‌জিএসটি:‌ বিভ্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা

ভারতের নতুন পণ্য ও পরিষেবা কর নিয়ে বিভ্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা৷ তবে জিএসটির কারণে মূল্যবৃদ্ধি যে ঘটছেই, এ ব্যাপারে তাঁরা একরকম নিশ্চিত৷

বিভ্রান্তি৷ ব্যাপক এবং চূড়ান্ত বিভ্রান্তি৷ জিএসটি, অর্থাৎ দেশজুড়ে সমহারে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক মহলের প্রতিক্রিয়া এই একটি শব্দেই বর্ণনা করা যায়৷ ব্যবসায়ীরা, বিশেষত ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবাই বিভ্রান্ত যে, কীভাবে এই নতুন কর কাঠামোর সঙ্গে তাঁরা যুক্ত হবেন৷ এমনকি যাঁরা বাণিজ্য কর আদায় করবেন, সেই সরকারি আধিকারিকরাও জনান্তিকে স্বীকার করছেন যে, বিভ্রান্ত তাঁরাও৷ জিএসটি নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরেও তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না, কোন পণ্যের কর হার কী হবে এবং কীভাবে সেটা আদায় হবে৷ তার একটা বড় কারণ অবশ্যই বহুস্তরীয় কর ব্যবস্থা৷ পণ্য অনুযায়ী করের চারটি স্তর বেঁধে দেওয়া হয়েছে, অন্যান্য দেশের মত নির্দিষ্ট একটি কর হারে জিএসটি চালু হয়নি ভারতে৷ ফলে পুজোর বাজারের মরশুম শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও শনি ও রবিবার, কলকাতা শহরের শপিং মলগুলো কার্যত খালি পড়ে ছিল৷

ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিল কাগজ ও স্টেশনারি পণ্যের পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ী কৃষ্ণেন্দু দের সঙ্গে৷ কলকাতার টেরিটি বাজারে তাঁদের বহু বছরের পারিবারিক ব্যবসা৷ শুক্রবার, জিএসটি চালুর আগের দিন ওই বাজারে বনধ পালিত হয়েছে৷ মমতা ব্যানার্জির সরকার পশ্চিমবঙ্গে জিএসটি মেনে না নেওয়ার যে নীতিগত অবস্থান নিয়েছে, তার সঙ্গে এই ব্যবসায়ীরা একমত৷ কেন?‌ কৃষ্ণেন্দু দে জানালেন, প্রাথমিক কারণটা ব্যবহারিক৷ আগে প্রতি তিন মাস পর পর তাঁদের ব্যবসার হিসেব দাখিল করে কর জমা করতে হতো৷

জিএসটি-র নতুন নিয়মে সেটাই করতে হবে প্রতি ১০ দিনে৷ এবং সেটাও যথেষ্ট জটিল এক হিসেব-নিকেশ, যার জন্য উপযুক্ত হিসাবরক্ষক নিয়োগ করতে হবে৷ ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে সেটা দুঃসাধ্য৷ আর এর জন্য যে বাড়তি খরচ হবে, তার দায় বহন করবে কে?‌ প্রশ্ন করছেন কৃষ্ণেন্দু৷ এবং তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে, কারণ ব্যবসায়ীদের প্রবণতা থাকবে ওই বাড়তি খরচের ভার ক্রেতার ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়ার৷

আরও একটা অসুবিধের কথা ওরা বলছেন যে, জিএসটি-উত্তর ভারতে সব লেনদেনকেই ডিজিটাল নজরদারির আওতায় নিয়ে আসতে চাইছে মোদী সরকার৷ ফলে ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় জিএসটি নথিভুক্তি ক্রম, অথবা করদাতার স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর, অর্থাৎ ‘‌প্যান'‌, কিংবা ব্যক্তিগত পরিচিতির আধার কার্ড নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷

মজুতদার বা পাইকারি ব্যবসায়ীর জন্যে ক্রেতাদের এই তথ্য নেওয়াটা বাধ্যতামূলক, তার নিজের কেনা-বেচার হিসেব রাখার খাতিরেই৷ কিন্তু ছোট ব্যবসায়ী যাঁরা, নেহাতই কম টাকার লেনদেন করেন, তাঁরা সেই জটিলতার মধ্যে যেতে চাইছেন না৷ এঁদের অনেকেরই জিএসটি নথিভুক্তি, এমনকি প্যান কার্ডও নেই, এতই সামান্য এঁদের ব্যবসার পরিমাণ৷ তার ওপরে হিসেব দাখিলের সরকারি হুকুম মেনে চলতে গিয়ে এঁরা ধনেপ্রাণে মারা পড়বেন৷

আরও একটি সমস্যার কথা বললেন ব্যবসায়ী অনুপম চক্রবর্তী, যাঁর ব্যবসা চা বাগানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা৷ তিনি বলছেন, সরকারের আজব নিয়ম ১০ দিনের মধ্যে হিসেব দাখিল করে কর জমা দিতে হবে৷ কিন্তু তাঁদের ব্যবসার ক্ষেত্রে, কলকাতার কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ সড়কপথে ত্রিপুরা বা আসামের কোনো চা বাগানে পাঠাতে অন্তত ১৫-২০ দিন সময় লাগে৷ তা হলে কী করে তাঁরা ১০ দিনে একটা বাণিজ্যিক লেনদেনের হিসেব দাখিল করবেন?‌ তবে একটা বিষয় অনুপম বলছেন যে, এর ফলে পণ্য পরিবহন জটিলতামুক্ত হবে৷ বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন কর হারের ঝামেলা থাকবে না, পারমিটের সমস্যা থাকবে না৷ অনেক রাজ্যেই যে কারণে আমদানি শুল্ক আদায়ের চেকপোস্টগুলো তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে, খবর পেয়েছেন অনুপম৷ কিন্তু তাঁর মতে, মূল সমস্যা অন্যত্র৷

পণ্য বিশেষে কর হার নির্দিষ্ট করে দেওয়ায়, যে জিনিসটা তাঁরা হয়ত ৫ শতাংশ কর হারে কিনতেন, সেটা এখন ১৮ শতাংশ করের আওতায় চলে আসবে৷ এর ফলে সেই জিনিসটার দাম বাড়বে৷ কিন্তু তাঁরা যখন সেই বেশি দামে সেটা বিক্রি করবেন, ক্রেতারা কিন্তু বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে ব্যবসার পরিমাণ কমিয়ে দেবেন৷ ফলে ব্যবসার অঙ্ক কমবে, লাভ কমবে, বাজার দুর্বল হবে৷ অনুপম বলছেন, আলাদা লোক রেখে হিসেব রাখাই হোক, বা ব্যবসার পরিমাণ ও অঙ্ক ঠিক রাখা, বড় বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর কোনো অসুবিধে হবে না৷ মারা পড়বে তাঁদের মতো ছোট মাপের ব্যবসায়ীরা৷

জনশ্রুতি অবশ্য আছে, যে নরেন্দ্র মোদী আম্বানিদের রিলায়েন্স, বা আদানির ফিউচার গ্রুপের মতো বড় বাণিজ্যিক গোষ্ঠীকে যতটা নেকনজরে রাখেন, ছোট, বা মাঝারি ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছে ততটা গুরুত্ব পায় না৷ ছোট কিছুতে সম্ভবত বিশ্বাসই রাখেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী৷

রাজনীতি

আ‌য়করের ক্ষেত্রে ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ল

এবার থেকে আড়াই লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের জন্য কর দিতে হবে ৫ শতাংশ৷ আগে এটা ছিল ১০ শতাংশ৷ আর আয় যদি ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি পর্যন্ত হয়, তবে কর দিতে হবে ১০ শতাংশ৷ এছাড়া ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত করের পাশাপাশি দিতে হবে ১০ শতাংশ ‘সারচার্জ’৷ ‌১ কোটি টাকার বেশি উপার্জনকারী, ‌মহাধনীদের আগের মতোই ১৫ শতাংশ ‘সারচার্জ’ দিতে হবে৷

রাজনীতি

রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য খারাপ খবর

এতদিন চাঁদার ওপর কোনো আয়কর দিতে হতো না৷ কিন্তু এবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলি একজনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকার বেশি চাঁদা নিতে পারবে না৷ চাঁদার পরিমাণ দু’হাজারের বেশি হলেই ডিজিটাল লেনদেনে চাঁদা নিতে হবে৷ এছাড়া তিন লক্ষ টাকার বেশি নগদে লেনদেন করা যাবে না৷

রাজনীতি

কর ফাঁকি চলছে

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সংসদে জানালেন, ২০১৬-১৭ সালে ভারতে কর আদায় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ৷ দেশে ২৪ লক্ষ মানুষের আয় ১০ লক্ষের বেশি আর ৭৫ লক্ষের আয় প্রায় ৫ লাখের বেশি৷ অথচ বহু লোক এখনও কর ফাঁকি দেন৷

রাজনীতি

প্রতিরক্ষা ও সামাজিক খাতে বরাদ্দ

এই খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকা৷ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৪ লক্ষ ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে৷ পেনশনের জন্য বিশেষ ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করবে সরকার৷ প্রতিটি গ্রামে তৈরি করা হবে মহিলা শক্তিকেন্দ্র৷ দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ করা হবে৷

রাজনীতি

প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে যাবে বিদ্যুৎ

২০১৮ সালের মধ্যে দেড় লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে হাইস্পিড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস৷ মিলবে হটস্পট পরিষেবাও৷ তাই এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা৷

রাজনীতি

পরিকাঠামো উন্নয়ন

জাতীয় সড়কের জন্য মোট ৬৪ হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার৷ গত বছর প্রতিদিন ১৩৭ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে সারা দেশে৷ স্টার্ট আপ প্রোগ্রামে নতুন ১৬ হাজার উদ্যোগপতি যুক্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী৷ সব মিলিয়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নে৷ পিপিপি মডেলে ছোট শহরে বিমানবন্দর তৈরি হচ্ছে৷ রেলেও বাড়ছে পিপিপি মডেলের কাজ৷

রাজনীতি

স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন চমক

চালু হচ্ছে আধার নির্ভর হেলথ কার্ড৷ প্রবীণদের জন্য জীবনবিমায় ৮ শতাংশ হারে সুদ৷ ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা কালাজ্বর দূর করতে কাজ করবে সরকার৷ যুব সমাজের উন্নতির জন্য স্কিল ইন্ডিয়া প্রকল্প রয়েছে ৬০ জেলায়, সেটা পৌঁছে যাবে ৬০০ জেলায়৷

রাজনীতি

২০১৯ সালের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত দেশ?

১ কোটি পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে আসা হবে ভারতে৷ এর জন্য ১০০ দিনের কাজের বরাদ্দ বৃদ্ধি হচ্ছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা৷ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে৷ এছাড়া দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণে ৮ হাজার কোটি টাকা, ফসল বিমায় ৯ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে৷ পাকা বাড়িও দেওয়া হবে ১ কোটি৷ আর ১০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে কৃষকদের৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়