টেলিভিশনে তিরিশের বেশি বয়সি নারীর দেখা পাওয়া ভার

জার্মানির ফিল্ম-টেলিভিশনে ত্রিশোর্ধ্ব মহিলাদের অনুপাত লক্ষণীয়ভাবে কম, বলছে একটি জরিপ৷ প্রৌঢ়া বা প্রবীণাদের যদি বা দেখা পাওয়া যায়, তাও সব বাঁধাধরা, গতানুগতিক ভূমিকায়৷

জার্মান ফিল্ম-টেলিভিশনের জগতে নারী-পুরুষের আপেক্ষিক অবস্থান বিবেচনা করে দেখছিলেন রস্টক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা৷ জার্মান অভিনেত্রী মারিয়া ফুর্টভ্যাঙ্গলার-এর উদ্যোগে সূচিত এই জরিপে ২০১৬ সালের প্রায় ৩,০০০ ঘণ্টা টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত ৮০০টি জার্মান ভাষাভাষি ছবি পরীক্ষা করে দেখা হয়৷ গত ২০ বছরে এ ধরনের কোনো জরিপ করা হয়নি, বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

জার্মান ফিল্ম-টেলিভিশনে ৩০ বছর বয়স অবধি নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় এক – কিন্তু তার পরেই মহিলাদের অনুপাত কমতে থাকে৷ তিরিশের পর মহিলারা পুরুষদের অর্ধেক ‘রোল' বা চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান – এক প্রাত্যহিক সোপ অপেরা ও টিভি সিরিয়ালগুলি ছাড়া, যেখানে মহিলা চরিত্রের কোনো কমতি নেই৷ কিন্তু সোপ বা সিরিয়াল জার্মান টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলির একটি অকিঞ্চিৎকর অংশ৷ পঞ্চাশের পর প্রতি তিনটি পুরুষ চরিত্রের জন্য থাকে মাত্র একটি মহিলা চরিত্র৷

Tatort Szene Taxi nach Leipzig

মান্ধাতার আমলের ভাবমূর্তি

জার্মান টেলিভিশনের মহিলা চরিত্ররা দৃশ্যত আজও প্রেম ও বিবাহের স্বপ্নে মশগুল: যে সব মহিলা চরিত্রকে তাদের পেশা অথবা কাজের ভিত্তিতে দেখানো হচ্ছে, তাদের সংখ্যা ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে ব্যস্ত নারী চরিত্রদের তুলনায় অর্ধেক – বলে জরিপে দেখা গেছে৷

টক শো-তে এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে যাদের ডাকা ও দেখানো হয়, তাদের ৭৯ শতাংশই পুরুষ; গেম শো-র হোস্ট, সাংবাদিক এবং নিউজ অ্যাংকরদের ৭২ শতাংশ হলেন পুরুষ৷ এমনকি ছোটদের প্রোগ্রামের প্রতি চারটি চরিত্রের মধ্যে তিনটিই হলো ছেলে৷

একটা বয়সের পরে মহিলারা অদৃশ্য হয়ে যান, টেলিভিশন থেকে উধাও হয়ে যান – বলেছেন ৫০ বছর বয়সি সফল অভিনেত্রী ফুর্টভ্যাঙ্গলার, যিনি বস্তুত পেশায় ডাক্তার৷ তাঁর কাছে এটা এক ধরনের ‘‘সূক্ষ্ম বৈষম্য''৷ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও টপ পজিশনগুলি সবই পুরুষদের অধিকারে, ‘‘মহিলাদের দৃষ্টিকোণ পুরোপুরি অনুপস্থিত'', বলেন ফু্র্টভ্যাঙ্গলার৷

ডাগমার ব্রাইটেনবাখ/এসি

জার্মানিতেও যে এমনটা হয়, সেটা ভাবতে পারেন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

বিশ্বের সেরা দেশ জার্মানি

ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের বৈঠকে প্রকাশ করা বিশ্বের সেরা দেশের তালিকার সবার ওপরে এসেছে জার্মানির নাম৷ ৬০টি দেশ স্থান পেয়েছে এই তালিকায়৷ শরণার্থী সংকট নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে অর্থনৈতিক চাপ সহ্যের পরও, বিশ্বের ৩৬টি দেশের ১৬ হাজার ২৪৮ জনের মাঝে জরিপ চালিয়ে তৈরি করা এই তালিকার শীর্ষে স্থান পেল জার্মানি৷

দ্বিতীয় ক্যানাডা, তৃতীয় যুক্তরাজ্য

বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা দেশ এখন ক্যানাডা৷ তারপরই একে একে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়া৷

সেরা দশে এশিয়ার দেশ জাপান

সেরা দশে এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি জাপান৷ তারা আছে ৬ নম্বরে৷ বিশ্বের ষষ্ঠ সেরা দেশ হওয়াও কিন্তু কম কথা নয়৷ ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কসহ অনেক উন্নত দেশের অবস্থানও কিন্তু জাপানের পেছনে৷

নারীদের জন্য সেরা ডেনমার্ক

জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ফ্রান্স এবং নেদাল্যান্ডসকে ডিঙিয়ে নারীদের জন্য সবচেয়ে ভালো দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে ডেনমার্ক৷ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এই দেশটি বিশ্বের সেরা দেশের তালিকাতেও আছে দশ নম্বরে৷

নারীদের জন্যও এশিয়ার সেরা দেশ জাপান

নারীদের জন্য সেরা দেশের তালিকায় ডেনমার্কের পর রয়েছে যথাক্রমে সুইডেন, ক্যানাডা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, লুক্সেমবুর্গ ও অস্ট্রিয়া৷ সেরা দশে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক সমৃদ্ধ দেশই নেই৷ এশিয়ার মান রেখেছে জাপান৷ এই তালিকায় তারা আছে ১৪ নাম্বারে৷ ঠিক এক ধাপ আগে, অর্থাৎ ১৩ নম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়