‌পরিবর্তন জরুরি সব আইনেই

তিন তালাক নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর, এখন প্রশ্ন উঠছে অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আইনে নারী-পুরুষের অধিকারে ভারসাম্যের অভাব নিয়ে৷ চলছে আলাপ-আলোচনা, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াও সরব সমানাধিকার প্রতিষ্ঠায়৷

তাৎক্ষণিক তালাক নিয়ে মুসলিম সমাজের মেয়েদের এক বড় অংশের আপত্তি ছিল বহুদিন ধরেই৷ যে কারণে তিন তালাক নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের যে রায়, তাকে কোনো রাজনৈতিক দল, বা সরকার, অথবা বিশেষ কোনো ধর্মীয় মতবাদের জয় নয়, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সবাই৷ জরুরি কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে এই সূত্রে৷ সবথেকে বড় প্রশ্ন — সাংবিধানিক আইনের সঙ্গে ধর্মীয় আইনের বিরোধ কোথায়? কেন এবং কী করলে সেই বিরোধ মিটিয়ে একটা মীমাংসায় পৌঁছানো যাবে?‌ 

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

অধ্যাপিকা আফরোজা খাতুন অনেক দিন ধরে এই অন্যায় তালাকের শিকার হয়েছেন যেসব মহিলা, তাঁদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন৷ তাঁদের সংগঠন ‘‌সাউথ ক্যালকাটা সোসাইটি ফর এমপাওয়ারমেন্ট অফ উইমেন'‌ একাধিকবার এমন মহিলাদের জনসমক্ষে হাজির করেছে, যাঁরা তালাক পেয়েছেন ফোনে, এসএমএসে, কিংবা চিঠিতে!‌ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাৎক্ষণিক তিন তালাক অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর ওঁরা কী ভাবছেন?‌

আফরোজা ডয়চে ভেলেকে বললেন, ভারতের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো, এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের আইনগুলি যেমন ‘‌কোডিফায়েড'‌, অর্থাৎ নথিভুক্ত, বিধিবদ্ধ, মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক আইনের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি৷ পুরোটাই মুখের কথার ওপর ভিত্তি করে চলে আসছে এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই মুখের কথা ব্যক্তিবিশেষে, প্রয়োজনের সাপেক্ষে, বা সুবিধামতো বদলে যায, যাচ্ছে৷''

আফরোজা খুব স্পষ্টভাষায় জানাচ্ছেন, প্রচলিত মুসলিম আইনে পুরুষ এবং নারীর সমানাধিকার নেই৷ নারীরা নানা ক্ষেত্রে, বিশেষত বিবাহবিচ্ছেদের প্রশ্নে বঞ্চিত, শোষিত৷ কাজেই সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই মেয়েদের কাছে একটা সুযোগ, নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করার৷ আফরোজা বলছেন, শরিয়তি আইনের তাই সংস্কার দরকার, যাতে মেয়েরা তাঁদের ন্যায্য পাওনাটা বুঝে নিতে পারেন৷ তার পর সেই আইন কোডিফাই করা দরকার, যাতে যে কারও মুখের কথাতে সেটা যথেচ্ছ বদলে না যেতে পারে৷

সাংবিধানিক আইন এবং ধর্মীয় আইনের মধ্যে এই একই বিরোধের জায়গা নির্দিষ্ট করলেন পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেল, বিশিষ্ট আইনজীবী কিশোর দত্ত৷ ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, বিচারবিভাগের কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু করার নেই, কারণ বিচারবিভাগ নতুন আইন তৈরি করতে পারে না৷ এই দায়িত্ব ভারতীয় সংবিধান দিয়েছে দেশের আইন সভাকে৷ তারা আইন তৈরি করবে, বিচারবিভাগ সেই আইন কার্যকর করার দায়িত্ব নেবে৷ তবে নতুন আইনের ক্ষেত্রে আরও একটা কর্তব্য আছে বিচারবিভাগের৷ আইনটি দেশের সংবিধান ও অন্যান্য আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা, এবং সেই অনুযায়ী আইনসভাকে মতামত জানানো৷

সমাজ-সংস্কৃতি

উত্তরাধিকার আইন

কোনো নারী বা পুরুষের মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে মৃতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের খরচ, দেনাশোধ বা মৃতব্যক্তি যদি কোন উইল সম্পাদন করে যান তবে তা হস্তান্তরের পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে তার উপর মৃতের সন্তান সন্তানাদি ও আত্মীয় স্বজনের যে অধিকার জন্মায়, তাকে উত্তরাধিকার বলে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বিভিন্ন ধর্মে উত্তরাধিকার আইন

বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য প্রায় সব ধর্মাবলম্বীর, এমনকি আদিবাসীদেরও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধি-বিধান আছে৷ যেমন, মুসলিমদের জন্য আইনটি কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী তৈরি৷ আবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আইন আলাদা৷ সময়ে সময়ে কিছু কিছু আইন সংস্কারও করা হয়েছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে তিন শ্রেণির উত্তরাধিকার আছে৷ যেমন : অংশীদার, অবশিষ্টাংশ ভোগী, দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ৷ অংশীদারগণ সব উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অগ্রাধিকার পান৷ অংশীদারদের মধ্যে স্ত্রী অন্যতম৷ পিতা, মাতা, ছেলে, মেয়ে, স্বামী ও স্ত্রী – এঁরা কেউই উত্তরাধিকার সম্পত্তি হতে বাদ যান না৷ পুত্র, কন্যা, স্বামী, স্ত্রী কিংবা অন্য অংশীদাররা কে কতটুকু সম্পত্তি পাবেন তা নির্ধারিত করা আছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন

এখানে দুই ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু আছে – মিতক্ষরা ও দায়ভাগ পদ্ধতি৷ বাংলাদেশে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়৷ এ আইন অনুযায়ী, যারা পিণ্ডদানের অধিকারী, তারাই যোগ্য উত্তরাধিকারী৷ পিণ্ডদানের অধিকারীদের তালিকায় থাকা ৫৩ জনের মধ্য পুত্র, পুত্রের পুত্র, পুত্রের পুত্রের পুত্র, স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রীর পরে কন্যা আসেন৷ এই আইনের সংস্কারের দাবি বহুদিনের৷

সমাজ-সংস্কৃতি

খ্রিষ্টান উত্তরাধিকার আইন

আমাদের দেশে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রিত হয় সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫-এর মাধ্যমে৷ কোনো মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়ে একই মর্যাদার অধিকারী, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তারা সমান অংশ লাভ করে৷ তবে মৃত ব্যক্তি যদি সম্পত্তি অন্য কারো নামে উইল করে যান, তাহলে সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হবে না৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বৌদ্ধ উত্তরাধিকার আইন

বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী হিন্দু আইন অনুযায়ী তাদের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে থাকে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নৃ-গোষ্ঠীদের উত্তরাধিকার আইন

বেশিরভাগ নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথা অনুযায়ী নারীদের পিতা-মাতা ও স্বামীর সম্পদের মালিকানায় উত্তরাধিকারের কোনো পদ্ধতি নেই৷ এ কারণে এ নারীরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন৷ পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী পাস হওয়ার পরও নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা আদৌ কোনো সুফল পাবেন কিনা, তা নিয়ে তাদের মাঝে সংশয় আছে৷

যেমন একটা অন্য উদাহরণ দিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল৷ বললেন ভারতে কোনো মামলা দায়ের করতে সরকারকে কোনো মাশুল বা কর দিতে হয় না৷ এবার আইনসভা যদি এমন একটা আইন আনে, যে কোনো মামলা করলেই সরকারকে একটা নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে, তাহলে বিচারবিভাগ খতিয়ে দেখবে যে সেই আইনটি অন্য কোনো আইন, বা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি হচ্ছে কিনা৷ শরিয়তি আইন কোডিফাই হওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই ভূমিকা থাকবে বিচারবিভাগের৷ এবং আইনগুলি বিধিবদ্ধভাবে পাস হয়ে গেলে, সেগুলি কার্যকর করার দায়িত্ব নেবে বিচারবিভাগ৷ কোনো ক্ষেত্রে তার কোনো বিচ্যুতি, বা বিকৃতি ঘটছে কিনা, সেটা দেখার দায়িত্বও তখন বিচারবিভাগেরই৷‌ 

তবে কোনো আইন কোডিফাই হলেই যে সমস্যা মিটে যায়, তা নয়৷ এর একটা বড় কারণ, একমাত্র মুসলিম সমাজই যে পিতৃতান্ত্রিক, পুরুষের স্বার্থ কেবল ইসলামি আইনেই বেশি রক্ষিত হয়, তা একেবারেই নয়৷ অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও ভারসাম্যের বিস্তর অভাব৷ যেমন হিন্দু সাক্সেশন অ্যাক্ট বা উত্তরাধিকার আইন, যার আওতায় শিখ, জৈন, বৌদ্ধরাও পড়েন৷ এই আইনে, একজন হিন্দু মহিলা ‘‌ইন্টেস্টেট'‌, অর্থাৎ উইল, বা ইচ্ছাপত্র না করেই মারা গেলে, তাঁর সম্পত্তি পাবেন তাঁর স্বামী এবং ছেলে-মেয়েরা৷ মহিলা যদি বিধবা এবং নিঃসন্তান হন, তাহলে সেই সম্পত্তির ওপর প্রথম অধিকার তাঁর স্বামীর পরিবারের৷ সেখানেও যদি কোনো দাবিদার না থাকে, একমাত্র তবেই সম্পত্তি পেতে পারেন মহিলার মা, বাবা, কিংবা তাঁদের উত্তরাধিকারীরা৷ অর্থাৎ, স্বামীর পরিবারই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে৷ এই উত্তরাধিকার আইনের একটি ধারায় এমনও বলা আছে, যে কোনো মহিলা যদি তাঁর বাবা, অথবা মা, কিংবা দু'জনের থেকেই কোনো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন আর তিনি উইল না করেই মারা যান, তাহলে তাঁর সব সম্পত্তির ওপর অধিকার বর্তাবে মহিলার বাবা বা বাবার উত্তরসূরিদের৷ এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, মায়ের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিও চলে যাবে বাবা বা তাঁর বংশধরদের কাছে৷ প্রসঙ্গত, বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের সম্ভাবনাকে এখানে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখা হয়নি৷

বিভিন্ন মামলার সূত্রে অবশ্য এই আইনগুলি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং সেই সূত্রে আইনের সংস্কারও হয়৷ যেমন হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে একসময় বিবাহিত মহিলারা বাবা, বা মায়ের সম্পত্তির ভাগ পেতেন না৷ মামলায় সেই নিয়ম চ্যালেঞ্জ করার পর আইন বদলেছে৷ কিন্তু আইনজীবীরা বলছেন, বিচারবিভাগ কোনো আইন বদলের পরামর্শ দিতে পারেন মাত্র৷ পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেল যেমন পরিষ্কারই বললেন, কোনো মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত যখন আইনের মতো কিছু বলে ফেলেছে, অর্থাৎ এমন কিছু বলেছে, যা আইনের মতো শুনিয়েছে — সেটা সমালোচনার মুখে পড়েছে৷ কারণ সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগ আইন রক্ষা যেমন করে, সেই আইনের কোনো বিচ্যুতি ঘটল কিনা, তারও খেয়াল রাখে৷ কিন্তু নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে না৷

ফলে সবসময়ই নারী-পুরুষের অধিকারে ভারসাম্যের অভাব দেখা দেয় বিবাহ, বিচ্ছেদ বা খোরপোষ সংক্রান্ত আইনে, যা হয়ত আদ্যিকালের আইন, কিন্তু এখনও চলে আসছে, কোনো সংস্কার ছাড়াই৷ যেমন ভারতীয় বিবাহবিচ্ছেদ আইনে, বিবাহ-বিচ্ছিন্ন মহিলা শুধুমাত্র সেই সম্পত্তি দাবি করতে পারবেন, যা বিবাহের সময় বা তার পরে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ মালিকানায় ছিল৷ এবার এখানেও সেই পুরুষতন্ত্রের দাপট যে ভারতে শহরাঞ্চলের বাইরে সমস্ত ধরনের সম্পত্তিই কেনা হয় পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নামে৷ সেই খরিদ্দারিতে যদি বাড়ির মহিলাদের কোনো আর্থিক অবদান থাকেও, সেটা মালিকানার কাগজপত্রে নথিভুক্ত হয় না৷ ধরা যাক স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে স্বামীর জমি বা বাড়ি কেনা এবং সেই সম্পত্তি প্রথাগতভাবে স্বামীর নামে রেজিস্টার্ড হওয়া৷ সম্ভাব্য বিবাহবিচ্ছেদের সময় কিন্তু, আইনের চোখে, স্ত্রীর কোনো অধিকারই থাকবে না ঐ সম্পত্তিতে৷ বিবাহবিচ্ছেদের আইনের ক্ষেত্রেও অসংখ্য ধারা আছে, যা মূলত দেখা হয়েছে সেই ভিক্টোরিয়ান আমলের নীতিশিক্ষা এবং মূল্যবোধের চশমা পরে৷ সময় এবং সমাজ যে তার পরে অনেক বদলেছে, তার কোনো ছাপ সেই তামাদি আইনে নেই৷

সুতরাং তাৎক্ষণিক তালাকের ক্ষেত্রে যেমন মুসলিম মেয়েরাই পথে নেমে এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, চাপ দিয়েছেন সরকারকে, তেমনই অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রেও একই সচেতনতার প্রসার এবং জনমানসে বিতর্কের পরিসর তৈরি হওয়ার দরকার আছে৷ যেহেতু বৈষম্য, ভারসাম্যের অভাব আছে সব ক্ষেত্রেই৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

ইসলাম

১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী, কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের নোটিশ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি কর্পোরেশনকে পাঠাতে হবে৷ মুখে তালাক দিলে সেটি কার্যকর হবে না৷

স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমান নয়

স্বামী কোনো কারণ ছাড়া স্ত্রীকে তালাক দিতে পারলেও, স্ত্রী সেটা করতে পারেন না৷ এর জন্য আইনে কতগুলো কারণ উল্লেখ আছে৷ শুধুমাত্র সেসব কারণেই স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন৷

কয়েকটি কারণ

স্বামী চার বছর ধরে নিরুদ্দেশ থাকলে, দুই বছর স্ত্রীর ভরণপোষণ না দিলে বা ব্যর্থ হলে, একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে, সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড পেলে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে, বিয়ের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন থাকলে, দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্থ বা মারাত্মক যৌনরোগে আক্রান্ত থাকলে৷ বাকি কারণগুলো জানতে উপরে (+) বাটনে চাপ দিন৷

হিল্লা বিয়ে নিষিদ্ধ

একটা সময় ছিল যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা আবার বিয়ে করতে চাইলে, স্ত্রীকে আগে হিল্লা বিয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হত৷ এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ের ব্যক্তি (স্বামী) স্ত্রীকে তালাক দিলে বা মারা গেলে স্ত্রী পুনরায় প্রথম স্বামীকে বিয়ে করতে পারতেন৷ মধ্যবর্তীকালীন এই বিয়ের নামই হচ্ছে ‘হিল্লা’ বিয়ে৷ তবে বর্তমানে এটি নিষিদ্ধ৷

হিন্দু ধর্ম

সনাতন হিন্দু আইনে সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদের কোনো বিধান নেই৷ তবে ভারতে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে আনা অভিযোগ প্রমাণ হলে বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব৷ এছাড়া ‘স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’ অনুযায়ীও ডিভোর্স সম্ভব৷ তবে বাংলাদেশে এ সব আইন প্রযোজ্য নয়৷ স্ত্রী যদি একান্তই স্বামীর সঙ্গে থাকতে না চান তাহলে তিনি অন্য কোথাও আলাদা থাকতে পারেন৷ এক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ পাওয়ার অধিকারী৷

খ্রিষ্টান ধর্ম

বাংলাদেশে এক্ষেত্রে ১৮৬৯ সালের ‘ক্রিশ্চিয়ান ডিভোর্স অ্যাক্ট’ মানা হয়৷ তবে ক্যাথলিকরা এই আইনের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন না, কারণ ক্যাথলিকরা বিবাহবিচ্ছেদ মানেন না৷ তবে প্রোটেস্ট্যান্টরা এই আইনের আওচায় বিবাহবিচ্ছেদ করে থাকেন৷ এই আইনে অবশ্য বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর মতো সমতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে৷