তরুণ শরণার্থীদের মধ্যে আশা জাগানোর অভিনব উদ্যোগ

এখন লাইভ
03:13 মিনিট
12.12.2017

শরণার্থীদের জন্য আশার আলো

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আশা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা সহজ কাজ নয়৷ বিশেষ করে শরণার্থী হিসেবে ভিন দেশে আশ্রয়ের কঠিন অভিজ্ঞতার মাঝে তো নয়ই৷ জার্মানিতে এক অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে সেই চেষ্টাই চলছে৷

প্রথম শো-র আগে শেষ মহড়া চলছে৷ এই মিউজিক্যালের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা শুধু গায়ক ও অভিনেতা হয়ে উঠছে না, অচেনা মানুষও বন্ধু হয়ে উঠছে৷ যেমন সিরিয়ার শরণার্থী মাহের৷ সে বলে, ‘‘আমার অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে৷ খুব ভালো হয়েছে৷ কাউকেই চিনতাম না৷ সপ্তাহে একবার রিহার্সাল হয়৷ এখানে এলে সবকিছু ভুলে যাই৷ শুধু বন্ধুদের সঙ্গে থাকি৷''

মাহের ও সিনা-র বয়স যথাক্রমে ১৮ ও ১৭৷ দু'বছর আগে মাহের একাই সিরিয়া থেকে জার্মানি আসে৷ এখন সে ক্লাস টেনে পড়ে৷ সিনা জার্মান নাগরিক, আট বছর ধরে বার্লিনে থাকে৷ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝে এই মিউজিক্যাল তাকে আনন্দ দেয়৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

কিলডেন পার্ফর্মিং আর্টস সেন্টার, নরওয়ে

কিলডেন পার্ফর্মিং আর্টস সেন্টার, নরওয়ে কনসার্ট হলটি জলের ধারে৷ সামনেটা ১০০ মিটার লম্বা একটা কাচের দেয়াল, তার ওপর ঝুলছে ওক কাঠের সোনালি রঙের এক পর্দা, যেন থিয়েটারের যবনিকা৷ তৈরির কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে৷ মোট এলাকা ১৬৫,০০০ বর্গমিটার৷ এখানে নাটক, অপেরা বা সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা সব কিছুই অনুষ্ঠিত হয়৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

ফিলহার্মনি দ্য পারি, ফ্রান্স

এমন একটি কনসার্ট হলের আইডিয়া প্রথম এসেছিল নামকরা অর্কেস্ট্রা পরিচালক পিয়ের বুলে ও পুরস্কার বিজয়ী স্থপতি জঁ নুভেলের মাথায়৷ উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালে৷ অ্যালুমিনিয়ামের সম্মুখভাগটি তিন লাখ চল্লিশ হাজার পাখি দিয়ে সাজানো, তাদের সাত ধরনের আকৃতি ও ধূসর থেকে কালো, এই চার ধরনের রঙ৷ দূর থেকে দেখলে মাছের আঁশের মতো ঝকঝক করে৷ ৩৭ মিটার উঁচু বাড়িটির ছাদে ওঠা যায় ও সেখান থেকে প্যারিসের দৃশ্য উপভোগ করা যায়৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

সেজ গেটসহেড, ইংল্যান্ড

গেটসহেড আর নিউক্যাসলের মধ্যে টাইন নদীর ওপর সাতটা সেতু৷ তার মধ্যে মিলেনিয়াম ব্রিজটি সেজ গেটসহেড কনসার্ট হলের ওপর দিয়ে চলে গেছে৷ গোটা বাড়িটাতেই আলো জ্বলে৷ ডিজাইন প্রখ্যাত স্থপতি স্যার নর্মান ফস্টারের৷ উদ্বোধন করা হয় ২০০৪ সালে৷ কনসার্ট হলটি প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা করে বছরে ৩৬৪ দিন খোলা থাকে৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

কাসা দা মুজিকা পোর্তো, পর্তুগাল

তেরশ’ দর্শকের বসার মতো এই কনসার্ট হলটিকে দেখতে যেন একটি সুবিশাল বাক্স৷ বাইরেটা সাদা কংক্রিট আর কাচের৷ ভেতরটায় নানা রঙ ও আকৃতির বিভিন্ন ফিচার, সেই সঙ্গে পর্তুগালের ‘আজুলেজস’ পাথরের টালি৷ কাচের ছাদটা খুলে দেওয়া যায়; তখন এখানে থেকে পোর্তো শহরের সব বাড়ির মাথা ছাড়িয়ে অতলান্তিক সমুদ্র অবধি দেখতে পাওয়া যায়৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

পালাউ দে লেজার্ত রেইনা সোফিয়া, স্পেন

ভ্যালেন্সিয়া শহরে কুইন সোফিয়া প্যালেস অফ দ্য আর্টসের উদ্বোধন করা হয় ২০০৫ সালে৷ বিশ্বখ্যাত স্থপতি সান্তিয়াগো কালাত্রাভা যে সুবিশাল সিটি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের পরিকল্পনা করেছিলেন, এই কনসার্ট হলটি ছিল তার চূড়ান্ত অংশ৷ ৭৫ মিটার উঁচু ভবনটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু অপেরা হাউস বলে পরিচিত৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

নর্স্কে অপেরা ও ব্যালে, নরওয়ে

অসলোর নরওয়েজিয়ান অপেরা ও ব্যালেট ভবনটির ছাদ ৩৬,০০০ কারারা শ্বেতপাথরের ব্লক দিয়ে তৈরি৷ এই ছাদের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়৷ হলটির চারপাশে পাতলা কাচের দেয়াল৷ হলের ভেতরটা তেলে ‘সিজনড’ ওক কাঠ দিয়ে তৈরি, যার ফলে খুব ভালো শুনতে পাওয়া যায়৷ ইন্টারভ্যালের সময় ব্যালকনি থেকে বাইরে নরওয়ের ফিয়র্ডগুলির দৃশ্য দেখতে পারা যায়৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

বার্লিন ফিলহার্মনিক, জার্মানি

কনসার্ট হলটির ধাঁচ কিছুটা আলাদা বলে গোড়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল৷ অর্কেস্ট্রার বাজনদাররা হলের মাঝখানে একটা পোডিয়ামের ওপর বসেন৷ স্থপতি হান্স শারুনের এই বিপ্লবী ডিজাইন পরে সারা বিশ্বে আধুনিক কনসার্ট হল তৈরির মডেল হয়ে ওঠে৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

আল্টো থিয়েটার, এসেন, জার্মানি

জার্মানির এসেন শহরের এই কনসার্ট হলটির বিশেষত্ব হলো, স্টেজের সামনে বসা দর্শকদের আসনগুলি অর্ধগোলাকৃতি করে অপ্রতিসমভাবে সাজানো৷ ফিনল্যান্ডের স্থপতি আলভার আল্টো জানিয়েছেন, তিনি ডেলফির প্রাচীন গ্রিক থিয়েটারগুলো থেকে এ ধরনের অডিটোরিয়াম সৃষ্টির প্রেরণা পেয়েছেন৷ আলভার থিয়েটারের নকশাটি করেন পঞ্চাশের দশকে, কিন্তু কাজ শুরু হয় ১৯৮৩ সালে৷ আজ এই ভবনটিকে আধুনিক ক্লাসিক্যাল ডিজাইনের একটি নিদর্শন বলে গণ্য করা হয়৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

হার্পা মিউজিক হল, রাইকজাভিক, আইসল্যান্ড

আংশিক রঙ করা কাচের বিল্ডিং ব্লকগুলোকে মৌমাছির চাকের মতো বসিয়ে আলোর জাদু সৃষ্টি করেছেন শিল্পী ওলাফুর এলিয়াসন৷ দিনের বেলায় বাইরে থেকে কাচের ওপর আলো পড়ে বর্ণালীর সৃষ্টি হয়; রাত্রে ভবনটির ভিতরের আলো জ্বললে গোটা বাড়িটা রঙ বদলায় যেন বহুরূপীর মতো৷

ইউরোপের দশটি চোখ ধাঁধানো কনসার্ট হল

এলব ফিলহার্মনি, হামবুর্গ, জার্মানি

হামবুর্গের এই কনসার্ট হলটি তৈরি হতে যে পরিমাণ বিলম্ব হয়েছে আর বাজেট যে পরিমাণে বেড়েছে, তাতে কেউ প্রত্যাশাই করেননি যে, তার চূড়ান্ত আকার এত সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর হবে৷ ফিলহার্মনিকের ছাদটা ঢেউ খেলানো, যেন একসঙ্গে সাগর আর সংগীতের ওঠা-নামা৷ হামবুর্গের বন্দর এলাকার একটি মালগুদামের উপর কাচের এই বাড়িটি যেন জলের ওপর ভাসছে৷ প্রথম কনসার্টের তারিখ হলো ১১ই জানুয়ারি, ২০১৭৷

মাস ছয়েক ধরে এই তরুণ-তরুণীরা রিহার্সাল করছেন৷ নিজেদের মাথা থেকেই এই মিউজিক্যাল-এর আইডিয়া এসেছে৷ গল্পের মূলে রয়েছে এক শান্তিপূর্ণ জাতি, যাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে৷ মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে৷ তবে সেই অ্যাডভেঞ্চার ভালোভাবে শেষ হয়েছে৷

প্লুলারআর্টস ইন্টারন্যাশানাল সংস্থার টড জনাথন ফ্লেচার সব আইডিয়া সংগ্রহ করে চিত্রনাট্য লিখেছেন, গানে সুর দিয়েছেন৷ ৩০ বছর ধরে তিনি তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কাজ করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘তারা সমাজে অবদান রাখতে চায়, সেটাই তাদের উদ্দেশ্য৷ শুধু ঘোরাঘুরি করতে চায় না তারা৷ তাদের মনে আত্মবিশ্বাস আনাই আমার মূল দায়িত্ব৷ কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সব সম্ভব৷ তারা একবার নিজেদের ক্ষমতার স্বাদ পেলে শুধু নাটক ও সংগীত নয়, হয়ত অংক ও বায়োলজির ক্ষেত্রেও ভালো ফল করবে৷ আত্মবিশ্বাসে আরও ভরপূর হয়ে তারা চেষ্টা করবে৷''

সিনা বলেন, ‘‘এর আগে আমি কখনো শরণার্থীদের সঙ্গে কিছু করিনি৷ তাদের একটা অন্য দিক সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম৷ নিজে ব্যক্তিগতভাবে জানতে চেয়েছিলাম, তারা কেমন মানুষ৷ এর আগেও আমি অনেক গ্রুপের নাটকে অভিনয় করেছি৷ তাই এখানে নতুন করে অনেক কিছু শিখলাম৷''

এবার দ্রুত কুশিলবদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরে দেখার পালা৷ সেগুলিও তরুণ-তরুণীরা নিজেরাই সেলাই করেছেন৷

টড ফ্লেচার চান, তরুণ-তরুণীরা এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যাতে আরও এগিয়ে যায়৷ স্কুল, বন্ধুবান্ধব, পরিবারের মধ্যেও তারা যেন এই সাফল্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারে৷

প্রতিবেদন: লেয়া আলব্রেশট/এসবি

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

মারলেনে ডিটরিশ

১৯০১ সালে জার্মানিতে জন্ম নেয়া ডিটরিশ গায়িকা ও অভিনেত্রী হিসেবে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন৷ ১৯৩০ সালে তিনি হলিউডে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান৷ সেখানে থাকলেও নাৎসি আমলের সমালোচনায় মুখর ছিলেন তিনি৷ ১৯৩৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি মার্কিন বাহিনীর জন্য গান গেয়েছেন৷ নাৎসি সরকার জার্মানিতে তাঁর মুভি প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

হেনরি কিসিঞ্জার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে জন্মেছিলেন৷ নাৎসি সরকারের নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ১৯৩৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

মেডেলিন অলব্রাইট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অলব্রাইট চেক প্রজাতন্ত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন৷ ১৯৪৮ সালে সে দেশে কমিউনিস্ট সরকার ক্ষমতায় গেলে তিনি তাঁর পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

আলবার্ট আইনস্টাইন

জার্মান ইহুদি এই নোবেল বিজয়ী যখন ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ছিলেন তখনই বুঝতে পারেন যে, তাঁর পক্ষে আর জার্মানি ফেরা সম্ভব নয়৷ কারণ ঐ বছরই হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর হন৷ ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৪০ সালে সে দেশের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

গেওর্গ ভাইডেনফেল্ড

ইহুদি এই মানুষটির জন্ম অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়, ১৯১৯ সালে৷ নাৎসিরা যখন অস্ট্রিয়া দখল করে নিলে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান৷ সেখানে তিনি একটি প্রকাশনা সংস্থা চালু করেন৷ ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্টের ‘চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

বেলা বার্টোক

হাঙ্গেরির কম্পোজার, পিয়ানোবাদক ও লোক সংগীত সংগ্রাহক বার্টোক ইহুদি ছিলেন না৷ কিন্তু নাৎসিদের হাতে ইহুদিদের নিপীড়িত হওয়ার বিষয়টির ঘোর সমালোচক ছিলেন তিনি৷ ফলে ১৯৪০ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে হয়৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

ইসাবেল আলেন্দে

১৯৭৩ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চিলির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সালভেদর আলেন্দেকে হটিয়ে দেয়া হয় এবং সেই সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়৷ এরপর একসময় আলেন্দের এক কাজিনের মেয়ে ইসাবেলকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়৷ তা থেকে বাঁচতে প্রথমে ভেনেজুয়েলায়, তারপর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান ইসাবেল৷ তাঁর লেখা কয়েকটি উপন্যাস আন্তর্জাতিকভাবে বেশ প্রশংসিত হয়েছে৷

৮ তারকা যাঁরা একসময় শরণার্থী ছিলেন

মিরিয়াম মাকেবা

‘মামা আফ্রিকা’ নামে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীত শিল্পী মাকেবা একবার গান গাইতে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন৷ সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার বর্ণবাদবিরোধিতার অভিযোগে তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়৷ ফলে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি৷ কয়েক দশক পর অবস্থার পরিবর্তন হলে দেশে ফিরে যান মাকেবা৷

আমাদের অনুসরণ করুন