1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

দেড় বছর তিন কৃষি আইন স্থগিত রাখতে চান মোদী

২১ জানুয়ারি ২০২১

অবশেষে কৃষক আন্দোলনের সামনে অনেকটাই নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো নরেন্দ্র মোদী সরকার।

https://p.dw.com/p/3oDsz
Indien | Landwirte | Proteste in Neu-Delhi
কৃষকদের আন্দোলনের চাপে মতবদল মোদী সরকারের। ছবি: Sameeratmaj Mishra/DW

কৃষক আন্দোলনের চাপে পিছু হঠতে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে সরকারের প্রস্তাব, তারা দেড় বছর তিন বিতর্কিত কৃষি আইন স্থগিত রাখবে। কৃষক নেতারা চাইলে সুপ্রিম কোর্টে লিখিত হলফনামা দিতেও সরকার রাজি। বিনিময়ে কৃষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হবে।

কৃষক সংগঠনগুলি এই প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেনি। তারা এখন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে। বৃহস্পতিবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে শুক্রবার আবার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কৃষক সংগঠনের নেতারা।  তখন তাঁরা সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবেন। কৃষকরা এখনো যে দাবি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন, তা হলো, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য(এমএসপি) বাধ্যতামূলক করার জন্য আইন করা। যাতে সকলেই এই সহায়ক মূল্য মানতে বাধ্য হয়।

কৃষকদের দাবি ছিল, তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। কিন্তু সরকার এতদিন ধরে রাজি হয়নি। বরং তারা অনড় থেকে যথেষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, এই দাবি মানা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী অসংখ্যবার জানিয়েছেন, তিনটি আইন কৃষকদের প্রভূত উপকার করবে। বিরোধীরা যা বলছে তা ঠিক নয়। বিজেপি-র তরফেও বারবার একই কথা প্রচার করা হচ্ছিল। এমনকী দেশের কৃষকদের একটা বড় অংশ যে কৃষি বিলের সমর্থনে, সে কথাও বলা হচ্ছিল। কিন্তু কৃষকরাও এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি হননি। তাঁরা নিজেদের দাবিতে নিয়ে অনড় থেকেছেন। অবশেষে সরকার দেড় বছরের জন্য কৃষি আইন স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, পুরোপুরি বাতিল না করে, দেড় বছরের জন্য কেন স্থগিত রাখা হবে ওই বিতর্কিত আইন? সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, কৃষকদের বিষয়টি বোঝানো হবে। কিছু পরিবর্তন করে নতুন আইন চালু করতে তাঁরা রাজি হলে, তখন আবার আইন চালু হতে পারে। সেজন্য একেবারে বাতিল না করে আইনটি দেড় বছরের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। তাতে কর্পোরেটদেরও বার্তা দেয়া সম্ভব হলো।

কী করবেন কৃষকরা?

সিপিএমের কৃষক নেতা ও এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হান্নান মোল্লা ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''সংগঠনগুলি আলোচনায় বসেছে। তারা এথন সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্ত সরকারকে জানানো হবে।''

কৃষকদের সামনে তিনটি বিকল্প আছে। এক, সরকারের এই প্রস্তাবও খারিজ করে দেয়া। দুই, এই প্রস্তাব মেনে নেয়া। তিন, এই প্রস্তাব মেনে আরো কিছু দাবি মানার জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা। যার মধ্যে অন্যতম হলো এমএসপি-র দাবি। স্বরাজ পার্টির নেতা যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এমএসপি-র দাবি রাজনৈতিক ও আর্থিক দিক থেকে মানা সম্ভব। তবে এর জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি দরকার।

কেন এই পিছিয়ে যাওয়া

গত প্রায় দুই মাস ধরে কৃষকরা দিল্লির সীমানায় আন্দোলন করছেন। তাঁদের ঠেকাতে সরকার কম চেষ্টা করেনি। তাদের দিল্লির সীমানায় আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। জলকামান, লাঠি চালানো হয়েছে। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ৬০ জনের বেশি কৃষক হয় মারা গেছেন বা আত্মহত্যা করেছেন। এই আন্দোলন এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়েছে। আর ভারতে যেহেতু প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, তাই কৃষকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে তাদের তুলে দিতে পারেনি মোদী সরকার। কৃষকদের রাগ কতটা তা হরিয়ানা, পাঞ্জাবে বোঝা গেছে। হরিয়ানায় কৃষকরা মুখ্যমন্ত্রীকে জনসভা পর্যন্ত করতে দেয়নি। ফলে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিলেন মোদী, হারাচ্ছিল বিজেপি। সেজন্যই পিছিয়ে এলো সরকার।

তার উপর কৃষকরা ২৬ জানুয়ারি ট্রাক্টর মিছিল করতে বদ্ধপরিকর ছিল। এটা ছিল মোদী সরকারের কাছে বিড়ম্বনার বড় কারণ। তারা সুপ্রিম কোর্টে নালিশও জানিয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, পুলিশ আগে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিক। সরকার কোনোভাবে চাইছে না, ২৬ জানুয়ারি কৃষকরা দিল্লির রাস্তায় ট্রাক্টর মিছিল করুক। তা হলে পুরো প্রচার তাদের দিকে চলে যাবে। ফলে কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে মোদী খুবই চাপে ছিলেন।

দ্বিতীয়বার পিছু হটল মোদী সরকার

গত ছয় বছরে একবারই পিছু হটেছিল মোদী সরকার। সেটা জমি অধিগ্রহণ বিল নিয়ে। ইউপিএ আমলের বিল চালু করতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু কৃষকদের বিক্ষোভের চাপে শেষ পর্যন্ত সরকার পিছিয়ে যায়। এবার কৃষি বিল নিয়েও তারা পিছু হঠতে বাধ্য হলো।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)