পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের দামামা?

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের বেড়ে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরে একাধিক জাহাজের উপর ‘অন্তর্ঘাত'-এর ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷ অ্যামেরিকা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে৷

সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, যে রবিবার সে দেশের ফুজাইরাহ উপকূলের কাছেই কমপক্ষে ৪টি জাহাজে ‘অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপ' ঘটেছে৷ তবে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ এই অন্তর্ঘাত সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কে বা কারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি৷ তবে ক্ষয়ক্ষতি ও নাবিকদের কোনো অনিষ্ট হয় নি বলে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে৷

৬ দেশের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জিসিসি-র মহাসচিব আবদুললতিফ বিন রশিদ আল-জায়ানি এক বিবৃতিতে এই ঘটনা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ বাহরাইন, মিশর ও ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারও এমন অন্তর্ঘাতের নিন্দা করেছে৷ এর মধ্যে সৌদি আরবও দুটি পেট্রোলিয়াম-বাহী জাহাজের উপর ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলা'-র অভিযোগ করেছে৷

মার্কিন প্রশাসন গত বৃহস্পতিবারই গোটা অঞ্চলের জাহাজের উপর ইরান বা সে দেশের ‘প্রক্সি' কোনো গোষ্ঠীর হামলা সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল৷ উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করার ঘোষণা করেছে৷ ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে৷ ইরান হোরমুজ প্রণালী তথা পারস্য উপসাগরে অ্যামেরিকা ও সে দেশের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়াতে পারে বলে ওয়াশিংটন মে মাস থেকে আশঙ্কা করছিল৷ ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ও বাকি বিশ্বের উপর ইরান থেকে পেট্রোলিয়ম ও ধাতু আমদানি বন্ধ

রবিবার লেবাননের ইরানপন্থি এক টেলিভিশন চ্যানেল ‘উপসাগরীয় সূত্র'-কে উল্লেখ করে ফুজাইরাহ বন্দরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনার কথা জানায়৷ তবে আল-মায়াদিন চ্যানেলের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷

 ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা পদক্ষেপের ফলে ইউরোপ তথা বিশ্বের অনেক শক্তি মোটেই সন্তুষ্ট নয়৷ পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের মনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই চুক্তি এখনো কার্যকর করতে চায়৷ পরমাণু কার্যকলাপ বাড়ানোর বিষয়ে ইরানের হুমকি নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন৷ তার উপর ইরান ও মার্কিন স্বার্থের সংঘাতের জের ধরে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের আশঙ্কাও আর উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ ইউরোপীয় সহযোগীদের কাছে এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য তুলে ধরতে সোমবার ব্রাসেলসে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও৷ তারপর মঙ্গলবার রাশিয়ার সোচি শহরে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ-এর সঙ্গে ইরানসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এপি)


আমাদের অনুসরণ করুন