‘দেশের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই’

শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদ মনে করেন, দেশের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই৷ সরকার মনে করে, তারা দেশ ভালো চালাচ্ছে৷ তাই তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না৷

ডয়চে ভেলে: আপনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত আছেন৷ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যসূচি কেমন দেখতে চান আপনি?

হায়াৎ মামুদ: পাঠ্যসূচি বা পাঠ্য পুস্তক আসলে মূল সমস্যা না৷ মূল সমস্যাটা হলো যাঁরা পড়ান, তাঁদের নিয়ে৷ আমরা স্কুলে যেমন শিক্ষক পেয়েছি এখন তেমন শিক্ষক নেই৷ আমাদের শিক্ষকরা শিক্ষকতা ভালোবাসতেন, শিশুদের ভালোবাসতেন বলে পড়াতেন৷ কিন্তু এখন সেটা নেই৷ শিক্ষকদের মান নিম্নমানের৷ পাঠ্যবই নিয়ে তাঁদের কোনো চিন্তা নেই৷ শিশুদের নিয়েও চিন্তা নেই৷ পাঠ্যসূচি যতটা না শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব ফেলে৷ তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিক্ষকের পড়ানোটা৷

এবারের পাঠ্যবই বা পাঠ্যসূচি নিয়ে তো অনেক বিতর্ক হয়েছে, অনেক অমুসলিম কবির কবিতা বাদ দেয়া হয়েছে৷ এটা কেন হলো?

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

অডিও শুনুন 05:10
এখন লাইভ
05:10 মিনিট
বিষয় | 23.02.2017

‘সরকার নিজেদের তালে ব্যস্ত’

দেখুন পাঠ্যসূচি তৈরির বিষয়টাতে আমি ছিলাম৷ কিন্তু আমাদের না জানিয়েই এ পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে৷ শিক্ষাবোর্ড বা মূল যাঁরা কর্তাব্যক্তি, যাঁরা বইটা ছাপবেন, তাঁরা যদি কিছু পাল্টাতে চান, যাঁরা বইটা তৈরি করেছেন তাঁদের সঙ্গে আলাপ করে করবেন তো? সেটা করেনি তাঁরা৷ কাদের পরামর্শে কী করে এমনটা হয়েছে কারু জানা নেই৷ তবে এর মধ্যে রাজনীতি আছে৷ আমরা কিন্তু রাজনীতি মাথায় রাখিনি৷ বিশুদ্ধ চিন্তার দিক থেকে যা শিক্ষা দেয়া উচিত আমরা সেভাবেই পাঠ্যপুস্তক করেছিলাম৷ কিন্তু পরে যাঁরা পরিবর্তন করলেন, তাঁরা কিন্তু বিষয়টি এভাবে না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করলেন৷ যেটা করলে তাঁদের সুবিধা হয়৷ তাঁদের কী সুবিধা হয় তাঁরাই জানেন! কিন্তু ছেলেমেয়েদের খুব সুবিধা হচ্ছে বলে আমি মনে করি না৷

তাঁরা একবারও আপনাদের মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি?

না মনে করেনি৷ এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে তো৷ আমি সেখানেও এটা বলেছি৷

আপনার কী মনে হয়, সরকার একটা বিশেষ গোষ্ঠীর চাওয়া পাওয়ার ভিত্তিতে এটা তৈরি করেছে? সরকার কি একটা সমঝোতার দিকে যাচ্ছে?

সমাজ

নবম: জাপান (৫.৬)

সাহিত্য, বিজ্ঞান ও গণিত চর্চার ক্ষেত্রে ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে জাপানের বেশ নামডাক আছে৷ সেখানকার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ছয় বছর৷ তারপর তিন বছর জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ালেখা শেষ করে আরও তিনবছর হাইস্কুলে যায়৷ এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়৷

সমাজ

নবম: বার্বাডোজ (৫.৬)

সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কারণে সেদেশে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৯৮ শতাংশ৷ বার্বাডোজের বেশিরভাগ স্কুলই সরকারি৷

সমাজ

নবম: নিউজিল্যান্ড (৫.৬)

তিন ধরনের মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে সেখানে৷ এর মধ্যে সরকারি স্কুলগুলোতে পড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী৷ আর সরকারিকৃত (বেসরকারিভাবে পরিচালিত) স্কুলে পড়ে ১২ শতাংশ৷ বাকি তিন শতাংশ যায় বেসরকারি স্কুলে৷

সমাজ

অষ্টম: এস্তোনিয়া (৫.৭)

২০১৫ সালে জিডিপির প্রায় চার শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছিল দেশটি৷

সমাজ

ষষ্ঠ: আয়ারল্যান্ড (৫.৮)

দেশটির মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত হলেও অর্থ দিয়ে থাকে সরকার৷ এছাড়া আছে সরকারি কারিগরী বিদ্যালয়৷

সমাজ

ষষ্ঠ: কাতার (৫.৮)

‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করছে দেশটি৷ সরকারি স্কুলগুলোতে কাতারের নাগরিকদের সন্তানরা বিনামূল্যে পড়ালেখা করতে পারে৷ আর বিদেশিরা তাঁদের সন্তানদের পাঠান বেসরকারি স্কুলে৷

সমাজ

পঞ্চম: নেদারল্যান্ডস (৫.৯)

২০১৩ সালে ইউনিসেফ-এর এক প্রতিবেদন বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিশুরা সবচেয়ে বেশি সুখি জীবন কাটায়৷ মাধ্যমিক পর্যায়ের আগে স্কুলে শিশুদের কোনো বাড়ির কাজ দেয়া হয় না৷ তাছাড়া লেখাপড়া করতে শিশুদের উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করা হয় না৷

সমাজ

চতুর্থ: সিঙ্গাপুর (৬.১)

বিজ্ঞান, রিডিং ও গণিত বিষয়ে বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের মান যাচাইয়ের পদ্ধতি হচ্ছে ‘পিসা’৷ এই তালিকায় সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা সবসময় ভালো করে থাকে৷ তবে সে দেশে শিক্ষার্থীদের বেশ চাপে রাখা হয়৷

সমাজ

দ্বিতীয়: বেলজিয়াম (৬.২)

মাধ্যমিক পর্যায়ে চার ধরনের স্কুল আছে – সাধারণ স্কুল, কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক স্কুল, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও আর্ট স্কুল৷ ছবিতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি দেখা যাচ্ছে৷

সমাজ

দ্বিতীয়: সুইজারল্যান্ড (৬.২)

প্রাথমিক পর্যায়ের পর শিশুদের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্কুলে পাঠানো হয়৷ অঞ্চলভেদে জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও ইটালীয় ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়৷

সমাজ

প্রথম: ফিনল্যান্ড (৬.৭)

বিশ্বের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থার এই দেশে শিক্ষার্থীদের খুব বেশি হোমওয়ার্ক করতে হয় না৷ ১৬ বছর বয়সে গিয়ে মাত্র একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়৷ আরও জানতে উপরের (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷

এটা বললে খুব খারাপ শোনাবে৷ সরকার নিজেদের তালে ব্যস্ত৷ কিসে তাদের ভোট বাড়ে সেটা নিয়েই তারা চিন্তিত৷ পড়াশোনা নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো মাথাব্যথা নেই৷ যাঁরা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন বিদ্যাশিক্ষা নিয়ে তাঁদের কোনো চিন্তা আছে বলে আমি মনে করি না৷ আমার মনে হয় না যে রাষ্ট্র এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে৷

এবারের পাঠ্যপুস্তকে প্রচুর ভুলও তো ছিল৷ এই যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে এর প্রতিবাদ জানাননি আপনারা?

জার্মানি ইউরোপ | 19.12.2013

না....না এ নিয়ে আমরা বলেছি৷ খবরের কাগজে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি৷ আমরা সেখানে বলেছি এর সঙ্গে আমরা জড়িত নই৷ এগুলো আমাদের অনুমতি না নিয়ে, আমাদের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ না করে করা হয়েছে৷

শিক্ষা ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেই তো আজকের ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতের নাগরিক হয়ে উঠবে? তাহলে এ নিয়ে রাষ্ট্রের মাথাব্যথা নেই কেন? আপনার কী মনে হয়?

সরকার বলবে যে, এটা তোমাদের মনের কথা৷ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত জড়িয়ে আছে, এটা কে বলেছে? আমরা দেশ যেভাবে চালাচ্ছি, সেভাবেই চালাবো, আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী৷ তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে বা বিজ্ঞ সমাজের কাছ থেকে কোনোরকম পরামর্শ নিতে চায় না৷ এ নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই৷

সাক্ষাৎকারটি নিয়ে আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷