জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায় যখন ‘হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট’

সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকে যার শুরু, তা যদি ভাইরাল ইনফেকশন হয়ে রোগীর হার্টকে বড় করে দেয়, তাহলে জীবনসংশয় দেখা দিতে পারে৷ একমাত্র উপায় হলো ‘হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট'৷

হার্টের রোগী মার্কুসের একটি নতুন হৃদযন্ত্রের প্রয়োজন৷ কবে তা পাওয়া যাবে, তার ঠিক নেই৷ অথচ এই প্রতিস্থাপন ছাড়া মার্কুস হয়ত বড়জোর আর ছয় মাস বাঁচবেন৷ মার্কুস বলেন ,

‘‘ভয় তো থাকবেই৷ আমার নিজের হার্টটা কেটে বের করে নেবে৷ ভয় পাবারই কথা৷''

কার্ডিয়াক সার্জন ড. মার্কুস বার্টেন এক্সরে ছবিতে দেখালেন, ‘‘দেখছেন, হৃদযন্ত্রটা কিভাবে গোটা বুকের খাঁচাটা ভরে রেখেছে? এটা হলো হার্টের বাঁ দিক, কিভাবে ফুলে রয়েছে৷'' ডক্টর বার্টেন আর ওষুধ দিয়ে তাঁর তরুণ রোগীকে বাঁচাতে পারবেন না৷ ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু; তারপর ভাইরাস ইনফেকশনের ফলে ২৭ বছর বয়সি রোগীর হার্ট বেড়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মার্কুসের জীবনসংশয়৷ মার্কুসের একমাত্র আশা হলো, অন্য কোনো মানুষ মারা যাওয়ার ফলে তিনি যদি তাঁর সুস্থ হৃদযন্ত্রটি পান৷

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণ

অসহ্য ব্যথা

দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকে অসহ্য ব্যথা হয় এবং এই ব্যথা কমপক্ষে পাঁচ মনিট স্থায়ী হয়৷ ব্যথা সাধারণত বুক থেকে হাতে এবং পেটের ওপরের দিকে যায়৷ তাছাড়া কোমর, ঘাড়, গলা এবং চোয়ালেও অনুভূত হতে পারে এই ব্যথা৷ তবে শুধু ব্যথা নয়, সেই সাথে বুকে জ্বালাও হয় অনেক সময়৷

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণ

বুকে টান বা চাপ লাগে

হার্টের বহু রোগীই জানান, তাঁরা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুকে ভীষণ চাপ বা টান অনুভব করেছেন৷ এবং সেই সাথে তাঁদের মনে হয়েছে যে, বুকের আশেপাশে শক্ত কী যেন চাপ দিয়ে আটকে রেখেছে৷

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণ

বমি, বমিভাব, নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা

বমিভাব, বমি হওয়া বা নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় অনেকক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে৷ এ সব লক্ষণকে সাধারণ ব্যাপার ভেবে অনেকেই গুরুত্ব দেন না৷ তবে যাঁদের এই লক্ষণগুলো প্রথমবারের মতো একসাথে দেখা দেয়, তাঁদের অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণ

ভয়ে ঘেমে যাওয়া ও ফ্যাকাসে চেহারা

যাঁদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, সেরকম অনেক রোগীই জানিয়েছেন যে, কোনো কারণে ভীষণ ভয় বা আতঙ্ক থেকেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে৷ সে সময় শরীর প্রচণ্ড ঘামতে এবং ত্বক রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাকাসে দেখায়৷ এমন অবস্থায় দেরি না করে সাথে সাথেই রোগীকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে৷

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণ

জরুরি ব্যবস্থা

হার্ট অ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অর্থাৎ স্ট্রোক হলে সেক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতা নির্ভর করে তাঁকে কত তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়েছে, তার ওপর৷ তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি নয়! বরং প্রয়োজনে আশেপাশের যে কোনো মানুষের সাহায্য নিতে দ্বিধা না করাই স্রেয়!

হার্ট অ্যাটাকের ছয় লক্ষণ

বিশেষ পরীক্ষা

সত্যি হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হার্টের অন্যান্য জরুরি পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমেই যে রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন, তা হচ্ছে ‘কার্ডিঅ্যাক ট্রপোনিন’৷ তাই বুকে ব্যথা শুরু হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান অথবা জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে যান৷

মার্কুস বলেন, ‘‘হয়ত সেই পরিবারের মানুষজন এটা ভেবে সান্ত্বনা পাবেন যে, তাঁদের সন্তান অথবা তিনি যেই হোন না কেন, তাঁর একটি অংশ এখনও বেঁচে রয়েছে৷ তিনি তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ভালো কিছু একটা করেছেন৷''

মার্কুসের ডাক্তারের কাছেও পরিস্থিতিটা সহজ নয়৷ ড. বার্টেন শোনালেন, ‘‘রোগী আর তার পরিবারবর্গের কাছ থেকে আমি বার বার ঐ একই প্রশ্ন শুনি: আমার স্ত্রী, কিংবা আমার স্বামী তাঁর নতুন হার্ট নিয়ে আমাকে আগের মতোই ভালোবাসবেন? শুনলে বোকা বোকা লাগে, কিন্তু প্রশ্নটা আন্তরিক, কেননা, হার্ট বস্তুটা যে কী, তা ঐ প্রশ্ন থেকেই বোঝা যায়৷ মানুষ কত কথাই ভাবে আর এখানে যে পেশেন্টরা মাসের পর মাস একটা নতুন হার্টের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের মানসিকভাবে সঙ্গ দেওয়াটাও আমাদের একটা বড় কাজ৷ কাজেই আমরা সবসময় একজন মনস্তত্ত্ববিদকে হাতের কাছে রাখি৷ দরকার হলেই খবর দিই৷''

প্রতিস্থাপন ঠিক সময়ে ঘটাটা বিশেষভাবে জরুরি

এলো সেই টেলিফোন: লাইপজিগের জন্য একটা হার্ট পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু সেটা মার্কুসের জন্য নয়৷ মৃতের বয়স, উচ্চতা, ওজন, ব্লাড গ্রুপ, সবই মিলছে অন্য এক রোগীর সঙ্গে৷ ওপেন হার্ট অপারেশন হামেশাই হয়ে থাকে লাইপসিগের এই হাসপাতালে৷ কিন্তু হার্ট ট্র্যান্সপ্ল্যান্টেশন বা হৃদযন্ত্রের প্রতিস্থাপন আজও অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন৷ রোগগ্রস্ত হৃদযন্ত্রকে নতুন প্রক্রিয়ায় আরো শক্ত ও জোরদার করার জন্য শল্যচিকিৎসক আর গবেষকরা প্রাণপণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷

প্রতিস্থাপন ঠিক সময়ে ঘটাটা বিশেষভাবে জরুরি৷ মৃতের শরীর থেকে নেওয়া হৃদযন্ত্রটিকে মাত্র ছ'ঘণ্টা বাঁচিয়ে রাখা যাবে৷ সব কিছু ঠিকমতো হলেও, ঝুঁকি থেকে যায়৷ পেশেন্টের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অচেনা হৃদযন্ত্রকে মেনে নেবে তো? কপাল মন্দ হলে, পেশেন্টের শরীর নতুন হৃদযন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করবে৷ তা সত্ত্বেও, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া আর কোনো পন্থা নেই...৷

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

কমলালেবু

জনপ্রিয় ফিটনেস প্রশিক্ষক জোয়েল হারপার বলেছেন, কমলালেবুতে থাকা পেক্টিন হার্টের ক্ষতিকারক গ্ল্যাকটিন-৩ প্রোটিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে৷

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

সূর্যমুখীর বীজ

সূর্যমুখীর বীজে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং আঁশ আছে৷ আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে৷

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

পপকর্ন

টিভি দেখতে দেখতে পপকর্ন খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে৷ পুষ্টিবিদ সামান্থা বলেছেন, পপকর্ন অর্থাৎ ভুট্টায় পর্যাপ্ত মাত্রায় পলিফেনলস আছে৷ এটি এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হার্টের জন্য ভালো৷

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

মধু

পুষ্টিবিদ ক্রিস্টেন হেলে বলেছেন, ‘‘মধু প্রাকৃতিক চিনি৷ এটা হৃৎপিণ্ডের জন্য ভীষণ উপকারী৷ মধু হৃৎপিণ্ডে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে৷’’

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

ডাল

ফিটনেস ট্রেইনার জোয়েল হারপার এর মতে, সবধরনের ডাল হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো৷ এগুলোতে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, আছে আঁশ৷ এছাড়া ক্যালসিয়ামও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে৷

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

ডিম

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অলি সাপিরো বলেছেন, ডিমের হলুদ অংশে ভিটামিন কে-২ রয়েছে, যা হৃৎপিণ্ডে ট্রাফিক পুলিশের মতো কাজ করে৷ এটি খেলে ধমনীর দেয়াল শক্ত হয় না৷

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

ডার্ক চকলেট

যারা চকলেট পছন্দ করেন, তাদের জন্য আনন্দের বিষয়৷ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর ন্যান্সি স্নাইড্যার্মা বলেছেন, ‘‘ডার্ক চকলেটে আছে ফ্ল্যাবিনয়েড, যা কার্ডিওভাসকুলার রোগ থেকে রক্ষা করে, তবে অতিরিক্ত ডার্ক চকলেট খাওয়া ভালো নয়৷’’

হৃৎপিণ্ডের জন্য জরুরি ৮টি খাবার

কফি

চিকিৎসকদের মতে, দিনে দুই কাপ কফি আপনার হৃৎপিণ্ডকে সব রোগ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে৷

আমাদের অনুসরণ করুন