তৃণমূল-বিজেপি হানাহানির পরিণাম কী ?

রাজ্যে সংসদীয় নির্বাচনের আগে থেকে শুরু করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখনো যেভাবে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে তার পরিণাম কোথায  দাঁড়াবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন সবাই৷

রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠি সবশেষ ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়া, সন্দেশখালি, গঙ্গারামপুর কাণ্ড নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত যখন চরমে তখন দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রাজ্যের সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন৷ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী  অমিত শাহের কাছে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ৪৮ পাতার একটি রিপোর্ট দেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি | 03.06.2019

জানা গেছে, তিন পর্বের এই রিপোর্টে আছে যে,  ভোটের আগে, ভোট চলাকালীন এবং ভোট পরবর্তী সহিংসতা৷ জানানো হয়, উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার সন্দেশখালির ঘটনায় চারজন প্রাণ হারায়৷ এর মধ্যে তিনজন বিজেপির এবং একজন তৃণমূলের৷

 এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে রাজ্যকে পাঠানো অ্যাডভাইসরিতে মমতা-সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়, রাজ্যের আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷ যেসব পুলিস কর্মকর্তার দায়িত্বপালনে গাফিলতি রয়েছে তাঁদের সরানো হোক, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷ এই অ্যাডভাইসরিমমতা- সরকারের কাছে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মত কাজ করেছে৷

জবাবে  সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে. কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল, পুলিস প্রশাসন দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে৷ আরো বলা হয়েছে ওইসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার পেছনে ছিল বিজেপির উসকানি,৷ তৃণমূলের তরফে বলা হয়, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে যাদবদের হত্যার ঘটনায় বিজেপি সরকার কি করছিল ? পশ্চিমবঙ্গের দিকে আঙ্গুল তোলার আগে আইন শৃংখলা প্রশ্নে নিজেদের আত্মসমালোচনা করা উচিত, এটা বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্ত৷ ফলে বিষয়টির মোকাবিলা করা হবে রাজনৈতিকভাবেই, বলেছেন তৃণমূল নেতা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

রাজ্যে ভূমিগত রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে কয়েকজন মন্ত্রী অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কথা শুনছে না বলে  তৃণমূল বিপাকে পড়ছে৷ ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কর্তৃপক্ষকে একহাত নেন৷  মমতা বলেন, বিজেপি যদি মনে করে থাকে তাঁকে চুপ করানো যাবে, তাহলে মনে রাখবেন, মৃত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ আরো ভয়ঙ্কর৷  নবান্নে সাংবাদিকদের অযথা ঘোরাঘুরিটাও নাকি মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ নয়৷তাঁর মতে, সংবাদ মাধ্যমগুলি বাড়িয়ে চড়িয়ে লেখেন৷

পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের কথা শুনে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুল রায়ের মন্তব্য, পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে তো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উচিত সবার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়া৷ আহত বাঘের তুলনা প্রসঙ্গে মুকুল রায়ের জবাব, রাজ্যে বিজেপিই আসলে আহত বাঘ৷ সেই পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই একের পর এক বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, সেটা এখনও চলছে৷

এখন লাইভ
03:16 মিনিট
বিষয় | 11.06.2019

আমি নাকি বিজেপির দালালি করছি. এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে: ...

চলতি ঘটনা প্রবাহের শেষ পরিণাম কি হতে পারে ?  রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন ? ডয়চে ভেলের প্রশ্নে প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানি ডঃ অমল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এসব বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের পুরো ভারতের তথা বিশ্বের কাছে মাথা হেঁট হয়ে গেছে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, যাঁরা জিতেছেন এবং যাঁরা হেরেছেন তাঁরা কেউ সেটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না কেন ? মূলতঃ শাসক দলের পরাজয়টা যে নৈতিক পরাজয়, সেটা তারা আদৌ মানতে পারছে না. সর্বত্র তারা হামলা চালাচ্ছে. এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক৷ আইন শৃংখলার অত্যন্ত অবনতি হয়েছে. অথচ তৃণমূলের সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতি দিয়েছেন, আইন শৃংখলার আদৌ অবনতি হয়নি৷ এ ধরনের কথা বলে নিজেকে হাস্যাস্পদ করছেন৷'

‘এখন এটা সাংবিধানিক দিক থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায়, কেন্দ্রীয় সরকার  রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন অর্থাৎ ৩৫৬ ধারা জারি করতে পারে৷  কিন্তু সেটা করলে সেটা হবে রাজনৈতিক দিক থেকে ভুল৷ সেটা করলে তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ হয়ে যাবে, জনসাধারণের সহানুভূতি আবার তৃমমূলের দিকে যাবে৷ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সেটা করবে না৷ কিন্তু মুসকিল হচ্ছে. আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাঁরা আজ বিব্রত. যেসব জায়গায় গন্ডগোল হচ্ছে সেখানকার বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে৷ গত পরশু আমি শাসক দলের এক মন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম , শাসক দল এগিয়ে এসে সর্বদলীয় এক শান্তি মিছিল করতে৷ জনসাধারণকে বার্তা দিতে যে, আমরা শান্তি চাই, অশান্তি চাই না, হিংসা চাই না৷ এতে দেখলাম তৃণমূলের এক মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বললেন, আমি নাকি বিজেপির দালালি করছি. এর থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে৷ ডয়চে ভেলেকে বললেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানি ডঃ অমল মুখোপাধ্যায়৷'

আমাদের অনুসরণ করুন