নেপালে বন সংরক্ষণের কাজে সাধারণ মানুষ

নেপালে দাবানলের কারণে বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় জলবায়ু ও প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে৷ অভিনব এক প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ প্রশিক্ষণ পেয়ে বন সংরক্ষণের কাজে সক্রিয় হয়ে উঠছে৷ এর ফলে আর্থিক সাহায্যও পাওয়া যাচ্ছে৷

নেপালের মানুষের জন্য এই কয়েক মাস ছিল সমস্যায় ভরা৷ ভূমিকম্পের ছাপ প্রায় সর্বত্র চোখে পড়ে৷ প্রাচীন রাজধানী ভক্তপুরে সব ঐতিহাসিক ভবন হয় ক্ষতিগ্রস্ত, কিংবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে৷ তবে এই বিপর্যয় সত্ত্বেও নেপালের মানুষ উৎসবের আনন্দ ভোলেননি৷ এপ্রিল মাসে সেখানে নববর্ষ উৎসব পালিত হয়, নেপালি ভাষায় যার নাম বিসকেট যাত্রা৷ এটাই দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব৷

কাঠমান্ডু ভ্যালি

প্রায় ২২০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ভ্যালিতে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সাতটি নিদর্শন রয়েছে৷ ভূমিকম্পে সবগুলোই কমবেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে৷

শম্ভুনাথ মন্দির কমপ্লেক্স

বৌদ্ধ অনুসারীদের কাছে এই মন্দির সম্ভবত সবচেয়ে বেশি পবিত্র স্থান৷ সেখানে আছে একটি স্তূপ, কয়েকটি মন্দির ও আশ্রম৷ সেই স্তূপে গৌতম বুদ্ধের চোখ ও ভ্রু আঁকা রয়েছে, ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে৷ ভূমিকম্পে এই মন্দির কমপ্লেক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

কাঠমান্ডু দরবার চত্বর

আঠার শতকের মাঝামাঝি সময়ে নেপাল একীভূত হওয়ার আগে সেখানে অনেকগুলো রাজ্য ছিল৷ এ সব রাজ্যের রাজবাড়ির আশেপাশের স্থানগুলো দরবার চত্বর নামে পরিচিত৷ এর মধ্যে কাঠমান্ডু ভ্যালিতে অবস্থিত তিনটি দরবার চত্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে৷ কাঠমান্ডু দরবার চত্বর এর একটি (বর্তমান ছবি)৷ পরের ছবিতে ভূমিকম্পের পরবর্তী অবস্থা দেখতে পাবেন৷

ভূমিকম্পের পর...

ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠমান্ডু দরবার চত্বরের মন্দির আর প্যাগোডাগুলো আর কখনও পুরোপুরি ঠিক করা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. পিডি বালাজি৷

ভক্তপুর দরবার চত্বর

রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৩ কিলোমিটার পূবে অবস্থিত ভক্তপুর দরবার চত্বরের আগের ছবি এটি৷ ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থা দেখা যাবে পরের ছবিতে৷

ভূমিকম্পের পর...

এই হলো ভক্তপুর দরবার চত্বরের বর্তমান অবস্থা৷

পাটান দরবার চত্বর

ললিতপুর জেলার এই দরবার চত্বরের মেঝে লাল ইট দিয়ে গড়া৷ কাঠমান্ডু ভ্যালির আদিবাসী ‘নেওয়ার’দের ‘নেওয়া’ স্থাপত্যের অনেক নিদর্শন রয়েছে সেখানে৷ ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষা পায়নি এই চত্বরটিও৷ দেখুন পরের ছবিতে৷

ভূমিকম্পের পর...

কী মনে হচ্ছে ছবি দেখে?

ধারাহারা টাওয়ার

কাঠমান্ডুতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে ৬২টি মিটার উঁচু এই টাওয়ারটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল৷ আঁকাবাঁকা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে পুরো কাঠমান্ডুর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যেত৷ কিন্তু ভূমিকম্পে টাওয়ারটি ধসে পড়েছে৷ সেই দৃশ্য দেখা যাবে পরের ছবিতে৷

ভূমিকম্পের পর...

কে বলবে এটি একটি টাওয়ার ছিল!

চ্যাঙ্গু নারায়ণ মন্দির

এই হিন্দু মন্দিরটি নেপালের সবচেয়ে পুরনো মন্দির বলে পরিচিত৷ রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৮ কিলোমিটার পূবে অবস্থিত একটি পাহাড়ের চূড়ায় এই মন্দিরটির অবস্থান৷ পঞ্চম ও দ্বাদশ শতাব্দীর নেপালি শিল্পকলার বেশ কিছু নিদর্শন রয়েছে এই মন্দিরে, ভূমিকম্পে যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

পশুপতিনাথ মন্দির

নেপালে হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র স্থান বলে ধরা হয় এই মন্দিরকে৷ ভূমিকম্পে এটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

গোটা দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে৷ প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়৷ একের পর পাহাড় নেড়া হয়ে যাচ্ছে৷ রাতেও তার ধ্বংসলীলা স্পষ্ট দেখা যায়৷ পশুপাখি পালাতে না পেরে মারা যায়৷ ফলে অনেক প্রজাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে৷ দিনের বেলা গ্রামবাসী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ৷ কারণ কিছুদিন আগেই অনেক কষ্ট করে তাঁরা নতুন গাছ লাগিয়েছিলেন৷ তাদেরই একজন তুল মায়া গারুং বলেন, ‘‘আমরা জানি না, কে এর জন্য দায়ী৷ লোকে বলছে, কেউ তার নিজের জমিতে আগুন লাগিয়ে সাফ করছিল, যার ফলে দুর্ঘটনাবশত এখানেও আগুন লেগে যায়৷ দূর থেকে আমরা আগুন দেখে দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু পারিনি৷''

আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক৷ সবাই বর্ষার অপেক্ষায় রয়েছে৷ সিগারেট বা অসতর্কতার কারণে আগুন ধরে যায়৷ কখনো বা চাষের জমি সৃষ্টি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়৷

বেশ কয়েক বছর ধরে আইসিআইএমওডি নামের সংগঠন পুনর্বনানীকরনের ক্ষেত্রে মানুষকে সাহায্য করছে৷ তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় বন সুরক্ষা কমিটি গড়ে সক্রিয় হচ্ছেন৷ প্রকল্পের প্রধান ভাস্কর কারকি বলেন, ‘‘এখানে চাষবাস করা যায় না৷ পানি নেই৷ আমরা এই জমিকে আবার জঙ্গলে পরিণত করার চেষ্টা করছি৷ কমিটিগুলি কিছু প্লান্টেশন করেছে৷ দেখে মনে হচ্ছে সফল৷''

ভিডিও দেখুন 02:51
এখন লাইভ
02:51 মিনিট
বিষয় | 25.09.2013

জার্মানিতে গাছ কাটার চেয়ে লাগানোর সংখ্যাই বেশি

কিন্তু ছাগলরা মাঠে নামলে অনেক সদিচ্ছাই বিফল হয়৷ তারাই চারাগাছের সবচেয়ে বড় শত্রু৷ তাই তাদের আর জঙ্গলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ নজরদারির মধ্যে তাদের চরে বেড়াতে হচ্ছে৷ তাদের কাছে খোরাক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷

বন কমিটিতে এমন সব পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ গ্রামের মানুষ মিটিং-এ নিয়মিত আলোচনা করেন৷ কত পরিমাণ কাঠ কাটা যাবে, দাবানল কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে এবং সেই সব দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে কী করা হবে, যারা আগুন লাগাচ্ছে৷ প্রায়ই তাঁরা আন্দাজ করতে পারেন, কে এই কুকাজ করেছে – এ সব নিয়ে আলোচনা চলে৷ আজ তাঁরা পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে জঙ্গলে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷

সাফল্য চোখে পড়ার মতো৷ দেখতে প্লান্টেশনের মতো হলেও আসলে কিন্তু নয়৷ গাছপালা দ্রুত বাড়ছে, তাদের ভিতও বেশ শক্তিশালী৷ ভাস্কর কারকি বলেন, সাত-আট বছর আগে এটা নেড়া জমি ছিল৷ স্থানীয় মানুষের হাতে এটা তুলে দেবার পর তারা এক পরিকল্পনা করে সেটা মেনে চলছে৷ দেখতেই পাচ্ছেন, নতুন এই জঙ্গল স্বাভাবিক ছন্দেই আবার ফুলে-ফেঁপে উঠেছে৷''

কোন কাঠ কাটা যাবে, কখন গাছ কাটা যাবে, প্রকল্পের কর্মীরা তা তাঁদের বলে দিয়েছিলেন৷ গ্রামবাসীরা জঙ্গলে শুধু ঝরে পড়া কাঠ সংগ্রহ করেন৷ তাঁরা নিয়ম মেনে চলেন৷

ভিডিও দেখুন 03:24
এখন লাইভ
03:24 মিনিট
অন্বেষণ | 16.02.2016

স্বর্গরাজ্য বাঁচাচ্ছে মর্ত্যের মানুষ

জঙ্গলকে ‘কার্বন সিংক' এবং জলবায়ু রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে৷ নেপাল ‘রেড প্লাস' কর্মসূচির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে৷ যে সব দেশ ‘কার্বন সিংক' বাড়াতে পারবে, তারা আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অর্থ পাবে৷ তাই এলাকার পরিমাপ চলছে৷ গাছের সংখ্যা, উচ্চতা, ব্যাপ্তি জানার চেষ্টা চলছে৷ প্রকল্পের প্রধান ভাস্কর কারকি বলেন, ‘‘তাঁদের জন্য কার্বন কনসেপ্ট একেবারেই নতুন বিষয়৷ আমরা চাই, জঙ্গলে কার্বন ট্রেন্ড বাড়ছে না কমছে, তাঁরা সেটা জানুন৷ কমিটিতে কার্বনের পরিমাপ, মনিটরিং, রিপোর্টিং-এ জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এর ফলে তাঁদের মধ্যে মালিকানা বোধ জেগে উঠবে৷''

আগামী বছরগুলিতে বার বার ফলাফল খতিয়ে দেখা হবে৷ জঙ্গল বাড়লে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ পাওয়া যাবে৷ দাবানলের মতো কারণে তা কমে গেলে তা জলবায়ু, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি হবে৷

নেপালের মানুষের জন্য এই কয়েক মাস ছিল সমস্যায় ভরা৷ ভূমিকম্পের ছাপ প্রায় সর্বত্র চোখে পড়ে৷ প্রাচীন রাজধানী ভক্তপুরে সব ঐতিহাসিক ভবন হয় ক্ষতিগ্রস্ত, কিংবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে৷ তবে এই বিপর্যয় সত্ত্বেও নেপালের মানুষ উৎসবের আনন্দ ভোলেননি৷ এপ্রিল মাসে সেখানে নববর্ষ উৎসব পালিত হয়, নেপালি ভাষায় যার নাম বিসকেট যাত্রা৷ এটাই দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব৷

কাঠমান্ডু ভ্যালি

প্রায় ২২০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ভ্যালিতে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সাতটি নিদর্শন রয়েছে৷ ভূমিকম্পে সবগুলোই কমবেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে৷

শম্ভুনাথ মন্দির কমপ্লেক্স

বৌদ্ধ অনুসারীদের কাছে এই মন্দির সম্ভবত সবচেয়ে বেশি পবিত্র স্থান৷ সেখানে আছে একটি স্তূপ, কয়েকটি মন্দির ও আশ্রম৷ সেই স্তূপে গৌতম বুদ্ধের চোখ ও ভ্রু আঁকা রয়েছে, ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে৷ ভূমিকম্পে এই মন্দির কমপ্লেক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

কাঠমান্ডু দরবার চত্বর

আঠার শতকের মাঝামাঝি সময়ে নেপাল একীভূত হওয়ার আগে সেখানে অনেকগুলো রাজ্য ছিল৷ এ সব রাজ্যের রাজবাড়ির আশেপাশের স্থানগুলো দরবার চত্বর নামে পরিচিত৷ এর মধ্যে কাঠমান্ডু ভ্যালিতে অবস্থিত তিনটি দরবার চত্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে৷ কাঠমান্ডু দরবার চত্বর এর একটি (বর্তমান ছবি)৷ পরের ছবিতে ভূমিকম্পের পরবর্তী অবস্থা দেখতে পাবেন৷

ভূমিকম্পের পর...

ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠমান্ডু দরবার চত্বরের মন্দির আর প্যাগোডাগুলো আর কখনও পুরোপুরি ঠিক করা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. পিডি বালাজি৷

ভক্তপুর দরবার চত্বর

রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৩ কিলোমিটার পূবে অবস্থিত ভক্তপুর দরবার চত্বরের আগের ছবি এটি৷ ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থা দেখা যাবে পরের ছবিতে৷

ভূমিকম্পের পর...

এই হলো ভক্তপুর দরবার চত্বরের বর্তমান অবস্থা৷

পাটান দরবার চত্বর

ললিতপুর জেলার এই দরবার চত্বরের মেঝে লাল ইট দিয়ে গড়া৷ কাঠমান্ডু ভ্যালির আদিবাসী ‘নেওয়ার’দের ‘নেওয়া’ স্থাপত্যের অনেক নিদর্শন রয়েছে সেখানে৷ ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষা পায়নি এই চত্বরটিও৷ দেখুন পরের ছবিতে৷

ভূমিকম্পের পর...

কী মনে হচ্ছে ছবি দেখে?

ধারাহারা টাওয়ার

কাঠমান্ডুতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে ৬২টি মিটার উঁচু এই টাওয়ারটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল৷ আঁকাবাঁকা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে পুরো কাঠমান্ডুর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যেত৷ কিন্তু ভূমিকম্পে টাওয়ারটি ধসে পড়েছে৷ সেই দৃশ্য দেখা যাবে পরের ছবিতে৷

ভূমিকম্পের পর...

কে বলবে এটি একটি টাওয়ার ছিল!

চ্যাঙ্গু নারায়ণ মন্দির

এই হিন্দু মন্দিরটি নেপালের সবচেয়ে পুরনো মন্দির বলে পরিচিত৷ রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৮ কিলোমিটার পূবে অবস্থিত একটি পাহাড়ের চূড়ায় এই মন্দিরটির অবস্থান৷ পঞ্চম ও দ্বাদশ শতাব্দীর নেপালি শিল্পকলার বেশ কিছু নিদর্শন রয়েছে এই মন্দিরে, ভূমিকম্পে যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

পশুপতিনাথ মন্দির

নেপালে হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র স্থান বলে ধরা হয় এই মন্দিরকে৷ ভূমিকম্পে এটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷