জার্মান রাজনীতিকের জাতিবৈষম্যমূলক টুইট

চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের রাজনীতিবিদ এরিকা স্টাইনবাখ টুইটারে একটি ছবি প্রচার করেছেন, যা ২০১১ সালে ভারতে তোলা, স্টাইনবাখের নিজের তোলা নয়৷ ছবিটির অপব্যবহার নিয়ে অনেকেই অসন্তুষ্ট৷

এরিকা স্টাইনবাখের টুইটটির পটভূমি হলো, চলতি উদ্বাস্তু সংকট এবং জার্মানিতে তা নিয়ে বিতর্ক ও বিভাজন৷ জার্মানিতে গতবছর দশ লক্ষের বেশি উদ্বাস্তু এসে পৌঁছেছে৷ এক্ষেত্রে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের গোঁড়া রক্ষণশীল অংশের একজন প্রথম সারির প্রতিনিধি এরিকা স্টাইনবাখ স্বভাবতই উদ্বাস্তুদের প্রতি ম্যার্কেলের স্বাগতম নীতির বিরোধী৷ একদিকে তিনি যেমন ম্যার্কেলের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমালোচনা করেছেন, অপরদিকে একটি টুইটের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উদ্বাস্তুদের আগমনের ফলে জাতিগত জার্মানরা তাদের নিজেদের দেশেই সংখ্যালঘু হয়ে উঠতে পারে, এই তাঁর আশঙ্কা৷ আশঙ্কাটি যেমন পরিসংখ্যানগতভাবে ভ্রান্ত ও অমূলক, তেমনই বিভ্রান্তিকর সপ্তাহ তিনেক আগে করা স্টাইনবাখের এই টুইটে একটি ছবির ব্যবহার৷

ছবিটি তোলা হয় ২০১১ সালে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই শহরের একটি অনাথাশ্রমে, যেখানে প্রায় ১৭৫ জন শিশুর বাস৷ এক অস্ট্রেলীয় দম্পতি তাদের সোনালি চুল আর সাদা গায়ের রঙের বাচ্চাকে নিয়ে হঠাৎই হাজির হন এবং এই ছবিটি তোলেন৷ সুন্দর ছবি, মিষ্টি ছবি৷ এরিকা স্টাইনবাখের টুইটে সেই ছবির মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা৷ শিরোনাম দিয়েছেন ‘জার্মানি ২০৩০ সাল; নীচে অনাথাশ্রমের যে সব বাচ্চা দেখা যাচ্ছে, তারা যেন সবাই জার্মানিতে আশ্রয় নেওয়া উদ্বাস্তু-অভিবাসীদের সন্তান৷ স্টাইনবাখ ইঙ্গিত করছেন যে, ২০৩০ সালে জার্মানি এমনভাবে বিদেশিদের সন্তানে ভরে যাবে যে, শ্বেতাঙ্গ-স্বর্ণকেশ জার্মান শিশুদের শুনতে হবে, ‘ভোহেয়ার কমস্ট ডু ডেন?' – ‘তুই আসছিস কোথা থেকে?'

ছবিটা ইন্টারনেটে এলো কোথা থেকে? সে প্রশ্ন তোলে জার্মানির এক টেলিভিশন কেন্দ্র৷ খোঁজখবর করে জানতে পারে যে, এক মার্কিন ম্যাগাজিনের ফটো-কমিউনিটিতে অস্ট্রেলিয়ার কোনো এক ব্যবহারকারী ছবিটি আপলোড করেন ২০১২ সালে৷ ব্যবহারকারী ছিলেন খোড়োচুল শিশুটির বাবা স্বয়ং৷ কপিরাইট যারই হোক না কেন, ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে – অনেকেই তার সঙ্গে এরিকা স্টাইনবাখ সুলভ জাতিবৈষম্যসূচক মন্তব্য জুড়ে দেন৷ স্টাইনবাখ নিজে অবশ্য পরে বলেন, উদ্বাস্তুর স্রোতে উদ্বিগ্ন কোনো এক জার্মান নাগরিক নাকি তাঁকে ছবিটি পোস্ট করেছিলেন৷

মনে রাখতে হবে, এরিকা স্টাইনবাখ সিডিইউ দলের মানবাধিকার সংক্রান্ত মুখপাত্র৷ দিন দশেক আগের একটি টুইটে তিনি দলনেত্রীর উদ্বাস্তু নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘‘সেপ্টেম্বর যাবৎ জার্মান সংসদের সম্মতি ছাড়াই সব কিছু চলেছে৷ একনায়কতন্ত্রের মতো!''

শরণার্থী সংকট নিরসনে তুরস্ককে ম্যার্কেলের আশ্বাস

আঙ্কারায় ম্যার্কেল

ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্রোত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলুর সঙ্গে বৈঠক করতে রবিবার আঙ্কারায় যান ম্যার্কেল৷ বৈঠকে শরণার্থী ইস্যু নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে৷ নিজের বক্তব্যে ম্যার্কেল তুরস্কের ইইউ সদস্য হওয়ার দাবিকে সমর্থন করার আশ্বাস দেন৷ তুরস্কের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷

শরণার্থী সংকট নিরসনে তুরস্ককে ম্যার্কেলের আশ্বাস

তুরস্ক যা চায়

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ তুরস্কের দীর্ঘ দিনের দাবি৷ ইইউ অঞ্চলে তুরস্কের নাগরিকদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ির বিষয়টিও এসেছে আলোচনায়৷ দু’টি বিষয়েই ইতিবাচ সাড়া দিয়েছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

শরণার্থী সংকট নিরসনে তুরস্ককে ম্যার্কেলের আশ্বাস

দাভুতোগলুর সন্তোষ প্রকাশ

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ২০ লক্ষ সিরীয়কে আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক৷ জার্মান চ্যান্সেলরের বক্তব্যে এই বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় এবং জার্মানি এই সংকটে তুরস্কের পাশে থাকবে জানানোয় আহমেদ দাভুতোগলু জানান, ‘‘(শরণার্থীর) চাপ ভাগাভাগির বেলায় আন্তর্জাতিক মহল দুঃখজনকভাবে তুরস্ককে একা ফেলে রেখেছিল৷ আগের চেয়ে ভালো দৃষ্টিভঙ্গি দেখে আমরা খুশি৷’’

শরণার্থী সংকট নিরসনে তুরস্ককে ম্যার্কেলের আশ্বাস

তুরস্ক প্রসঙ্গে ইইউ-র সাম্প্রতিক অবস্থান

ম্যার্কেলের সঙ্গে বৈঠকে দাভিতোগ্লু যে দু’টি বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, সেগুলো ইতিমধ্যে ইইউ বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে৷ তুরস্কে অবস্থানরত সিরীয়দের জন্য তুর্কি সরকারকে ৩ বিলিয়ন ইউরোর অর্থ সহায়তা দেয়া এবং ইইউ অঞ্চলে তুর্কিদের ভিসা প্রাপ্তি সহজ করার সিদ্ধান্ত ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট মোটামুটি চূড়ান্ত করেছে বলেই জানা গেছে৷

শরণার্থী সংকট নিরসনে তুরস্ককে ম্যার্কেলের আশ্বাস

জার্মানিতে অভিবাসীবিরোধীতা

ইতিমধ্যে ব্যাপক শরণার্থীর ঢল নামায় জার্মানির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কয়েকজন সরকার এবং বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ৷ শরনার্থীবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ নতুন করে শুরু করছে পেগিডা৷ এদিকে শনিবার কোলনের মেয়র প্রার্থী হেনরিয়েটে রেকার-এর ওপর হামলা হয়৷ ছুরির আঘাতে আহত হলেও তিনি এখন সুস্থ হওয়ার পথে৷ প্রথম নারী হিসেবে কোলনের মেয়রও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি৷ অভিবাসীবিরাধী সংগঠন পেগিডা এই হামলায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

উদ্বাস্তু বা শরণার্থী সংকট কি জাতিবৈষম্যের মনোভাব সৃষ্টি করছে? জানান মন্তব্যের ঘরে৷

এসি/এসিবি (ডিডাব্লিউ)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

জার্মান নির্বাচন | 31.08.2017

ম্যার্কেলের ‘আমরা পারবো' মন্ত্র

আমাদের অনুসরণ করুন