জার্মান ‘শরিয়া পুলিশের' পুনর্বিচার শুরু

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের শহর ভুপার্টালে সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুনরায় বিচার শুরু হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে ‘শরিয়া পুলিশ' নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে হলুদ ‘ভেস্ট' পরে রাস্তায় টহল দেয়ার অভিযোগ রয়েছে৷

স্বঘোষিত ‘শরিয়া পুলিশের' এই দল ২০১৪ সালে  রাস্তায় সাধারণ মানুষকে গান শোনা এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিল৷ সোমবার তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে৷

নতুন করে বিচারের মুখোমুখি হওয়াদের অবশ্য ২০১৬ সালে আদালত একবার নিষ্কৃতি দিয়েছিল৷ কিন্তু, গতবছর জার্মানির একটি উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই রায় বাতিল করে নতুন করে তাদের বিচারের সিদ্ধান্ত নেয়৷

আসামিরা ২০১৪ সালে ‘শরিয়া পুলিশ' লেখা হলুদ পোশাক পরে ভুর্পাটালের রাস্তায় টহল দিয়েছিলেন৷ তাদের টহলের ছবি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়৷ তারা সেসময় একটি ‘শরিয়া নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের' ঘোষণা দিয়েদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে৷ পাশাপাশি তারা পথচারীদের মাদক, মদ, জুয়া, পতিতালয়ে যাওয়া, গান শোনা এবং পর্নগ্রাফি থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছিলেন৷

সেই সাত ‘শরিয়া পুলিশের' বিরুদ্ধে ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য কিংবা দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার শাস্তি হতে পারে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

যেভাবে শুরু

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত আচেহ প্রদেশে এখনো শরিয়া আইন চালু আছে৷ ঐ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থামানোর লক্ষ্যে সরকার ২০০১ সালে ঐ প্রদেশের জন্য ‘বিশেষ স্বায়ত্তশাসন’এর ব্যবস্থা করার পরই ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন শুরু হয়৷ এরপর ২০০৫ সালে শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পর আইনের প্রয়োগ আরও জোরালো হয়৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

যেসব অপরাধে শাস্তি দেয়া হয়

জুয়া খেলা, অ্যালকোহল পান করা, সমকামিতা, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি নানা কারণে অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে৷ শাস্তি হিসেবে সাধারণত বেত্রাঘাত করা হয়৷ অপরাধের ধরণ বিবেচনায় নিয়ে বেত্রাঘাতের পরিমাণ ঠিক করা হয়৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

অবিবাহিতদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

সোমবার (১৩ অক্টোবর) আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহ’র একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে শরিয়া আইন না মানার কারণে ১৩ জনকে শাস্তি দেয়া হয়৷ এর মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সি ছয় জোড়া তরুণ-তরুণীও ছিল৷ তাঁদের অপরাধ, বিয়ে না করেই ঘনিষ্ঠ হয়েছেন৷ শরিয়া আইন বলছে, বিয়ে না করে ছেলে-মেয়েদের একে অপরকে ছোঁয়া, চুমু দেয়া, জড়িয়ে ধরা অপরাধ৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

নিভৃত স্থানে একসঙ্গে সময় কাটানো

ছয় জোড়া যুগল ছাড়াও সোমবার আরেক ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়ার কারণ, তাকে গোপন স্থানে বিপরীত লিঙ্গের একজনের সঙ্গে এমনভাবে সময় কাটাতে দেখা গেছে যা হয়ত ব্যভিচার পর্যন্তও গড়াতে পারত৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

হাসিঠাট্টায় মগ্ন দর্শক

বেতের আঘাতে ব্যথা পেয়ে একজন তরুণী যখন চিৎকার করে কাঁদছিল তখন চারদিকে দাঁড়িয়ে জনতা সেটি উপভোগ করছিল৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

ডেপুটি মেয়রের আশা

আচেহ’র ডেপুটি মেয়র জয়নাল আরিফিনের আশা, এই ধরণের শাস্তির ব্যবস্থা করার কারণে ভবিষ্যতে নাগরিকরা শরিয়া আইন ভাঙার মতো কাজে জড়াবে না৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি

সাম্প্রতিক সময়ে আচেহ’তে শাস্তি দেয়া বেড়েছে৷ আগের চেয়ে এখন বেশি সংখ্যক নারীকে এই আইনের আওতায় শাস্তি দেয়া হচ্ছে৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

মানবাধিকার কর্মীদের প্রশংসা

না, শরিয়া আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রশংসা নয়, বরং বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছে আচেহ প্রদেশ কর্তৃপক্ষ৷ তবে সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তের কারণে মানবাধিকার কর্মীরা আচেহর প্রশংসা করেছে৷ সেটি হচ্ছে, চাকরিরত নারী কর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয়মাস করা হয়েছে৷ ইন্দোনেশিয়ার যে-কোনো প্রদেশের চেয়ে এটি বেশি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুন৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

জুয়া খেলার শাস্তি

২০১২ সালের ৫ অক্টোবরের এই ছবিতে জুয়া খেলার দায়ে এক ব্যক্তিকে শাস্তি পেতে দেখা যাচ্ছে৷ সেদিন মোট তিনজনকে এই অপরাধে শাস্তি দেয়া হয়৷

ইন্দোনেশিয়ার যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে

যে কারণে এই শাস্তি

২০১১ সালের ডিসেম্বরে ‘পাংক’ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ৷ তারপর তাদের এই শাস্তি দেয়া হয়৷ এরপর তাদের জন্য ১০ দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়৷ সেখানে তাদের মানসিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেয়া হয়৷

আদালতের নথিপত্রে তাদের ‘সালাফিস্ট সিনের' সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা জার্মানির গণতান্ত্রিক আইনি ব্যবস্থাকে বদলে সেখানে ‘শরিয়া আইন' প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷

পাঁচ বছর পর পুনরায় বিচার

২০১৪ সালের সেই ঘটনার জন্য ২০১৬ সালে প্রথমবার বিচারের মুখোমুখি হন আলোচিত সাত ব্যক্তি৷ কিন্তু তখন ভুপার্টাল জেলা আদালতের বিচারক তাদেরকে ইউনিফর্ম নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের জন্য শাস্তি দিতে চাননি, কেননা, তারা আইন ভঙ্গ করতে চেয়েছিলেন এমনো কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বিচারকরা মনে করেছিলেন৷

কিন্তু ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কার্লসরুয়ের কেন্দ্রীয় বিচার আদালত নিম্ন আদালতের সেই রায়ের সমালোচনা করে সেই সাত ব্যক্তিকে পুনরায় বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দেয়৷

আইনজীবী এবং ইসলাম বিশেষজ্ঞ মাথিয়াস রোহে মনে করেন, পুর্নবিচারের নির্দেশনা দিয়ে আদালত সঠিক কাজটিই করেছে, কেননা ‘শরিয়া পুলিশের' দলটির কারণে মুসলিম এবং অমুসলিমরা আতঙ্কিত অনুভব করার সুযোগ ছিল৷

এআই/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ)

আরো প্রতিবেদন...

10 ছবি
মিডিয়া সেন্টার | 4 ঘণ্টা আগে

বনে গরম বাড়ছে, বাড়ছে আনন্দ

সমাজ সংস্কৃতি | 7 ঘণ্টা আগে

শেষবেলার পরাজয় থেকে কি এবার মুক্তি?

10 ছবি
সমাজ সংস্কৃতি | 7 ঘণ্টা আগে

উৎসবমুখর বাভারিয়া

আমাদের অনুসরণ করুন