1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

তাবলিগ: করোনায় আক্রান্ত আরও ১০০

১ এপ্রিল ২০২০

তাবলিগের জমায়েতে যোগ দেওয়া আরও ১০০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন।

https://p.dw.com/p/3aHQ8
ছবি: Getty Images/AFP/S. Hussain

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ-ই-জামাতের জমায়েতে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন দেশজুড়ে তাঁদের খুঁজে বের করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। মোট ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাঁদের খুঁজে বের করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হচ্ছে। যাঁদের খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত পক্ষে ১০০ জন করোনায় আক্রান্ত। এর মধ্যে তামিলনাড়ুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। সবমিলিয়ে তামিলনাড়ুতে ১২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার মধ্যে ৭৭ জন তাবলিগের জমায়েতে ছিলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আশঙ্কা, এতদিন ধরে এই করোনায় আক্রান্তরা হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। তাই তাঁদের মাধ্যমে প্রচুর লোকের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে যেতে পারে। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ জায়গায় চলে যাবে। তাবলিগের জমায়েতে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের মাধ্যমে গোষ্ঠী সংক্রমণের সমূহ সম্ভাবনা আছে বলে মন্ত্রকের ধারণা। 

গত ১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তাবলিগের জমায়েতে কত জন যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের খুঁজে বের করতে চাইছে সরকার। কাজটা রীতিমতো কঠিন। কারণ, দিল্লি থেকে অন্তত ২৫ টি বাসে তাবলিগের প্রচারকারীরা দেশের অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছেন। তারপর তাঁরা রাজ্যের কোথায় গিয়েছেন, তার খোঁজ চলছে। রেলমন্ত্রক মনে করছে, মূলত তিনটি ট্রেনে করে দক্ষিণ ভারতে গিয়েছেন তাঁরা। সেই যাত্রীদের খোঁজ করা হচ্ছে। শুধু তামিলনাড়ু থেকেই এক হাজার ৫০০ লোক নিজামুদ্দিনের জমায়েতে এসেছিলেন।  তার মধ্যে এক হাজার ১৩১ জন তামিলনাড়ুতে ফিরেছেন। এর মধ্যে ৮০০ জনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। বাকিদের মধ্যে অনেকে তাঁদের মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। সরকার বারবার ঘোষণা করছে, যাঁরা নিজামুদ্দিনে তাবলিগের জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা যেন নিজে থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাবলিগের জমায়েতে অংশ নেওয়া দুই হাজার ১৩৭ জনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে। তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রচুর বিদেশি জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৩০০ বিদেশি এসেছিলেন ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে। তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর কখনও তাঁদের ভিসা দেওয়া হবে না বলে বিদেশ মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেলেঙ্গানায় দশ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক করোনায় আক্রান্ত। তাঁরা সকলেই তাবলিগের জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন। 

রেল জানিয়েছে, দিল্লি থেকে ট্রেনের স্লিপার ক্লাসে করে তাঁরা রামগুন্ডম স্টেশনে নামেন। সেখান থেকে অটো করে একটি মসজিদে যান। সেখানে লোকেদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁরা করিমনগর যান এবং সেখানে চারটি মসজিদে গিয়েছিলেন। একটি মসজিদে ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করেন। ফলে তাঁদের কাছ থেকেও তেলেঙ্গানায় করোনা ব্যাপকভাবে ছড়াতে পারে। তেলেঙ্গানায় ৪০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা নিজামুদ্দিনের জমায়েতে ছিলেন। অন্ধ্র প্রদেশে চিহ্নিত করা হয়েছে ৭১১ জনকে। ৮৭ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাকিদের কোয়ারান্টিন করা হয়েছে। 

কর্ণাটক থেকে ৩০০ জন নিজামুদ্দিন এসেছিলেন। মাত্র ৭৮ জনকে চিহ্নিত করে কোয়ারান্টিন করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে ১৫৭ জন যোগ দিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরেছেন মাত্র নয় জন। একটি মসজিদে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা  নয় জন ছিলেন, তাঁরা সকলেই জমায়েত থেকেই এসেছেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। সূত্র জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৭৩ জন নিজামুদ্দিনে এসেছিলেন। তাঁদের খোঁজ চলছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লাভ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ''এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন সকলকে খুঁজে বের করে আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এবং তাঁদের ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে রাখার সময়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে সেই কাজটাই করছে।'' তবে তাবলিগের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, যে সময় তাদের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল, করোনা পরিস্থিতি তখনও দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি। সে সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের লিখিত বিবৃতি বলছে, করোনাভাইরাস ভারতে ততটা সমস্যার কারণ হয়ে ওঠেনি। তাদের আরও দাবি, অনুষ্ঠান চলার সময় আচমকাই ভারত সরকার প্রথমে এক দিনের জনতা কার্ফু এবং পরে ২১ দিনের লক ডাউন ঘোষণা করে। অনুষ্ঠান সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হলেও সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকলে ফিরতে পারেননি। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা প্রচারক এবং বিদেশিরা বাধ্য হয়েই নিজামুদ্দিনে সংস্থার মূল কার্যালয়ে থেকে যান। দিল্লি পুলিশ অবশ্য বলেছে, তাবলিগকে বার বার বলা হয়েছে, আশ্রয়শালা খালি করে দেওয়ার জন্য। দিল্লি সরকার অনেক আগেই ৫০ জনের বেশি ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞাও তাবলিগ মানেনি। 

জিএইচ/এসজি(পিটিআই,এএনআই)