দলীয় রাজনীতির প্রতি আনুগত্য পেশাজীবীদের সংকটের কারণ

রাজনীতি বাঙালির প্রিয় বিষয়৷ কেন? কারণ হয়ত বহুবিধ৷ অভাবি মানুষ, তার অভাব দূর করতে চান৷ রাজনীতি তার সামনে সেই সম্ভাবনার দুয়ার উম্মোচন করে দেয়৷

রাজনীতিবদরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখান৷ অসহায়-অভাবি মানুষ তা বিশ্বাস করেন৷তারপর এক সময় দেখেন, তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি৷ রাজনীতিবিদ নিজেই বদলে গেছেন৷ রাজনীতির ভেতরে ঢুকে যাওয়া মানুষ রাজনীতি থেকে বের হতে পারেন না, হয়ত চানও না৷

সাধারণ মানুষ থেকে পেশাজীবী সবাই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ পেশাজীবীদের রাজনীতি করার অধিকার কতটুকু আছে, সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ আছে কিনা,কতটা আছে, সেই নৈতিকতা বা বিবেচনাবোধ সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে৷ বাংলাদেশের পেশাজীবীরাও দলীয় রাজনীতির সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে গেছেন৷ এর ফলে পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা বা অন্যায্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে না৷ পেশাজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন,অপমানিত-অসম্মানিত হচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের সংগঠন নীরব থাকছে৷ পেশাজীবীদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না৷ দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁদের দঁড়াতে দিচ্ছে না৷ বাংলাদেশের সব পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য৷ সাংবাদিক, ডাক্তাররা বর্তমান সময়ে নানা কারণে আলোচিত৷ এই দুই পেশাজীবীদের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে, হয়ত বিষয়টি পরিস্কার হতে পারে৷

১.

বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে৷ প্রিন্ট মিডিয়ার বিজ্ঞাপন কমে গেছে৷ ইলেকট্রনিক মিডিয়া খুব ভালো চলছিল, তা নয়৷ আবার খুব খারাপও চলছিল না৷ সবগুলো না হলেও অনেকগুলো টেলিভিশন চ্যানেল ভালো চলছিল৷ সংবাদকর্মীরা মোটামুটি মানসম্পন্ন বেতন-ভাতা নিয়মিত পাচ্ছিলেন৷ এখন তার অনেকগুলোই রুগ্ন হয়ে গেছে৷ কিছু রুগ্ন হওয়ার পথে৷ 

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

নাইমুন্নবী চৌধুরী তুষার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুন্নবী চৌধুরী তুষারের মতে, সংগঠনের উৎপত্তি ঘটে মূলত সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে৷ কিন্তু সেই সংগঠনকে পুঁজি করে অর্থলোভী কিছু মানুষ সংগঠনকে নিজ স্বার্থের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে৷ বিশৃঙ্খল সড়কে যখন মৃত্যুর মিছিল, তা রুখতে সরকারের সকল প্রচেষ্টাকে ম্লান করে দিচ্ছে পরিবহণ সংগঠনের সিন্ডিকেট৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

আকিবুল ইসলাম

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে আকিবুল ইসলাম মনে করেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের পরিবহণ ধর্মঘট ডাকাই উচিত নয়৷ এর বিকল্প কোনো উপায় বের করা উচিত তাঁদের৷ আকিবুলের মতে, পরিবহণ ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

ইরান আহমেদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইরান আহমেদ বলেন, শিক্ষক সংগঠনগুলোর সিন্ডিকেশনের ফলে অনেক সময়ই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়৷ শিক্ষকদের সিন্ডিকেশনের ফলে অনেক সময় পরীক্ষা পিছিয়ে যায়, যার জন্য ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

গোলাম মোস্তফা

ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার মতে, ঈদের সময় পরিবহণ মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাস, লঞ্চসহ বিভিন্ন পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে দেন৷ এ কারণে পকেটের প্রচুর টাকা খসাতে হয় লাখ লাখ মানুষকে৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

হাবিবুর রহমান

মাছ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান মনে করেন, হাসপাতালগুলোতে সব রকমের সিন্ডিকেট বন্ধ করা উচিত৷ যেমন, ঢাকা মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা সিন্ডিকেট করে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করেন রোগীদের কাছ থেকে৷ এমনকি লাশ বহনের ক্ষেত্রেও তারা কোনো ছাড় দেন না৷ এটা বন্ধ হওয়া উচিত৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

আবু হোসেন

দিনমজুর আবু হোসেন মনে করেন, রোজা এলেই দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়ে যায়৷ এটা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই ঘটে৷ এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন তাঁর মতো নিম্ন আয়ের মানুষেরা৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

শঙ্কর সাহা

পেশায় গাড়ি চালক শঙ্কর সাহা বলেন, চিকিৎসকদের কখনোই ধর্মঘটে যাওয়া উচিত নয়, কেননা এর সঙ্গে মানুষের জীবনের প্রশ্ন৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

রফিকুল ইসলাম

পেশায় শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মতে, দেশের ভূমি অফিসগুলোতে মারাত্মক সিন্ডিকেট থাকায় সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

ইমরান আহমেদ

ব্যবসায়ী ইমরান আহমেদ বলেন, ক্যাবল অপারেটরদের সিন্ডিকেটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েননি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন৷ সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ দেন বলে খারাপ সার্ভিস পেয়েও গ্রাহকদের কিছু করার থাকে না৷ মাসে মাসে টাকা গুনতে হয় শুধু শুধু৷

সংগঠিত দৌরাত্ম্য, ব্যক্তিগত ভোগান্তি

রবিউল ইসলাম

পোশাক শ্রমিক রবিউল ইসলামের মতে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে যায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফলে, যার জন্য বেশি ভুক্তভোগী হয় তাঁর মতো নিম্ন আয়ের মানুষরাই৷

কেন এমন অবস্থা তৈরি হলো?

বলা হয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রসারে, প্রিন্ট মিডিয়া চাপে পড়েছে৷ আর সমাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কারণে বিপদে পড়েছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া৷ এই কারণগুলো একেবারে অসত্য নয়৷ কিছু সত্যতা আছে৷

এর চেয়েও বড় সত্য,সাংবাদিকদের রাজনীতি-দলীয় রাজনীতি৷ বাংলাদেশের সাংবাদিক নেতা আর দলীয় রাজনৈতিক নেতার মধ্যে জনগণ কোনো পার্থক্য দেখেন না৷ ভোটার ভোট দিতে পারে না, সাংবাদিক-সম্পাদকদের বড় একটা অংশ টেলিভিশনে গিয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচন ভালো হয়েছে৷'' সারাদিনই মানুষ যা দেখেন, পরের দিনের পত্রিকায় তার প্রতিফলন থাকে না বা তার উল্টোটা থাকে৷ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করতে গিয়ে সাংবাদিক-সম্পাদকরা নিজেদের হাস্যকরের চুড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন৷ সরাসরি প্রচার হওয়ায় মানুষ তা দেখেছেন৷ ফলে জনগণ বাংলাদেশের গণমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন৷ তার প্রভাব পড়েছে বিজ্ঞাপনে৷ বহুজাতিক কোন্পানিগুলোর  বিজ্ঞাপন চলে গেছে ভারতীয় চ্যানেলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷

সমাজ-সংস্কৃতি | 29.04.2019

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী দু'টি পত্রিকা ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো৷ বছর দুই-তিন আগে হঠাৎ করে অঘোষিত নির্দেশে এই দুইটি পত্রিকায় বহুজাতিক কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়৷ এতে পত্রিকা দু'টির আয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়৷ উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এই পত্রিকা দু'টিই কর্মীদের সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেয় এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী কাজ করেন৷

সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সাংবাদিকদের কোনো সংগঠন প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের পাশে দাঁড়ায়নি৷ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কোনো নেতা কোনো কথা বলেননি৷ প্রচার সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি দু'টি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে না পেরে,মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে৷ ফলে অন্যান্য পত্রিকা আগে কিছু বিজ্ঞাপন পেলেও, তারাও  মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হয়েছে৷ এর প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমের আয়ের ক্ষেত্রে৷ ফলে চলছে কর্মী ছাঁটাই৷ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সংবাদ বিভাগ৷

পেশাজীবীরা যেহেতু দলীয় রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে, এখনকার নেতৃবৃন্দ যেহেতু সরকারের মনোভাব বুঝে কথা বলেন, ফলে তাঁরা সত্যিকার অর্থে সংবাদকর্মীদের পাশে দাঁডাচ্ছেন না৷ দলীয় রাজনৈতিক সিন্ডিকেটে পরিণত হওয়া সংবাদ কর্মীরা,সংবাদ কর্মীদের সংগঠনের ভূমিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ সংবাদকর্মীরা, যাঁরা সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকতাই করতে চান৷

২.

এবার আসি ডাক্তারদের প্রসঙ্গে৷ সাধারণ মানুষের পারসেপশনে ডাক্তাররা ভিলেনের পর্যায়ে চলে গেছেন৷ ডাক্তার মানেই কসাই? ডাক্তার মানেই খারাপ...৷ কিন্তু বাংলাদেশে ডাক্তাররা, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ডাক্তাররা যে কতটা প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেন, বদনামের অধিকাংশ দায় যে ডাক্তারদের নয়, ডাক্তার নেতারা বা তাঁদের সংগঠন সেকথা বলতে পারে না, বলে না৷ এরও কারণ রাজনীতি৷

যেমন, ৪০০ ধারণ ক্ষমতার হাসপাতালে সব সময় ১২০০ থেকে ১৫০০ রোগী থাকেন৷ ৪০০ রোগীর জন্য যতজন ডাক্তার প্রয়োজন, ততজন ডাক্তারও হাসপাতালে থাকেন না৷ অনেক পদ শূন্য থাকে৷ রোগী সেবা না পাওয়ার এটা একটা কারণ৷ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের সঙ্গে ডাক্তারদের সম্পৃক্ততা খুবই কম৷ মূলত হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ থাকে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের হাতে৷ তাঁরা সব সময় সরাকার দলীয় রাজনীতির হয়ে থাকেন৷ 

গোলাম মোর্তোজা, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব

হাজার হাজার কোটি টাকার মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কেনাকাটা করেন মন্ত্রণালয়ের সিন্ডিকেট৷ দশ-বিশ গুণ বেশি দামে নিম্নমানের ইকুইপমেন্ট কেনেন৷ অল্পদিনে অকেজো হয়ে যায়৷ অকেজোগুলো মেরামত করাতেও ভয়াবহ দুর্নীতি এবং তার নেতৃত্বে থাকে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা৷ সেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁর স্বজনরা কর্মচারীদের চেনেন না, চেনেন ডাক্তারদের৷ এই সমস্যাগুলোর কথা হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বলতে পারেন না৷ কারণ, তিনি সরকার দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত৷ তিনি কথা বললে সরকারের বিরুদ্ধে, ডাক্তারদের পক্ষে যাবে৷ তিনি নীরব থাকেন৷ ফলে ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত বিপদে পড়েন৷ কেনাকাটাসহ কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ডাক্তারদের সংগঠন সরব হন না৷ কারণ, সরব হলে সরকার-মন্ত্রী অসন্তুষ্ট হবেন৷ নেতারা সবাই দলের বা মন্ত্রীর লোক৷ ফলে ডাক্তাররা মার খেলেও তাঁদের সংগঠন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না৷ ডাক্তাররা গ্রামে থাকেন না, প্রতিনিয়ত এই বদনাম নিতে হয়৷ তার আংশিক সত্যও৷ কিন্তু এই সত্যের বাইরেও সত্য আছে৷ যিনি গ্রামে থাকেন, তিনি স্কলারশিপ পান না৷ স্কলারশিপ পান যিনি ঢাকায় থাকেন৷ অনিয়ম-অন্যায্যতা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ কিন্তু ডাক্তারদের সংগঠন এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে না৷ তাঁরা দলীয় রাজনীতির সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে গেছেন৷

৩.

শুধু সাংবাদিক বা ডাক্তার নয়, শিক্ষকদের অবস্থা আরো ভয়াবহ৷ পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ধসে পড়ছে শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির কারণে৷ আইনজীবী-ইঞ্জিনিয়ার-আমলাতন্ত্র, এমনকি শিল্পী-লেখক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও দলীয় রাজনীতির অংশ হয়ে গেছেন৷ ফলে প্রকৃত পেশাজীবীদের সংকট শুধু বাড়ছেই৷ সমাজ ছেয়ে যাচ্ছে অন্যায়-অনিয়মে৷ নেই প্রতিবাদ, নেই প্রতিরোধ৷ কারণ, দলীয় রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কাছে আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

আমাদের অনুসরণ করুন