‘টাকা পাচারের পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি'

২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি এক প্রতিবেদনে বলেছে৷ (সিপিডি)-র গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান মনে করেন, পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি৷

অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই)-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করবে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

তবে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলছেন, ‘‘এটা দিয়ে কেবল বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকার ব্যাপকতা বোঝা যায়৷ পাচারকৃত টাকার পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি৷''

দৃষ্টান্ত হিসাবে তিনি রেমিটেন্স ও হুন্ডির প্রসঙ্গ টানেন৷ তিনি জানান, যখন প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেল বেশি ব্যবহার করতো, তখনও অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার হুন্ডিতে দেশে যেতো, টাকার অঙ্কে যেটা ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো দাঁড়ায়৷ বিষয়টা হচ্ছে, যে পরিমাণ টাকা প্রবাসীরা হুন্ডিতে পাঠায়, সে পরিমাণ টাকা আসলে পাচার হয়ে যায়৷

তৌফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশের অর্থপাচারের নানা দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷

সমাজ

এক হাজার কোটি ডলার

শুধুমাত্র ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এই পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি’ (জিএফআই)৷ বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান৷

সমাজ

তিনটি পদ্মা সেতু

সবশেষ হিসেব অনুযায়ী, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা৷ অর্থাৎ শুধু ২০১৪ সালে যে পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে তা দিয়ে প্রায় তিনটি পদ্মা সেতু বানানো যেত৷

সমাজ

প্রতিবছর বাড়ছে

জিএফআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের পরিমাণ প্রায় প্রতিবছরই বাড়ছে৷ ২০০৪ সালে প্রায় ৩৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাচার হয়েছিল৷

সমাজ

গড়

জিএফআই-এর কাছে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের হিসেব আছে৷ এতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতিবছর ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাচার হয়েছে৷

সমাজ

শিক্ষা বাজেটের তিন গুণ

গতবছরের জুনে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’ বা সিপিডি জানায়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা শিক্ষা বাজেটের ৩ দশমিক ৬ গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেটের ৮ দশমিক ২ গুণ৷ জিএফআই-এর হিসেবে ২০১৩ সালে পাচার হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার৷

সমাজ

জাতিসংঘের তথ্য

ইউএনডিপির এক প্রতিবেদন বলেছে, ১৯৭০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে৷ সব মিলিয়ে এই ৪০ বছরে যে অর্থ পাচার হয়েছে তার পরিমাণ ২০১০ সালে বাংলাদেশের মোট জিডিপির (১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি) ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বলে জানায় জাতিসংঘের এই সংস্থা৷

সমাজ

অর্থপাচারের পন্থা

সারা বিশ্বেই আমদানি-রপ্তানির লেনদেনে ইচ্ছে করে ভুল মূল্য উপস্থাপনের মাধ্যমে (ট্রেড মিস প্রাইসিং) অর্থপাচার হয়ে থাকে৷ বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়৷

সমাজ

পাচার রোধে ব্যবস্থা

বাংলাদেশ সরকারের তিনটি সংস্থা অর্থ পাচার রোধে কাজ করছে৷ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত ‘বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন৷

ডয়চে ভেলে: ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে বলেছে৷ অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এটা তদন্ত করবে৷ এর পূর্বে এ ধরণের তদন্ত হয়েছিল কি?

তৌফিকুল ইসলাম খান: না৷ সার্বিকভাবে এই রিপোর্টটা মূলত একটা অ্যাকাডেমিক এক্সারসাইজ৷ এটা ভালো যে, বাংলাদেশ ব্যাংক এটা গুরুত্বের সাথে নিয়ে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেছে৷ এটা সত্যিকার অর্থে যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশে অর্থ পাচারবিরোধী এবং অবৈধ অর্থনৈতিক প্রবাহের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নীতিগত পদক্ষেপ সুদৃঢ় অবস্থানে যাবে৷

এই তদন্ত কোন পথে যাওয়া উচিত?

আমাদের দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ কী কী পথে পাচার হচ্ছে, তার জন্য আমাদের নীতিগত দুর্বলতাগুলো কোথায় আছে, কোথায় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে – এই বিষয়গুলো যদি উঠে আসে, তাহলেই নীতিগত জায়গা থেকে আমরা একটা বড় পরিবর্তনের আশা করতে পারি৷

এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে যেটা দেখতে হবে, তা হলো, অর্থপাচারে বাণিজ্য প্রবাহের দ্বারা ৮০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে৷ ফলে আমাদের যেটা স্বাভাবিকভাবে মনে হতো, এটা কেবল চোরাচালানকারী, অস্ত্রপাচারকারী করেন বা যারা ঘুস নিয়ে দুর্নীতির সাথে যুক্ত আছেন, তারাই কেবল অর্থ পাচারের সাথে যুক্ত, তা না৷

এখানে বড় করে উঠে এসেছে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক লেনদেনের ভেতরে অনেক ফাঁক আছে৷ এর বড় কারণ, কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা৷ ফলে এই কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা যদি আমরা রোধ করতে পারি, একদিক থেকে আমাদের বৈদেশিক লেনদেনের চাপটা কমে আসবে, একইসাথে দেশজ সম্পদ আহরণেও উন্নতি করতে পারবো৷

চোরাচালান বা দুর্নীতির টাকা কি তাহলে এই (জিএফআই-র ) হিসাবে  নেই?

এটার একটা অংশ হয়ত এখানে আছে৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে যারা আন্তর্জাতিক চোরাচালান, অস্ত্র পাচারের সঙ্গে আছে, বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমেও আসে৷ হুন্ডির অংশ হয়ত এখানে আসেনি৷ ফলে এটা একটা আংশিক হিসাব৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটাকে প্রাক্কলণ বলতে পারি৷ এটা পূর্ণ হিসাবপদ্ধতি না৷

সেই টাকার পরিমাণ কত হতে পারে?

এটা যেহেতু একটা অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের হিসাব৷ এখানে সত্যিকার অর্থে কত টাকা গেছে, সেই হিসাব পাওয়া খুব কঠিন হবে৷ আমাদের অর্থ লেনদেনের পরিমাণ কত ব্যাপক হতে পারে, সেই প্রবণতা বাড়ছে নাকি কমছে, সেই বিষয়গুলো নির্দেশ করে৷

আনুমানিক বা কোনো ধারণা দেয়া যেতে পারে?

আমাদের এখানে সে ধরনের কোনো সমীক্ষা নাই৷ বড় আকারে যদি দেখেন, রেমিটেন্সের বিষয়ে একটা সমীক্ষা দেখেছি৷ কিছুদিন আগের কথা বলছি৷ সাম্প্রতিক সময়ের কথা নয়, যখন ব্যাপক আকারে অবৈধ লেনদেন বেড়েছে বলে আমরা ধারণা করছি, তখন তার প্রমাণও পাওয়া গেছে৷ যখন আমাদের ব্যাংকিং খাতে রেমিটেন্স অনেক ভালো ছিল, তখন ১৫ বিলিয়ন ডলার যেখানে ব্যাংকিং খাতে আসতো, প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স অবৈধ পথে আসতো৷ যখন এই অবৈধ পথে লেনদেন হয়, মাথায় রাখতে হবে, যে টাকা এই পথে দেশে আসে, সমপরিমাণ টাকা বিদেশে চলে যায়৷

জাদু জানে ‘ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট’

‘ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট’- এর কথা শুনেছেন? কেউ কেউ মনে করেন এটা স্রেফ একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কিন্তু বাস্তবে এর কাজের পরিধি, কর্মসংস্থানে ভূমিকা অনেক ব্যাপক৷ অনলাইনে এ সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন৷ মাউসে একবার ক্লিক করলেই জানা যাবে, কিভাবে এ বিষয়ে দক্ষ হওয়া যায়, বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠান ঘণ্টা প্রতি আপনার সেবা কিনতে কিন্তু প্রস্তুত৷ তাই একবার জেনে গেলে আপনাকে আর ঠেকায় কে!

গ্রামে-গঞ্জে কাজের সুযোগ

এই পদ্ধতিতে কাজ করে লাভবান সব দেশের, সব মানুষ কিন্তু হবে না৷ যেসব দেশে মজুরি বা বেতন কম, বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগও অধিকাংশ মানুষ পান না, সেসব দেশের জন্য এটা রীতিমতো স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হওয়ার মতো৷ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং আশেপাশের দেশের গ্রাম-গঞ্জের মানুষও এর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন৷

সাফল্যের নমুনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের এই তরুণী অফিসে বসেই কাজ করছেন৷ প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কাজ করারও সুযোগ আছে তাঁর৷ কাজের ধরাবাঁধা কোনো সময়ের বালাই নেই৷ যখন, যেটুকু দরকার, ঠিক ততটুকু করলেই চলে৷

সুযোগ, নাকি সুযোগের অপব্যবহার?

তবে সমালোচনাও আছে৷ গবেষকরা বলছেন , এভাবে কাজের বাজার সৃষ্টি করার ফলে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে সরকারি চাকরির নিয়ম, বেতন কাঠামোর জন্য হুমকিও তৈরি করছে এটি৷ তাঁরা মনে করেন, এক সময় এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে৷

লাভবানদের আরেকজন

জাগুস্টিন৷ অনলাইনে কাজ করে যারপরনাই লাভবান হওয়ার আরেক দৃষ্টান্ত৷ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টস-এর বাজার সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ছে৷ বড় বড় প্রতিষ্ঠানও এখন আউট সোর্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছে৷ জার্মানিও ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে এই জগতে৷

স্বর্ণ চোরাচালান বা অন্যান্য বিষয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটার সঙ্গে যুক্ত বলে অনেকে ধারণা করেন৷

গত ১০ বছরের হিসাবে প্রতি বছর গড়ে ৫৫৮ কোটি ডলার পাচার হয়েছে, যার ৮৮ শতাংশই হয়েছে আমদানি ও রপ্তানিতে মিথ্যা মূল্য ঘোষণা দিয়ে৷ এই মিথ্যা ঘোষণা ঠেকানোর উপায় কী?

আমাদের কাস্টমসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, সেখানে সুশাসন নিশ্চিত করা৷ তাদেরকে যথাযথ পরিমাণ কারিগরি সহায়তা দেয়া৷ অনেক ক্ষেত্রে তাদের জনবল ও মেশিনপত্রের অভাব আছে৷ এখন সফটওয়ার এসেছে, তারা যেন রিয়েল টাইমে' মূল্য দেখতে পারে৷ পরিদর্শন করার জন্য ডকুমেন্টে সংস্কার আনতে হবে৷ এই জায়গাতে কাজ না করতে পারলে হবে না৷

আরেকটা বড় ব্যাপার  হলো, আমরা কতখানি এই সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবো৷ অনেক সময় দেখা যায়, ব্যাংকে এক ধরনের কাগজপত্র জমা দেয়া হচ্ছে৷ আবার কাস্টমস পয়েন্টে আরেক ধরনের কাগজপত্র জমা দেয়া হচ্ছে৷ এই জায়গাগুলোতে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে৷ যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি পর্যায়ে এই কাজে যুক্ত আছেন, তাদের মধ্যে একটা সমন্বয় লাগবে৷

এই টাকার মালিক কি আমদানি রপ্তানিকারকগণ? নাকি অন্যদের টাকা তারা পাচার করে দিচ্ছেন?

যারা ব্যবসা করেন, তারা নিজের টাকাই পাচার করে দেন৷ আর যারা এটাকেও একটা ব্যবসা হিসাবে দেখেন, তারা হয়ত এখানে ব্যবসা করছেন, যেটাকে আমরা বলি, হুন্ডি ব্যবসা৷ এটা দু'ভাবেই আছে৷

আপনারা বলেছেন, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুই ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা; অন্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা৷ এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলবেন?

আমাদের দেশের অর্থ পাচার আইনে একটা পরিবর্তন লাগবে৷ আমাদের কাস্টমস আইনে একটা পরিবর্তন লাগবে৷ এই সংস্কারগুলো কিছুটা গত কয়েক বছরে হয়েছে৷ কিছু কিছু জায়গায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে, সেগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে৷ অনেক ক্ষেত্রে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা দরকার হবে, কারণ, যখন বাণিজ্য হয়, তখন কিছু দেশের মধ্যে হয়৷ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে যে, এখন যদি দেশগুলোর ভেতরে একটা স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় হতো, তাহলে সেটাকে কাজে লাগিয়ে, এগুলোকে রোধ করা যেত৷ সেই জায়গাগুলোতে শক্তিশালী করার ব্যাপার আছে৷

১. কুমিল্লা

সবচেয়ে বেশি গেছে এই জেলা থেকে৷ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বলছে, ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা থেকে মোট ৬ লক্ষ ১৯ হাজার ১৩৮ জন বিদেশ গেছেন, যেটা রপ্তানি হওয়া মোট জনশক্তির প্রায় ১০.৯৪ শতাংশ৷

২. চট্টগ্রাম

সংখ্যা: ৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৭০৯; শতাংশের হিসাব: ৯.৫৭

৩. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া

সংখ্যা: ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩৮১; শতাংশের হিসাব: ৫.২২

৪. টাঙ্গাইল

সংখ্যা: ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৭১৭; শতাংশের হিসাব: ৫.১৪

৫. ঢাকা

সংখ্যা: ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭৩৪; শতাংশের হিসাব: ৪.৪৮

৬. চাঁদপুর

সংখ্যা: ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৪; শতাংশের হিসাব: ৪.১৬

৭. নোয়াখালী

সংখ্যা: ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৪৩; শতাংশের হিসাব: ৪.০২

৮. মুন্সীগঞ্জ

সংখ্যা: ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৭৭; শতাংশের হিসাব: ৩.০৬

৯. নরসিংদী

সংখ্যা: ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৮৪; শতাংশের হিসাব: ২.৮২

১০. ফেনী

সংখ্যা: ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৯৯; শতাংশের হিসাব: ২.৭৬

অন্যান্য জেলা

আপনি যদি এই ১০ জেলার না হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জেলার তথ্য জানতে উপরে ‘+’ চিহ্ন ক্লিক করুন৷

রাজনৈতিক সদিচ্ছা কি নেই?

রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই-সেটা বলবো না৷ এই সমস্যাগুলো যে, কতখানি জটিল ও ব্যাপক হতে পারে, অনেকের যদি আগ্রহও থেকে থাকে, তিনি হয়ত অতটা গুরুত্ব দেন নাই৷ যে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন যদি চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা লাগবে৷ এটা কেবল রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে না, রাজনৈতিক সদিচ্ছা শব্দটাকে যখন আমরা ব্যবহার করি, তখন আমরা এটাকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করি৷ সার্বিকভাবে যারা নীতি নির্ধারক আছেন, অন্যান্য অংশীদার আছেন, তাদের ভেতরে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লাগবে৷ সেখানে সরকারি আমলা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, গবেষক বা সিভিল সোসাইটির মধ্যে আগ্রহ থাকতে হবে৷

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম প্রজেক্টে বাংলাদেশিরা তৃতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী৷ অস্ট্রেলিয়া, ক্যানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিরা বিনিয়োগ করছে৷ ক্যানাডাতে নাকি একটা বেগম পাড়া আছে, যেখানে বাংলাদেশের প্রভাবশালীদের স্ত্রীদের নামে বাড়ি আছে৷ এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

আমরা ক্যানাডার কথা শুনেছি, আমরা মালয়েশিয়ার কথা শুনেছি৷ বড় বিষয় হলো, এই জায়গাগুলোতে সরকার তো তদন্ত করে দেখতে পারেন , কারা এর মালিকানায় আছেন৷ স্ট্যাটাসকোতে বসে থাকলে এটার পরিবর্তন হবে না৷

বাংলাদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের ইতিহাস কেমন? কতবার এটা ফেরত আনা গেছে৷ টাকার অঙ্কে সেটা কত? কার অর্থ ফেরত এসেছে? কোন প্রক্রিয়ায় এসেছে? বাকি অর্থ কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা যাবে?

সম্পদ উদ্ধারে বড় কোনো সাফল্য নাই৷ অনেক ক্ষেত্রে এটা প্রমাণসাপেক্ষই নয়৷ ফলে টাকা উদ্ধারের পরিমাণ খুবই কম৷ এখানে দ্বৈত অপরাধের বিষয় আছে৷ এটা খুব দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া৷ এটা দ্বৈত-অপরাধ প্রমাণ করে আনতে হয়৷

আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেটা সরাসরি চুরি হলো, তার বড় অংশই আমরা আসলে ফেরত পাইনি৷

টাকা ফেরতের কয়টা কেইস আছে?

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটা কেসই আমরা জানি৷ কোকোর মামলায় যেটা ফেরত পাওয়া গেছে৷

ফেরত আনার জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ করার উপায় কী?

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি পরিবর্তন না করতে পারলে এটা হবে না, কারণ, তদন্ত ও ফেরত আনার নীতিটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হয়৷

পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কোনো দেশ কি ভালো সফলতা পেয়েছে?

কোনো দেশেরই খুব বেশি সফলতা নাই৷ 

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷