‌পশ্চিমবঙ্গে কি আইনের শাসন নেই?

এবার পদত্যাগ করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল জয়ন্ত মিত্র এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল লক্ষ্মী গুপ্তা৷ গত ৬ বছরে এটা পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ৷ প্রশ্ন উঠেছে- রাজ্যে কি আইনের শাসন নেই?

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই তৃতীয়বার কোনও অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করলেন৷ কারণটা সেই একই৷ রাজ্য সরকারের সঙ্গে মতে মিলছে না৷ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সরকারের আইনি অবস্থান নিয়ে লাগাতার মতবিরোধ৷ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জয়ন্ত মিত্র৷ তারপর তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর আইনি পরামর্শ রাজ্য সরকার মানছিল না, অগ্রাহ্য করছিল এবং সরাসরি জানিয়েও দিচ্ছিল যে তাঁর প্রস্তাব ‘‌গ্রহণযোগ্য নয়’৷ প্রবীণ আইনজীবীর কাছে তা অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে হয়েছে৷ তা ছাড়া তাঁর সুচিন্তিত আইনি অবস্থানের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চিন্তা-ভাবনারও লাগাতার বিরোধ চলছিল৷ এভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

অচল যান

পুরনো জিনিসের দোকানে লাইন দিয়ে রাখা অচল সাইকেল৷ তাদের আর কোথাও যাওয়ার নেই, কিচ্ছু করার নেই৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

ক্লান্ত পা

গাড়িতে মাল বোঝাই আর খালাসের কাজ করেন যেসব মজুর, তাঁরা বিশ্রাম নেওয়ার সময় পান কই! যাতায়াতের পথেই বিশ্রাম দেন ক্লান্ত পা-কে৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

গভীর জলের মাছ

অতিকায় সব মাছ৷ তারা যতই গভীর জলের হোক, ঠিক ধরা পড়তে হয় জেলেদের হাতে৷ তার পর সটান শহরে, মাছের বাজারে, বঁটির সামনে৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

‘সড়কছাপ’ স্টাইল

সবাই কি আর চুল কাটানোর জন্যে সেলুনে যেতে পারে! তাদের জন্যে আছে ফুটপাথের নাপিত৷ চটপট বাটিছাঁট৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

দ্বিখণ্ডিত

আসলে পোশাকের দোকানের ম্যানিকিন, গাড়িতে চড়ে এসেছিল নতুন রঙের পোঁচ গায়ে মাখতে৷ ফিরে যাচ্ছে দোকানের শোকেসে৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

কফি হাউস

কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউস৷ সারাদিনই ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়ে সরগরম৷ কিন্তু অনেকেই আসেন দু’দণ্ড শান্তি পেতে৷ সে বনলতা সেনেরা থাকুক, বা না থাকুক৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

অন্য আড্ডা

হলোই বা বহুজাতিক ফাস্ট ফুড সংস্থার ম্যাসকট, তাকেও আড্ডায় সামিল করা বারণ নাকি! আসলে শহরে কোথাও বসে আড্ডা মারার জায়গা নেহাতই কম৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

মাটির কেল্লা

দেখে মনে হতে পারে আদিবাসীদের কোনো স্থাপত্য৷ আসলে উঁচু করে সাজিয়ে রাখা মাটির ভাঁড়, ফুটপাথের চায়ের দোকানে৷

তিলোত্তমা কলকাতার শহুরে কথকতা

সবটাই সার্কাস

রাস্তার সার্কাস৷ খেলা দেখায় মাদারিওয়ালারা৷ আসলে এই নগরজীবন, পুরোটাই তো এক সার্কাস৷

পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল লক্ষ্মী গুপ্তাও একই সঙ্গে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন৷ তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে আইনি পরামর্শ বা সুপারিশ রাজ্য সরকারের না মানার কোনও ঘটনা ঘটেনি৷ কিন্তু যেহেতু জয়ন্ত মিত্রের নেতৃত্বে একটি দল হিসেবে তাঁরা কাজ করতেন, জয়ন্তবাবু পদত্যাগ করার পর তাঁর পক্ষেও আর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না৷

তবে সাধারণ ধারণা হলো, সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে আইনি অবস্থানের বিরোধের কারণেই এভাবে একের পর এক অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন৷ ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ইস্তফা দিয়েছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং দেশের প্রথম সারির আইনজীবীদের অন্যতম, অনিন্দ্য মিত্র৷ এরপর আরেক অ্যাটর্নি জেনারেল বিমল চ্যাটার্জিও একইভাবে ইস্তফা দেন৷ সেই তালিকায় জয়ন্ত মিত্র হলেন তৃতীয় নাম, যিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাত্র দু’বছর আগে৷

মঙ্গলবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী জয়ন্তবাবুর পদত্যাগ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন৷ সুজন চক্রবর্তী বলেন, ৬ বছরে ৩ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের ইস্তফা থেকেই পরিস্কার, রাজ্যে আইনের শাসন নেই৷ এবং সরকারের একের পর ভুল সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপকে আইনত বৈধ প্রমাণ করতে গিয়ে আদালতে কার্যত অপদস্থ হচ্ছেন  আইনজীবীরা৷ এ প্রসঙ্গে ত্রিপুরার প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর মন্তব্য, অ্যাটর্নি জেনারেল একটি সাংবিধানিক পদ৷ যে পদে সরাসরি নিয়োগ করেন রাজ্যপাল৷ সেই পদে থেকে কোনও সরকার বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করা সম্ভব নয়৷

প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের মুখ্য কৌঁসুলি, অর্থাৎ চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মনজিৎ সিংও মাসখানেক আগেই পদত্যাগ করেছেন৷ বিভিন্ন মামলায় বারবার কলকাতা হাইকোর্টের কাছে তিরস্কৃত রাজ্য সরকার এখন সব শূন্য পদ ভরাটের জন্যই যোগ্য লোক খুঁজছে৷ আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বলেছেন, ‘‌‘‌চিরকাল শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলেছি৷ যা ঠিক নয়, তার কাছে নত হতে শিখিনি৷’’ নিজের কথা বললেও, আসলে পশ্চিমবঙ্গের বেহাল পরিস্থিতির কথাই বলে গেলেন তিনি৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

রোজকার খাবার

শৌখিন সুখাদ্য নয়, দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মেটায় এইসব দোকান৷ রুটি, মাখন, দুধ, সবই পাওয়া যায় এখানে দিনভর৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

বাঘের দুধ

কথায় বলে, নিউ মার্কেটে খুঁজলে বাঘের দুধও পাওয়া যায়৷ আদতে তা হয়ত পাওয়া যায় না, কিন্তু দুধ থেকে তৈরি বিদেশি চিজ পাওয়া যায় হরেক রকম৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

কেক-পেস্ট্রি

নিউ মার্কেটের বিশেষ খ্যাতি তার কেক-পেস্ট্রি-প্যাটির সম্ভারের জন্য, যা চলে আসছে সেই সাহেবি আমল থেকে৷ যে কারণে, আজও ক্রিসমাসের কেক মানেই নিউ মার্কেট৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

ঐতিহাসিক নাহুমস্

এখনও চলছে ১১৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘নাহুম এন্ড সন্স’, যা কলকাতাবাসীর কাছে নাহুমস্ নামে পরিচিত৷ কলকাতার এক ইহুদি পরিবার পরিচালিত বেকারি এটি৷ সারা পৃথিবীতে এদের খাবারের ভারি নামডাক৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

রাম বল, টার্ট

কলকাতার নিজস্ব কিছু পেস্ট্রি, যেমন রাম বল বা লেমন টার্ট বিখ্যাত হয়েছে এই নিউ মার্কেট থেকেই, যা পরে অনুসরণ করেছে অন্যরা৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

কাজু-কিশমিশ

শুধু কাবুলিওয়ালারা নয়, কলকাতা শহরকে কাজু, কিশমিশ, খোবানির মতো শুকনো খাবার চিরকাল সরবরাহ করে গেছে নিউ মার্কেটের এইসব খাবারের দোকান৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

মুখরোচক

নানা ধরনের চানাচুর, সুখাদ্য না হলেও সুস্বাদু তো বটেই৷ এরও ভাঁড়ার আছে নিউ মার্কেটে৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

হাতে বানানো রুটি

নানা ধরনের সুখাদ্য ও সুস্বাদু খাবারের পাশে, নিউ মার্কেটে আপনি পাবেন সাধারণ হাতে বানানো রুটিও৷ দুপুরে এই রুটি খেতে আজও ভিড় জমে নিউ মার্কেটে৷

কলকাতা নিউ মার্কেটের সুখাদ্য সম্ভার

বিদেশি বাহার

আর আছে নানা স্বাদের বিদেশি চকোলেট, যা অনেক বড় দোকানেও পাওয়া যায় না৷ এ সবেরও খনি মহানগরীর এই নিউ মার্কেট৷

আমাদের অনুসরণ করুন