নিজের ইচ্ছে নিজেই পূরণ করলেন তামিম!

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম এবারের আগে কখনো বিপিএল-এর ফাইনাল খেলেননি৷ তাই এবার প্রতিযোগিতার শুরুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সহ-খেলোয়াড়দের কাছে তাঁর ফাইনাল খেলা ও শিরোপা জেতার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন৷

কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস আগেই সে কথা জানিয়েছেন৷ রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে ম্যাচ জিতে বিপিএল ফাইনাল নিশ্চিত করার পরপরই কায়েস জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এবার তামিমের জন্য ফাইনালটিও জিততে চান তাঁরা৷

অবশ্য ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে ফাইনাল জিততে তামিমকে সতীর্থদের সহায়তা নেয়ার তেমন প্রয়োজন পড়েনি৷ কারণ, তামিমের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের সুবাদে ১৯৯ রানের বড় স্কোর গড়ে তুলেছিল কুমিল্লা৷ এর মধ্যে তামিম একাই করেন ১৪১ রান! দশটি চার আর ১১ ছক্কার সুবাদে মাত্র ৬১ বলে এই রান করেন তিনি৷ সাকিব, রুবেল, আন্দ্রে রাসেল– একে একে সবার বলই মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন তামিম৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

তামিম ইকবাল

ডয়চে ভেলের অনুরোধে ২০১৬ সালের এপ্রিলে এই একাদশ নির্বাচন করেন আকরাম খান৷ তিনি সেরা একাদশ নির্বাচন করায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের ভাতিজা তামিমকে নিয়েছেন বলে যাঁরা ভাবছেন তাঁরা একবার তামিমের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিন৷ বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মোট রানের সংখ্যা ৫,০০০ রান পেরিয়েছেন তিনি৷ এ জন্য তাঁকে ১৫৯টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ

টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জয়টি আসে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে৷ সেই ম্যাচে ওয়াকার, ওয়াসিম, শোয়ের আখতারের মতো বোলারদের বিপক্ষে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৩৯ রান করেছিলেন বিদ্যুৎ৷ দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই রান টাইগারদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

সাকিব

অনেকে হয়ত তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় বলবেন৷ বিশ্ব ব়্যাংকিংয়ে কয়েকবার শীর্ষে উঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা বিজ্ঞাপন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই অলরাউন্ডার৷ ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত ১৬৩টি একদিনের ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪,৫৬৬, উইকেট নিয়েছেন ২১৫টি, সেঞ্চুরি আছে ৬টি৷ সাকিবের চেয়ে উইকেট বেশি আছে শুধু মাশরাফির৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মুশফিকুর রহিম

এই উইকেট-রক্ষক কাম ব্যাটসম্যানের ওডিআই ডেব্যু হয়েছিল ২০০৬ সালে৷ সেই থেকে ১৬৪টি ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪,০৭৬টি, আছে ৪ সেঞ্চুরি (২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত)৷ প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটিও তাঁর৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু

বাংলাদেশের প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন নান্নু৷ সেই সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২০৷ সেটি ১৯৮৬ সালের কথা৷ এরপর মোট ২৭টি ওয়ানডে খেলেছেন৷ ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ে নান্নুর করা সাত ওভার (২৯ রান দিয়েছিলেন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

পাইলট

শুধু ভালো উইকেট-রক্ষকও ছিলেন না, শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে দলকে জেতাতে না পারলেও বেশ কয়েকবারই একটা সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন৷ ১৯৯৫ সালে ওডিআই খেলা শুরু করার পর ১২৬ ম্যাচে ১,৮১৮ রান করেছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

রফিকুল আলম

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন এই অলরাউন্ডার৷ ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন৷ তবে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম খেলেন ১৯৮০ সালে৷ ১৯৮২ ও ১৯৮৬-র আইসিসি ট্রফিতেও খেলেছেন রফিকুল আলম৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

রফিক

প্রধান পরিচয় বাঁ-হাতি স্পিনার হলেও মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেও পরিচিত ছিলেন৷ ১৯৯৫ সালে শারজায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক হয়েছিল৷ প্রথম উইকেটটাই পেয়েছিলেন টেন্ডুলকারকে আউট করে৷ বোলিং ফিগার ছিল ৫-০-১৫-১৷ এরপর ১২৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে সমান সংখ্যক উইকেট পেয়েছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মাশরাফি (অধিনায়ক)

সেরা একাদশের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তটি আকরামের জন্য সহজই ছিল বলা যায়৷ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে নিতে বেশ কয়েকবারই পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মুস্তাফিজুর রহমান

আইসিসি ২০১৫ সালে ওয়ানডে একাদশের যে নাম ঘোষণা করেছিল তাতে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে স্থান পেয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান৷ ঐ বছর জুনে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক ঘটে৷ প্রথম দুই ওয়ানডেতে তিনি ১১ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

রুবেল হোসেন

ডানহাতি এই ফাস্ট বোলারের ওয়ানডে অভিষেকটা স্মরণীয় হয়েছিল৷ ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঐ ম্যাচে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টাইগারদের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (দ্বাদশ খেলোয়াড়)

সাকিব-তামিম-মুশিফক-মাশরাফিদের ভিড়ে তাঁর নাম চাপা পড়ে গেলেও দলের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যেই তাঁকে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হতে দেখা যায়৷ ২০১৫ বিশ্বকাপের পরপর দুই ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরি করেছিলেন৷ তাঁর অফস্পিনও সময় সময় বেশ কাজে লাগে৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

অমায়িক আকরাম

সেরা একাদশে নিজের নাম না রাখা প্রসঙ্গে আকরাম খান বলেন, ‘‘তালিকা আমি করেছি, সেখানে তো আমার নাম রাখতে পারি না৷’’ তবে ইএসপিএনক্রিকইনফো ডটকম ওয়েবসাইটে আকরামকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘প্রথম আসল নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে৷

ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরির মালিক তামিম বিপিএল-এ তাঁর প্রথম শতকের দেখা পান৷ তামিমের করা ১৪১ রান বিপিএলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস হয়ে গেছে৷ এর আগে সাব্বির করেছিলেন ১২২ রান৷

বিস্ফোরক ব্যাটিং করেই তামিম ক্ষান্ত হননি৷ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করতে তিনি ফিল্ডিংয়ে নেমে সাকিব আর পোলার্ডের মহামূল্যবান দুটি ক্যাচও নিয়েছেন৷ আর তাতেই একসময় ম্যাচ ঢাকার পক্ষে থাকলেও সেটা কুমিল্লার দিকে ঘুরে যায়৷

কুমিল্লার ১৯৯ রানের উত্তর দিতে গিয়ে ঢাকা শুরুটা ভালোই করেছিল৷ রনি তালুকদারের (৩৮ বলে ৬৬ রান) ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে ১১ ওভারে ১২০ রান তুলে ফেলেছিল ঢাকা৷ কিন্তু তারপরই সাকিবের ক্যাচটি নেন তামিম৷ এরপর পোলার্ড আর রাসেলের উপর ভর করছিল ঢাকার জয়৷ কিন্তু তামিম সেটিও হতে দেননি৷ পোলার্ডের ক্যাচটিও লুফে নেন তিনি৷

এরপর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি সাকিবের ঢাকা৷ ১৮২ রানে থেমে যায় তাদের যাত্রা৷ কুমিল্লা জেতে ১৭ রানে৷

ফলে প্রথমবারের মতো বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলেন তামিম ইকবাল৷

তবে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে সাকিব এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির খেতাবটি পেয়েছেন৷ ১৫ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন ২৩টি৷

জেডএইচ/এসিবি

আমাদের অনুসরণ করুন