নতুন হৃদযন্ত্র, নতুন জীবন

হার্ট অপারেশন, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট৷ কিন্তু ডোনর হার্ট যদি না পাওয়া যায়? ইঁদুরের হার্ট থেকে স্টেম সেল নিয়ে ইঁদুরের হার্টের টিস্যু কালচার করেছেন গবেষকরা৷ বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই টিস্যু হার্টের মতোই স্পন্দিত হতে শুরু করে৷

...এসেছে সেই দিন, সেই মুহূর্ত৷ পেশেন্টের নতুন হৃদযন্ত্রটি তার স্পন্দন শুরু করেছে৷ পেশেন্টের নতুন জীবন শুরু হচ্ছে৷ কার্ডিয়াক সার্জন ড. মার্কুস বার্টেন বলেন, ‘‘হ্যাঁ, সকলেই সে কথা ভাবেন৷ সব হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট পেশেন্টের কাছে তাদের অপারেশনের দিনটা তাঁদের দ্বিতীয় জন্মদিন৷''

লাইপসিগের হার্ট সেন্টার বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকগুলোর মধ্যে পড়ে৷ কিন্তু সব রোগীর জন্য ডোনর হার্ট পাওয়া কঠিন৷ যত হৃদযন্ত্রের প্রয়োজন, তার মাত্র অর্ধেক দান করা হয়ে থাকে৷ কাজেই ডাক্তার ও গবেষকরা অন্য কোনো বিকল্পের খোঁজ চালাচ্ছেন৷

ডোনর হার্ট বা দান করা হৃদযন্ত্র দুষ্প্রাপ্য হওয়ার ফলে গবেষকরা বিজ্ঞানের পথ ধরেছেন৷ তাঁরা ইঁদুরের হার্টের স্টেম সেল কালচার করে এমন একটি টিস্যু সৃষ্টি করেছেন, যা হার্টের মতোই স্পন্দিত হয়৷

কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর স্টেফান ডেইন বলেন, ‘‘এখানে যা দেখছেন, তা হলো একটি কৃত্রিম হার্ট টিস্যু৷ সেটা একটা গোল আধারে ফেলে বৈদ্যুতিক আর যান্ত্রিক ইমপালস দিলে ১৪ দিনের মধ্যে এ ধরনের একটা স্পন্দিত রিং পাওয়া যায়৷''

অসহ্য ব্যথা

দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকে অসহ্য ব্যথা হয় এবং এই ব্যথা কমপক্ষে পাঁচ মনিট স্থায়ী হয়৷ ব্যথা সাধারণত বুক থেকে হাতে এবং পেটের ওপরের দিকে যায়৷ তাছাড়া কোমর, ঘাড়, গলা এবং চোয়ালেও অনুভূত হতে পারে এই ব্যথা৷ তবে শুধু ব্যথা নয়, সেই সাথে বুকে জ্বালাও হয় অনেক সময়৷

বুকে টান বা চাপ লাগে

হার্টের বহু রোগীই জানান, তাঁরা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুকে ভীষণ চাপ বা টান অনুভব করেছেন৷ এবং সেই সাথে তাঁদের মনে হয়েছে যে, বুকের আশেপাশে শক্ত কী যেন চাপ দিয়ে আটকে রেখেছে৷

বমি, বমিভাব, নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা

বমিভাব, বমি হওয়া বা নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় অনেকক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে৷ এ সব লক্ষণকে সাধারণ ব্যাপার ভেবে অনেকেই গুরুত্ব দেন না৷ তবে যাঁদের এই লক্ষণগুলো প্রথমবারের মতো একসাথে দেখা দেয়, তাঁদের অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

ভয়ে ঘেমে যাওয়া ও ফ্যাকাসে চেহারা

যাঁদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, সেরকম অনেক রোগীই জানিয়েছেন যে, কোনো কারণে ভীষণ ভয় বা আতঙ্ক থেকেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে৷ সে সময় শরীর প্রচণ্ড ঘামতে এবং ত্বক রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাকাসে দেখায়৷ এমন অবস্থায় দেরি না করে সাথে সাথেই রোগীকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে৷

জরুরি ব্যবস্থা

হার্ট অ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অর্থাৎ স্ট্রোক হলে সেক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতা নির্ভর করে তাঁকে কত তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়েছে, তার ওপর৷ তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি নয়! বরং প্রয়োজনে আশেপাশের যে কোনো মানুষের সাহায্য নিতে দ্বিধা না করাই স্রেয়!

বিশেষ পরীক্ষা

সত্যি হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হার্টের অন্যান্য জরুরি পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমেই যে রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন, তা হচ্ছে ‘কার্ডিঅ্যাক ট্রপোনিন’৷ তাই বুকে ব্যথা শুরু হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান অথবা জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে যান৷

বমিভাব, বমি হওয়া বা নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় অনেকক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে৷ এ সব লক্ষণকে সাধারণ ব্যাপার ভেবে অনেকেই গুরুত্ব দেন না৷ তবে যাঁদের এই লক্ষণগুলো প্রথমবারের মতো একসাথে দেখা দেয়, তাঁদের অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

সত্যি হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হার্টের অন্যান্য জরুরি পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমেই যে রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন, তা হচ্ছে ‘কার্ডিঅ্যাক ট্রপোনিন’৷ তাই বুকে ব্যথা শুরু হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান অথবা জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে যান৷

...এসেছে সেই দিন, সেই মুহূর্ত৷ পেশেন্টের নতুন হৃদযন্ত্রটি তার স্পন্দন শুরু করেছে৷ পেশেন্টের নতুন জীবন শুরু হচ্ছে৷ কার্ডিয়াক সার্জন ড. মার্কুস বার্টেন বলেন, ‘‘হ্যাঁ, সকলেই সে কথা ভাবেন৷ সব হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট পেশেন্টের কাছে তাদের অপারেশনের দিনটা তাঁদের দ্বিতীয় জন্মদিন৷''

লাইপসিগের হার্ট সেন্টার বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকগুলোর মধ্যে পড়ে৷ কিন্তু সব রোগীর জন্য ডোনর হার্ট পাওয়া কঠিন৷ যত হৃদযন্ত্রের প্রয়োজন, তার মাত্র অর্ধেক দান করা হয়ে থাকে৷ কাজেই ডাক্তার ও গবেষকরা অন্য কোনো বিকল্পের খোঁজ চালাচ্ছেন৷

ডোনর হার্ট বা দান করা হৃদযন্ত্র দুষ্প্রাপ্য হওয়ার ফলে গবেষকরা বিজ্ঞানের পথ ধরেছেন৷ তাঁরা ইঁদুরের হার্টের স্টেম সেল কালচার করে এমন একটি টিস্যু সৃষ্টি করেছেন, যা হার্টের মতোই স্পন্দিত হয়৷

কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর স্টেফান ডেইন বলেন, ‘‘এখানে যা দেখছেন, তা হলো একটি কৃত্রিম হার্ট টিস্যু৷ সেটা একটা গোল আধারে ফেলে বৈদ্যুতিক আর যান্ত্রিক ইমপালস দিলে ১৪ দিনের মধ্যে এ ধরনের একটা স্পন্দিত রিং পাওয়া যায়৷''

অসহ্য ব্যথা

দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাকের আগে বুকে অসহ্য ব্যথা হয় এবং এই ব্যথা কমপক্ষে পাঁচ মনিট স্থায়ী হয়৷ ব্যথা সাধারণত বুক থেকে হাতে এবং পেটের ওপরের দিকে যায়৷ তাছাড়া কোমর, ঘাড়, গলা এবং চোয়ালেও অনুভূত হতে পারে এই ব্যথা৷ তবে শুধু ব্যথা নয়, সেই সাথে বুকে জ্বালাও হয় অনেক সময়৷

বুকে টান বা চাপ লাগে

হার্টের বহু রোগীই জানান, তাঁরা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুকে ভীষণ চাপ বা টান অনুভব করেছেন৷ এবং সেই সাথে তাঁদের মনে হয়েছে যে, বুকের আশেপাশে শক্ত কী যেন চাপ দিয়ে আটকে রেখেছে৷

বমি, বমিভাব, নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা

বমিভাব, বমি হওয়া বা নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় অনেকক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে৷ এ সব লক্ষণকে সাধারণ ব্যাপার ভেবে অনেকেই গুরুত্ব দেন না৷ তবে যাঁদের এই লক্ষণগুলো প্রথমবারের মতো একসাথে দেখা দেয়, তাঁদের অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

ভয়ে ঘেমে যাওয়া ও ফ্যাকাসে চেহারা

যাঁদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, সেরকম অনেক রোগীই জানিয়েছেন যে, কোনো কারণে ভীষণ ভয় বা আতঙ্ক থেকেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে৷ সে সময় শরীর প্রচণ্ড ঘামতে এবং ত্বক রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাকাসে দেখায়৷ এমন অবস্থায় দেরি না করে সাথে সাথেই রোগীকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে৷

জরুরি ব্যবস্থা

হার্ট অ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অর্থাৎ স্ট্রোক হলে সেক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতা নির্ভর করে তাঁকে কত তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়েছে, তার ওপর৷ তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি নয়! বরং প্রয়োজনে আশেপাশের যে কোনো মানুষের সাহায্য নিতে দ্বিধা না করাই স্রেয়!

বিশেষ পরীক্ষা

সত্যি হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হার্টের অন্যান্য জরুরি পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমেই যে রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন, তা হচ্ছে ‘কার্ডিঅ্যাক ট্রপোনিন’৷ তাই বুকে ব্যথা শুরু হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান অথবা জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে যান৷

জন্তুজানোয়ারদের নিয়ে পরীক্ষা করে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে৷ ইলাস্টিক রিংটি একটি ইঁদুরের রুগ্ন হার্টের ওপর পরিয়ে দিলে হার্টের দুর্বল পেশিগুলো রিংয়ের স্পন্দন থেকে সাহায্য পায়৷

অন্য পন্থা

ইঁদুরের ক্ষেত্রে যা করা সম্ভব, মানুষের ক্ষেত্রে তা করা অতটা সহজ হবে না৷ জার্মান আইন অনুযায়ী ভ্রুণ পর্যায়ের ‘স্টেম সেল' সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ৷ কিন্তু গবেষকরা অন্য পন্থা ধরছেন৷ প্রফেসর ডেইন বলেন, ‘‘মানুষের জন্য এ কাজ করার আগে মূল সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোথা থেকে স্টেম সেলগুলো নেওয়া হবে – পরে সে স্টেম সেলগুলোর কোডও বদলে দেওয়া যেতে পারে৷ শরীরের মেদ বা চুল, এমনকি অণ্ডকোষ থেকেও তা নেওয়া যেতে পারে৷ সেটা করা সম্ভব হলেই এই প্রযুক্তি বেশ তাড়াতাড়ি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে৷''

ড. বার্টেন বলেন, ‘‘পরে আরো কী হতে পারে, তা ভাবতে গেলে বলতে হয়: মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য এরকম একটা রিং সৃষ্টি করা যেতে পারে – যা হলে দারুণ হয়! তাহলে আর নানা ধরনের যান্ত্রিক পাম্প বসানোর প্রয়োজন পড়বে না, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন পড়বে না৷ তাহলে একটা বিরাট কাজ হবে৷ কাজেই এই গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে৷''

যতোই জরুরি হোক না কেন, মার্কুসকে গত তিন মাস ধরে একটি ডোনর হার্টের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে৷ অথচ যে কোনো দিন তার অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যে অপারেশন করাই হয়ত আর সম্ভব হবে না৷

খাওয়া-দাওয়া

স্বাস্থ্যের কথা এলেই চলে আসে খাওয়া-দাওয়ার কথা৷ স্বাস্থ্যকর খাবার যে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষেজ্ঞ ডা. বেথ অলিভার বলেন, ‘‘প্রতিদিন, প্রতিবেলায় বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি এবং যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খান৷ মাংসের পরিবর্তে খান মাছ৷ তার সঙ্গে পানি, আপেল ও বিভিন্ন বাদাম বেশি করে খান আর কম খান চিনি, কফি বা চিনিযুক্ত পানীয়৷

ব্লাডপ্রেশার ও কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখা

প্রতিটি নারীর উচিত নিয়মিত ব্লাডপ্রেশার মাপা এবং কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিশেষ করে যাঁদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি৷ এছাড়া প্রতি দু’বছর অন্তর শরীরের পুরো চেকআপ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এর সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে, শরীরের ওজন যাতে ঠিক থাকে, এমনটাই বলেন বিশেষজ্ঞরা৷

৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাচলা

হার্ট সুস্থ রাখার মূলমন্ত্র ব্যায়াম অথবা খেলাধুলা৷ তবে দেখা যায় চাকরি, সন্তান, সংসার – এ সব নানা কারণে মহিলাদের নিজের দিকে নজর দেবার সময় থাকে না৷ ফলে অবহেলিত হয় শরীরচর্চার দিকটা৷ অথচ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন ৩০ মিনিট জোড়ে জোড়ে হাঁটলেই যথেষ্ট উপকার হয়৷ এ কথা বলেন আরেক মার্কিন ‘কার্ডিওলজিস্ট’ ডা. আন মেকলাফলিন৷

পেটের চর্বি কমানো জরুরি

হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে শরীরের অন্যান্য অংশের চর্বির তুলনায় পেটের চর্বি অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়, বলেন বিশেষজ্ঞরা৷ মেয়েদের ক্ষেত্রে পেটের এই অতিরিক্ত চর্বি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়৷ তাই কোমরের মাপ ৮৯ সেমিটারের বেশি হলে তা হার্টে চাপ পড়ে বা হৃদপিণ্ডের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়৷ তাই এক্ষেত্রে দিনে কয়েক মিনিট সময় বের করে শুধুমাত্র পেটের ব্যায়াম করলেও উপকার পেতে পারেন নারীরা৷

ধূমপান এবং মদ্যপান

ধূমপান ও মদ্যপান পশ্চিমা বিশ্বের নারীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হলেও আমাদের দেশে মোটেই তা নয়৷ যদিও আধুনিক যুগের অনেক মেয়েই আজকাল ধূমপান করে থাকে৷ ধূমপান নারীদের হার্ট অ্যাটাকের জন্য বড় ঝুঁকি এবং ধমনি সংক্রান্ত অসুখের জন্যও বিপজ্জনক৷ দিনে এক গ্লাসের বেশি মদ্যপান করলে, তা নারীদের রক্তচাপ এবং হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায়৷ কাজেই হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে নারীদের ধূমপান ও মদ্যপান না করাই শ্রেয়৷

পারিবারিক রোগ

যাঁদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের আরো বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন৷ কারণ তাঁদের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে৷ তাই নিয়মিত চেকআপের সময় আপনার ডাক্তারকে এ বিষয়টি অবশ্যই জানানো প্রয়োজন৷

শ্বাসকষ্ট এবং পা ফুলে যাওয়া

কোনো নারীর নিয়মিত শ্বাসকষ্ট বা পা ফুলে গেলে অবশ্যই তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে৷ যাঁদের হৃদপিণ্ড দূর্বল, তাঁদের রক্তচাপ বেড়ে গেলে তা নারী-পুরুষ সকলের ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত গড়াতে পারে৷ শ্বাসকষ্ট, কাশি, ক্লান্তি, পা ফুলে যাওয়া, হাঁটতে কষ্ট হওয়া, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি হলে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখানো উচিত৷

সুস্থ হৃদপিণ্ড, সুস্থ পরিবার

আমাদের দেশের নারীরা স্বামী, সংসার আর সন্তানের মঙ্গল নিয়েই ব্যস্ত৷ নারী বা মা একটি সংসারের চালিকা শক্তি৷ তিনি অসুস্থ হলে সংসারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়৷ তাই সংসারকে সচল রাখতে নারীদের নিজের হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে হবে, নজর দিতে হবে নিজের দিকে৷ তবেই গড়ে উঠবে সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজ৷

হার্ট সুস্থ রাখতে হাসির বিকল্প নেই!

হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে হাসির বিকল্প নেই৷ তাই দিনে অন্তত একবার জোরে জোরে প্রাণ খুলে হাসুন – উপদেশ বিশেষজ্ঞদের৷ বিষণ্ণতা বিভিন্ন অসুখের জন্ম তো দেয়ই, এমনকি কোনো অসুখ সারতেও দেরি হয়৷ তাই হাসিখুসি আর আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন৷

হার্টের রোগী মার্কুস জানেন, ‘‘আমি আর এখান থেকে বেরতে পারব না; অথবা এখান থেকে বেরনোর আগে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাতে হবে, নয়ত বেরনো যাবে না৷ এটা মেনে নিতে পারলে আর ততটা খারাপ লাগে না৷''

লাইপসিগে বছরে প্রায় ৩০টা হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট অপারেশন হয়, গোটা জার্মানিতে ৩৮০টি৷ কে জানে, হয়ত কালই মার্কুসের জন্যও একটি নতুন হৃদযন্ত্র পাওয়া যাবে৷