নির্বাচনি সহিংসতায় ২১ দিনে নিহত ২২, আহত ২১৭৯

একাদশ জাতী‌‌য় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর দিন থেকে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত ২১ দিনে সারা দেশে ২২ জন নিহত ও  ২১৭৯ জন আহত হয়েছে৷ ভোটের দিনের সহিংসতা আগের ২০ দিনকে ছাড়িয়ে গেছে৷ ২৪ ঘণ্টায় নিহত ১৭ ও আহত ৪৭ জন৷

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ কর্মী ইসমাইল হোসেন (৫০) সোমবার সকালে মারা যান৷ ফলে এ নিয়ে ভোটের দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮৷

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৫৬ জন প্রার্থী  (বেশিরভাগ বিএনপির, জাপা, সিপিবি ও বাম দলের তিনজন) হামলার শিকার হয়েছেন ও এসব হামলায় মোট  ২,১৩২ জন আহত হয়েছেন৷

গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেছিলেন, ‘‘সাধারণত বাংলাদেশের পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা গড়ে ৯০, এবার সে তুলনায় নিহতের সংখ্যা অনেক কম৷''

‘ক্রিয়েটিং প্যানিক: বাংলাদেশ ইলেকশন ক্র্যাকডাউন অন পলিটিক্যাল অপন্যান্টস অ্যান্ড ক্রিটিকস' শিরোনামে ৩৭ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বলছে, এবারের নির্বাচনে শুধুমাত্র ৯ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এতে চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন ও ৫৬০ জন আহত হয়েছেন৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

আলী হোসেন

সত্তরোর্ধ আলী হোসেন জীবনে অনেক ভোট দেখেছেন, কিন্তু এবারের মতো ভোটের পরিবেশ জীবনে আর দেখেননি৷ জোর করে তাঁর ব্যালটে সিল মেরেছেন বুথের ভেতরে আগে থেকে অবস্থান করা অন্য একজন৷ শেষ বয়সে এসে হেনস্তা হওয়ার ভয়ে কিছুই বলতে পারেননি৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

এলিম মিয়া

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এলিম মিয়ার কেন্দ্রে ভোট হয়েছে ইভিএম পদ্ধতিতে৷ তিনি ৩০ জানুয়ারি সকালেই ভোট দিতে পেরেছেন৷ সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমান দেখেছেন তিনি৷ ভোটের পরিবেশও তাঁর কাছে সুষ্ঠু মনে হয়েছে৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

জুনায়েদ অমি

জীবনের প্রথম ভোটটি দিতে পেরে খুবই আনন্দিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী৷ ভোটের পরিবেশ বেশ ভালো বলে মনে হয়েছে তাঁর৷ তবে ভোট কেন্দ্রের আশপাশে ছাত্রলীগের কর্মীদের লাঠি হাতে উপস্থিতি এবং পুলিশের একপেশে ভূমিকা তাঁর ভালো লাগেনি৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

লামিয়া তাসনিম

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া তাসনিম এবারই প্রথম ভোট দিলেন৷ বিষয়টি নিয়ে খুব উত্তেজিত ছিলেন৷ তবে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও নিজের ভোটকেন্দ্র খুঁজে বের করতে তাঁর দুপুর পর্যন্ত সময় লেগেছে৷ কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন ফটক বন্ধ৷ জানানো হয়, মধ্যাহ্ণবিরতি চলছে৷ কিন্তু ভোটের সময় তো কেন্দ্রে কোনো বিরতি থাকার কথা নয়৷ তাই অনেক বিতণ্ডা করে শেষ পর্যন্ত ভেতরে ঢুকে নিজের ভোটটি দিতে পেরেছেন৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

মোহাম্মদ মামুন

খুব সকাল সকালই ভোট দিতে পেরেছেন তরুণ ভোটার মোহাম্মদ মামুন৷ ভোটের পরিবেশ নিয়েও তিনি বেশ সন্তুষ্ট৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

নূরুল্লাহ

বেসরকারি চাকরিজীবী নুরুল্লাহের দাবি, ঢাকার একটি কেন্দ্রে তিনি ভোট দিতে গিয়েছিলেন দুপুর ১২টার দিকে৷ গিয়ে দেখেন তাঁর ভোট এর আগেই দেয়া হয়ে গেছে৷ ফলে ভোট তো দিতে পারেনইনি, উলটে ভোটকেন্দ্রের এজেন্টরা তাঁর সঙ্গে নাকি দুর্ব্যবহার করেছেন৷ ভোট না দিয়েই তাই ফিরে এসেছেন তিনি৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

মো. শাহ জালাল

পিরোজপুরের ভোটার মোহাম্মদ শাহ জালাল দশম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন নৌকা মার্কায়৷ এবারও ভোট দিতে গিয়েছিলেন, তবে ব্যালটে নিজে সিল মারতে পারেননি৷ জানালেন, নৌকা মার্কার এজেন্টই তাঁর হাত থেকে সিল নিয়ে নৌকা মার্কার ওপরে মেরে দিয়েছেন৷

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা যা বললেন

সিরাজুল ইসলাম

সিরাজুল ইসলাম এলাকায় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত৷ তাই আগে থেকেই নাকি তাঁকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল৷ তাঁর দাবি, ভয়ে আর তিনি ভোট দিতে যাননি৷

শেষ সপ্তাহে কমেছে সংঘাত

প্রচারণার শেষ সপ্তাহে বিজিবি ও সেনা মোতায়েনের ফলে সংঘাতের ঘটনা কমেছে৷ জাতীয় গণমাধ্যমগুলোয় পরিবেশিত খবর অনুযায়ী প্রচারণার শেষ সাত দিন, অর্থাৎ ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সহিংসতায় ৩৮০ জন আহত হন৷

প্রচারণার শেষদিনে ৭ হামলা এবং তাতে আহত হন ৮৬ জন৷ নির্বাচনি প্রচারণার শেষদিনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মানিকছড়ি এবং চট্টগ্রামের পটিয়া ও  বাঁশখালীতে নির্বাচনি প্রচারণাকে ঘিরে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে৷ এতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির  ৮৬ জন নেতা-কর্মী আহত হন৷

২৬ ডিসেম্বর ভালুকা, সাতক্ষীরা ১, ২ ও ৪ আসনে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ ভালুকায় সাংবাদিক ও পুলিশসহ ১৯ জন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মী আহত হন৷ অন্যদিকে পাবনায় বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করা হয়৷ হামলায় মোট ১৪ জন আহত হয়৷ হামলার অভিযোগ এ সময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে৷ একইদিনে আওয়ামী লীগের রাঙ্গামাটি কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা৷

২৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরা, যশোর ও বগুড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ২০ জন আহত হন৷ এছাড়া এদিন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায়ের ওপর হামলা হয়৷ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ৩০ নেতা-কর্মী আহত হন৷

গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি প্রার্থীসহ, ১৩২ জন আহত হন৷ নোয়াখালী, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, নাটোর, চাঁদপুর, নরসিংদি, শেরপুর, বরিশাল, খুলনায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে৷ এদিন শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মিয়া নূরউদ্দিন অপু প্রচারণার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন৷ এ দিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ওপরও হামলা হয়৷ সেই ঘটনায় পাঁচজন বিএনপি নেতা-কর্মী আহত হয় বলে জানা গেছে৷ সেদিনই ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের নবাবগঞ্জের যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে৷ এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হন৷

২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে৷ এতে ১৬ জন গুরুতর আহত হন৷

২২ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে হামলার ঘটনায় বিএনপির ২০ ও আওয়ামী লীগের ১১ জন কর্মী আহত হন৷ এদিন জামালপুরের মেলান্দহে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ৷ একই দিনে নরসিংদীতে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুর এলাহীর প্রধান নির্বাচনি ক্যাম্পে হামলায় মাহিয়া (৮) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী গুলিবিদ্ধ ও  ১০ জন আহত হয়৷

নির্বাচনি প্রচারণার শেষ সপ্তাহে সবচেয়ে কম হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে ২১ ডিসেম্বর৷ সেদিন চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর মিছিল এবং সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে৷ এতে ১৩ জন আহত হন৷ এছাড়া চট্টগ্রামের পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউসুফ (২৭) গুলিবিদ্ধ হন৷

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

এখন আনন্দ মিছিলের সময় নয়: শেখ হাসিনা

কোনো জায়গায় কাউকে আনন্দ মিছিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ দেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘‘এখন আনন্দ মিছিল করার সময় নয়, দেশ গঠনের সময়৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

পুনঃনির্বাচন দাবি করছি: ড. কামাল

কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন৷ রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিও জানান তিনি৷

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

শেখ হাসিনায় জনগণ খুশি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনে করেন, নির্বাচনে জনগণের ‘স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও গণজোয়ার’ প্রমাণ করেছে জনগণ প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ‘খুবই খুশি’ হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘সকাল থেকে সারা দেশে নারী, পুরুষ এবং তরুণ ভোটাররা ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

প্রমাণ হলো ২০১৪ সালের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না: ফখরুল

নির্বাচনের নামে ‘নিষ্ঠুর প্রহসন’ করা হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

ধানের শীষের এজেন্ট না এলে কী করা? : সিইসি

বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট নেই কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা করলেন পালটা প্রশ্ন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ধানের শীষের এজেন্টরা কেন্দ্রে না আসলে কী করার? তাঁরা কেন্দ্রে কেন আসেননি বা কেন কোনো এজেন্ট নেই, সেটা প্রার্থীর নির্ধারিত এজেন্টরাই বলতে পারবেন৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

বিএনপি এখন মুসলিম লীগের পথে: ইনু

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়েও বিএনপির নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য কর্মীদের অনাস্থাকে দায়ী করছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু৷ ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেছেন, ‘‘দলটি এখন মুসলিম লীগের পরিণতির দিকে এগোচ্ছে৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

আওয়ামী লীগের ২৯৯ আসন গেজেট দিলেই হতো : আলাল

সকালে নির্বাচন শুরু হওয়ার সময়ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল বলে মন্তব্য বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের৷ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের নামে এই অর্থহীন তামাশার কোনো প্রয়োজন ছিল না৷ রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে একটা গেজেট জারি করে নিলেই হতো যে, নৌকা ২৯৯ আসন পেয়ে গেছে৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

জনগণের রায় প্রত্যাখ্যানের অধিকার কারো নেই: নানক

আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক মনে করেন, বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ৷ তিনি বলেন, ‘‘জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করার অধিকার কারও নেই৷’’

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

প্রতিশ্রুতি রেখেছি: পর্যবেক্ষকদের গওহর রিজভী

রোববারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী৷ ভোটগ্রহণ শেষে ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি৷

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ: ইসি সচিব

সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ৷ কমিশনের ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা উদ্বোধন করে তিনি বলেন, ‘ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে’ নির্বাচন হয়েছে৷

একাদশ নির্বাচনের ১১ উক্তি

আওয়ামী লীগও আমার মতো প্রার্থীকে ভয় পায়: হিরো আলম

বগুড়ার এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম৷ সিংহ প্রতীকে নির্বাচনে থাকা এ প্রার্থীর অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের লোকজন ভোটারদের, এজেন্টদের বের করে দিয়েছে, নন্দীগ্রামে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তাঁকে কোনো সহায়তা করেনি৷

দ্বিতীয় সপ্তাহে হামলা পালটা হামলার তাণ্ডব

প্রচারণার দ্বিতীয় সপ্তাহটি কেটেছে হামলা-পালটা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও মামলায়৷ শুধু  ১৭ ডিসেম্বরই বিভিন্ন স্থানে হামলায় ১৩ প্রার্থী  ও ৮৭৫ নেতা-কর্মী আহত হয়৷ ফলস্বরূপ সহিংসতা রোধে ১৮ ডিসেম্বর থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়৷ এ সপ্তাহে নানা সহিংসতায় আহত হন ১৪১৭ জন৷

২০ ডিসেম্বর সারাদেশে ১২টি নির্বাচনি এলাকায় ঘটে সহিংসতার ঘটনা৷ এতে আহত হন ৭৩ জন৷

১৯ ডিসেম্বর ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালামের নির্বাচনি প্রচারণায় হামলার অভিযোগ ওঠে৷ হামলায় প্রচার মাইক কেড়ে নেয়া ও মনির নামে এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ করেন প্রার্থী নিজেই৷ এছাড়া ৯ জেলায় ১১ হামলার ঘটনা ঘটে৷ এতে ৭৭ জন আহত হন৷ ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও বগুড়াতেও হামলার ঘটনা ঘটে৷

১৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর-১ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র প্রার্থী ডা. তপন বসুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে৷ এতে তিনি আহত হন৷ এছাড়া টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের গাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে৷ হামলায় সখীপুর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার জন পুলিশ ও আট জন হামলাকারী আহত হন৷ অন্যদিকে  ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদের মিছিলে হামলার ঘটনায় ১০ কর্মী নিহত হন৷

১৭ই ডিসেম্বরে ১১ জেলায় কমপক্ষে ২৬টি হামলার ঘটনা ঘটে৷ এর মধ্যে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের মিছিলে হামলার ঘটনা ছিল সর্বাধিক৷ এদিন সর্বোচ্চ ১৩ প্রার্থী ছাড়াও ৮৭৫ জন বিরোধীদলীয় সমর্থক আহত হন৷ একই দিনে হামলা পালটা হামলায়  আওয়ামী লীগের দুই নেতা ও ৭৫ জন কর্মী আহত হন৷

এর আগে  গত ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম, নরসিংদি, ভোলা, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, বাগেরহাট, নোয়াখালি, নাটোর, রাঙামাটি, ফরিদপুরে

হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় ১৮২ জন আহত হন৷

টাঙ্গাইলে লতিফ সিদ্দিকীর গাড়ি বহরে হামলা ছিল সেদিনের সবচয়ে আলোচিত ঘটনা৷

১৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন৷ এদিন শেরপুরের নকলায় নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় ২৫ জন আহত হন৷ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি সদরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ একাধিক নেতা-কর্মীকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে৷ এ ঘটনায় সাতজন আহত হন৷ একই দিনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-লোহাগাড়া) আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা৷ এ ঘটনায় অলি আহমদের ছেলেসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন৷

১৪ ডিসেম্বর ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে, এতে ২৫ জন আহত হন৷ এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে ৩০ জন আহতের ঘটনা ঘটে৷

শুরুতেই নিহত ৩

প্রচার-প্রচারণা শুরুর দিনেই এক যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনা ঘটে৷ পরের দিন ১১ ডিসেম্বর দুটি পৃথক সংঘাতে আওয়ামী লীগের আরো দুই নেতা নিহত হন৷ এ সপ্তাহে আহত হয় ৩৩৫ নেতা-কর্মী৷ 

১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পরের দিন নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষে যুবলীগের এক নেতা নিহত হন৷ মিছিলে হামলার ঘটনায় নোয়াখালীর এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান৷ এছাড়া সে ঘটনায় ৮-১০ জন আহত হন৷ এছাড়া ৮টি জেলায় হামলার ঘটনায় ৫১ জন আহত হন৷

১১ ডিসেম্বর পৃথক দু'টি ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই সদস্য নিহত হন৷ এছাড়া বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা হয়, এতে সাতজন আহত হন৷ এর আগে ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় ১৯ জন আহত হন৷

১২ ডিসেম্বর ১৭ জেলায় সহিংসতার ঘটনায় ১৩১ জন আহত হন৷ রাজশাহী,বাগেরহাট, ফরিদপুর, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নওগাঁ, নোয়াখালী চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, মাগুড়া, নেত্রকোনাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে৷

১৩ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গাড়িবহরে ও জোনায়েদ সাকির মিছিলে হামলা হয়৷ এদিন সারা দেশের ১৬ আসনে হামলা-পালটা হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে ১২৫ জন আহত হন৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

সর্বাধিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ  

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের ১০টি সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুটিতে অংশ নেয়নি৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করায় সংকটে পড়ে দলটি৷ ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে দলের দু’টি অংশ আলাদাভাবে অংশ নেয়৷ ১৯৮১ সালে দলকে ঐক্যবদ্ধ করেন শেখ হাসিনা৷ ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে দলটি অংশ নেয়নি৷ এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও তারা বর্জন করে৷  

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়

১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই নির্বাচনে ৩০০টির মধ্যে ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ৷ সেবার এক কোটি ৯৩ লাখ ২৯ হাজার ছয়শ' ৮৩ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল এক কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭১৭ ভোট৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নেতৃ্ত্ব সংকটে জর্জরিত আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়৷ এ নির্বাচনে আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন পায় এবং  মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন অংশ পায় দু’টি আসন৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

বিরোধী দলের ভূমিকায় 

১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃ্ত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ ৭৬টি আসনে জয় লাভ করে৷ সেই নির্বাচনে দলটি ২৬ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পায়৷ সেবারই প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে যোগ দেন শেখ হাসিনা৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

আবার বিরোধী দলে 

স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসনে জয় লাভ করে আবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যায়৷ ৮৮টি  আসন পেলেও মোট ভোটে আওয়ামী লীগ ১৪০টি আসন জয়ী বিএনপির কাছাকাছিই ছিল৷ আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০ দশমিক এক শতাংশ ভোট আর বিএনপি পেয়েছিল ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

২১ বছর পর ক্ষমতায় 

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে ২১ বছর পর আবার ক্ষমতায় ফেরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ৷ এর আগে বিএনপি সরকারের অধীনে আয়োজিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তারা বয়কট করে৷ সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ১৪৬টি আসন এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পায়৷ সেই সুবাদে প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন দলনেত্রী শেখ হাসিনা৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

ভোট বিস্ময় 

৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৬২টি আসন পায় আওয়ামী লীগ৷ সেবার নির্বাচনে জয়ী বিএনপি পায় ১৯৩টি আসন আর  ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোট, যেখানে আওয়ামী লীগ মাত্র ৬২ আসনে জয়ী হয়ে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট৷ এর আগে ’৯১-এর  নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ আসন অনেক কম পেলেও ভোট অনেক বেশি পেয়েছে৷ এবারও ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি ভোট পায় দলটি, যেখানে তিনগুণ বেশি আসনে বিজয়ী বিএনপি পায় ২ কোটি ৩০ লাখ ভোট৷  

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

ভোটের জোয়ার

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২৩০ আসনে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ আর ভোট পায় ৪৯ শতাংশ৷

সব সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ আসন 

বেশিরভাগ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে তা প্রতিরোধেও তৎপর হওয়ায় আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ আসনে জয় লাভ করে৷ ৮১টি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জয়ী হয়৷ মোট ২৩৪ আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ৷ তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস করায় ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই হয় এই নির্বাচন৷

হামলার শিকার সংখ্যালঘু পরিবার!

নির্বাচনকে সামনে রেখে বরাবরের মতোই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ বেশ কয়েকটি হিন্দুবাড়িতে আগুন জ্বালানো ও হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ গত ২১ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিংগিয়া শাহাপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা৷

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদের আলমপুর গ্রামে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় শিশির শীলের চারটি ঘর৷ এছাড়া সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ধুকুরিয়ায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জগদীশ সাহার বাড়িতে বোমা হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে গত ১১ ডিসেম্বর৷

৩০ জেলায় অধিক সহিংসতা

সারাদেশের সহিংসতায় ৩০টি জেলার নাম সবচেয়ে বেশি বার উঠে এসেছে৷ এই ৩০টি জেলা হচ্ছে – ঢাকা মহানগর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, জামালপুর, ঝিনাইদহ, ভোলা, চট্টগ্রাম, শেরপুর, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, নোয়াখালী, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, নরসিংদী, নাটোর, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, রংপুর, পাবনা, সাতক্ষীরা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জ৷

আওয়ামী লীগের বিবৃ্তি

নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় ৪৪৫ নেতা-কর্মী আহত হন, এছাড়া ১৪৭টি নির্বাচনি ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়৷

বিএনপির দাবি

এদিকে বিএনপি এক বিবৃ্তিতে দাবি করেছে, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিরোধী দলসমূহের (যাদের অধিকাংশ বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিশ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী) উপর করা ২৮৩৩ হামলায় ১২,৯২৩ জন আহত হয়েছেন৷ ৮ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ১৫৭৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ একই সময়ে ১৫৫৬৮ জন নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলেও দাবি করেছে দলটি৷

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলা ট্রিবিউন, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, জাগো নিউজ, ডেইলি সান

আমাদের অনুসরণ করুন