তৃতীয় লিঙ্গের পক্ষে বার্তা দিলো ‘নগরকীর্তন’

তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত৷ তবুও চেনা ছকের বাইরে থাকা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা ব্রাত্য রয়ে গিয়েছেন৷ তাঁদের জীবন ঘিরে তৈরি ছক-ভাঙা নতুন সিনেমা কি পারবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে?

খ্যাতনামা বাঙালি পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ছবি ‘নগরকীর্তন'-এ রূপান্তরকামী সমাজের অনেক কথাই বলা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় চরিত্র পুঁটি ওরফে পরিমলের কাহিনি মিলে যাচ্ছে অনেকের জীবনের সঙ্গে৷ পুঁটিকে ‘পুরুষের শরীরের খাঁচায় বন্দি নারী মন'-এর জন্য বাড়ি ছাড়তে হয়৷

এমনই গল্পতো উৎসব গঙ্গোপাধ্যায়েরও৷ লেক গার্ডেন্সের উৎসব যেদিন বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন, সেদিন ঠাকুমার ব্লাউজ, মায়ের শাড়ি আর প্রতিবেশীদের নকল চুল, লিপস্টিক খোয়া গিয়েছিল৷ উৎসবের মা অপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায় সেদিন এ সবের মানে কিছুই বুঝতে পারেননি৷ তারপর আস্তে আস্তে সমাজটাকে একটু একটু করে পালটাতে দেখেছেন তিনি৷ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় বেরোনোর পর রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার সম্পর্কে তাঁরও ধারণা গড়ে উঠেছে৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘আমার কোনো লজ্জা নেই বলতে যে উৎসব আমার মেয়ে৷ আমি খুব সাধারণভাবেই বলতে পারি, আমার এক ছেলে, এক মেয়ে৷'' 

এখন লাইভ
08:59 মিনিট
বিষয় | 07.03.2019

‘ফিল্ম, স্টেজ, অভিনয় একটা জোরালো মাধ্যম’

আবার উৎসবের মতোই অতীত ব্যারাকপুরের মেকআপ শিল্পী ও মডেল অদিত্রি চৌধুরীর৷ তিনি জন্মেছিলেন ছেলে হয়ে৷ কিন্তু তাঁর মহিলাতে রূপান্তরের সার্জারিকে মেনে নিয়েছেন তাঁর মা মীনা চৌধুরী আর বাবা নন্দলাল চৌধুরী৷ তাঁরা রূপান্তরকামিতা নিয়ে কোনো ছুঁৎমার্গ রাখেননি৷ তাঁরা সন্তানের পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন৷ এমন অজস্র নমুনা ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের চারপাশে

কী বলছেন বিশিষ্টরা?

এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জন্য ছবি এর আগেও হয়েছে৷ ২০১০ সালে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘আরেকটি প্রেমের গল্প'-র মতো দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল ঋতুপর্ণ ঘোষ অভিনীত ‘চিত্রাঙ্গদা' বা ‘মেমোরিজ ইন মার্চ'৷ কিন্তু ২০১৯-এর ‘নগরকীর্তন' ছবিটি পেয়েছে আরও বেশি জনপ্রিয়তা৷ অনেকেই বলছেন, তৃতীয় লিঙ্গের ছক-ভাঙা জীবন এর থেকে পাচ্ছে সাহস এবং লড়াই করার উৎসাহ৷ ছবি সম্পর্কে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘রূপান্তরকামী মেয়ে-পুরুষেরা দলে দলে আমার নগরকীর্তন ছবিটা দেখতে আসছেন৷ খোলাখুলি আলোচনা করছেন৷ ২০১০-এ ‘আরেকটি প্রেমের গল্প'-ও দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু তখন তৃতীয় লিঙ্গভুক্তদের ভিড় এতটা দেখিনি৷''

চলচ্চিত্র সমালোচক নির্মল ধর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সমকামী বা ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে এইসব ছবি আরও বেশি করে করা উচিত৷ কৌশিক সেটাই করেছেন৷ তাতে আমাদের দৃ্ষ্টিভঙ্গি কিছুটা হলেও বদলাবে৷ এর আগে ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে এই বিষয় নিয়ে বাংলায় ছবি হয়ে থাকলেও সেখানে উচ্চবিত্ত পরিবারের মানুষদের দুঃখ-কষ্ট দেখানো হয়েছে৷ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে রাস্তার বৃহন্নলাদের জীবন বা আম রূপান্তরকামীর জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, তাতে কোথাও দুঃখবিলাস নেই৷ এই ছবিটা হয়তো আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার সূচনা করবে৷'' 

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

কে তিনি? 

লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠি একজন ভারতীয় হিজড়া-অধিকার কর্মী, অভিনেতা এবং ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী৷ ভারতে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি৷ মুম্বইয়ের মিথিবাই কলেজ থেকে ভরতনাট্যমে উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে তাঁর৷ 

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

প্রথম কিন্নর আখড়া

কুম্ভমেলায় বিভিন্ন সাধুসংঘ আখড়া  স্থাপন করে থাকেন৷ এবার প্রথম তৃ্তীয় লিঙ্গের আখড়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ এই আখড়ায় ভারতের বিভিন্ন স্থানের হিজড়ারা সমবেত হয়েছেন পূণ্যস্নানের জন্য৷ মকর সংক্রান্তির শাহী স্নানেও অংশ নেন তাঁরা৷ 

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

১২ লাখ হিজড়া! 

কিন্নর আখড়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১২ লাখ হিজড়া এই মেলায় পুণ্যস্নানে অংশ নিতে পারছেন৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় সমাবেশে বৃহন্নলাদের এই পুণ্যস্নান রীতিমতো বড় এক খবর৷ লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠি সবাইকে ধন্যবাদ জানান, কারণ, সমাজের সব স্তরের মানুষ তাঁদের গ্রহণ করে ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নিতে দিয়েছে৷ 

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

লাল-কমলা শাড়িতে পুণ্যস্নান  

মঙ্গলবার অর্ধকুম্ভের পুণ্যলগ্নে কমলা ও লাল শাড়িতে সুসজ্জিত হয়ে গঙ্গা-যমুনায় স্নান করলেন কিন্নর সম্প্রদায়ের সদস্যরা৷ সঙ্গীদের নিয়ে স্নানে যোগ দেন কিন্নর আখড়ার নেতা বছর ৪০-এর লক্ষ্মী নারায়ণ ত্রিপাঠী৷

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

ভক্তদের জন্য নাচলেন লক্ষ্মী 

কুম্ভমেলায় কিন্নর আখড়ায় শুধু হিজড়ারা নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভিড় জমাচ্ছেন নাচ ও আরাধনা দেখতে৷ তাই প্রায় প্রতিদিনই ভক্তদের জন্য নাচছেন দেশখ্যাত এই নৃত্যশিল্পী৷

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

দুই বছরের প্রচেষ্টা 

কুম্ভমেলায় অংশ নিতে দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তৃ্তীয় লিঙ্গের মানুষদের৷ কিন্নর আখড়ার সম্পাদক  পবিত্র বলেন, ‘‘প্রায়োগরাজে কুম্ভ মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য গত দু’‌বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা৷ অন্যদের মতো আমাদের সম্প্রদায়ও অধীর আগ্রহে কুম্ভের জন্য অপেক্ষা করেছে৷ ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে৷’’

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

নানা প্রতিবন্ধকতা 

মেলার শুরুতেই কিন্নর আখড়া নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন এক দল সাধু৷ আরাধনার পরিবর্তে তৃতীয় লিঙ্গ এখানে অন্য কোনো কাজে জড়িত হবে কিনা এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাধুদের প্রতিনিধিরা৷ তবে দিন শেষে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কিন্নর আখড়ার ভক্তদের নিয়ে৷  

কুম্ভমেলায় অন্যরকম এক তারকা  

ভক্তদের ভিড়

লক্ষ্মী যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই তাঁকে ঘিরে ধরছেন ভক্তরা৷ গুরু হিসেবে পূজা ও অর্ঘ্যও দিচ্ছেন, কখনো ভক্তদের সন্তানদের কোলে নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কখনো সবার জন্য নাচছেন৷ তাঁকে ঘিরেই চলছে কিন্নর আখড়ার পুণ্যস্নানসহ কুম্ভমেলার সব আয়োজন৷

এই ছবি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে, এ কথা মনে করেন সাহিত্যিক-সমালোচক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘অতীতের অনেক সংস্কার থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি৷ তেমনভাবেই সভ্যতাকে নতুন দিক মেনে নিতে হবে৷ দুটো একই লিঙ্গের মানুষ, তাদের মধ্যে একজন একটু বেশি মেয়েলি, এই প্রেমটাও তো প্রেম৷ সেই জন্যই বাংলায় প্রথম এমন একটা প্রেমের ছবি দেখলাম যার সঙ্গে কোনো ছবি তুলনীয় নয়৷'' 

গোঁড়ামি কি দূর হবে?

অতীতে পরিচালক ওনিরের ‘মাই ব্রাদার নিখিল' কিংবা গত বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ইভনিং শ্যাডোস' - এইসব ছবিগুলি তুলে ধরছে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষদের সুখ-দুঃখ৷ এই ছবিগুলি অভিভাবকের সঙ্গে তাঁদের ভিন্ন ধারার সন্তানদের টানোপড়েনের গল্প বলেছে৷ অদিত্রি চৌধুরীর মতো ভাগ্য সকলের হয় না৷ সকলেই পাশে পরিবারকে পান না৷ তাই প্রশ্ন উঠছে, চলচ্চিত্র কি পারবে সমকামিতা, রূপান্তরকামিতা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু তথা গোঁড়ামি দূর করতে?

এ ব্যাপারে রূপান্তরিত নারী অভিনেত্রী তিস্তা দাস ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘ফিল্ম, স্টেজ, অভিনয় একটা জোরালো মাধ্যম৷ এর মাধ্যমে অনেক বড় বার্তা দেওয়া যায়৷ তবে কিছু মানুষ থাকে, যারা কোনো কিছুতেই মানবে না৷ কিন্তু তাদের কথা না ভেবে চেষ্টাতো করা উচিত৷ ফিল্মও সেই চেষ্টাটাই করে৷ তবে শুধু একটা ছবিতে কিছুই হবে না৷''

রূপান্তরকামীদের সহায়তার জন্য তিস্তার নিজের একটি সংগঠন আছে৷ সেখানে তিনি কাউন্সেলিংও করেন৷ তিস্তার কাছে রূপান্তরকামীদের অনেকেই সামাজিক, মানসিক সমস্যা নিয়ে যান৷ সেই ব্যাপারে তিস্তা বলেন, ‘‘অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যাপ্রবণও হয়ে পড়েন৷ ১০০ জনের মধ্যে ৪ জনের এই সমস্যা আছে৷ পরিবার বা সমাজকে সচেতন করতে আরও ছবি তৈরি করতে হবে৷ এলজিবিটিদের সমস্যা যাঁরা বুঝছেন, তাঁরা সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠরা কিন্তু বোঝেন না৷ এজন্য পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে৷ পরিবারকে বুঝতে হবে সমস্যাটা কোথায়! সমাজকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকাটাও কিন্তু দরকার৷'' 

সমকামের স্বীকৃতি উদযাপন

নির্যাতনের হাতিয়ার

ঔপনিবেশিক শাসনামলের এ আইন সংবিধানের সাথে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মনে করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র৷ আরেক বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা বলেছেন, ‘‘এই সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিতে দেরি হওয়ায় ইতিহাসের ক্ষমা চাওয়া উচিত৷’’

সমকামের স্বীকৃতি উদযাপন

আমার শরীর, আমার অধিকার

নিজের শরীরের ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছেন সমকামী অধিকার কর্মীরা৷ এ পথেও ছিল বাধা৷ সামাজিক হেনস্তা তো ছিলই, আইনি সুরক্ষাও ছিল না তাঁদের পক্ষে৷

সমকামের স্বীকৃতি উদযাপন

উদযাপন

রায় ঘোষণার পরপরই ভারতের বিভিন্ন স্থানে নাচে গানে উদযাপনে মেতে ওঠেন সমকামী অ্যাক্টিভিস্টরা৷ ভারতের ইতিহাসে মানবাধিকারের লড়াইয়ে একে অসাধারণ এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন তাঁরা৷

সমকামের স্বীকৃতি উদযাপন

করণ জোহর

বলিউডের চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহর এক টুইটে এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন৷ মানবতা ও সমঅধিকারের পক্ষে ভারত আরেকটু এগিয়ে গেল বলেও মনে করেন তিনি৷

সমকামের স্বীকৃতি উদযাপন

৭৩ দেশে অপরাধ

সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বের ৭৪টি দেশে সমকামিতা ছিল নিষিদ্ধ৷ কিন্তু ৬ সেপ্টেম্বরের রায়ে সে তালিকা থেকে নিজের নাম সরাতে পারলো ভারত৷ নিষিদ্ধের তালিকায় বেশিরভাগই এশিয়া ও আফ্রিকার৷ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলংকাও রয়েছে এই তালিকায়৷

সমকামের স্বীকৃতি উদযাপন

২৬ দেশে সমকামী বিয়ে

বিশ্বের ২৬টি দেশ সমকামীদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার স্বীকৃতি দিয়েছে৷ এই তালিকায় এশিয়ার কোনো দেশ নেই৷ আফ্রিকার একমাত্র দেশ হিসেবে আছে সাউথ আফ্রিকার নাম৷ ২০০০ সালে প্রথম দেশ হিসেবে সমকামী বিয়ের স্বীকৃতি দেয় নেদারল্যান্ডস, সবশেষ ২০১৭ সালে তালিকায় নাম লিখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, মালটা ও জার্মানি৷

পরিবর্তনের পথে এক পা

চলচ্চিত্র আর বাস্তবের মধ্যে মিলের মতো অমিলও আছে প্রচুর৷ পশ্চিমবঙ্গ ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের সদস্য রঞ্জিতা সিনহা বলেন, ‘‘দীর্ঘ কুড়ি বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি নানা ঘটনায় রূপান্তরকামীরা অত্যাচারিত হয়৷ ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে তাঁদের আত্মহত্যারও নজির প্রচুর আছে৷ সেই হিসেবে এমন প্রেমের ছবি করাকে স্বাগত জানাই৷ তবে আমার মনে হয়, শেষটা আরেকটু আশাবাদী হলে সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা আশার বার্তা যেত৷ তবে সিনেমা এককভাবে মানুষের মনে বদল আনতে পারবে না৷ এগিয়ে আসতে হবে পরিবারের লোকজনেদেরও৷''

এই শহরের বাসিন্দাদের অনেকেই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমস্যা বুঝতে পারেন৷ প্রাচী সিনেমা হলে ‘নগরকীর্তন' ছবির দর্শক রূপালী সরকার ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘সত্যি বলতে তো এসব কিছুই জানতাম না৷ সিনেমার মাধ্যমে বুঝতে পারছি আসলে এঁরাও রক্তমাংসের মানুষদের মতো৷ এঁদেরও দুঃখ, শোক, ভালোবাসা আছে৷ এই ধরনের ছবি আরো তৈরি করলে আমরা অনেক কিছু জানতে পারব৷''

জানতে পারবেন রূপান্তরকামীদের আত্মীয়-পরিজনরাও৷ ৯-১০ বছর যাবৎ রূপান্তরকামী উৎসবের নিজের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই৷ অপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায় এখন উৎসবকে শুধু একটিবারের জন্য চোখের দেখা দেখতে চান৷ তিনি উৎসবের এই নতুন সত্তাকে মেনে নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সত্যি সমাজ কিছুটা হলেও পালটেছে৷ আমি তখন সেভাবে ভাবতে পারিনি৷ কারণ, আমি বুঝতে পারিনি ছেলের চিন্তাভাবনা৷ আমি যদি জানতে পারতাম, অন্যভাবে ভাবতাম বৈকি! এই সচেতনতার জন্যই এমন চলচ্চিত্রের দরকার, বাবা-মায়েরা যাতে সন্তানের অবস্থাটা বুঝতে পারেন৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আমাদের অনুসরণ করুন