পর্নোগ্রাফির হাত থেকে সন্তানকে বাঁচাতে আমার প্রস্তুতি

সাত বছরের এক ছেলের বাবা আমি৷ এখনও পর্নোগ্রাফি বোঝে না সে৷ কিন্তু আর কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ত এসবের মুখোমুখি হবে৷ তখন তাকে কীভাবে সেই ভয়াল থাবার হাত থেকে রক্ষা করবো তার উপায়গুলো এখনই একটু একটু করে জেনে নিচ্ছি৷

আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পর্নোগ্রাফি বিষয়টি একেবারেই সহজলভ্য হয়ে গেছে৷ মনে আছে, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন প্রথমবারের মতো পর্নোগ্রাফির মুখোমুখি হয়েছিলাম ‘চটি’-র মাধ্যমে৷ আমার প্রজন্মের পাঠকরা নিশ্চয় বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত৷ এরপর একে একে ভিসিআর, ভিসিডি আর ডিভিডির মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল৷ মাঝেমধ্যে সিনেমা হলে ‘এক টিকিটে দুই ছবি’ দেখা৷ খোলামেলাভাবে বিষয়গুলো বলার একটিই কারণ – পাঠক, খেয়াল করে দেখুন, পর্নোগ্রাফির যে উৎসের কথাগুলো বললাম সেগুলো কিন্তু সহজলভ্য ছিল না৷ মফঃস্বলের ছেলে হওয়ায় ‘চটি’ সহজে ‘ম্যানেজ’ করা যেত না৷ আর ভিসিআর, ডিভিডি এগুলোও সবার বাড়িতে ছিল না৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

সমাজ

দেশি চটি বই থেকে বিদেশি ‘প্লেবয়’

একটা সময় পর্যন্ত ঢাকায় তো বটেই, দেশের প্রায় সব মফঃস্বল শহরেও গোপনে বিক্রি হতো ‘চটি বই’৷ আদিরসাত্মক গল্পের সেই বইগুলো লেখা হতো ছদ্মনামে৷ চটি বইয়ের বাইরে ‘জলসা’, ‘নাট্যরাজ-’এর মতো নিরীহ নামের কিছু ‘পিনআপ’ ম্যাগাজিনও ছিল, যেগুলো প্রকাশের উদ্দেশ্যই ছিল নারীদেহ এবং যৌনকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়ে পাঠক মনে যৌন উদ্দীপনা জাগানো৷ এছাড়া বড় শহরগুলোয় ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনও পাওয়া যেত৷

সমাজ

ভিসিআরের হাত ধরে ‘ব্লু ফিল্ম’

ভিডিও ক্যাসেট রেকর্ডার, অর্থাৎ ভিসিআরের কয়েক বছর পর হয়ত কোনো চিহ্নই থাকবে না৷ গত বছরের জুনেজাপানে তৈরি হলো বিশ্বের সর্বশেষ ভিসিআর৷ মানে বিশ্বের কোথাও আর কখনো ভিসিআর তৈরি হবে না৷ বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফির বিস্তারে এই ভিসিআর একসময় খুব বড় ভূমিকা রেখেছে৷ প্রেক্ষাগৃহে না গিয়ে ঘরে বসে হিন্দি, ইংরেজি ছবি দেখা শুরু হয়েছিল ভিসিআর দিয়ে৷ একটি চক্র তখন নানা জায়গায় গোপনে ‘ব্লু ফিল্ম’-ও দেখাতে শুরু করে৷

সমাজ

সিনেমা হলে ‘কাটপিস’

দেশের কিছু প্রেক্ষাগৃহে হলিউডের মুভি দেখানো হতো৷ এক সময় ঘোষিত মুভির ফাঁকে ফাঁকে দেখানো শুরু হয় ‘ব্লু ফিল্ম’৷ এই প্রবণতা অন্য হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে৷ বাংলা ছবির ফাঁকে ফাঁকে দেখানো শুরু হয় ‘কাট পিস’, অর্থাৎ পর্নো ছবির অংশ বিশেষ৷

সমাজ

সিডি থেকে ডিভিডি

কম্পিউটারের আগমনের পর থেকে অল্প অল্প করে কমপ্যাক্ট ডিস্ক, অর্থাৎ সিডিতেও ঢুকে পড়ে পর্নো ছবি৷ সেই ছবি পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে৷ সিডির পর এলো ডিজিটাল ভার্সেটাইল ডিস্ক, অর্থাৎ ডিভিডি৷ ভার্সেটাইল ডিস্ক দেশে জ্ঞান এবং সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে নিঃসন্দেহে ‘ভার্সেটাইল’ ভূমিকাই রাখছে, তবে পাশাপাশি যে পর্নোগ্রাফির ধারক, বাহক হিসেবেও এর একটা পরিচিতি গড়ে উঠেছে তা-ও অস্কীকার করা যাবে না৷

সমাজ

অন্তর্জালে পর্নোজাল

গত কয়েক বছরে দেশে ইন্টারনেট ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বিষ্ময়কর হারে বেড়েছে৷ সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ দশমিক ৬৮ কোটি৷ ইন্টারনেটের অপব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে৷ পর্নোসাইটের দৌরাত্ম এত ভয়াবহভাবে যে, সম্প্রতি পর্নোগ্রাফি ও আপত্তিকর কন্টেন্ট প্রকাশ বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) পাঁচশ’রও বেশি পর্নোসাইট বন্ধ করেছে৷

সমাজ

মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি

দেশের ৬ দশমিক ৬৮ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৪ দশমিক ১৮ শতাংশই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজ করে৷ ফলে মোবাইলই হয়ে উঠেছে পর্নোগ্রাফির সবচেয়ে বড় উৎস৷ হাতে হাতে মোবাইল, তাই পর্নোগ্রাফি ও আপত্তিকর কন্টেন্টও হয়ে উঠেছে সহজলভ্য৷

সমাজ

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ‘‘দেশে প্রতি ১২ সেকেন্ডে অন্তত একটি করে নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে৷’’ নতুন অ্যাকাউন্টগুলোর উল্লেখযোগ্য একটি অংশই ‘ভুয়া’৷ এভাবে কিছু লোক ফেসবুক, টুইটারেও নানা ধরণের অপতৎপরতা চালাচ্ছে৷ এর ফলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও পর্নোগ্রাফির বিস্তার বাড়ছে৷

আর এখন? এখন তো স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট আসায় চাইলেই পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট দেখা যাচ্ছে৷ সহজে পাবার এই কারণটিই এই যুগের বাবা-মার চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কারণ এখনকার বাচ্চারা ছোট্ট বেলা থেকেই মা-বাবার স্মার্টফোন নিয়ে গেম খেলছে৷ ইউটিউবে নিজেই কার্টুন ছেড়ে দেখছে৷ স্কুলে একা যেতে শুরু করা সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বিবেচনা করেই হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে অল্প বয়সে সন্তানদের হাতে মোবাইল দিতে হচ্ছে৷ অর্থাৎ সেটি তাদের নিজেদের মোবাইল হচ্ছে৷ সেই মোবাইল দিয়ে তারা কী করছে তা তো আর আমি, আপনি জানতে পারব না৷ স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে পর্নোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়াটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে মাত্র৷ বাচ্চারা নিজের মোবাইল ছাড়াও বাসার কম্পিউটার বা ট্যাবলেট দিয়েও পর্নোগ্রাফি দেখতে পারে৷

এই অবস্থা থেকে সন্তানদের রক্ষায় তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার বিকল্প নেই৷ তবে ওতেই সব হয়ে যাবে না৷ স্বাভাবিক প্রবৃত্তি থেকে সন্তান ওসব দেখতে চাইতেই পারে৷ সেক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া ছাড়া উপায় নেই৷ আমার নিজের জন্য আমি আমার করণীয়ের একটি তালিকা করেছি৷ পাঠক, আপনিও দেখতে পারেন৷

  • বাসার কম্পিউটারের সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগলকে ‘সেফ সার্চ’ মুডে রাখতে হবে৷ ইউটিউবের জন্যও ‘সেফ’ মুড নির্বাচন করতে হবে৷
  • উইন্ডোজ আর ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম – দুটোতেই ‘ফেমিলি সেফটি সেটিংস’-এর ব্যবস্থা আছে৷ সেগুলো ব্যবহার করতে হবে৷
  • আজকাল বেশ কিছু ফেমিলি সেফটি টুলস পাওয়া যায়৷ এগুলো ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ নামেও পরিচিত৷ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে আপনি যে কন্টেন্টগুলো পেতে চান না, সেগুলো ব্লক করতে হবে৷
    DW Bengali Mohammad Zahidul Haque

    জাহিদুল হক, ডয়চে ভেলে

  • সন্তানের ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের ইতিহাস মাঝেমধ্যে দেখতে হবে৷ মনে রাখতে হবে আজকালকার ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়েদের চেয়েও বুদ্ধিমান হয়ে থাকে৷ তাই আপনি যে শব্দগুলো ব্লক (অর্থাৎ সার্চের সময় যে শব্দগুলো ব্যবহার করলে কোনো কন্টেন্ট দেখাবে না) করেছেন আপনার সন্তান তা এড়াতে অন্য শব্দ ব্যবহার করতে পারে৷ যেমন ‘ওয়াকিং দ্য ডগ’ হচ্ছে ‘সেক্স’ এর স্ল্যাং৷ বাবা-মা হিসেবে আপনাকে এ ধরণের ‘আধুনিক’ শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে৷ তবে সমস্যা হচ্ছে, প্রতিদিনই এরকম নতুন নতুন শব্দ তৈরি হচ্ছে৷
  • সন্তান একটু বড় হলে ‘সেক্সটিং’-এর প্রবণতা দেখা দিতে পারে৷ সেক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর তাদের মোবাইল পরীক্ষা করে দেখতে হবে৷
  • সন্তানের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের উপরও নজর রাখতে হবে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

‘নিষিদ্ধ’ বিষয়

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে যৌনতা সংক্রান্ত মনোবৃত্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে৷ জার্মানিতে ‘ব্রাভো’-র মতো টিনেজার ম্যাগাজিনগুলিতে খোলাখুলি সেক্স সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়৷ এর আগে ফিল্মেও যা ‘নিষিদ্ধ’ বিষয় ছিল, তাই নিয়েই তৈরি হয় ১৯৬৮ সালের হিট ছবি ‘সুয়র জাখে, শ্যাটসেন’ বা ‘পথে এসো, প্রেয়সী’৷ এখানে ছবির নায়ক-নায়িকা ভ্যার্নার এঙ্কে ও উশি গ্লাস; মাঝের মহিলাটি হলেন পরিচালিকা মাই স্পিল্স৷

মা যা ছিলেন

পঞ্চাশের দশকেও দুনিয়াটা ‘ঠিকঠাক’ ছিল – অন্তত নবীন পশ্চিম জার্মানির নীতি-নৈতিকতা যাদের দায়িত্বে, তাদের চোখে৷ নারীর স্থান ছিল গৃহে, সংসারে, পতিব্রতা স্ত্রী, স্নেহময়ী জননী, নিপুণা গৃহকর্ত্রী হিসেবে৷ কাজে যেতেন শুধু পুরুষরা৷ জনসমক্ষে সেক্স নিয়ে কথা বলা কিংবা রাস্তায় চুমু খাওয়া চলত না৷ ব্যক্তিগত জীবন ও নৈতিকতা ছিল গির্জা বা সরকারের তাঁবে৷

আদম ও হবার কাহিনি

১৯৫১ সালের জার্মান ছবি ‘দি জ্যুন্ডারিন’ বা ‘পাপিনী’ জার্মান ফিল্ম জগতে কেলেংকারির অবতারণা ঘটায়৷ রক্ষণশীল চ্যান্সেলর কনরাড আডেনাউয়ার-এর আমলে এ ধরনের ‘নোংরামি’ সেন্সর করা উচিত, এই ছিল অধিকাংশ মানুষের অভিমত৷ ‘পাপিনী’ ছবির যৌনোদ্দীপনামূলক দৃশ্যগুলো ছিল অতি সংক্ষিপ্ত, তা সত্ত্বেও ছবিটিকে কেন্দ্র করে নৈতিকতা ও প্রকাশ্য যৌনতা নিয়ে বিপুল তর্ক শুরু হয়ে যায়৷

নারীমুক্তি

শেরিং কোম্পানি যখন ১৯৬১ সালে প্রথম গর্ভনিরোধক ‘পিল’ বাজারে ছাড়তে শুরু করে, তখন জার্মানির গির্জায় গির্জায় ‘যুবসমাজের নৈতিক অধোপতন’ সম্পর্কে ভাষণ শোনা গেছে৷ পিল নেওয়ার ফলে মহিলাদের যৌন আসক্তির খবর বেরোয় পত্রপত্রিকায়৷ সব সত্ত্বেও, গর্ভনিরোধের নতুন উপায়গুলি মহিলাদের স্বনির্ধারণে সাহায্য করে৷

ছাত্র বিপ্লব, যৌন বিপ্লব

ষাটের দশকের শেষে জার্মানিতে যে ছাত্র বিপ্লব দেখা দেয়, তার সঙ্গে তথাকথিত ‘কাউন্টার কালচার’ বা বিকল্প সংস্কৃতিরও যোগ ছিল৷ সেই বিকল্প সংস্কৃতি – হিপি আমলের রূপরেখা অনুযায়ী – খোলা এবং স্বাধীন যৌনতায় বিশ্বাস করত, যার একটা প্রমাণ পাওয়া যায় ‘কমিউন ওয়ান’-এর মতো কুখ্যাত কলোনিতে স্ত্রী-পুরুষের একসঙ্গে বাস ও সহবাসে৷ যে কারণে রাইন্যার লাংহান্স এবং উশি ওবারমায়ার-এর মতো চরিত্র আজও অবিস্মৃত৷

যৌনশিক্ষা

৬৮-র ছাত্র বিপ্লব পশ্চিমে পরিবারজীবনের সংজ্ঞাই বদলে দেয়৷ তরুণ বাবা-মায়েরা নিজেদের ‘বাবা’ কি ‘মা’ বলে অভিহিত না করে, নাম ধরেই ডাকতে শুরু করেন৷ ১৯৬৯ সালে স্কুলের জীববিজ্ঞান ক্লাশে একটি যৌনশিক্ষার ‘মানচিত্র’ চালু করা হয়৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অর্থানুকুল্যে সৃষ্ট ‘হেলগা’ নামধারী একটি যৌনশিক্ষার ফিল্ম দেখতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হতো৷

মেইল-অর্ডার যৌনতা

‘বেয়াটে উজে’ বললেই জার্মানির শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ আজও বোঝেন: মেইল-অর্ডার সেক্স-শপ৷ যদিও সে-ধরনের দোকানে বাস্তবিক ঢোকার মতো সাহস আজও সকলের নেই – লোকলজ্জা বলে একটা কথা আছে তো৷ বেয়াটে উজে-র বাণিজ্যিক সাফল্যের সূচনা ১৯৪৮ সালে, যখন তিনি মহিলাদের গর্ভনিরোধের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন৷ তার পরে আসে তাঁর মেইল-অর্ডার সেক্স-শপ৷

পশ্চিমের আগে পুব

সাবেক পূর্ব জার্মানির মানুষরা তাদের পশ্চিমের সতীর্থদের চেয়ে অনেক বেশি যৌন স্বাধীনতা ভোগ করেছেন৷ গোটা পূর্ব জার্মানি জুড়ে ছিল নিউডিস্ট ক্লাব৷ যৌনতার বিচারে পুবের মেয়েরা পশ্চিমের মেয়েদের চেয়ে বেশি ‘স্বাধীন’ ছিলেন, বাচ্চাদের সরকারি ডে-কেয়ারে জমা করে প্যান্ট-শার্ট পরে কাজে যেতেন৷ স্বাধীনতার অপরপীঠে ছিল রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা৷ যেমন এই সাইনটিতে পূর্ব জার্মানির মায়েদের ‘ধন্যবাদ’ জানানো হচ্ছে৷

‘বিকারগ্রস্ত সমাজ’

যে সব চিত্রপরিচালক সর্বপ্রথম সমকামিতা নিয়ে ছবি তৈরি করেন, রোজা ফন প্রাউনহাইম ছিলেন তাঁদের অন্যতম৷ ১৯৭১ সালে তিনি একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেন, যার বক্তব্য ছিল: সমকামী নিজে বিকারগ্রস্ত নয়, বিকারগ্রস্ত হল তার সমাজ৷ এভাবেই তিনি জার্মানির ‘গে’ এবং ‘লেসবিয়ান’ সম্প্রদায়ের জন্য সম্মান ও সমানাধিকার আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে দেন৷

যুগ-যুগান্তের সংস্কার

জার্মানিতে সমকামিতা ছিল একটি বিতর্কিত বিষয়, রাজনীতিকরাও যা নিয়ে কথা বলতে ভয় পেতেন৷ আইনের যে সূত্র – ১৭৫ নং অনুচ্ছেদ – দু’টি পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছিল, সেই অনুচ্ছেদটি ১৯৬৯ সালে কিছুটা নরম করার পর, ১৯৯৪ সালে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়৷ কিন্তু – বিশেষ করে খেলাধুলার জগতে – সমকামীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব আজও পুরোপুরি উধাও হয়নি৷

নারী না পুরুষ?

ট্র্যান্সভেস্টাইট আর্টিস্ট, ২০১৪ সালের ইউরোভিশন সং কনটেস্ট বিজয়ী কনচিটা ভুয়র্স্ট ওরফে টম নয়ভির্থ আজ একজন সেলিব্রিটি৷ দাড়ি-সম্বলিত, ইভনিং গাউন পরিহিতা কনচিটা ২০১৫ সালের ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় উপস্থাপিকা ছিলেন৷ তা-তে কারো কোনো আপত্তি দেখা যায়নি – আপাতদৃষ্টিতে৷...

ইতিহাস

জার্মানির ‘ড্র্যাগ কুইন’ তথা টিভি হোস্ট লিলো ভান্ডার্স এই প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন৷ ‘নির্লজ্জ? পরিবর্তনের মুখে যৌন নৈতিকতা’ প্রদর্শনীটি চলবে ২০১৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি অবধি, বন শহরের ‘হাউড ডেয়ার গেশিস্টে’ বা ইতিহাস ভবনে৷