ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের কর্মীরা হতাশ

বাংলাদেশে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় চাকরি নেয়া প্রায় ৫৬ হাজার কর্মী এখন নতুন করে হতাশ হয়ে পড়েছেন৷ কারণ তাদের অনেকেরই আজ থেকে চাকরি নেই৷ আর বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে৷

তাদের সবাইকে দু'বছর মেয়াদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে৷ আর প্রয়োজন ছাড়া সরকারের কোষাগারের টাকা খরচ করে এই নিয়োগ ঠিক ছিল না বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার৷

ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া ছিল বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি৷ আর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ২০১০ সালের ৫ই মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের ঘোষণা দেন৷ এই প্রকল্পের আওতায় দেশের তিন জেলা কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ এবং বরগুনায় ৫৫,৮৮৬ জন বেকার তরুণ-তরুণীকে চাকরি দেয়া হয়৷ তাদের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানেই নানা কাজে সহযোগিতার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়৷ হাসপাতালগুলোতে তাদের কাজের সুযোগ থাকলেও থানা ও প্রশাসনিক দপ্তরে তারা শুধু হাজিরা দেন৷

দুই বছর মেয়াদে এই নিয়োগে তাদের বেতন ধরা হয় ৬,০০০ টাকা৷ এর মধ্যে প্রতিমাসে ২,০০০ টাকা কেটে রাখা হয়েছে৷ যা চাকরি শেষে তাদের একবারে ৫০,০০০ টাকা দেয়া হবে৷ কুড়িগ্রামে প্রথম ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া ৯,৭২১ জনের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে শনিবার৷ পর্যায়ক্রমে অন্যদের চাকরির মেয়াদও শেষ হবে৷ এই পরিস্থিতিতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন৷ সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন. তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছে৷ এখন তাদের উচিত হবে এককালীন যে ৫০,০০০ টাকা পাবেন তা দিয়ে আত্ম-কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা৷

তবে সরকারি কোষাগারের টাকায় এই নিয়োগ ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ তার মতে রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্প যেন আর বাড়ানো না হয়৷

তিনি বলেন সরকারের উচিত বেসরকারি খাতে যাতে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয় সেই ধরণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া৷ তাহলেই সত্যিকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে৷

তার মতে বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলেতে হবে৷ আর বাড়াতে হবে কাজের সুযোগ৷ কৃত্রিমভাবে কাজ দেয়া যায় না৷আর এটি কোন স্থায়ী সমাধানও না৷

প্রতিবেদন: হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা
সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়