পশ্চিমবঙ্গের জেলেদের জীবনযাত্রা

সমাজ

জালই জীবন

মাছ ধরার প্রধান উপকরণ জাল৷ সাধারণভাবে আভ্যন্তরীণ জলাশয়ে প্রচলিত জাল এবং সমুদ্রে আধুনিক জালের ব্যবহার হয়৷ তবে শুধু জালের ওপর মাছ ধরার দক্ষতা নির্ভর করে না, নির্ভর করে কৌশলগত ধরনের উপর৷ ঋতুভেদে জেলেদের আয়ের পরিমাণ ভিন্ন হয়৷ মাছধরার পাশাপাশি জাল তৈরি করেও অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন৷

সমাজ

প্রধান উপকরণ

জালের মালিকানা একান্ত ব্যক্তিগত হলেও জালের মালিকেরা নিজস্ব উদ্যোগে বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অন্যদের সঙ্গে যৌথভাবে তা ব্যবহার করেন৷ কয়েকদিন মাছ ধরার পর সমুদ্রতীরে ফাইবারের তৈরি ইলিশ ধরার জাল পরিষ্কার করতে হয় জেলেদের৷

সমাজ

ভরসা সমবায়ে

জীবিকা নির্বাহের নিজস্ব বিধি-বিধানের উপর তাঁরা যেমন অত্যন্ত আস্থাশীল, তেমনি ভরসা রাখেন সমবায় সমিতি পরিচালিত ঋণ প্রকল্প বা ব্যাংকিং ব্যবস্থায়৷

সমাজ

মাছ রক্ষায় বরফ

গ্রীষ্মের তুলনায় বৃষ্টির মরসুমে মাছের উৎপাদন বেশি৷ তাই এ সময় মৎস্যজীবীদের আয়ও বেশি৷ আরও বেশি আয়ের লক্ষ্যে মজুদ রাখতে হয় বরফ৷ সমুদ্রবক্ষে অনেকদিন ট্রলার থাকলে সেখানে মাছের জোগান ঠিকঠাক রাখতে বরফই ভরসা৷

সমাজ

সমুদ্রযাত্রা

ট্রলারে বরফ বোঝাই করে মৎসজীবীরা রওনা দেন সমুদ্রে৷ ৭ থেকে ১০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে তাঁরা ফেরেন ডাঙায়৷

সমাজ

পাইকারি বাজারে

মৎস্য-শিকারিরা বিনিময় প্রথার চেয়ে নগদে মাছ বিক্রিকেই পছন্দ করেন৷ তাঁদের আনা নদী-সমুদ্রের মাছ সরাসরি পাইকারি বাজারে অথবা আড়তদারদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়৷

সমাজ

মধ্যস্বত্বভোগীদের রমরমা

এই প্রক্রিয়ায় বাজারজাত করার ফলে প্রায়ই মৎসজীবীরা বঞ্চনার শিকার হন৷ আড়তদার কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীরা তাঁদের কাছ থেকে যে দামে মাছ কেনেন, তার সঙ্গে বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য থাকে না৷

সমাজ

মৎস্য অর্থনীতি

নদীর ধারের কোনও আড়তে হয় মাছের পাইকারি বিকিকিনি৷ বড় বড় কন্টেইনারে ভরে মাছ ওজন করার পর নিলাম ডাকা হয়৷

সমাজ

পরিবহণ

নিলামের পর কন্টেইনারের উপর মৎস্য ব্যবসায়ীর নামের স্টিকার সেঁটে দেওয়া হয়৷ এরপর গাড়িতে সেগুলো যাত্রা করে বিভিন্ন বাজারের উদ্দেশে৷

সমাজ

অবসরে

কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামের সময় থেকেই বাংলার মৎসজীবীরা পেশার নিরিখে অন্ত্যজ জনগোষ্ঠী বলে বিবেচিত হয়েছেন৷ তাঁদের জীবনেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া৷ অবসরে প্রিয়জনের সঙ্গে আলাপচারিতার জন্য জেলেদের হাতেও রয়েছে মুঠোফোন৷

সমাজ

বাজারই শেষ কথা

একাধিক হাত ঘুরে মাছ পৌঁছায় বাজারে৷ চড়া দামে বিক্রি হয় ইলিশ থেকে রূপচাঁদা৷এই লভ্যাংশের সামান্য অংশই পান অনিশ্চিত সমুদ্র যাত্রায় বেরোনো মৎসজীবীরা৷

সমাজ

জীবিকা নির্বাহে জটিলতা

ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে মাছ ধরার উৎসভূমিগুলোও কমে আসছে৷ ইজারাদারদের চোখরাঙানিতে ‘জাল যার জলা তার’ নীতিতে মাছ ধরা যায় না৷ তার ফাঁক গলে খাল-বিলে জাল ফেলে মাছের সন্ধান করেন মীনজীবীরা৷

জীবনধারণের জন্য প্রধানত মাছ ধরা ও সেই সম্পর্কিত পেশার উপর নির্ভর করেন বহু মানুষ৷ প্রাকৃত ধাঁচের জীবনযাত্রা ছাড়াও নিজেদের জাল, নৌকা, নদী, মৎস্য আহরণ ও বিপণনকে কেন্দ্র তাঁরা গড়ে তুলেছেন এক অনন্য সংস্কৃতি৷

মিডিয়া সেন্টারে আরো পাবেন৷