‘পশু মানুষ হতে পারে না, কিন্তু মানুষ খুব সহজেই পশু হতে পারে'

‘‘আমরা মানুষের অধিকার রক্ষায় যদি সফল হই, তাহলে প্রাণী অধিকার রক্ষায়ও সফল হবো৷'' ‘প্রাণী অধিকার' নিয়ে ডিডাব্লিউ-র বিশে আয়োজনের প্রতিবেদনগুলো পড়ে একজন পাঠক আমাদের ফেসবুক পাতায় এই মন্তব্য করেছেন৷

যে দেশে মানুষের অধিকারেরই ঠিক নেই, সে দেশে আবার প্রাণীর অধিকার! হ্যাঁ বাংলাদেশের প্রাণীর অধিকার সম্পর্কে পাঠক শাকিল বলছেন, ‘‘মানুষ হত্যার বিচার হয় এই দেশে? বিচারই বা করবে কারা? যারা বিচার করবে, আইন নিয়ন্ত্রণ করবে তারাই তো বড় বেশি আইন ভঙ্গ করে৷''

মো. সেলিমও অনেকটা তাই মনে করেন৷ বাংলাদেশে প্রাণী হত্যা, প্রাণী অধিকার সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘বাংলাদেশে আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই৷''

‘‘আমরা মানুষের অধিকার রক্ষায় যদি সফল হই, তাহলে প্রাণী অধিকার রক্ষায়ও সফল হবো৷ মানুষ শাসিত সমাজ, তাই মানুষের কথাই তো আগে বলতে হবে, তাই না? আমি অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি মাছ, মাংস নাকি হিংসা আর অহংকার বৃদ্ধি করে৷ আর তা আজকের সমাজের দিকে তাকালে বোঝা যায়৷ মানুষগুলো জানোয়ারের চেয়ে হিংস্র হয়ে গেছে৷'' ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অর্জুন বৈদ্য৷

বেড়াল শান্ত রাখে

‘স্ট্রেস’ বা চাপ? না, এই শব্দ বেড়াল একেবারেই চেনে না৷ আর সেটা ওদের চোখের দিকে সরাসরি তাকালেই বোঝা যায়৷ বেড়ালকে শিকারে নিয়ে যান, মেঝেতে পিঁপড়ে ছড়িয়ে দিন কিংবা শুকনো পাতার ওপর হাঁটুন, কিছুতেই বেড়াল উত্তেজিত হবে না বা ওর গায়ের কোনো পেশী ফুলে উঠবে না৷ তাই বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে আমরা বেড়ালের কাছ থেকে নিজেকে শান্ত রাখার কৌশল শিখতে পারি৷

মিশুক প্রাণী ডলফিন

পানিতে যাদের বসবাস, তাদের মধ্যে ডলফিন খুবই মিশুক৷ পানিতে খেলার সময় বা ট্রেনিং-এর সময় সহজেই তারা একে-অপরের বন্ধু হয়ে যায়৷ মানুষের সঙ্গেও তাদের সহজেই বন্ধুত্ব হয়৷ তার ওপর স্মরণশক্তিও ওদের খুব ভালো৷ ২০ বছর পরও ডলফিন তার বন্ধুকে চিনতে পেরে কাছে টেনে নেয়৷ যা সত্যিই মানুষের হিংসে করার মতো৷ আহা মানুষ যদি এমন হতো!

কুকুরের কোনো অভিযোগ নেই!

প্রভুভক্ত কুকুরের একাকী সারাদিন কেমন কেটেছে, তা নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই৷ বরং মনিব বাড়িতে এসে একটু আদর করলেই সে মহাখুশি৷ কুকুরের ক্ষেত্রে যেটা লক্ষ্যণীয় তা হচ্ছে, সে বিনা শর্তে ভালোবাসে, খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বাস অর্জন করে এবং সহজে ক্ষমাও করতে পারে৷

ঘোড়া ভালো নেতৃত্ব দেয়

ঘোড়া একদিকে যেমন ভদ্র, অন্যদিকে সহসী ও নেতৃত্বে পটু৷ সে সহজেই মনিবের ভাষা বোঝে, যা অন্যদের ‘মোটিভেট’ করতে পারে৷ এই সুন্দর, শান্ত প্রাণী যতক্ষণ না কোনো নির্দেশ পায়, ততক্ষণ চুপচাপ থাকে৷ তবে কিছু বললে সাথে সাথে বুঝে তার প্রতিক্রিয়া জানায়৷ অন্যদিকে কেউ ঘোড়াকে ক্ষেপালে সে মুহূর্তেই প্রতিবাদ করে ওঠে৷ অর্থাৎ ভদ্র, সাহসী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ঘোড়া৷

একতাই বল, দলই শক্তি

‘একের বোঝা দশের লাঠি’ বা ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ – এ সব প্রবাদবাক্যের প্রমাণ আমাদের দিয়েছে ‘পরিযায়ী পাখি’৷ এরা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে ‘টিম স্পিরিট’ বা ‘দলীয় শক্তি’ কাকে বলে৷ আজকের যুগে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়৷ শুধুমাত্র দলের সকলে মিলে কাজ করলেই সাফল্য অর্জন সম্ভব, ঠিক এই পাখিদের মতো৷ তবে দলকে একত্রিত করে সফল হতে প্রয়োজন শক্তিশালী গাইড বা দলনেতা৷

ধৈর্য

প্রাণীরা বর্তমান সময়কেই উপভোগ করে৷ মানুষদের মতো আগামীতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করে না৷ কোনো কিছুতে তাড়াহুড়ো নেই তাদের৷ বেড়ালকে দেখুন, কী সুন্দর নিশ্চন্তে বসে থাকে বা কুকরকে নিয়ে বাইরে বের হলেই লক্ষ্য করবেন যে, তারা শীত, গ্রীষ্ম, বৃষ্টির কথা না ভেবে যতক্ষণ দরকার ততটা সময় ব্যয় করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে৷ আজকের তরুণরা চাইলে প্রাণীদের কাছ থেকে ধৈর্য ধরা শিখতে পারে৷

শোনায় মনোযোগী

প্রাণীরা শোনার ক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী, যা ওদের কান খাড়া করে থাকা দেখেই বোঝা যায়৷ ওরা চুপ করে বসে শোনে এবং সেভাবেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়৷ প্রাণীদের কাছে থেকে মানুষরা এই গুণটি গ্রহণ করলে নিঃসন্দেহে তা মানবজাতির অনেক উপকারে আসতে পারে৷ কারণ মানুষের সাধারণত শোনার চেয়ে বলাই পছন্দ৷ ফলে সৃষ্টি হয় ভুল বোঝবুঝি, আবার অনেক সময় কিছু বিষয় স্পষ্ট হয় না৷

সুন্দরবনের বাঘ কমে যাওয়া নিয়ে ডয়চে ভেলের বন্ধু তাপস দেবনাথও বেশ চিন্তিত৷ যেমন

‘সুন্দরবনের বাঘ কমছে আর চোরাশিকারিরাই এর প্রধান শত্রু' – এই প্রতিবেদনটি পড়ে তাপস দেবনাথের মন্তব্য এরকম, ‘‘কমতে কমতে একদিন কিছুই থাকবে না, যে অবস্থা! তবে প্রাণীদের প্রতি একটু যত্নশীল হলে তবে ওরা সংখ্যায় বাড়বে৷''

অন্যদিকে চোরাশিকারীদের নিয়ে রসিকতা করে সাইফুল রফিক লিখেছেন, ‘‘বনে অনেকগুলা সিংহ ছাড়তে হবে, চোরাশিকারীদের ‘সাইজ' করার জন্য৷'' ‘সত্যি কথা' হারুন মুল্লাহর এই মন্তব্য৷

মার্কিন এই কমেডিয়ান টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর জনপ্রিয় শো-তে নিয়মিতভাবে প্রাণী অধিকারের বিষয়টি তুলে আনেন৷ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে তাঁকে ‘ওমেন অফ দ্য ইয়ার’ খেতাব দেয় প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশ্বের অন্যতম বড় সংগঠন ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিমেল’ (পেটা)৷

যে দেশে মানুষের অধিকারেরই ঠিক নেই, সে দেশে আবার প্রাণীর অধিকার! হ্যাঁ বাংলাদেশের প্রাণীর অধিকার সম্পর্কে পাঠক শাকিল বলছেন, ‘‘মানুষ হত্যার বিচার হয় এই দেশে? বিচারই বা করবে কারা? যারা বিচার করবে, আইন নিয়ন্ত্রণ করবে তারাই তো বড় বেশি আইন ভঙ্গ করে৷''

মো. সেলিমও অনেকটা তাই মনে করেন৷ বাংলাদেশে প্রাণী হত্যা, প্রাণী অধিকার সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘বাংলাদেশে আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই৷''

‘‘আমরা মানুষের অধিকার রক্ষায় যদি সফল হই, তাহলে প্রাণী অধিকার রক্ষায়ও সফল হবো৷ মানুষ শাসিত সমাজ, তাই মানুষের কথাই তো আগে বলতে হবে, তাই না? আমি অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি মাছ, মাংস নাকি হিংসা আর অহংকার বৃদ্ধি করে৷ আর তা আজকের সমাজের দিকে তাকালে বোঝা যায়৷ মানুষগুলো জানোয়ারের চেয়ে হিংস্র হয়ে গেছে৷'' ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অর্জুন বৈদ্য৷

বেড়াল শান্ত রাখে

‘স্ট্রেস’ বা চাপ? না, এই শব্দ বেড়াল একেবারেই চেনে না৷ আর সেটা ওদের চোখের দিকে সরাসরি তাকালেই বোঝা যায়৷ বেড়ালকে শিকারে নিয়ে যান, মেঝেতে পিঁপড়ে ছড়িয়ে দিন কিংবা শুকনো পাতার ওপর হাঁটুন, কিছুতেই বেড়াল উত্তেজিত হবে না বা ওর গায়ের কোনো পেশী ফুলে উঠবে না৷ তাই বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে আমরা বেড়ালের কাছ থেকে নিজেকে শান্ত রাখার কৌশল শিখতে পারি৷

মিশুক প্রাণী ডলফিন

পানিতে যাদের বসবাস, তাদের মধ্যে ডলফিন খুবই মিশুক৷ পানিতে খেলার সময় বা ট্রেনিং-এর সময় সহজেই তারা একে-অপরের বন্ধু হয়ে যায়৷ মানুষের সঙ্গেও তাদের সহজেই বন্ধুত্ব হয়৷ তার ওপর স্মরণশক্তিও ওদের খুব ভালো৷ ২০ বছর পরও ডলফিন তার বন্ধুকে চিনতে পেরে কাছে টেনে নেয়৷ যা সত্যিই মানুষের হিংসে করার মতো৷ আহা মানুষ যদি এমন হতো!

কুকুরের কোনো অভিযোগ নেই!

প্রভুভক্ত কুকুরের একাকী সারাদিন কেমন কেটেছে, তা নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই৷ বরং মনিব বাড়িতে এসে একটু আদর করলেই সে মহাখুশি৷ কুকুরের ক্ষেত্রে যেটা লক্ষ্যণীয় তা হচ্ছে, সে বিনা শর্তে ভালোবাসে, খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বাস অর্জন করে এবং সহজে ক্ষমাও করতে পারে৷

ঘোড়া ভালো নেতৃত্ব দেয়

ঘোড়া একদিকে যেমন ভদ্র, অন্যদিকে সহসী ও নেতৃত্বে পটু৷ সে সহজেই মনিবের ভাষা বোঝে, যা অন্যদের ‘মোটিভেট’ করতে পারে৷ এই সুন্দর, শান্ত প্রাণী যতক্ষণ না কোনো নির্দেশ পায়, ততক্ষণ চুপচাপ থাকে৷ তবে কিছু বললে সাথে সাথে বুঝে তার প্রতিক্রিয়া জানায়৷ অন্যদিকে কেউ ঘোড়াকে ক্ষেপালে সে মুহূর্তেই প্রতিবাদ করে ওঠে৷ অর্থাৎ ভদ্র, সাহসী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ঘোড়া৷

একতাই বল, দলই শক্তি

‘একের বোঝা দশের লাঠি’ বা ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ – এ সব প্রবাদবাক্যের প্রমাণ আমাদের দিয়েছে ‘পরিযায়ী পাখি’৷ এরা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে ‘টিম স্পিরিট’ বা ‘দলীয় শক্তি’ কাকে বলে৷ আজকের যুগে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়৷ শুধুমাত্র দলের সকলে মিলে কাজ করলেই সাফল্য অর্জন সম্ভব, ঠিক এই পাখিদের মতো৷ তবে দলকে একত্রিত করে সফল হতে প্রয়োজন শক্তিশালী গাইড বা দলনেতা৷

ধৈর্য

প্রাণীরা বর্তমান সময়কেই উপভোগ করে৷ মানুষদের মতো আগামীতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করে না৷ কোনো কিছুতে তাড়াহুড়ো নেই তাদের৷ বেড়ালকে দেখুন, কী সুন্দর নিশ্চন্তে বসে থাকে বা কুকরকে নিয়ে বাইরে বের হলেই লক্ষ্য করবেন যে, তারা শীত, গ্রীষ্ম, বৃষ্টির কথা না ভেবে যতক্ষণ দরকার ততটা সময় ব্যয় করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে৷ আজকের তরুণরা চাইলে প্রাণীদের কাছ থেকে ধৈর্য ধরা শিখতে পারে৷

শোনায় মনোযোগী

প্রাণীরা শোনার ক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী, যা ওদের কান খাড়া করে থাকা দেখেই বোঝা যায়৷ ওরা চুপ করে বসে শোনে এবং সেভাবেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়৷ প্রাণীদের কাছে থেকে মানুষরা এই গুণটি গ্রহণ করলে নিঃসন্দেহে তা মানবজাতির অনেক উপকারে আসতে পারে৷ কারণ মানুষের সাধারণত শোনার চেয়ে বলাই পছন্দ৷ ফলে সৃষ্টি হয় ভুল বোঝবুঝি, আবার অনেক সময় কিছু বিষয় স্পষ্ট হয় না৷

সুন্দরবনের বাঘ কমে যাওয়া নিয়ে ডয়চে ভেলের বন্ধু তাপস দেবনাথও বেশ চিন্তিত৷ যেমন

‘সুন্দরবনের বাঘ কমছে আর চোরাশিকারিরাই এর প্রধান শত্রু' – এই প্রতিবেদনটি পড়ে তাপস দেবনাথের মন্তব্য এরকম, ‘‘কমতে কমতে একদিন কিছুই থাকবে না, যে অবস্থা! তবে প্রাণীদের প্রতি একটু যত্নশীল হলে তবে ওরা সংখ্যায় বাড়বে৷''

অন্যদিকে চোরাশিকারীদের নিয়ে রসিকতা করে সাইফুল রফিক লিখেছেন, ‘‘বনে অনেকগুলা সিংহ ছাড়তে হবে, চোরাশিকারীদের ‘সাইজ' করার জন্য৷'' ‘সত্যি কথা' হারুন মুল্লাহর এই মন্তব্য৷

‘পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা ভয়ংকর মানসিক বিকৃতির পরিচয়' ডয়চে ভেলের আলাপ পাতায় এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি পড়ে জলিলুর রহমান লিখেছেন, ‘‘পশু তো কখনও মানুষ হতে পারে না, কিন্তু মানুষ খুব সহজেই পশু হতে পারে৷ পশু নির্যাতন তারই এক চরম উদাহরণ৷ আর এই নির্যাতনকারী পশুরা শুধু পশুদের নয়, মানুষের সাথেও পৈশাচিক আচরণ করতে দ্বিধাবোধ করে না৷''

সমাজ-সংস্কৃতি

রায়ান গোসলিং

ক্যানাডীয় অভিনেতা ও সংগীত শিল্পী গোসলিং ২০০৩ সালে কেএফসির কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন৷ মুরগি পালন ও জবাইয়ের ক্ষেত্রে আরেকটু মানবিক হতে কেএফসিকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে ম্যাকডোনাল্ডসকেও একইরকম বার্তা পাঠান গোসলিং৷

সমাজ-সংস্কৃতি

এলেন ডিজেনেরাস

মার্কিন এই কমেডিয়ান টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর জনপ্রিয় শো-তে নিয়মিতভাবে প্রাণী অধিকারের বিষয়টি তুলে আনেন৷ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে তাঁকে ‘ওমেন অফ দ্য ইয়ার’ খেতাব দেয় প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশ্বের অন্যতম বড় সংগঠন ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিমেল’ (পেটা)৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ক্রিস্টেন বেল

মার্কিন অভিনেত্রী ও সংগীত শিল্পী বেল ১১ বছর বয়স থেকেই ভেজিটেরিয়ান৷ পেটা ২০০৬ সালে তাঁকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে যৌনআবেদনময়ী ভেজিটেরিয়ান’-এর খেতাব দেয়৷ প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনকে তিনি আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন৷ মাঝেমধ্যে তাঁদের কার্যক্রমেও অংশ নেন বেল৷

সমাজ-সংস্কৃতি

কেশা

২৮ বছর বয়সি মার্কিন এই সংগীত শিল্পী সীল, সিংহ ও হাঙরের মতো প্রাণীর অধিকারের জন্য তাঁর জনপ্রিয়তা কাজে লাগাচ্ছেন৷ কসমেটিকস তৈরিতে বিভিন্ন প্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার৷ এ ধরনের কাজের জন্য তিনি স্বীকৃতিও পেয়েছেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ভিওলা ডেভিস

সার্কাসের হাতিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা বাধ্য করে আইন করতে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড স্টেটের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন অভিনেত্রী ভিওলা ডেভিস৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ডেমি মুর

সার্কাসের হাতিদের প্রশিক্ষণে অঙ্কুশ ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রাণীদের প্রতি তাঁর অনুভূতির জানান দেন ডেমি মুর৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পল ম্যাকার্টনি

নিজেদের পালিত একটি ভেড়াকে জবাইয়ের পর নিজেদের প্লেটে মাংস হিসাবে রূপান্তরিত হতে দেখে ভেজিটেরিয়ান হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিটলসখ্যাত পল ও তাঁর স্ত্রী লিন্ডা ম্যাকার্টনি৷ সেই থেকে এই দম্পতি পেটা সহ অন্য আরেকটি প্রাণী অধিকার বিষয়ক সংগঠনকে সহায়তা করে থাকে৷ তাঁরা বলেন, ‘‘যদি কসাইখানাগুলোর দেয়াল কাচের হতো তাহলে সবাই ভেজিটেরিয়ান হয়ে যেত৷’’

সমাজ-সংস্কৃতি

প্যামেলা অ্যান্ডারসন

বেওয়াচখ্যাত অভিনেত্রী প্যামেলা অ্যান্ডারসন পেটা-র হয়ে অনেকগুলো কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন৷ যেমন ২০০৩ সালে তিনি পেটা-র ‘পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি পোশাক পরার পরিবর্তে আমি নগ্ন হয়ে থাকব’ কর্মসূচিতে অংশ নেন৷ ২০০১ সালে তিনি কেএফসি-র বিরুদ্ধে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘প্রতিবছর কেএফসি সাড়ে সাতশ মিলিয়ন মুরগির সঙ্গে যা করে তা গ্রহণযোগ্য নয়৷’’

সমাজ-সংস্কৃতি

বলিউড তারকারাও সোচ্চার

বেশ কয়েকজন বলিউড তারকাও প্রাণী অধিকারের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের অবস্থান জানিয়েছেন৷ এঁদের মধ্যে আছেন হেমা মালিনি, মাধুরী দীক্ষিত, জন আব্রাহাম, সেলিনা জেটলি, শিল্পা শেঠী, অর্জুন রামপাল ও শাহেদ কাপুর৷

বিশ্বব্যাপী প্রাণীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে বেশ কিছু সংগঠন৷ তাদের কার্যক্রমে মানুষকে আকৃষ্ট করতে তারকাদের সহায়তা নেয় এ সব সংস্থা৷ পশু অধিকার নিয়ে এগিয়ে এসেছেন বেশ কয়েকজন তারকা আর তাঁদের ছবি দেখে ফেসবুক বন্ধু নাসির উদ্দিন ও জুলফিকার মাসুদ শোয়েবের কাছে বিষয়টি ভালো লেগেছে৷ জুয়েল আহমেদ তারকাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রাণী অধিকার রক্ষায় জনগণকে উৎসাহ দেয়ার জন্য৷

প্রাণীদের প্রতি আমাদের সদয় হওয়া উচিত বলে মনে করেন ফেসবুক বন্ধু রফিকুল ইসলাম৷ আর মোয়েম উদ্দিন প্রাণীদের খুব পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন৷

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

যে দেশে মানুষের অধিকারেরই ঠিক নেই, সে দেশে আবার প্রাণীর অধিকার! হ্যাঁ বাংলাদেশের প্রাণীর অধিকার সম্পর্কে পাঠক শাকিল বলছেন, ‘‘মানুষ হত্যার বিচার হয় এই দেশে? বিচারই বা করবে কারা? যারা বিচার করবে, আইন নিয়ন্ত্রণ করবে তারাই তো বড় বেশি আইন ভঙ্গ করে৷''