1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পরমাণুবিজ্ঞানী ‘হত্যায়’ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইরানের

২৮ নভেম্বর ২০২০

পরমানুবিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহ ‘হত্যার’ ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ইরান৷ দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি এ ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন৷

https://p.dw.com/p/3lwz2
হামলার পর রাস্তায় পড়ে থাকা ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহের গাড়িছবি: IRIB NEWS AGENCY/AFP

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি  ইসরায়েল৷

ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের পাশে আবসারদ শহরে মোহসেন ফখরিজাদেহের উপর হামলার ঘটনা ঘটে৷  হামলায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে তিনি মারা যান৷ 

এই বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে ইরান গোপন সামরিক পরমাণু প্রকল্প চালিয়ে আসছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল ইসরায়েল৷

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়ছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে৷ সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে সক্ষম হননি৷ কয়েক মিনিট আগে অনেক বছরের চেষ্টা ও সংগ্রামের পর তিনি শাহাদত বরণ করেছেন৷’’

এদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের প্রেসিডেন্ট রোহানি বলেন, ‘‘বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহকে হত্যা করে ইসরায়েল অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে৷ ইরান সময়মতো এর প্রতিশোধ নেবে৷’’ 

‘চুপ’ ইসরায়েল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইটে এ ঘটনায় ইসরায়েলের জড়িত থাকার প্রমাণ দাবি করে লিখেছেন, ‘‘জঙ্গীরা আজ এক স্বনামধন্য ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে৷ এই ধরনের কাপুরুষতা, যেখানে ইসরায়েলের জড়িত থাকার ব্যাপক ইঙ্গিত রয়েছে, যুদ্ধবাজদের উসকানিই প্রমাণ করে৷

ইরানের শীর্ষ সেনা কমান্ডার হোসেইন দেঘান টুইট করেছেন, ‘‘তাদের বন্ধুর (ডনাল্ড ট্রাম্প) রাজনৈতিক জীবনের শেষ কয়েকদিনে জায়নবাদীরা (ইসরায়েল) ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধ লাগাতে চায়৷’’

তবে এসব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পালটা মন্তব্য পাওয়া যায়নি ইসরায়লের কাছ থেকে৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না৷ নেতানিয়াহু একবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ফখরিজাদেহের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘এই নামটি মনে রাখবেন’৷

‘আশা’ পরমাণু প্রকল্পের নেতা

ফারসিতে ‘আমাদ' বা বাংলায় ‘আশা' নামের পরমাণু প্রকল্পের প্রধান ছিলেন বিজ্ঞানী ফখরিজাদেহ৷ তবে এই প্রকল্প ২০০০ সালের দিকেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়৷ ইসরায়েল এবং পশ্চিমা দেশগুলো দাবি করে যে এটি একটি সামরিক প্রকল্প ছিল৷ কিন্তু তেহরান বরাবরই বলে আসছে এই প্রকল্পটি সামরিক ছিল না৷

তবে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান ২০০৩ সাল পর্যন্তও খুব কৌশলে পারমাণবিক বিস্ফোরক তৈরি সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়েছে৷ পরমাণু শান্তি চুক্তি অনুসারে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম জমা রাখার কথা, তার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ মজুদ করার অভিযোগ সম্প্রতি উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে৷

এডিকে/আরআর (এপি, ডিপিএ, রয়টার্স)