জার্মান সহায়তায় কোস্টারিকায় পুনর্বনায়ন

কোস্টারিকায় পাখিদের জন্য গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু হয়েছে৷ জার্মানির আংশিক সহায়তায় চালু হওয়া ঐ প্রকল্পে কাজ করছেন স্থানীয় নারীরা৷ পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করতে পেরে তাঁরা বেশ খুশি৷

কোস্টারিকার বায়ো-করিডোরের পশ্চিম উপকূলে পুনর্বনায়নের কাজ চলছে৷ কাজ চলছে ইকো-টুরিজমের জন্য পরিচিত ভেনাডো দ্বীপেও৷ দ্বীপের বাসিন্দা আনা রেইয়েস পর্যটকদের বিশেষ এক প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখান৷ প্রকল্পের নাম ‘পারাইসো এস্কোনদিদো' বা লুকানো স্বর্গ৷

এই পুনর্বনায়ন প্রকল্পে লাল ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো হয়েছে৷ প্রকল্পের কর্মী ও গাইড আনা রেইয়েস বলেন, ‘‘পুনর্বনায়ন প্রকল্পে এই গাছটিই লাগানো হচ্ছে, কারণ, এটি বেশ ভালোভাবে বেড়ে উঠে৷''

নারীরা তাদের ঘরবাড়ি রক্ষা করতে চায়৷ যদি সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যায় তাহলে ম্যানগ্রোভ ক্ষয়ে যাওয়া আর উঁচু ঢেউয়ের হাত থেকে উপকূলকে রক্ষা করবে৷ আরেক কর্মী মেলিসা পেরালটা জানান, ‘‘প্রকল্পে আমরা কয়েকজন নারী আর একজন পুরুষ কাজ করছি৷ এটা একটা পারিবারিক প্রকল্পের মতো৷ এটা সহজ কাজ নয়৷ পানির বড় বড় পাত্র তুলতে হয় আমাদের৷ তবে এটা ভালো প্রকল্প৷ পরিবেশ রক্ষার জন্য আমরা সবাই কিছু করতে চাই, কেননা, অনেকদিন ধরে ম্যানগ্রোভ কাটা হচ্ছে৷ অনেক প্রাণীর আশ্রয়স্থল হচ্ছে এই ম্যানগ্রোভ৷ তাই আমরা যত বেশি সম্ভব ম্যানগ্রোভ লাগাতে চাই৷''

বিশ্ব ঐতিহ্য

বাংলাদেশে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ কিলোমিটার৷ আয়তনের প্রায় ৭০ ভাগ স্থল আর ৩০ ভাগ জল৷ পুরো সুন্দরবনের ভেতরে জালের মতো অসংখ্য নদী আর খাল রয়েছে৷ জীববৈচিত্রে ভরপুর সুন্দরবনকে ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ প্রায় ৪০০ প্রজাতির পাখির বসবাস এই বনে৷

বাঘের পায়ের ছাপ

সুন্দরবনের কটকা বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য৷ সেখানেই দেখা মেলে বেঙ্গল টাইগারের পায়ের ছাপ৷ এ বনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ডোরাকাটা বাঘ৷ জলবায়ুর পরিবর্তন, খাদ্যের অভাব আর চোরা শিকারসহ নানা কারণে দিন দিন এখানে কমে আসছে বাঘের সংখ্যা৷ বন বিভাগের মতে, সুন্দরবনে বর্তমানের বাঘের আনুমানিক সংখ্যা ৫০০৷ ২০০৪ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাঘশুমারি অনুযায়ী এ সংখ্যা ছিল ৪৪০৷

অনিন্দ্য সুন্দর চিত্রা হরিণ

সুন্দরবনের কটকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে চিত্রা হরিণ৷ সুন্দরবনের সর্বত্রই এ প্রাণীটির দেখা মেলে৷ চিত্রা আর মায়া – এ দুই ধরণের হরিণ আছে সুন্দরবনে৷ তবে সবচেয়ে বেশি আছে চিত্রা হরিণ৷ ৩০ হাজারেরও বেশি চিত্রা হরিণের বসবাস সুন্দরবনে৷

যার নামে সুন্দরবন

সুন্দরবনের অধিকাংশ গাছই চির সবুজ ম্যানগ্রোভ শ্রেণির৷ এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী৷ এ গাছের নামেই বনের নামকরণ৷ এছাড়া এই বনে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ আছেস যার মধ্যে ১৭টি ফার্ন জাতীয়, ৮৭টি একবীজপত্রী ও ২৩০ প্রজাতি দ্বিবীজপত্রী৷ সারা পৃথিবীজুড়ে যে ৫০ প্রজাতির প্রকৃত ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ আছে, তার ৩৫ প্রজাতিই পাওয়া যায় বাংলাদেশের সুন্দরবনে৷

পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ

প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক আসেন সুন্দরবন ভ্রমণে৷ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ লাখ ২০ হাজার ৪১৪ জন পর্যটক বেড়াতে এসেছেন এখানে, যাঁদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ৩ হাজার ৮৫৪ জন৷

বিচিত্র সাপ

শরণখোলা রেঞ্জের একটি জঙ্গলে গ্রিন ক্যাট স্নেক বা সবুজ ফনিমনসা সাপ৷ কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক সাপ ছাড়াও সুন্দরবনে দেখা যায় কিং কোবরা বা রাজগোখরা, রাসেলস ভাইপার, পিট ভাইপার, পাইথন, ব্যান্ডেড ক্রেইড ইত্যাদি৷

কুমির দর্শন

জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ – সুন্দরন নিয়ে এরকম প্রবাদ বহুকালের৷ সুন্দরবনের হারবাড়িয়া এলাকার একটি খালে লোনা জলের এই কুমিরটিকে দেখা গিয়েছিল৷ সুন্দরবনের মহা বিপন্ন এ প্রাণীটি আকারে সাত মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়৷ লোনা পানির কুমিরের গড় আয়ু ১০০ বছরের মতো৷

হরিণের বন্ধু

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তোলা বানরের ছবি৷ সুন্দরবনে চিত্রা হরিণের পর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এ প্রাণীটি৷ সুন্দরবনে বানরকে হরিণের সুহৃদ বলা হয়৷ গাছের ডাল ভেঙ্গে হরিণকে পাতা খেতে বানর সহায়তা করে থাকে৷ এছাড়া বাঘের আগমনের খবরটিও সবার আগে হরিণকে দেয় বানর৷

জঙ্গল উপভোগ

সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের ছোট খালে ঘুরে জঙ্গল উপভোগ করছেন পর্যটকরা৷ সকাল এবং বিকেলে এসব খালে বেড়ানোর সময় অনেক বন্য প্রাণীর দেখা মেলে৷

ভ্রমণতরী

সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে একটি বেসরকারি সংস্থার ভ্রমণতরী৷ সুন্দরবন দেখতে আসা বিদেশি পর্যটকদের বেশির ভাগই আসেন বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থাগুলোর সহায়তায়৷ এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোগেরও অভাব অনেক৷

পণ্যবাহী জাহাজের কারণে ডলফিনের মৃত্যু

সুন্দরবনের ভেতরে জঙ্গল ঘেঁষে চলাচল করছে বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজ৷ এ সব জাহাজের উচ্চ শব্দ যেমন বন্যপ্রাণীদের বিরক্তির কারণ হয়, তেমনি এসব জাহাজের সৃষ্ট ঢেউ ভাঙন ধরায় সুন্দরবনে৷ এ সব জাহাজের প্রোপেলারের আঘাতে প্রায়ই ডলফিনেরও মৃত্যু ঘটে৷

অপরূপ সূর্যাস্ত

সুন্দরবনের কটকা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সূর্যাস্তের ছবি তুলছেন এক পর্যটক৷

রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

সুন্দরবনের কোল ঘেঁষেই এগিয়ে চলছে রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ৷ এতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হয় বলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত বনভূমি ও মানব বসতির ১৫-২০ কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরণের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয় না৷ অথচ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থানের দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার৷

কোস্টারিকার অনেক প্রতিষ্ঠান এই ধরনের পুনর্বনায়ন প্রকল্পে সহায়তা করছে৷ তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে জার্মানির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, জিআইজেড৷ সঙ্গে আছে আরেকটি জার্মান কোম্পানি যারা ইউরোপে রপ্তানির জন্য অর্গানিক চিংড়ির চাষ করছে৷ তবে সাগরে নয়, অ্যাকুয়াকালচার ব্যবস্থায়৷ কোস্টারিকার সরকারের কঠোর নীতিমালার আওতায় চিংড়ি চাষ হচ্ছে৷ এই জায়গায় চিংড়ি চাষ করে জার্মানিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেতে কোম্পানিটিকে পুনর্বনায়ন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দিতে হয়েছে৷

অক্টোবর মাস থেকে ‘থ্রি-ওয়াটলেড বেলবার্ড' নামের এই পাখিগুলোকে পশ্চিম উপকূলে দেখা যায়৷ এরপর তারা ম্যানগ্রোভ অঞ্চল হয়ে মন্টেভের্ডের ক্লাউড ফরেস্টে চলে যায়৷

সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি বিশাল৷ বিশ্বে এই ধরণের প্রকল্প এটাই প্রথম৷

জেডএইচ/এসিবি

সঙ্গী যখন ঘুমে, উনি তখন খোঁজে

দেখতে সুন্দর এই ব্লুটিট পাখির স্বভাব একটু উড়ু-উড়ু৷ সকালবেলায় পুরুষ সঙ্গীটি যখন ঘুমে বিভোর তখন তিনি আশেপাশে বেরিয়ে পড়েন৷ তখন যদি অন্য কোনো পুরুষ পাখিকে গান গাইতে দেখেন তাহলে কিছুক্ষণের জন্য তার সঙ্গে একটু, মানে একটুখানি আনন্দ করে নেন!

রাজহাঁসের কথা

ছবিই বলে দিচ্ছে রাজহাঁস এমনিতে দীর্ঘদিনের জন্য সম্পর্কে জড়াতে আগ্রহী৷ কিন্তু মাঝেমধ্যে যে ‘বিবাহবহির্ভূত’ সম্পর্কে জড়ানোর অভ্যাস কারও কারও নেই সেটা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না!

ঝাঁক পছন্দ তাদের

তোতাপাখিরা সবসময় এক ঝাঁক হয়ে থাকতে পছন্দ করে৷ ঝাঁকের মধ্যেই এই পাখিরা একজন আরেকজনকে বেছে নিয়ে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলে৷ উদ্দেশ্য থাকে অনেকদিন একসঙ্গে থাকার৷ কিন্তু তারপরও রাজহাঁসের মতোই তাদেরও কারও কারও এক-আধটু মনে স্বাদ জাগে অন্যকিছু করার!

ধারণা ছিল ভুল

একসময় বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল সারস পাখিরা বোধ হয় একগামী হয়ে থাকে৷ কিন্তু পরে জানা গেছে, সেটি সত্যি নয়৷ মাইগ্রেশনের সময় তারা নাকি অন্য কোনো সঙ্গীকে সঙ্গে নিতে পারে৷

সব পেঙ্গুইন এক নয়

ছবিতে গালাপাগোস পেঙ্গুইনদের দেখতে পাচ্ছেন৷ মনে হচ্ছে যেন তারা একে অপরের জন্যই জন্মেছে৷ কিন্তু আসলেই কি তাই? উত্তর – হয়ত কিংবা হয়ত নয়৷ কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, রকহপার পেঙ্গুইন একগামী হয়ে থাকে৷ অর্থাৎ এই জাতের পেঙ্গুইন জোড়াদের একজন আরেকজনের চেয়ে কয়েক হাজার মাইল দূরে থাকলেও একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে৷

কোস্টারিকার বায়ো-করিডোরের পশ্চিম উপকূলে পুনর্বনায়নের কাজ চলছে৷ কাজ চলছে ইকো-টুরিজমের জন্য পরিচিত ভেনাডো দ্বীপেও৷ দ্বীপের বাসিন্দা আনা রেইয়েস পর্যটকদের বিশেষ এক প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখান৷ প্রকল্পের নাম ‘পারাইসো এস্কোনদিদো' বা লুকানো স্বর্গ৷