নতুন বছরে সংহতির ডাক দিলেন ম্যার্কেল

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর নববর্ষের ভাষণে উদ্বাস্তুদের আগমন ও তাঁদের জার্মান সমাজের অঙ্গ করে তোলার কাজটাকে ‘‘আগামীর সুযোগ'' বলে বর্ণনা করেছেন৷ তবে জলবায়ু সুরক্ষা, ইউরো সংকটের মতো বিষয় উঠে আসেনি তাঁর কথায়৷

উদ্বাস্তু বা শরণার্থী সংকট সম্পর্কে ম্যার্কেলের বক্তব্য হলো, ২০১৬ সালে জার্মানির পক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে: ‘‘আমাদের সংহতি''৷

ম্যার্কেল বলেছেন, ‘‘নিজেদের বিভক্ত হতে দিলে চলবে না – সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে বিভাজন নয়, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন নয়, যাঁরা আসছেন আর যাঁরা এখানকার বাসিন্দা, তাঁদের মধ্যে বিভাজন নয়৷''

‘‘যাঁদের হৃদয়ে শৈত্য, এমনকি ঘৃণা বিরাজ করছে, যাঁরা বলেন যে, নিজেকে জার্মান বলার অধিকার শুধু তাঁদের এবং এভাবে অন্যদের প্রান্তিক করে তোলেন'', এমন সব মানুষদের অনুগামী হওয়া উচিত নয় – বলেন ম্যার্কেল, অবশ্য পেগিডা আন্দোলনের নাম না করেই৷ পেগিডা-র অর্থ হলো ‘প্রতীচ্যের ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমী ইউরোপীয়'-দের সংগঠন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

‘বিশ্বাসঘাতক’ ম্যার্কেল

জার্মানির ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠী পেগিডার হাজার হাজার সমর্থক সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷ শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ তারা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জার্মানির মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ আনেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীদের নিয়ে কটূক্তি

পেগিডার (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান অ্যাগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ দ্য অক্সিডেন্ট) প্রতিষ্ঠাতা লুটৎস বাখমান সম্প্রতি শরণার্থীদের ‘পশু’, ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ বলে আখ্যায়িত করেন৷ এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

সমাজে অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়

সোমবার বিক্ষোভের সময় বাখমান বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা দেড় কিংবা দুই মিলিয়নেই থেমে থাকবে না৷ এরপর আসবে তাদের স্ত্রী; আসবে এক, দুই কিংবা তিন সন্তান৷ ফলে এতগুলো লোকের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়বে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

জার্মান সরকারের অস্বীকার

জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘বিল্ড’ সরকারের গোপন ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন শরণার্থী আসবে বলে মনে করছে সরকার৷ যদিও প্রকাশ্যে সরকার বলছে সংখ্যাটা এক মিলিয়ন হতে পারে৷ তবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো গোপন ডকুমেন্টের কথা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের বলেছেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীর মৃত্যু

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থীদের বাসস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরিত্রিয়া থেকে আসা ২৯ বছরের এক শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে, জার্মান সরকারের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর শরণার্থী ও তাদের বাসস্থানের উপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই এরকম ২০২টি ঘটনা ঘটেছে বলে সরকার জানিয়েছে, যেখানে গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১৯৮৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

বিপদে ম্যার্কেল

শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে নিজ দল সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছেন ম্যার্কেল৷ তাঁরা জার্মানির শরণার্থী নীতি ও শরণার্থীদের আগমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চ্যান্সেলরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

জার্মানদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা, সুবিবেচক ও বিশ্বজনীন হতে হবে, বলেন ম্যার্কেল৷ তাঁর মতে, বিদেশি-বহিরাগতদের সমাজে অন্তর্ভুক্তির জন্য জার্মানদের অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিখতে হবে৷ ম্যার্কেলের কথায়, ‘‘আমদের মূল্যবোধ, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ন্যায়বোধ, ভাষা, আইন-কানুন'', এ সবই ‘‘এখানে যাঁরা থাকতে চান'', তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷

ম্যার্কেল বিশেষভবে উল্লেখ করেন যে, যে সমস্ত দেশ বহিরাগতদের সফলভাবে গ্রহণ করতে পেরেছে, সমাজের অঙ্গ করে তুলতে পেরেছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা লাভবান হয়েছে৷ অপরদিকে ম্যার্কেল বলেন, জার্মানির চেষ্টা হলো, ইউরোপের বহির্সীমান্ত সুরক্ষা, বেআইনি অভিবাসনকে বৈধ অভিবাসনে পরিবর্তন ও উদ্বাস্তু সংকটের মূল কারণগুলির দূরীকরণ৷

যে সব স্বেচ্ছাসেবী ও সরকারি বা বেসরকারি কর্মী উদ্বাস্তুদের জন্য ‘‘বিমুগ্ধকর ও বাস্তবিকভাবে মর্মস্পর্শী কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্যের মনোভাব'' প্রদর্শন করেছেন, তাঁদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ অন্যদিকে তিনি অবশ্য এটাও উল্লেখ করতে ভোলেননি যে, এত বেশি মানুষের আগমন ‘‘আমাদের উপর অনেক চাপ ফেলবে''৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো

৩২ বছরের ফারাহ আলি তাঁর আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে ইরাক ছেড়েছেন ১৫ দিন আগে৷ এখন তিনি অস্ট্রিয়া থেকে জার্মানি যেতে চান৷ কারণ তিনি শুনেছেন সেখানকার চিকিৎসকরা ভালো৷ ফারাহর বিশ্বাস, জার্মানির ডাক্তাররাই পারবেন তার ছেলের ডানহাতের জন্মগত সমস্যার সমাধান করতে৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

সরকার বলেছে শরণার্থীদের নেবে

কাফ্ফা তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে জার্মানি যাওয়ার জন্য অস্ট্রিয়ার রেলস্টেশনে অপেক্ষা করেছিলেন৷ তাঁরা জার্মানি যেতে চান কারণ জার্মান সরকার নাকি বলেছে যে তারা শরণার্থীদের গ্রহণ করবে৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

চাকরি পাওয়া যাবে

ইরাক থেকে আসা আহমেত হুসেইনের মূল লক্ষ্য ছিল বেলজিয়াম যাওয়া৷ কিন্তু যাত্রাপথে অন্য শরণার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, জার্মানিতে নাকি অনেক চাকরির সুযোগ আছে৷ ভাষা জানলে চাকরি পাওয়া সম্ভব৷ তাই তিনি এখন জার্মানি যাওয়ার চিন্তা করছেন৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

অর্ধ সত্য

ডিডাব্লিউর প্রতিবেদক মনে করেন, শরণার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধার কথা শুনে জার্মানির প্রতি আগ্রহী হয়েছেন তা হয়ত কিছুটা সত্য, পুরোপুরি নয়৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

একদিনেই সাড়ে তিন হাজার!

পুলিশ জানিয়েছে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে শুধু মঙ্গলবারেই রেকর্ড সাড়ে তিন হাজার আশ্রয়প্রার্থী এসেছে৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

আট লক্ষ শরণার্থী আবেদন

শরণার্থীদের মনে জার্মানি সম্পর্কে যেভাবেই হোক ইতিবাচক ধারনার জন্ম নেয়ায় চলতি বছর প্রায় আট লক্ষ শরণার্থীর আবেদনের আশা করছেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

যে কারণে তারা জার্মানি আসতে চায়

জনপ্রিয়তা কমেছে, কিন্তু...

চলমান শরণার্থী সংকটের কারণে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দলের জনপ্রিয়তা চলতি সপ্তাহে এক শতাংশের মতো কমেছে বলে জানিয়েছে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ফোরসা৷ কিন্তু তারপরও তাঁর দল দ্বিতীয় স্থানে থাকা জোটসঙ্গী এসপিডির চেয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে৷

সবশেষে ম্যার্কেল তাঁর সুপরিচিত বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন: ‘ভির শাফেন এস', আমরা পারব, কেননা জার্মানির সে শক্তি আছে৷ উদ্বাস্তুত্রাণে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে ম্যার্কেল বিদেশে নিয়োজিত জার্মান সৈন্যদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ‘‘যাঁরা আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের নিরাপত্তা ও আমাদের স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে''৷

এ বছরের ভাষণে ম্যার্কেল জলবায়ু সুরক্ষা বা ইউরো সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করেননি৷ পরিবর্তে তিনি বলেছেন ফ্রান্সে আগামী ইউরোপীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের কথা, যেখানে ‘‘আমাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হবার আশা রাখে''৷

বন্ধু, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নববর্ষের ভাষণ আপনার কেমন লাগলো? জানান নীচের ঘরে৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

জার্মানিকে চাই...

সেই ছবি৷ বুদাপেস্টে তখন শরণার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে৷ অস্ট্রিয়া বা জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে না পারায় তাঁরা ক্ষুব্ধ৷ সবাই ছুটছিলেন প্ল্যাটফর্মের দিকে৷ পুলিশ ফিরিয়ে দিলো৷ স্টেশনের বাইরে শুরু হলো বিক্ষোভ৷ কারো কারো হাতে তখন ট্রেনের টিকিট৷ কেউ ক্ষোভ জানালেন কোলের সন্তানকে নিয়ে৷ অনেক শিশুর হাতে দেখা গেল, ‘উই ওয়ান্ট জার্মানি’ লেখা কাগজ৷ ইউরোপে এত দেশ থাকতে কেন জার্মানি?

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

আছে নব্য নাৎসি, পুড়েছে শরণার্থী শিবির, তবুও...

জার্মানির কোথাও কোথাও শরণার্থীবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে৷ অনেক জায়গায় রাতের অন্ধকারে আশ্রয় শিবিরে লেগেছে আগুন৷ তারপরও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জার্মানিকেই বেছে নিতে চায়৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

বড় কারণ ম্যার্কেল এবং...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে শুরু থেকেই উদার জার্মানি৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল সবসময়ই অভিবাসী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাশে ছিলেন৷ পেগিডা আন্দোলনের সময়ও সরকারের অভিবাসীদের পাশে থাকার কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন ম্যার্কেল৷ পাশে থেকেছেও৷ জার্মানির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও ছিল তাঁর পাশে৷ এখনও আছে৷ এই বিষয়গুলোও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মনে জার্মানির প্রতি আরো আস্থাশীল করেছে৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

তোমাদের স্বাগত

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জার্মানিতে পা রেখেই দেখেছে অবাক হওয়ার মতো দৃশ্য৷ এখানে তাঁরা অনাহূত নয়৷ নিজের দেশ থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসে জার্মানিতে পাচ্ছেন সাদর সম্ভাষণ!

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

জার্মানির নেতৃত্বে ম্যার্কেল, ইউরোপের নেতৃত্বে জার্মানি

বৃহস্পতিবার আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, শরণার্থীদের বিষয়ে জার্মানির ভূমিকা হতে হবে অনুসরণীয়, দৃষ্টান্তমূলক৷ জার্মানির সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগে বক্তব্য রাখার সময় তিনি আরো বলেন, অভিবাসন সংকট মোকাবেলায় ইউরোপকেও সফল হতে হবে৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

শরণার্থীদের পাশে ম্যার্কেল

বৃহস্পতিবার কয়েকদিন আগেই জার্মানিতে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের দেখতে গিয়েছিলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

শরণার্থীদের প্রিয় জার্মানি, আরো প্রিয় ম্যার্কেল

শরণার্থীর ‘বন্ধু’ ম্যার্কেল

দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটিকে শরণার্থীরা নিজেদের একজন হিসেবেই বরণ করে নিয়েছিলেন৷ শরণার্থীদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই সময় কাটিয়েছেন ম্যার্কেল৷ কয়েকজন শরণার্থী তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন৷ সানন্দে তাঁদের আশা পূরণ করেছেন ম্যার্কেল৷

আমাদের অনুসরণ করুন