পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী

রেইনার ওয়াইস, ব্যারি সি ব্যারিশ ও কিপ এস থর্ন অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের ভবিষ্যদ্বাণীকৃত মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করার জন্য পদার্থবিদ্যায় ২০১৭ সালের নোবেল পুরস্কার পেলেন৷ 

ব্যারি ব্যারিশ, কিপ থর্ন ও রেইনার ওয়াইসের এই আবিষ্কার ‘বিশ্বকে চমৎকৃত করেছে,' বলে সুইডেনের রয়্যাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর প্রধান গোরান কে হানসন মন্তব্য করেছেন৷

তিন বিজ্ঞানী ‘লিগো' বা ‘লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ অবজারভেটরি' প্রকল্পে বিশেষ অবদান রাখেন৷ পুরস্কারের অর্ধেক পাচ্ছেন ওয়াইস; ব্যারিশ ও থর্ন মিলে অবশিষ্ট অর্ধেক৷

একশ' বছর আগে আইনস্টাইন তাঁর ‘জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি'র অঙ্গ হিসেবে মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গের অস্তিত্বের সম্ভাবনার কথা বলেন৷ সেই মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গের চূড়ান্ত হদিশ পাওয়া যায় মাত্র দু'বছর আগে, ২০১৫ সালে৷

অ্যাকাডেমির প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তিন বিজ্ঞানী ‘‘প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, চার দশকের প্রচেষ্টার পর অবশেষে মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে৷''

নোবেল পুরস্কার লাভের কথা জানার অব্যবহিত পরে রেইনার ওয়াইস বলেন, ‘‘এটা সত্যিই দারুণ৷''

পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর পেয়ে অভিভূত ব্যারিশ বলেন, নোবেল অ্যাকাডেমির এই ঘোষণা ‘‘আইনস্টাইনের জন্য একটি জয় এবং একটি বিরাট জয়৷''

ডিনামাইটের সুইডিশ আবিষ্কর্তা আলফ্রেড নোবেল ১৮৯৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেন৷ পুরস্কারের বর্তমান মূল্য হল ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার ইউরো বা ১১ লাখ ডলার৷

তিনজন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী – ডেভিড জে দাউলেস, এফ ডানকান এম হ্যালডেন ও জে মাইকেল কস্টারলিট্জ – সুপারকন্ডাক্টর ও সুপারফ্লুইডের মতো বস্তুর কর্মপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে টোপোলজি বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রয়োগ করে পদার্থবিদ্যায় ২০১৬ সালের নোবেল পুরস্কার লাভ করেন৷ গত ২৫ বছর ধরে পদার্থবিদ্যায় একাধিক বিজ্ঞানী নোবেলে ভূষিত হয়ে আসছেন৷

১৯০২: ম্যালেরিয়া

ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ গবেষক রোনাল্ড রস প্রথম বের করেছিলেন ম্যালেরিয়ার কারণ অ্যানোফিলিশ মশা৷ এই আবিষ্কারের কারণেই পরবর্তীতে ম্যালেরিয়ার ওষুধ বের করা সম্ভব হয়েছিল৷ তারপরও অবশ্য প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে প্রায় তিন মিলিয়ন মারা যায়৷ ম্যালেরিয়া নিয়ে কাজের কারণে রোনাল্ড রস ১৯০২ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন৷

১৯০৫: যক্ষা

যক্ষা নিয়ে গবেষণা করে ১৯০৫ সালে নোবেল জেতেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ৷ সংক্রামক এই রোগটি এখনো বিশ্বে ভয়ংকর রূপ নিয়ে রয়েছে৷ যদিও এখন তার টিকা পাওয়া যাচ্ছে, যেটা অবশ্য শিশুদের জন্য কার্যকরী, বড়দের নয়৷

১৯১২: অঙ্গ প্রতিস্থাপন

অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলুন, কিংবা ওপেন হার্ট সার্জারি – ফ্রান্সের বিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস ক্যারেল না থাকলে সেটা কে সম্ভব করতেন কে জানে৷ শরীরের কোনো অঙ্গ শরীর থেকে বের করে বাইরে রাখার উপায় তিনিই প্রথম বের করেছিলেন৷ তাই ১৯১২ সালে তিনি যে নোবেল পাবেন তাতে আর অবাক হওয়ার কি আছে!

১৯২৪: ইসিজি

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজির সঙ্গে আজকাল সবাই পরিচিতি৷ হৃদরোগের চিকিৎসায় অপরিহার্য এই প্রযুক্তিটি হাসপাতাল পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনের লোকটি হলেন ১৯২৪ সালে নোবেল পাওয়া নেদারল্যান্ডসের ভিলেম আইন্টহোভেন৷

১৯৩০: রক্তের গ্রুপ

রক্তের যে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে সেটা প্রথম বের করেছিলেন অস্ট্রিয়ান কার্ল লান্ডস্টাইনার৷ তিনি এ, বি, সি (এখন যেটাকে আমরা বলি ও) গ্রুপের কথা জানিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে তাঁর সহকর্মীরা এবি গ্রুপ আবিষ্কার করেন৷ ১৯৩০ সালে নোবেল পেয়েছিলেন লান্ডস্টাইনার৷

১৯৩৯, ১৯৪৫, ১৯৫২: অ্যান্টিবায়োটিক

এই তিন বছরে চিকিৎসাবিদ্যার নোবেলটি যায় অ্যান্টিবায়োটির আবিষ্কারকদের দখলে৷ এর মধ্যে ১৯৪৫ সালে পেনিসিলিনের জন্য নোবেল পান আলেকজান্ডার ফ্লেমিং৷

১৯৭৯ ও ২০০৩: সিটি স্ক্যান, এমআরআই

সিটি স্ক্যানের জন্য ১৯৭৯ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী গডফ্রে হুনসফিল্ড এবং এমআরআই প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে মার্কিন দুই বিজ্ঞানী পল লটারবুর ও পিটার ম্যানসফিল্ড ২০০৩ সালে নোবেল পেয়েছেন৷

২০০৮: গর্ভাশয়ের ক্যানসার

জার্মান বিজ্ঞানী হারাল্ড সুয়র হাউজেন বলেছেন হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)-এর কারণে সার্ভিক্যাল ক্যানসার হতে পারে৷ এর উপর ভিত্তি করে টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে৷ ২০০৮ সালে হাইজেন নোবেল পান৷

সোমবার তিন মার্কিন বিজ্ঞানী – জেফ্রে সি হল, মাইকেল রসব্যাশ ও মাইকেল ডাবলিউ ইয়ং ‘সার্কেডিয়ান রিদম' বা ‘বডি ক্লক' সম্পর্কে গবেষণার জন্য ভেষজবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জয় করেন৷

বুধবার রসায়নে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে; বৃহস্পতিবার ঘোষিত হবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম; শুক্রবার আসবে বহুপ্রতীক্ষিত শান্তি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ঘোষণা৷

এসি/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি, এপি)