না জানিয়ে কনডম ফুটো করা, প্রেমিকের জেল

নারী অধিকার কতটা বিস্তৃত হওয়া উচিত? নারীর সব ইচ্ছাকে শেষ সীমা পর্যন্ত সজ্ঞানে সম্মান জানানো পর্যন্ত৷ তা না করায় ক্যানাডার এক প্রেমিক লাল ঘরে যাওয়ার অপেক্ষায়৷ প্রেমিকার অভিযোগ, প্রেমিকপ্রবর তাঁকে কৌশলে গর্ভবতী করেছেন!
বিজ্ঞান পরিবেশ | 30.05.2012

২০০৬ সালের ঘটনা৷ মেয়েবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কটা শীতল হয়ে আসছে দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান জ্যারেট হাচিনসন৷ প্রেমিকা তাঁকে ছেড়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় একটি কৌশলের আশ্রয় নেন ৪৩ বছর বয়সি এই ক্যানাডিয়ান৷ প্রেমিকার সঙ্গেই থাকতেন তিনি৷ যৌন সংসর্গও হতো নিয়মিত৷ প্রেমিকার শর্ত মেনে তখন কনডম ব্যবহার করতে হতো তাঁকে৷

Symbolbild - Kondome

ঘটনার রাতেও কনডম ব্যবহার করেছিলেন৷ কিন্তু সম্ভোগ শুরুর আগে একটি পিনের খোঁচায় কনডমটি ফুটো করে দিয়েছিলেন তিনি৷ ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো৷ প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হলেন৷ তারপর হাচিনসন স্বীকার করলেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই এই কৌশল অবলম্বন করা৷

নারীর সঙ্গে ছলাকলা অনেক পুরুষই করে থাকেন৷ সরল বিশ্বাসের খেসারত নানাভাবে দিতে হয় অনেক নারীকে৷ ঘরে, রাস্তায় নারী নির্যাতন, নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা কমবেশি সব দেশেই ঘটে থাকে৷

যৌনতার উপস্থিতি

ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কম্পিউটার মেলার৷ সেখানে অংশ নিয়েছিল কম্পিউটার গেম ডেভেলপার ‘ইউবিসফট’৷ তাদের নতুন গেম ‘জাস্ট ড্যান্স ২০১৪’-র প্রচারণা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে এই চার নারী ও পুরুষ মডেল গেমের চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলছেন৷

অর্ধেকই নারী

জরিপ বলছে, প্রতি তিন জার্মানের একজন নিয়মিত কম্পিউটার গেম খেলেন এবং গেমারদের অর্ধেকই নারী৷

পছন্দের ভিন্নতা

পুরুষ গেমাররা পছন্দ করেন অ্যাকশন৷ তবে মেয়েদের পছন্দ এমন গেম, যা তাঁদের জন্য আরামদায়ক এবং অনেকটা কমিউনিটি নির্ভর হয়৷ সংশয়, মারামারি আর প্রতিযোগিতায় ভরপুর গেম তাঁদের বিশেষ পছন্দ নয়৷ বরং সামাজিক গেম, যেগুলো ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলা সম্ভব, সেগুলোই খেলে থাকেন মেয়ে গেমাররা৷

নারী ডিজাইনারের সংখ্যা কম

জার্মানিতে নারী ডিজাইনারের সংখ্যা মাত্র ২০ শতাংশ৷ সে কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও গেম ডেভেলপের ক্ষেত্রে নারীর পছন্দকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না৷

তাই বিতর্কিত উপস্থাপন

ডিজাইনের ক্ষেত্রে মেয়েদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণে গেমগুলোর নারী চরিত্রগুলোকে হয় বাড়াবাড়ি রকম সেক্সি, না হয় অসহায় মানুষ হিসেবে দেখানো হয়৷ নারী ডিজাইনারের সংখ্যা বাড়লে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা৷

কেন কম?

জার্মানির আরেক গেম ডিজাইনার ক্যারোলিন গেপার্ট৷ তাঁর নিজের একটি গেম তৈরির কোম্পানি রয়েছে, যার নাম ‘ইয়ো মেই’৷ শুরুতে কাজ করতেন একটি কোম্পানিতে৷ সেখানে কাজ শিখে পরে নিজেই নিজের সংস্থাটি খোলেন৷ কিন্তু তিনি বুঝে উঠতে পারেন না, কেন গেম শিল্পে মেয়েদের উপস্থিতি এতটা কম৷

কিন্তু এ সবের বিচার হয় হাতে গোনা কয়েকটি দেশে৷ ক্যানাডা সেসব দেশের মধ্যে অন্যতম৷ তাই জ্যারেট হাচিনসন কায়দা করে তাঁকে অন্তঃসত্ত্বা করার পর ব্যাপারটি মেনে নেননি নাম প্রকাশ না করা প্রেমিকা৷ গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে জরায়ুতে সংক্রমণ হয়, রক্তস্রাব শুরু হয় অতিমাত্রায়, সাতদিন কষ্টভোগের পর স্থির করেন, কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়ার উপযুক্ত শাস্তি দেবেন প্রেমিককে৷

সে উদ্দেশ্যেই ২০০৬ সালে প্রেমিকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন কথিত প্রেমিকা৷ ২০০৯ সালে ক্যানাডার নোভি স্কোটিয়া সুপ্রিম কোর্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি জানিয়ে হাচিনসনকে নির্দোষ ঘোষণা করে৷ কিন্তু আপিল আদালত সেই রায় খারিজ করে নতুন করে মামলার শুনানির নির্দেশ দেয়৷ ক্যানাডার সুপ্রিম কোর্টে অবশেষে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে৷ আদালত জানিয়েছে, কনডম ফুটো করার তথ্যটি গোপন করে প্রেমিকাকে অন্তঃসত্ত্বা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন জ্যারেট হাচিনসন৷ সে অপরাধে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাঁকে৷ হাচিনসন অবশ্য এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলে খবর৷

সমাজ সংস্কৃতি | 17.03.2011

এসিবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

২০০৬ সালের ঘটনা৷ মেয়েবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কটা শীতল হয়ে আসছে দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান জ্যারেট হাচিনসন৷ প্রেমিকা তাঁকে ছেড়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় একটি কৌশলের আশ্রয় নেন ৪৩ বছর বয়সি এই ক্যানাডিয়ান৷ প্রেমিকার সঙ্গেই থাকতেন তিনি৷ যৌন সংসর্গও হতো নিয়মিত৷ প্রেমিকার শর্ত মেনে তখন কনডম ব্যবহার করতে হতো তাঁকে৷