পর্যটনও একটা শিল্প

জার্মানি শিল্প-প্রযুক্তির দেশ৷ আবার এদেশে বেড়াতে এলে মনে হবে, যেন পর্যটনের দেশ৷ জার্মানরা আসলে শিল্প এবং পর্যটন, দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দেন, সমান আন্তরিকতার সঙ্গে হাসিল করেন৷

বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টিকোণ থেকে জার্মানি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশগুলির একটি৷ আবার জার্মানরা বিদেশের মতো স্বদেশেও বেড়াতে ভালোবাসেন, যদিও সেখানে পার্থক্য থেকে যায়৷ বিদেশি টুরিস্টদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় এলাকা হলো বাভেরিয়া৷ দেশি পর্যটক, অর্থাৎ জার্মানদের কাছে কিন্তু মেকলেনবুর্গ আর পশ্চিম পমেরানিয়া৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

সব মিলিয়ে জার্মানির পর্যটন শিল্পের বাৎসরিক লেনদেনের পরিমাণ হলো ১৪,০০০ কোটি ইউরো৷ জার্মানির জিডিপির প্রায় নয় শতাংশ আসে পর্যটন শিল্প থেকে৷ এই শিল্পে কাজ করেন ২৮ লাখ মানুষ৷ বছরে সাড়ে বারো কোটি অতিথি, তাদের মধ্যে দশ কোটি বিদেশি আর আড়াই কোটি স্বদেশি, মানে জার্মান৷ পরিসংখ্যান আপনাকে জানিয়ে দেবে যে, জার্মানির ৫৪,১৬৬টি হোটেলে প্রায় ২৬ লক্ষ বেড বা শয্যা আছে৷ এইসব হোটেলে বছরে মোট ৩৫ কোটি রাত্রিবাস করেন দেশি-বিদেশি টুরিস্টরা

সংস্কৃতি

নম্বর ১০: ড্রেসডেন শহরের পুরনো অংশ

এলবে নদীর পাশে অবস্থিত এই অংশে গেলে রেনেসাঁ, বারোক ও উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত কয়েকটি ঐতিহাসিক ভবনের দেখা পাওয়া যায়৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৯: কোলন ক্যাথিড্রাল

প্রতিদিন ২০ হাজারের মতো মানুষ এই গির্জা দেখতে যান৷ সাত শ’ বছরেরও বেশি পুরনো কোলন ডোম তৈরিতেও প্রায় একইরকম সময় লেগেছে৷ ১৯৯৬ সালে এটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৮: উল্ম শহরের গির্জা

এই গির্জার টাওয়ারটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু - ১৬১.৫৩ মিটার৷ ১২৬ বছর আগে এই গির্জার নির্মাণকাজ শেষ হয়৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৭: মানহাইমের বারোক শৈলীর প্রাসাদ

এই প্রাসাদের একটি অংশ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৬: লেক কন্সটান্স অঞ্চল

জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালা এলাকায় এই লেকটি অবস্থিত৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৫: রথেনবুর্গ অব ডেয়ার টাওবার

জার্মানির বিখ্যাত ‘রোম্যান্টিক রোড’এর অংশ রথেনবুর্গে গেলে এখনও মধ্যযুগের ঐতিহ্যের দেখা পাওয়া যায়৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৪: নয়শোয়ানশ্টাইন দুর্গ

প্রতিবছর ১৪ লাখের মতো মানুষ দুর্গটি দেখতে যান৷ ১৮৬৯ সালে এটি তৈরি করেন রাজা দ্বিতীয় লুডভিশ৷

সংস্কৃতি

নম্বর ৩: রুস্ট শহরের ইউরোপা পার্ক

প্যারিসের ডিজনিল্যান্ডের পর রুস্ট শহরের এই থিম পার্কটিই ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়৷ জার্মানির সবচেয়ে বড় থিম পার্কও এটি৷

সংস্কৃতি

নম্বর ২: হাইডেলব্যার্গ ক্যাসেল ও পুরনো শহর

সংস্কৃতি

নম্বর ১: হামবুর্গের মিনিয়েচার ওয়ান্ডারল্যান্ড

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘মডেল রেললাইন’ এটি৷ ভিডিও দেখতে উপরে ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷

জার্মানিতে সব কিছুরই হিসেব আছে, সব কিছুই গোণা আছে, নথিবদ্ধ করা আছে৷ কাজেই আমরা আরো জানাতে পারি যে, জার্মানিতে ৬,১৩৫টি মিউজিয়াম, ৩৬০টি থিয়েটার, ৩৪টি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ৪৫,০০০ টেনিস কোর্ট, ৬৪৮টি গল্ফ লিংকস ও ১২২টি ন্যাশনাল পার্ক ৷ সেই সঙ্গে আছে মাঠে-ঘাটে, বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর ১ লাখ ৯০,০০০ কিলোমিটার পায়ে হাঁটার পথ; আর আছে সাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর ৪০,০০০ কিলোমিটার পথ৷

টুরিস্টরা কেন জার্মানিতে আসেন?

প্রথমত এদেশে টুরিজমের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা অবকাঠামো আছে৷ পরিবহণ, হোটেল, আর্থিক লেনদেন বা কেনাকাটা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা – সবচেয়ে বড় কথা, নিরাপত্তা, এ সবই বর্তমান৷

দ্বিতীয়ত, নৈসর্গিক বিচারে দেশটা চমকপ্রদ না হলেও, সুখপ্রদ, অর্থাৎ সুন্দর ও সবুজে ঢাকা৷ পোল্যান্ড কিংবা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশ থেকে জার্মানিতে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়ে এখানকার মাঠপ্রান্তর, বন-বনানী যেন পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে, সাজিয়ে-গুছিয়ে, ইউনিফর্ম পরিয়ে স্কুলের ছেলেমেয়েদের মতো সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া এক প্রকৃতি৷ আবার সুইস অাল্প্সের উদাত্ততাও নেই এখানে, নেই ইটালির রেনেসাঁস শিল্পীর তেলরঙে আঁকা ক্যানভাসের মতো গাঢ় নান্দনিকতা৷ কিন্তু এখানকার প্রকৃতি ফসল দেয়, দেয় স্বাস্থ্য, দেয় হাঁপ ছাড়ার জায়গা৷

তৃতীয়ত, ইউরোপ জুড়ে যুদ্ধে ভাঙচুর রোমানদের আমল থেকেই হচ্ছে, দুই বিশ্বযুদ্ধের তো কথাই নেই৷ তার মধ্যে যে ক'টি দেশ সেই সব ভাঙা বা না ভাঙা, আধভাঙা সব দুর্গ-প্রাসাদ-স্মৃতিসৌধ সারিয়ে, রং-মেরামত করে, সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে পেরেছে, তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে জার্মানির নাম করতে হয়৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

এদেশে পাঁচশ'-সাতশ' বছরের পুরনো আধা কাঠের বাড়িগুলোকে রাখা হয় নতুন বাড়িগুলোর চেয়েও বেশি যত্নআত্তি করে৷ মালিকের টাকা না থাকলে, সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়, কেননা, একটা দেশ, একটা জাতির অতীতকে বাঁচিয়ে রাখার কর্তব্য তো শুধু এককভাবে নাগরিকের হতে পারে না৷

ইতিহাস ইতিহাসই

ইতিহাসের ভালো-মন্দ, নীতি-নৈতিকতা নেই৷ মানুষকে যা টানে, মানুষ যা দেখতে চায়, তাই ইতিহাস৷ তাই বার্লিন প্রাচীরের অবশেষ আর চেকপয়েন্ট চার্লি দেখতে জার্মানিতে আসেন বহু পর্যটক৷ সেই পর্যটকরাই আবার রাইন নদের ধারে রোমক উপনিবেশের চিহ্ন দেখতে যান, যা গত শতাব্দীর না হয়ে পাক্কা দু'হাজার বছর পুরনো৷ এভাবেই ব্যারোক, রকোকো, রোম্যান্টিক বা নিও-ক্লাসিক্যাল স্থাপত্য ও শিল্পকলার হাজার বছরের নিদর্শন সযত্নে রক্ষিত ও সুরক্ষিত আছে জার্মানিতে - টুরিস্টদের অপেক্ষায়৷

শুধু জার্মানি কেন, ইউরোপের প্রায় সব দেশ, সব জাতিই অল্পবিস্তর টুরিজমের মর্ম বোঝে বা আবিষ্কার করে ফেলেছে৷ টুরিস্ট মানে যে বাড়ি এসে বিজ্ঞাপন দেখে যায়, অন্য আরো পঁচিশ ধরণের পঁচিশটা পণ্যের বিজ্ঞাপন৷ উন্নত দেশে সব শিল্পই সব শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, সব মিলিয়ে যেন একটি সিমফনি অর্কেস্ট্রা৷ অনেকগুলি বাদ্যযন্ত্র বাজছে, কিন্তু ঐকতানে৷ তৃতীয় বিশ্বে একতরফাভাবে টুরিজমের ডেভেলপমেন্ট করার চেষ্টা করা হয়৷ জার্মানিতে দেখেশুনে মনে হয়, সর্বাঙ্গীন ডেভেলপমেন্ট ছাড়া টুরিজমের ডেভেলপমেন্টও সম্ভব নয়৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

স্টাফেলসে, বাভারিয়া

জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য বাভারিয়ার অনেক লেকের পেছনে পাহাড়ের চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড পাওয়া যায়৷ সেখানকার সবচেয়ে বড় লেক কিমসে আশি কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত৷ সে তুলনায় মুর্নাওয়ে অবস্থিত স্টাফেলসে আকারে ছোট হলেও আলোর জন্য বেশি জনপ্রিয়৷

আইবসে, বাভারিয়া

জার্মানির সবচেয়ে দর্শনীয় মাউন্টেইন লেকের অবস্থান জার্মানি সর্বোচ্চ শিখর, স্যুগসপিৎসের পাদদেশে৷ লেকটির পানি বেশ স্বচ্ছ৷ আপনি চাইলে এটির চারপাশে হাঁটতে পারেন কিংবা সাইকেলে ঘুরে দেখতে পারেন৷

লেক কন্সটান্স, বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ

জার্মানি এই লেকটি সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার সঙ্গে শেয়ার করে৷ কন্সটানৎস হার্বারের প্রবেশপথে একটি মূর্তি রয়েছে যাতে এক বারবনিতার এক হাতে পোপ এবং অপর হাতে সম্রাট বসে আছে দেখানো হয়েছে৷ ছয় শতক আগে কন্সটান্সে কাউন্সিলের নৈতিক শিথিলতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল মূর্তিটিতে৷

ডাউনা মারে, রাইনলান্ড-ফাল্ৎস

গাঢ় নীল এবং সাধারণত গোলাকার - তারা ‘আইফেলের চোখ’ হিসেবে পরিচিত৷ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে গড়ে উঠেছে এসব লেক৷ শুধু আইফেল অঞ্চলে এমন লেকের সংখ্যা সত্তরটির মতো৷

ব্লাইলখটালস্প্যায়ারে, ট্যুরিংগেন

সালে নদীতে বাঁধ দেয়ার পর পানির এই ক্ষেত্র তৈরি হয়৷ ৬৫ মিটার উঁচু বাঁধটির আশেপাশের ২৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চমৎকার এক ল্যান্ডস্ক্যাপ তৈরি হয়েছে৷ সেখানে তিনদিনের ছোট ক্রুজেও যাওয়া যায়৷

লাওসিৎসার সেনলান্ড, স্যাক্সনি

ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম লেক কমপ্লেক্সের কাজ এখনো চলছে৷ সাবেক এই উন্মুক্ত কয়লা খনিটি পানি দিয়ে পুরোপুরি পূর্ণ করতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে৷

ম্যুরিৎস, ম্যাকলেনবুর্গ-ফোরপোমান

জার্মানির উত্তরাঞ্চলের রাজ্য ম্যাকলেনবুর্গ-ফোরপোমানে দু’হাজারের বেশি লেক রয়েছে৷ ম্যুরিৎস লেকটি জার্মানির সবচেয়ে বড় লেক৷ এখান থেকে একটি জটিল পানিপথ ধরে হামবুর্গ বা বার্লিন অবধি নৌকায় যাওয়া যায়৷