ট্রাকের পেছন থেকে উদ্ধার করা অভিবাসীরা গায়েব

শনিবার জার্মানির আইজেনহ্যোটেনস্টাড শহরে একটি ট্রাকের পেছন থেকে উদ্ধার করা ৫১ ইরাকি শরণার্থীদের প্রায় সবাই গায়েব হয়ে গেছেন৷ তারা অন্য কোনো শরণার্থী কেন্দ্রে নিবন্ধন করেছেন কিনা তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সরকারি কর্মকর্তারা৷

শনিবার জার্মানির আইজেনহ্যোটেনস্টাড শহরে একটি ট্রাকের পেছন থেকে উদ্ধার করা ৫১ ইরাকি শরণার্থীদের প্রায় সবাই গায়েব হয়ে গেছেন৷ তারা অন্য কোনো শরণার্থী কেন্দ্রে নিবন্ধন করেছেন কিনা এখন তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সরকারি কর্মকর্তারা৷

উধাও হয়ে যাওয়া শরণার্থীদের ইতোমধ্যে জার্মানিতে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়রা আইজেনহ্যোটেনস্টাড থেকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন বলে জানান শহরের শরণার্থী কেন্দ্রের প্রধান ফ্রাঙ্ক ন্যুরেনব্যার্গার৷ ঠিক কখন তাদের শরণার্থী কেন্দ্র থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি৷ তবে বিলেফেল্ড শহরের নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে করে তাদের নেয়া হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে৷

ট্রাকের পেছন থেকে উদ্ধার করাদের মধ্য থেকে মাত্র দু'জন শরণার্থী এখনো শহরের শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন৷

এখন লাইভ
02:53 মিনিট
World Stories | 16.09.2017

Starting a new life in Germany

জার্মান পুলিশ গত শনিবার একটি ট্রাকের পেছন থেকে ৫১ অভিবাসীকে উদ্ধার করে৷ তাদের মধ্যে ১৭ জন শিশুও ছিল৷ পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে একটি তুর্কি ট্রাক থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়৷ উদ্ধার করার সময় তারা অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত এবং ক্ষুধার্ত ছিলেন৷ কেউ কেউ ডিহাইড্রেশনেও ভুগছিলেন৷ অভিবাসীদের উদ্ধারের পর আইজেনহ্যোটেনস্টাড শহরের শরণার্থী শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ট্রাকটির ৪৬-বছর বয়সি তুর্কি চালককে আটক করা হয়৷

তদন্তকারীরা মনে করছেন, উদ্ধারকৃতরা কার্যত জার্মান-পোল্যান্ড সীমান্তে চলমান মানবপাচারের একটি ছোট অংশ৷ অন্যান্য মানবপাচারের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ কয়েকদিন আগে, আরেক ঘটনায় ৪০ ইরাকি শরণার্থীকে আটক করে পুলিশ৷তারা অবৈধভাবে পোল্যান্ড থেকে জার্মানিতে প্রবেশ করেছিলেন৷ জার্মানির কেন্দ্রীয় পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন অবধি ২,৬০০ শরণার্থী চেক প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জার্মানিতে প্রবেশ করেছে৷ আর পোল্যান্ড থেকে প্রবেশ করেছে ১,৪০০ শরণার্থী৷ এই সংখ্যা অনেক হলেও তা আগের দু'বছর যে পরিমাণ শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেছে তার তুলনায় বেশি নয়৷


ডেভিড মার্টিন / এআই 

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রথম তিন মাস

রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে রাখার জন্য এই ‘রিসেপশান সেন্টারগুলি’ আছে – যেমন রাইনল্যান্ড প্যালেটিনেট রাজ্যের ট্রিয়ার শহরে৷ উদ্বাস্তুরা জার্মানিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের সাধারণত এ ধরনের প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রাখা হয়৷ সেখানে তিন মাস থাকার পর তাঁদের কোনো শহর কি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

টাউন হলে ক্যাম্পবেড

প্রাথমিক রিসেপশান সেন্টারগুলো পুরোপুরি ভর্তি, কাজেই সাময়িক বাসস্থান হিসেবে অন্যান্য ভবন কাজে লাগানো হচ্ছে৷ নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফালিয়া রাজ্যের হাম শহরের টাউন হলে ৫০০ উদ্বাস্তুর থাকার আয়োজন করা হয়েছে৷ ৭০০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের হলটিতে বেড়া দিয়ে দিয়ে আলাদা আলাদা ‘ঘরের’ ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রত্যেকটি ‘ঘরে’ ১৪টি ক্যাম্পবেড রাখা চলে৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

ক্লাশরুমে রাত্রিবাস

উদ্বাস্তুর স্রোতে শহরগুলি নাজেহাল! আখেন শহরকে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩০০ উদ্বাস্তুকে রাখার ভার নিতে হয়৷ একমাত্র সমাধান: উদ্বাস্তুদের শোয়ার জন্য ইন্ডা গিমনাজিয়ুম নামের একটি স্কুলের ক্লাশরুমে ম্যাট্রেস পাতা৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

তাঁবুতে বাস

বর্তমানে জার্মানিতে ক্রমেই আরো বেশি সাময়িক উদ্বাস্তু শিবির সৃষ্টি করা হচ্ছে – তাঁবু গেড়ে৷ স্যাক্সনি আনহাল্ট রাজ্যের হালব্যারস্টাট শহরে এ ধরনের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প সৃষ্টি করে আরো অনেক বেশি উদ্বাস্তুদের রাখা সম্ভব হয়েছে৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

ড্রেসডেনের টেন্ট ক্যাম্প

উদ্বাস্তুদের জন্য একটি সুবিশাল টেন্ট ক্যাম্প বা ‘তাঁবু শিবির’ সৃষ্টি করা হয়েছে স্যাক্সনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন শহরে৷ শৌচাগারের সামনে লম্বা লাইন পড়ে, খাবারের জন্যও অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়৷ এখানে আপাতত ১৫টি দেশ থেকে আগত মোট এক হাজার মানুষের বাস৷ আগামীতে আরো শ’খানেক মানুষ এখানে থাকতে বাধ্য হবেন৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

কনটেইনারে বাস

তাঁবুর বদলে উদ্বাস্তুদের কনটেইনারে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কোথাও কোথাও৷ ট্রিয়ারে ২০১৪ সাল থেকেই এই পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে৷ আজ সেখানে এক হাজারের বেশি উদ্বাস্তু বাস করেন৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

উদ্বাস্তু আবাসের উপর আক্রমণ

বাডেন ভুর্টেনব্যার্গ রাজ্যের রেমকিঙ্গেন শহরে গত জুলাই মাসের ১৮ তারিখে একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে৷ অজ্ঞাত আততায়ীরা যে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, সেখানে উদ্বাস্তুদের রাখার কথা ছিল৷ উদ্বাস্তুদের প্রতি এ ধরনের বিরূপ মনোভাব এখন অন্যত্রও পরিলক্ষিত হচ্ছে, বিশেষ করে জার্মানির পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলে৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা

নতুন আবাসন গড়ার কাজ চলেছে

উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য একাধিক পৌর এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যেমন বাভেরিয়ার একেনটাল শহরে৷ এখানে মোট ৬০ জন মানুষ বাস করতে পারবেন৷ আগামী বছরের সূচনাতে এখানে প্রথম উদ্বাস্তুরা বসবাস করতে পারবেন, বলে আশা করা হচ্ছে৷

আমাদের অনুসরণ করুন