নিউজিল্যান্ডে হামলার ‘প্রতিশোধ' নিতে শ্রীলঙ্কায় হামলা

 তথাকথিত জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট' শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করেছে৷ শ্রীলঙ্কা সরকার মনে করে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইসচার্চে মসজিদে হামলার ‘প্রতিশোধ নিতে' এ হামলা চালানো হয়েছে৷ এ হামলায় অন্তত ৩২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন৷

শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহান্তে সিরিজ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন অবধি চল্লিশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীদের বহনকারী গাড়ির চালকও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এছাড়া একটি বাড়ির মালিককেও আটক করা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন কয়েকজন হামলাকারী বসবাস করত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷

ইস্টার সানডেতে প্রায় একই সময়ে রাজধানী কলম্বোর তিনটি বিলাসবহুল হোটেল এবং একটি গির্জায় ও অন্য দু'টি শহরে গির্জায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়৷ বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হামলার পেছনে ‘ন্যাশনাল তৌফিক জামাত' (এনটিজে) নামের একটি স্থানীয় ইসলামিস্ট গ্রুপ জড়িত বলে মনে করছে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

যোগাযোগের ছাত্রী

১৯৮০ সালে জন্ম নেয়া আর্দার্নের বেড়ে ওঠা মুরুপাড়া নামে নিউজিল্যান্ডের মাউরি আদিবাসী অধ্যুষিত একটি ছোট্ট শহরে৷ যেখানে শিশুদের পায়ে দেয়ার মতো জুতা ছিল না, এমনকি দুপুরে তারা খাবারও পেত না৷ এই ঘটনাই তাকে রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করে৷ উচ্চ মাধ্যমিক শেষে আর্দার্ন পড়াশোনা করেন যোগাযোগ বিদ্যায়৷ তার আগে ১৭ বছর বয়সেই যুক্ত হন নিউজিল্যান্ডের লেবার পার্টির রাজনীতিতে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব রাজনীতির পাঠ

স্নাতক শেষ করে আর্দার্ন নিউজিল্যান্ডের লেবার পার্টির একজন সংসদ সদস্যের অধীনে গবেষক হিসেবে কাজ করেন৷ ২০০৫ সালে পাড়ি জমান ব্রিটেনে৷ আড়াই বছর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রীসভার দপ্তরে চাকরি করেন৷ ২০০৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সোশ্যালিস্ট ওয়েলথের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘুরে বেড়িয়েছেন আলজেরিয়া, চীন, ভারত, ইসরায়েল, জর্ডার্ন ও লেবাননে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় রাজনীতির পথ চলা

২০০৮ সালে আর্দার্ন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েও ১৩,০০০ ভোটে হেরে যান৷ কিন্তু দেশটির সংবিধানিক নিয়মে তিনি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান৷ ২৮ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে জায়গা করে নেন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

‘জেসিডামেনিয়া’

২০১৭ সালে লেবার পার্টির উপ প্রধান নির্বাচিত হন আর্দার্ন৷ নির্বাচনের দু’মাস আগে দলটির প্রধান পদত্যাগ করলে সেই ভারও চাপে তাঁর কাঁধে৷ নির্বাচনি প্রচারে তরুণদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হন আর্দার্ন৷ তাঁকে নিয়ে এসময় দেশটিতে জনপ্রিয়তার যে ঢেউ উঠে, তা পরিচিত ‘জেসিডামেনিয়া’ নামে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রধানমন্ত্রী

মাত্র দু’মাসের নেতৃত্বে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাই দলকে নির্বাচনে বিজয়ী করেন আর্দার্ন৷ ২০১৭ সালে ৩৮ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন৷ নিউজিল্যান্ডের ১৫০ বছরের ইতিহাসেও তিনি সবচেয়ে কম বয়সি সরকার প্রধান৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রভাবশালী নারী

আর্দার্ন সমকামী বিবাহের সমর্থক৷ জলবায়ু পরিবর্তন, শিশু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চকিত৷ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের সরকার হবে সহানুভূতিশীল৷ ২০১৮ সালে ‘ফোর্বসের পাওয়ার উইমেনের’ তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি৷ আছেন টাইম ম্যাগাজিনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

সন্তান জন্ম

টিভি উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডকে বেছে নিয়েছেন তিনি সঙ্গী হিসেবে৷ ২০১৮ সালের ২২ জুন বেনজির ভুট্টোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বকালে সন্তানের জন্ম দেন আর্দার্ন৷ এজন্য মাত্র ছয় সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছিলেন তিনি৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

সন্তান কোলে জাতিসংঘে

বিশ্বে প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের কক্ষে সন্তান নিয়ে বক্তৃতা দিতে যান৷ তিনি জেসিন্ডা আর্দার্ন৷ গত বছর নেলসন ম্যান্ডেলা পিস সামিটে অংশ নিয়ে আর্দার্ন বিশ্ব গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছেন৷ বক্তৃতা দেয়ার সময় সন্তান ছিল সঙ্গী ক্লার্ক গেফোর্ডের কোলে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া

ক্রাইস্টচার্চে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার পর জেসিন্ডা আর্দার্নকে নতুন করে চেনে বিশ্ব৷ এই ঘটনার অভিযুক্তকে কোনো কার্পণ্য না করেই সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি৷ দ্রুত অস্ত্র আইন পরিবর্তনের ঘোষণা দেন৷ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে জানান, নিউজিল্যান্ড মোটেও এমনটা নয়৷ এই দেশে তাঁরা স্বাধীনভাবেই থাকতে পারবে৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

হিজাবে আর্দার্ন

জেসিন্ডা আর্দার্ন ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন নিহতদের স্বজনদের কাছে৷ তাঁদের জড়িয়ে ধরছেন, সমব্যাথী হচ্ছেন৷ শুধু তাই নয়, মুসলমানদের সাথে একত্মতার প্রকাশ হিসেবে তিনি একাধিক দিন হিজাব পরে বেরিয়েছেন৷

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ এখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

সংসদে আরবি ভাষা

১৯ মার্চ সংসদে বক্তব্য দেন আর্দার্ন৷ শুরুতেই সবাইকে ‘আস সালামু আলাইকুম’ বলে সম্বোন্ধন করেন তিনি৷ জানান ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় অভিযুক্তের নামও তিনি কখনও মুখে আনবেন না৷

তবে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট' (আইএস)  শ্রীলঙ্কার হামলার দায় স্বীকার করেছে৷ ‘‘শ্রীলঙ্কায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এবং খ্রীষ্টানদের লক্ষ্য করে গত পরশু যারা হামলা চালিয়েছে, তারা ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধা,'' লেখা হয়েছে বিবৃতিতে৷

শ্রীলঙ্কায় হামলায় নিহত ৩২১ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি রয়েছেন৷ ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে এখন অবধি এটাই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা৷ শ্রীলঙ্কা সরকার মনে করছে, কিছুদিন আগে  নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ‘প্রতিশোধ' নিতে সন্ত্রাসীরা সপ্তাহান্তে দেশটিতে হামলা চালিয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো স্থানীয়দের এই হামলা চালাতে সহায়তা করেছে বলেও মনে করছে দেশটি৷ এরকম হামলা হতে পারে বলে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলঙ্কাকে আগেই সতর্ক করেছিল৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটি তা রুখতে পারেনি৷ ক্রাইস্টচার্চে হামলায় বাংলাদেশিসহ অন্তত পঞ্চাশ ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন৷ 

উল্লেখ্য, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর হাতে ‘ইসলামিক স্টেটের' তথাকথিত খেলাফতের পতনের একমাস পর শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করলো জঙ্গি গোষ্ঠীটি৷ তবে, দখলকৃত এলাকা হারালেও জঙ্গি গোষ্ঠীটি এখনো নানা স্থানে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে৷ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শনিবারের এক হামলারও দায় স্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি৷

এআই/এসিবি (এএফপি, এপি, রয়টার্স)

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

ভয়াবহ ইস্টার সানডে

খ্রিষ্টানদের অন্যতম পবিত্র দিন ইস্টার সানডে৷ এমন দিনেই কলম্বো, নেগোম্বো ও বাট্টিকালোয়া শহরের বেশ কয়েকটি গির্জা ও হোটেলে ঘটে সিরিজ বোমা হামলা৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯০, আহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

কোথায় হামলা

বোমা হামলার শিকার গির্জাগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর কলম্বোর সেইন্ট অ্যান্থনি'স শ্রাইন, নেগোম্বো শহরের পাশে সেইন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ ও পূর্বে বাট্টিকালোয়া শহরের জিয়ন চার্চ৷ এছাড়া তিনটি ফাইভ স্টার হোটেল সিনামন গ্রান্ড, কিংসবুরি ও দ্য সাংরিলাতেরও হামলা হয়৷ তিনটিই রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রে অবস্থিত৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

শ্রীলঙ্কায় খ্রিষ্টান যারা...

পঞ্চদশ শতাব্দীতে পর্তুগিজ পাদ্রীদের আগমনের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় বাড়তে থাকে খ্রিষ্টান জনসংখ্যা৷ বর্তমানে, দেশটির জনসংখ্যার ৭ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী৷ এর মধ্যে রয়েছেন রোমান ক্যাথলিক, মেথডিস্ট ও প্রটেস্টান্ট ধারার মানুষ৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

বিদেশিরাও হামলার শিকার

সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক৷ হামলার শিকার হোটেলগুলিতে ছিলেন তাঁরা৷ নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সি নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

সহিংসতার ধারা

শ্রীলঙ্কায় মাত্র এক দশক আগেই থেমেছে গৃহযুদ্ধ৷তার আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সিনহালিজ ও সংখ্যালঘু হিন্দু তামিলদের মধ্যে দীর্ঘদিন চলে সশস্ত্র লড়াই৷বিগত দশকে গৃহযুদ্ধ থামার পর রবিবারের এ হামলাই সাম্প্রতিক কালে শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

হামলার পেছনে কারা?

শ্রীলঙ্কার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলার পেছনে রয়েছে স্থানীয় ইসলামী সংগঠন ন্যাশনাল তৌফিক জামাত৷ দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজিথা সেনারত্নে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ৭ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীই শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং তারা তৌফিক জামাতের সাথে জড়িত৷ হামলার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি৷হামলায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

বর্তমান পরিস্থিতি

রবিবার হামলার পর দেশজুড়ে কার্ফু জারি করেছিল শ্রীলঙ্কা সরকার৷ তবে সোমবার সকালে কার্ফু তুলে নেওয়া হয়৷ সোমবার রাত থেকে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে৷ ওপরের ছবিতে বিস্ফোরণের পর বিধ্বস্ত এক গির্জার পাশে স্থানীয় যাজকদের দেখা যাচ্ছে৷

শ্রীলঙ্কায় এই হামলা কি এড়ানো যেতো ?

এ হামলা কি এড়ানো যেতো?

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনারত্নে জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে এমন হামলার আশঙ্কার আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে তা জানানো হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না এলেও প্রশ্ন উঠেছে – সত্যিই কি পুলিশ এমন তথ্য আগে পেয়েছিল? তাহলে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে এই ভয়াবহ হামলা তো কিছুটা হলেও এড়ানো যেতো!

আমাদের অনুসরণ করুন