পাবনা মানসিক হাসাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ভয়াবহ চিত্র

পাবনা মানসিক হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের রোগীদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে৷ সেখানকার চিকিৎসারত নারীরা আকুতি জানাচ্ছেন যে তাঁরা সুস্থ এবং তাই তাঁদের যাতে মুক্ত করা হয়৷

পাবনা মানসিক হাসপাতাল নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনে বিভিন্ন সময় একটি বা একাধিক প্রতিবেদন হয়েছে, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির কথা৷ কিন্তু এবার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পরিবারের লোকজন মহিলাদের মানসিক রোগী বানিয়ে হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন৷ ফেসবুকে এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিওতে এমন চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে পাবনা মানসিক হাসপাতালের কয়েকজন নারী আকুতি জানিয়েছেন তাঁদের মুক্ত করে স্বজনের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার৷

নাসির উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পাতায় ভিডিওটি পোস্ট করেছেন রবিবার, যা এখন পর্যন্ত দেখা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার বার৷ শেয়ার হয়েছে ৮ হাজার বার৷

এপিবি/ডিজি

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

প্রথম মানসিক হাসপাতাল

বাংলাদেশের প্রথম মানসিক হাসপাতালের অবস্থান পাবনায়৷ ১৯৫৭ সালে এটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল একটি বাড়িতে৷ পরে ১৯৫৯ সালে হাসপাতালটি হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়৷ শুরুতে মানসিক হাসপাতালটি ছিল ৬০ শয্যাবিশিষ্ট৷ পরবর্তীতে তা ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

প্রায় দেড়কোটি মানসিক রোগী

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি, ২০১১ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে এ কথা৷ এত বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য বলতে গেলে মূল সরকারি হাসপাতাল একটাই, পাবনায়৷ ছবিটি ১৯৯৪ সালে তোলা এক নারীর, যিনি ভারতের মাদ্রাজ থেকে এসেছিলেন এবং পাবনায় হাসপাতালটির শুরু থেকেই রোগী হিসেবে ছিলেন৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

মানসিক রোগী সম্পর্কে ভুল ধারণা

বাংলাদেশে মানসিক রোগীদের ‘পাগল’ বলা হয়, যা অনেকক্ষেত্রে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ দেশটিতে মানসিক রোগীদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে৷ মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় যা এক অন্তরায়, মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷ ছবিতে ১৯৯৪ সালে পাবনা মানসিক হাসপাতালের রান্নাঘর দেখা যাচ্ছে৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের জন্য নয়

১৯৯৪ সালে যখন এ সব ছবি তোলা হয়, তখন মানসিক হাসপাতালে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের ভর্তি করা হতো না৷ এখনও সেই নিয়ম চালু আছে কিনা জানা যায়নি৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

পুরুষ ওয়ার্ড

ছবিতে পাবনার মানসিক হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড দেখা যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে মানসিক অসুস্থতাকে রোগ হিসেবে বিবেচনা না করার প্রবণতা রয়েছে, মনে করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

মানসিক রোগীদের প্রার্থনা

মুসলমান পুরুষ রোগীরা প্রার্থনা করছেন৷ মানসিক হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ড থেকে ছবিটি তোলা হয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, মানসিক রোগীদের পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত নয়৷ বরং তাদের পরিবারের সংস্পর্শে রেখে চিকিৎসা দেয়া উচিত৷ বাংলাদেশে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন৷ পাবনা মানসিক হাসপাতালে থাকা রোগীদের আত্মীয়রা সচরাচর তাদের আর খোঁজ নিতে আসেন না৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

হিংসাত্মক প্রবণতা আছে যাদের

হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে প্রবার প্রবণতা আছে এমন রোগীদের রাখা হয় আলাদা ওয়ার্ডে৷ ১৯৯৪ সালে তোলা ছবিতে সেই ওয়ার্ডের কয়েকজন রোগীকে দেখা যাচ্ছে৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

চঞ্চল রোগীরা

মানসিক হাসপাতালে থাকা রোগীদের অনেকে অত্যাধিক চঞ্চল থাকেন৷ তারা প্রায়ই গলা ছেড়ে গান গান এবং নাচানাচি করেন৷ ছবিতে সেরকম কয়েকজনকে দেখা যাচ্ছে৷ বাংলাদেশের সমাজ এদের ‘পাগল’ বলে এবং প্রকাশের তাদের নিয়ে হাসিঠাট্টা করা এক স্বাভাবিক ব্যাপার৷

পাবনার ‘পাগলা গারদের’ কিছু দুর্লভ ছবি

বদলায়নি পরিস্থিতি

পাবনা মানসিক হাসপাতালে ১৯৯৪ সালে তোলা এসব ছবির সঙ্গে বর্তমানের পরিস্থিতির ফাঁরাক খুব একটা দেখা যায় না৷ হাসপাতালের পরিধি বাড়েনি, এখনো সেটি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল৷ গত বছর তোলা হাসপাতালটির কিছু ছবি পেতে ক্লিক করুন ‘আরো’ বোতামে৷

আমাদের অনুসরণ করুন