নিরাপত্তায় প্রধান ঝুঁকি জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ

জলবায়ু পরিবর্তন, ইসলামিক স্টেট এবং সাইবার হামলা– এই তিনটি বিষয়কে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ৷ পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য৷

২৬টি দেশের উপর এই জরিপ চালানো হয়েছে৷ সোমবার জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ দেশ জলবায়ু পরিবর্তনকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে, এরপরেই আছে সন্ত্রাসবাদ, বিশেষ করে তথাকথিত জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট'-এর দৌরাত্ম্যের কথা বলেছে তারা৷ পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে৷ এমনকি চীনের ক্ষমতা, বিশ্ব অর্থনীতি, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি এসবও আছে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার নীচের দিকে৷ জরিপে অংশ নেয়া বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা এবং এর প্রভাব তাদের দেশের জন্য একটা বড় হুমকি৷

ইন ফোকাস
বিজ্ঞান | 12.02.2019

বড় হুমকি

জার্মানি ও ক্যানাডাসহ ১৩টি দেশ নিজেদের দেশের নিরাপত্তার জন্য ‘বৈশ্বিকজলবায়ু পরিবর্তন'কে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ফ্রান্স, ইটালিসহ ৮টি দেশ ইসলামিক স্টেটকে তাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে৷ আর যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ চারটি দেশ সাইবার হামলাকে তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছে৷ রাশিয়ার ক্ষমতা মাত্র একটি দেশের কাছে সবচেয়ে বড় হুমকি মনে হয়েছে, সেটি হলো পোল্যান্ড৷  জার্মানিতে জরিপে অংশ নেয়াঅর্ধেকেরও বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও এর প্রভাবকে তাদের দেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

বিশ্বের নব্বইটির বেশি সংগঠনের সমন্বয়ে তৈরি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ‘গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্ক’ প্রতিবছর একদিনকে ‘আর্থ ওভারশুট ডে’ হিসেবে পালন করে৷ এই দিনটি সাধারণত সেদিন হয়, যেদিন পৃথিবী একবছরে যা পুর্নউৎপাদন করতে পারে তারচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ মানুষ খরচ করে ফেলে৷ এটা অনেকটা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ার মতো ব্যাপার৷ চলতি বছর সেই দিনটি ছিল পহেলা আগস্ট৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

কার কতটা প্রয়োজন?

আজকে পৃথিবীর মানুষ যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করছে তার যোগান দিতে কার্যত এক দশমিক সাতটি পৃথিবী দরকার৷ আর যদি আলাদা আলাদাভাবে অঞ্চলের কথা চিন্তা করেন, তাহলে জার্মানরা যেভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে, সেভাবে গোটা বিশ্বের মানুষ ব্যবহার করলে তাদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন হতো তিনটির বেশি পৃথিবী৷ মার্কিনিদের ক্ষেত্রে এটি ৪ দশমিক নয়টি পৃথিবী৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

জঘন্য কাজ

আমাদের বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত ফুটপ্রিন্টের ৬০ শতাংশের বেশি আসছে জীবাশ্ম জ্বালানী এবং কাঠ পোড়ানোর মাধ্যমে৷ একেবারে নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদক৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

হুমকির মুখে বনজঙ্গল

গাছ থেকে কাঠ আসে যা কাগজ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল৷ তাছাড়া গাছ মাটির ক্ষয় রোধে সহায়তা করা ছাড়াও ভূগর্ভস্থ পানির আধার পূর্ণ রাখে এবং প্রকৃতি থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে আমাদের জন্য অক্সিজেন ছাড়ে৷ তাসত্ত্বেও প্রতিবছর বিশ্ব ৩৩ লাখ হেক্টর বন হারাচ্ছে৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরা

আমরা সাগর থেকে যেহারে মাছ ধরছি তা উৎপাদনের গতির চেয়ে অনেক বেশি৷ চলতি বছরের এই সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর একতৃতীয়াংশ মাছের আধারে প্রজনন ক্ষমতার চেয়ে বেশি মাছ ধরা হয়ে গেছে৷ একদিকে, যেমন বেশ মাছ ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে কার্বনর ডাই-অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রের পানিও ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে যা সামুদ্রিক জীবের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

পানির ঘাটতি

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির হিসেব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী পানি সংকটে ভুগবে৷ ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাচ্ছে কিংবা নানা বিষাক্ত উপাদানের সংমিশ্রণে পানের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে৷

পৃথিবী ক্লান্ত!

নিজের জন্য প্রয়োজন ১ দশমিক আট হেক্টর

পরিবেশগত টেকসই পদ্ধতি বিবেচনায় আনলে পৃথিবীর একজন মানুষের সাধারণ চাহিদা মেটাতে ১ দশমিক আট হেক্টর জমির প্রয়োজন৷ কিন্তু গড়ে একজন জার্মান ব্যবহার করছেন ৫ দশমিক এক হেক্টর জমি৷

ডয়চে ভেলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সহকারী পরিচালক এবং এই গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক জ্যাকব পোশটার-এর সাথে কথা বলে গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনেছে৷ গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে ২২টি দেশের মানুষের উপর একই ধরনের জরিপ করা হয়েছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন ও রাশিয়ার ক্ষমতাশীল হয়ে ওঠাকে বেশিরভাগ দেশ হুমকি মনে করেছিল৷ এছাড়া ২০১৩ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ ২০১৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তনকে নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করছে৷

মিশায়েল ক্নিগে, লুইস স্যান্ডার্স ফোর/এপিবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়