পদত্যাগ করতে চলেছেন টেরেসা মে?

ব্রিটেনের ‘সান' সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরই পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷ এ দিকে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত অচলাবস্থা কাটাতে ইইউ ব্রিটেনকেই স্পষ্ট অবস্থান নেবার ডাক দিচ্ছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আবার মনে করিয়ে দেন, যে আগামী ২৯শে মে-র মধ্যে ব্রিটেন ও ইইউ-র মধ্যে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করে বিচ্ছেদের জন্য হাতে অত্যন্ত কম সময় রয়েছে৷ এই অবস্থায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বিরোধী নেতা জেরেমি কর্বিন-এর পরামর্শ অনুযায়ী স্থায়ী শুল্ক ইউনিয়ন মেনে নিলে বর্তমান অরাজকতার অবসান হতে পারে, বলেন বার্নিয়ে৷ মোটকথা, ব্রিটেনকেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি৷ বার্নিয়ে বলেন, ‘‘আমরা কখনো ব্রেক্সিট চাই নি, ব্রেক্সিটের দাবি তুলিনি৷ দায়িত্ব লন্ডনে শুরু হয়েছিল, এখনো তা লন্ডনেই রয়েছে৷''

বার্নিয়ে-র সঙ্গে আলোচনার পর লুক্সেমবুর্গের প্রধানমন্ত্রী সাভিয়ে বেটেল ব্রিটেনকে ‘বিভক্ত যুক্তরাজ্য' হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷ তাঁর মতে দেশটিকে এই মুহূর্তে ‘সংযুক্ত যুক্তরাজ্য' হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়৷ ব্রেক্সিটপন্থি রাজনৈতিক নেতারা কোনো আইডিয়া ও সাহস দেখাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ তাঁরা শুধু ‘না' বলেই খালাস, কোনো বিকল্প প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত নন৷ এমনকি দ্বিতীয় গণভোটেরও বিরোধী তাঁরা৷

সোমবার রাতে বার্নিয়ে ব্রাসেলসে ব্রিটেনের ব্রেক্সিট মন্ত্রী স্টিফেন বার্কলে-র সঙ্গে আলোচনা করেন৷ ‘গঠনমূলক' আলোচনা সত্ত্বেও বার্নিয়ে আবার স্পষ্ট করে দেন, যে মূল ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়৷ তবে আগামী দিনগুলিতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু থাকবে৷ ব্রিটেনের সরকার সে দেশে বিতর্কিত ‘ব্যাকস্টপ' ব্যবস্থার কোনো স্পষ্ট বিকল্প পেশ না করায় অগ্রগতির কোনো সম্ভাবনা অবশ্য কম৷

এ দিকে ব্রিটেনের ‘সান' সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে চলতি বছর গ্রীষ্মকালে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷ সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের উত্তরসুরি স্থির করতেই প্রধানমন্ত্রী এই সময় বেছে নিচ্ছেন বলে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য মনে করেন৷

ব্রেক্সিট সম্পর্কে চরম অনিশ্চয়তার ফলে ব্রিটেনের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷ সোমবার প্রকাশিত তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১.৪ শতাংশ৷ ২০১২ সালে ইউরোপে আর্থিক সংকটের পর ব্রিটেন এমন দুর্দিনের মুখ দেখেনি৷ বিনিয়োগের হারও ছিল অত্যন্ত কম৷ গত ডিসেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধির বদলে মন্দা দেখা গেছে৷ ব্রেক্সিটের দিন ঘনিয়ে আসা সত্ত্বেও ব্রিটেনের শিল্প-বাণিজ্য জগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে৷ ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে৷ 

এ সবের মধ্যে ব্রিটেন সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে এক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে৷ ফলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকবে না৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এপি, ডিপিএ)