল ৫০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৭০০; সফল ৭৫), ইটালি (আবেদন ৭৩৫; সফল ৩১৫) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৩,৮৭০; সফল ২৬৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১৩

সফলতার হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ৷ আবেদন ৮,৩৩৫৷ সফল ৫৯৫৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ২৫০; সফল ২০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৮৩০; সফল ৫৫), ইটালি (আবেদন ৫৯০; সফল ৩০০) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৩,৬১৫; সফল ১৪৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১২

সফলতার হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ১৯০; সফল ১০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৮০০; সফল ৫০), ইটালি (আবেদন ১,৪১০; সফল ১,০৪৫) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৩,৭৫৫; সফল ৮৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১১

সফলতার হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ১১০; সফল ০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৪৮০; সফল ৪০), ইটালি (আবেদন ৮৬৫; সফল ৬৫) এবং ফ্রান্স (আবেদন ৩,৭৭০; সফল ৪৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০১০

সফলতার হার ৪ দশমিক ৮ শতাংশ৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ১০৫; সফল ০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৪৬০; সফল ৫৫), ইটালি (আবেদন ২১৫; সফল ৪০) এবং ফ্রান্স (আবেদন ২,৪১০; সফল ২৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০০৯

সফলতার হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ৪০; সফল ০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৩৭৫; সফল ৪৫), ইটালি (আবেদন ৮৮৫; সফল ৮৫) এবং ফ্রান্স (আবেদন ১,৭৮০; সফল ৩৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

২০০৮

সফলতার হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ৷ কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান – জার্মানি (আবেদন ৪০; সফল ০), যুক্তরাজ্য (আবেদন ৩৯৫; সফল ৯৫), ইটালি (আবেদন ৯৫০; সফল ৫০) এবং ফ্রান্স (আবেদন ১,৬৬০; সফল ৩৫)৷

ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার হার বাড়ছে

৩২ দেশের হিসাব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮ সদস্যরাষ্ট্র এবং ‘ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা ইএফটিএ-এর অন্তর্ভুক্ত আইসল্যান্ড, লিখটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউরোস্ট্যাট৷ আরও পরিসংখ্যান জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবেই করা হচ্ছিল৷ তবে দু'জন অভিবাসনপ্রত্যাশী বিমানে উঠতে অস্বীকৃতি জানান৷ এ সময় পুলিশ তাঁদের হাতে-পায়ে বেড়ি বেঁধে বিমানে ওঠানোর চেষ্টা করে৷ তখন তাঁদের একজন পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি চালিয়ে যান৷ এ সময় একজন পুলিশ সদস্য তাঁর গলায় চাপ দিয়ে ধরলে তিনি শ্বাস কষ্টে ভুগতে থাকেন৷ এদিকে আরেকজন পুলিশ সদস্য তাঁর যৌনাঙ্গে চাপ দিয়ে তাঁর পা চেয়ারের সাথে বেঁধে ফেলে বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়৷

ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

প্রতিবেদনটিতে সিপিটি জানায়, কাউকে বল প্রয়োগের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবশ্যই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত৷ বল প্রয়োগের সময় এ ধরনের পদ্ধতির ব্যবহার থামাতে জার্মান কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি৷ জার্মান সরকার জানিয়েছে, সংস্থাটির সুপারিশমালা ইতোমধ্যে পুলিশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে৷

পুনর্বাসনের সময় বাড়ানোর দাবি

প্রতিবেদনটিতে সিপিটি জানায়, অভিবাসনের আবেদন নাকচ করার পর তড়িঘরি করে আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত৷ সংস্থাটি বলছে, আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেশে ফেরত যাবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে সময়ের প্রয়োজন হয়৷ আবেদন নাকচ হওয়ার পরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে কখনো কখনো এক সপ্তাহেরও কম সময় দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি৷

আরআর/জেডএইচ (এএফপি, এপি, ডিপিএ)

আমাদের অনুসরণ করুন