‌নরকঙ্কালের রমরমা ব্যবসা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জেলায় জেলায় নরকঙ্কালের ফলাও ব্যবসা দীর্ঘদিনের৷ কবর থেকে কঙ্কাল তুলে বেচে দেওয়ার এই কারবার চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারে না প্রশাসন৷

ওদের কাজ রাতের অন্ধকারে৷ খ্রিষ্টান অথবা মুসলিমদের কবর খুঁড়ে পচা-গলা মৃতদেহ বের করে এনে, ভেতরের কঙ্কাল চুন, অ্যাসিড ও অন্যান্য রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করে বিদেশে পাচার করা৷ প্রত্যন্ত এলাকায় টাকার অভাবে অর্ধেক জ্বালিয়ে ফেলে চলে যাওয়া মৃতদেহ, নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া শব জোগাড় করা হয় একই তৎপরতায়৷ এ ছাড়াও হাসপাতালের মর্গ, প্রায়শই যেখানে বেওয়ারিশ লাশের পাহাড় জমে ওঠে, সেখান থেকেও মৃতদেহ চোরাপথে বাইরে চলে আসে বলে খবর৷

দু'দিন আগেই বর্ধমানের পূর্বস্থলিতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ হানা দেয়৷ একটি-দু'টি নয়, মোট ১৮টি পূর্ণ দৈর্ঘের নরকঙ্কাল উদ্ধার হয়, আটক করা হয় চোরাই নরকঙ্কাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত চারজনকে৷ রাজ্য পুলিশের কালনা সাব ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার প্রিয়ব্রত রায় ডয়চে ভেলেকে জানালেন, কীভাবে এই ব্যবসা চলে৷

এখন লাইভ
02:10 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 24.03.2017

‘কঙ্কাল পরিষ্কার করার কারখানাগুলো থাকে শ্মশানের পাশে, নদীর ধা...

মূলত এদের কারখানা থাকে শ্মশানের পাশে, নদীর ধারে৷ নানা উপায়ে সংগ্রহ করা লাশ অ্যাসিড দিয়ে, হাইড্রোজেন পারঅক্সইডের সাহায্যে পরিষ্কার করে, তার থেকে বের করে আনা কঙ্কালটাকে প্রথমে রোদে শুকিয়ে, তার পর ব্লিচ করে তৈরি করা হয় বিক্রির জন্য৷ জেলা পুলিশের কাছে খবর, মূলত কলকাতার মেডিকেল কলেজে অস্থিবিদ্যা পড়ানোর জন্য বিক্রি হয় এই নরকঙ্কাল৷ কিন্তু বৃহত্তর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, নেপাল এবং চীনেও নরকঙ্কালের রমরমা ব্যবসা৷ এছাড়া জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি সুদূর ইউরোপ-অ্যামেরিকাতেও মেডিকেল স্কুলে পৌঁছে যায় এই নরকঙ্কাল৷

কিন্তু কলকাতার অস্থি চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আজকাল আসল নরকঙ্কালের অপ্রতুলতার জন্যই মেডিকেল কলেজে পলিমারের তৈরি নকল নরকঙ্কাল ব্যবহার হয় বেশি৷ কিন্তু কালনার এসডিপিও বলছেন, এখনও আসল নরকঙ্কাল পেলে, তারই বেশি কদর৷ ফলে এই ব্যবসা চলতেই থাকছে৷ যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলির চাপে ১৯৮৫ সালে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে নরকঙ্কালের ব্যবসা৷ পুলিশ খবর পেলে হানা দেয়, বেআইনি কঙ্কালের মজুত বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে নষ্ট করে, এই ব্যবসায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয় – কিন্তু এর বেশি কিছু করার নেই পুলিশ কিংবা প্রশাসনের৷ দোষীদের সাজা দেওয়ার বিষয়টাও স্বাভাবিকভাবেই আদালতের হাতে৷

আসল নরকঙ্কালের আরও কিছু বেআইনি ব্যবহারের কথা শোনা যায় চীনে এবং জাপানে৷ প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী নানা ধরনের ওষুধ, বিশেষত যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধ বানাতে নরদেহের কিছু বিশেষ হাড় নাকি কাজে লাগে৷ এছাড়া আছে তান্ত্রিক আরাধনার জন্য করোটি ও হাড়ের চাহিদা৷ নানা ধরনের ব্ল্যাক ম্যাজিক, আধিভৌতিক বিদ্যার চর্চার জন্যও মানবশরীরের হাড়ের প্রয়োজন হয়৷

পশ্চিমবঙ্গ এই মুহূর্তে অবৈধ নরকঙ্কাল ব্যবসার এক বড় কেন্দ্র৷ এখান থেকে চোরাপথে কঙ্কাল যায় লাগোয়া রাজ্য বিহার বা ঝাড়খণ্ড হয়ে নেপালে ও অন্যত্র৷ ২০০৯ সালে বিহারের ছাপরা জেলায় এক বাসযাত্রীর কাছ থেকে ৬৭টি করোটি বা মাথার খুলি উদ্ধার করেছিল পুলিশ৷ তার মাসখানেকের মাথায় উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে উদ্ধার হয় ২৭টি বাচ্চার মাথার খুলি এবং শ'‌খানেক হাড়৷ তবে এ সংক্রান্ত সবথেকে বড় ঘটনা ২০০৪ সালে৷ বিহারে বোধগয়ায় ল্গু নদীর তীরে বালি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছিল ১০০০ করোটি!‌ আর পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সম্পন্ন জেলা বর্ধমান বরাবরই চোরাই নরকঙ্কাল ব্যবসার এক বড় ঘাঁটি৷ ২০০৬ সালে এই পূর্বস্থলী গ্রামেই একসঙ্গে ২০টি করোটি উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়ায়৷ এলাকার কবরখানাগুলির নিরাপত্তার দাবিতে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তবে সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে৷ স্থানীয় গুন্ডা-মস্তানরা অনেক ক্ষেত্রেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, যে বস্তুত এক বড় এবং ক্ষমতাবান আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের অংশ৷ এদের ক্ষমতার হাত অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত এবং অর্থের দাপটও বেশি৷ ফলে চাইলেও নরকঙ্কাল ব্যবসা বন্ধে খুব বেশি দূর এগোনো সম্ভব হয় না৷

কবরখানার জাদু

রোম্যান্টিক: প্যারিসের প্যার লাশেইজ কবরখানা

এখানে অস্কার ওয়াইল্ড, ইউজিন দেলাক্রোয়া, মারিয়া কালাস, এডিথ পিয়াফ, ফ্রেডেরিক শোপ্যাঁ, জিম মরিসনের মতো শিল্পীরা চিরনিদ্রায় শায়িত৷ গাছের ছায়ায় ঢাকা একটি নিরাভরণ অথচ রোম্যান্টিক পরিবেশ, যা মানুষকে টানে প্যারিসের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত এই পৃথিবী বিখ্যাত কবরখানাটিতে৷

কবরখানার জাদু

ভ্যাটিকানের কাম্পো সান্তো টয়টোনিকা

জার্মান আর ফ্লেমিশ ভাষী মানুষদের কাছে খুবই প্রিয় ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স গির্জার ঠিক পাশে পাম গাছ, কেপারের মুকুল আর করবী ফুলের ঝাড় লাগানো এই কবরখানাটি৷ কবরখানার মাটি আর দেয়ালের প্রতিটি ইঞ্চি কবরে ঢাকা৷ অনেক কবরের উপর যিশুখ্রিষ্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার কাহিনী থেকে নানা দৃশ্য পাথরে খোদাই করা আছে৷

কবরখানার জাদু

মিলানের চিমিতোরো মনুমেন্তালে

গ্রিক টেম্পল, মিশরীয় পিরামিড, বিশ মিটারের বেশি উঁচু ওবেলিস্ক স্তম্ভ- এ সব মিলিয়ে মিলানের সিমিতেরো মনুমেন্তালে বা ‘বিশাল কবরখানার’ নাম সার্থক৷ এখানে যাঁদের সমাধি তাঁরা যে বিত্তবান ছিলেন, সেটা মরণের পরেও বোঝা যায়৷ ইটালির সবচেয়ে সুন্দর ও চমকদার কবরখানাগুলির মধ্যে গণ্য হয় এই সিমিতেরো মনুমেন্তালে৷ দু’লাখ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে কবরখানাটি খোলা হয় ১৫০ বছর আগে, ১৮৬৬ সালে৷

কবরখানার জাদু

জীবনকে যারা ভালোবাসতেন: কোলোনের মেলাটেন কবরখানা

মধ্যযুগে স্থানটি ছিল বধ্যভূমি, আজ সেখানে প্রায় ৫৫,০০০ কবর৷ তার মধ্যে আছে ‘লাখপতিদের গোরস্তান’, যেখানে ওডিকোলোন যাদের আবিষ্কার, কোলোনের সেই ফারিনা পরিবারের কবরও আছে৷ অন্যদিকে কার্নিভালের সং দেওয়া কবরও পাওয়া যাবে৷

কবরখানার জাদু

হামবুর্গের ইহুদি কবরখানা

কবরখানাটির বিশেষত্ব হলো এই যে, নাৎসি আমলের বিভীষিকা সত্ত্বেও এখানকার প্রায় নয় হাজার প্রস্তরফলকের মধ্যে ছয় হাজার এখনও অক্ষত আছে৷ চারশ’ বছরের পুরনো এই কবরখানাটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বলে ঘোষণা করার কথা বিবেচনা করছে ইউনেস্কো৷

কবরখানার জাদু

হামবুর্গের ওহল্সডর্ফ কবরখানা

এলাকার হিসেবে বিশ্বে চতুর্থ: ৯৬৬ হেক্টর৷ বছরে প্রায় বিশ লাখ মানুষ আসেন এখানকার স্মৃতিসৌধ, জলাশয়, ভাষ্কর্য আর গোরদান সংক্রান্ত মিউজিয়ামটি দেখার জন্য৷ ১৮৭৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এখানে প্রায় ১৪ লাখ মানুষকে সমাধিস্থ করা হয়েছে৷ কবরের সংখ্যা প্রায় দু’লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার, তার মধ্যে সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট স্মিটের কবরও আছে৷

কবরখানার জাদু

সংগীতপ্রেমীদের জন্য ভিয়েনার কেন্দ্রীয় কবরখানা

মোৎসার্ট, বেটোফেন, ব্রাম্স, স্ট্রাউস আর শুবার্টের মতো সুবিখ্যাত সংগীতস্রষ্টা এখানে শায়িত৷ খোলা হয় ১৮৭৪ সালে৷ এখানকার তিন লাখ ত্রিশ হাজার কবরের মধ্যে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটারের পথ আছে৷

আরো প্রতিবেদন...

সমাজ সংস্কৃতি | 7 ঘণ্টা আগে

নয় মাস মেয়াদ বাড়লো অ্যাকর্ডের

01:32 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 10 ঘণ্টা আগে

আজকের খবর

আমাদের অনুসরণ করুন