পুরাতন ইস্যু অন্যদের দখলে, বিপাকে সবুজ দল

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রমরমা আলোচনার এই যুগেও ক্রমে জনপ্রিয়তা কমছে জার্মানির সবুজ দলের৷ বর্তমানে জনপ্রিয়তা ৫ শতাংশের বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা গত ১৫ বছরে সর্বনিম্ন৷

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুরাতন যে সব ইস্যু নিয়ে দলটি এক সময় মানুষের কাছে যেতো, সেগুলো এখন বড় দলগুলোর দখলে৷ এর মাঝে নতুন কোনো ইস্যু নিয়ে তারা মাঠ দখলে রাখতে পারেনি৷

বিজ্ঞান পরিবেশ | 31.12.2012

২০১১ সালে ফুকুশিমা পরমাণু দুর্ঘটনার পর দলটির জন সমর্থন ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়৷ এর পরের এই ছয় বছরে রক্ষণশীল শিবিরের চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং তাঁর মহাজোট জার্মানিতে পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ করার কাজ শুরু করেন৷

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুর পরিবর্তে নতুন কিছু আনতে না পারায় পর সাম্প্রতিক দুটো নির্বাচনে তাদের জনসমর্থন ৬ শতাংশে নেমে এসেছে৷

Infografik The Greens Party's dwindling support Englisch

সবুজ দলের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে অধ্যাপনায় থাকা হুবার্ট ক্লাইনার্ট বলেন, জ্বালানি নীতি এখন আর বিতর্কিত ইস্যু নয়৷ সবাই এখন জলবায়ু সুরক্ষা চায়৷ বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বিরুদ্ধেও কারও কোনো কথা নেই৷ সমস্যাটা বুদ্ধিবৃত্তিক নতুনত্বে৷ সবুজ দলের এখন নতুন এবং আকর্ষণীয় ইস্যু দরকার৷

দলটি এতটাই ইস্যু খরায় রয়েছে যে, সম্প্রতি এর চেয়ারপার্সন সংবাদপত্রে এক সাক্ষাৎকার দৈনন্দিন গৃহবর্জ্যের পৃথকীকরণ নিয়ে কথা বলেছেন৷ 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উলরিশ সারসিনেলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, তারা নিজেদের সফলতার শিকার৷ তাদের সামনে আনা বিষয়গুলো অল্প সময়ের মধ্যে মিলিয়ে গেছে৷

ইস্যু ছাড়াও সবুজ দলের আরেকটা সংকট রয়েছে৷ সেটা হচ্ছে ক্যারিশম্যাটিক নেতার অভাব৷

রাজনীতি

প্রাণী সুরক্ষা দল

জার্মানিতে প্রাণী অধিকার বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্টরা সুযোগ পেলে পুরো হাইওয়ে বন্ধ করে দেন যাতে ব্যাঙেরা নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারে৷ এমন দেশে তাই ‘অ্যানিমেল প্রোটেকশন পার্টি’ বা প্রাণী সুরক্ষা দল থাকবে না, তা কি হতে পারে? তবে গ্রিন পার্টির কারণে এ দলের পালে হাওয়া কম থাকে৷ ২০১৩ সালে সাক্যুল্যে ১৪০,০০০ ভোট পেয়েছিল দলটি, যেখানে জার্মানিতে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬২ মিলিয়ন৷

রাজনীতি

দ্য রিপাবলিকানস

ব্যাপারটা কিছুটা বিভ্রান্তিকর৷ জার্মানির রয়েছে নিজস্ব রিপাবলিকান পার্টি, নাম আরইপি৷ তবে এই দলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই৷ জার্মান রিপাবলিকনরা হচ্ছেন ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী, যারা নিজেদের ‘রক্ষণশীল দেশপ্রেমিক’ এবং দেশের ‘সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়’ রক্ষায় লড়াইরত বলে মনে করেন৷

রাজনীতি

দ্য পার্টি

হ্যাঁ, এই দলের নাম ‘দ্য পার্টি’৷ জার্মানির স্যাটায়ার ম্যাগাজিন ‘টাইটানিক’ এর সম্পাদকরা ২০০৪ সালে এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ দলটির প্রধান হচ্ছেন মার্টিন স্যোনেবর্ন (ছবিতে)৷ ২০১৪ সালে তিনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে দলটির জন্য একটি আসন নিশ্চিত করেন৷ ভবিষ্যতে দলটির অবস্থা আরো ভালো হতে পারে৷ গত নির্বাচনে তাদের জুটেছিল সাক্যুলে ৭৯,০০০ ভোট৷

রাজনীতি

গণভোট দল

জার্মানির রেফারেন্ডাম পার্টি বা গণভোট দলের কাছে সুইজারল্যান্ড এক বিশাল অনুপ্রেরণা৷ দলটি চায় দেশের সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গনভোটের মাধ্যমে জনগণ নেবে৷ সুইজারল্যান্ডে ২০১৬ সালে তেরোটি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল৷

রাজনীতি

মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট পার্টি

জার্মানির এমএলপিডি একটি ছোট দল, যদিও দেশটির অর্ধেক মানুষ এক সময় কমিউনিস্ট ছিলেন৷ মানে ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৯ সাল অবধি যখন জার্মানি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল৷ তৎকালীন পূর্ব জার্মানি তখন শাসন করেছিল সোশ্যালিস্ট ইউনিটি পার্টি৷ বর্তমানে উগ্র বামপন্থি এমএলপিডি’র জার্মান রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা নেই৷ গত নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র ২৪,০০০ ভোট৷

রাজনীতি

ক্রিশ্চিয়ানস ফর জার্মানি

‘অ্যালায়েন্স সি - ক্রিশ্চিয়ানস ফর জার্মানি’ একটি ক্রিশ্চিয়ান পার্টি, যেটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে৷ খ্রিষ্টান-মৌলবাদীদের একটি দল এবং শ্রমিক, পরিবেশ এবং পরিবারভিত্তিক একটি দল একত্র হয়ে এই দল গড়ে৷ বাইবেলের মান রক্ষা করে দেশ পরিচালনা করতে চায় এই দল৷

রাজনীতি

দ্য পেনশনারস

এই দলকে ২০১৭ সালের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে আর দেখা যাবে না, কেননা, দলটি অবসর ঘোষণা করেছে৷ দ্য পেনশনারস দলটি ২০১৩ সালের নির্বাচনে ২৫,০০০ ভোট পেয়েছিল৷ গত বছর দলের কর্মকর্তারা দলটি ভেঙ্গে দেন৷

জার্মানির সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগে আসন পেতে হলে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়৷ তা না হলে দলটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না৷ সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুসারে, তাই এই ৫ শতাংশের সীমারেখার কাছাকাছি রয়েছে তৃতীয় বৃহত্তম দল সবুজ দল৷

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পায় দলটি৷ যাতে ৬৩০ আসনের মধ্যে ৬৩ আসন তারা পায়৷ এর আগে ২০০৯ সালের নির্বাচনে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলো দলটি৷ অন্যদিকে ২০১৩ সালের নির্বাচনে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পায় সবুজ দল৷ সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, তাদের জনপ্রিয়তা ৬ শতাংশ৷ ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয়তা কমায় দলটি সংসদে প্রতিনিধিত্বহীন হয়ে পড়তে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন৷

দীর্ঘদিন যাবৎ তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে ভূমিকা রেখেছে ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এফডিপি) বা মুক্ত গণতন্ত্রী দল৷ সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারায় ২০১৩ সালের নির্বাচনে তারা আসন পেতে ব্যর্থ হয়৷

তবে সব সমস্যা কাটিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারলে সবুজ দল বড় কোনো দলের সঙ্গে জোট বেঁধে রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার হতে পারে৷

রাজনীতি

জার্মানির বড় নির্বাচনের বছর

জার্মানিতে চলতি বছর আয়োজন করা হচ্ছে একের পর এক নির্বাচন৷ একদিকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর পদে লড়ছেন, অন্যদিকে পপুলিস্ট পার্টি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে৷ বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটা নিশ্চিত যে, ২০১৭ সালের শেষে জার্মানির রাজনৈতিক অবস্থা এখনকার মতো থাকবে না৷

রাজনীতি

জুন ১৯: দলের মনোনয়ন জমা দেয়ার দিন ছিল

জার্মানির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আবেদনের শেষ দিন ছিল জুন ১৯৷ সেদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে আগ্রহী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আবেদন জানাতে হয়েছে৷

রাজনীতি

জুলাই ৭: কোন কোন দল লড়ছে?

সংসদ নির্বাচনে কোন কোন দল অংশ নিতে পারবে তা ঘোষণা করা হবে এই দিনে৷ যদি কোন দল নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয় তাহলে পরবর্তী চারদিনের মধ্যে জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে নালিশ করতে পারবে৷

রাজনীতি

জুলাই ১৭: কারা কারা থাকছেন?

চলতি বছরের ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কোন কোন প্রার্থী কোন কোন এলাকায় লড়বেন, তা চূড়ান্ত করতে হবে৷ জার্মানিতে একসঙ্গে দু’টি ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে৷ প্রথমটি প্রার্থীকে, দ্বিতীয়টি দলকে৷

রাজনীতি

জুলাই ২৭: ব্যালটে নাম উঠানোর লড়াই

যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তাদের বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে এই দিনে৷ ২০১৩ সালে এই পন্থা চালু করা হয়েছিল৷ সেবছর এগারোটি দল আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও কেউই মামলা জেতেনি৷

রাজনীতি

আগস্ট ১৩: আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা

জার্মানিতে নির্বাচন শুরুর ছয় সপ্তাহ আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণার পোস্টার বা টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে না৷ চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর তারিখ ১৩ আগস্ট৷ এই দিন থেকে দলগুলো তাদের প্রচারণায় কোনো ঘাটতি রাখবে না৷

রাজনীতি

আগস্ট ২০: কে ভোট দিতে পারবেন?

নির্বাচনের মাসখানেক আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা চূড়ান্ত হবে৷ ভোটার লিস্ট ঘোষণা করবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ৷ জার্মানিতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কোনো জার্মান নাগরিক ভোট দিতে পারবেন৷ সে হিসেবে চলতি বছর ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৬১ মিলিয়ন৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ৩: তিন সপ্তাহ বাকি

এই সময়ের মধ্যে সকল ভোটার পোস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে ভোট দেয়ার সার্টিফিকেট পাবেন৷ যারা তখন অবধি ভোটার লিস্টে নিজেদের নাম পাননি, তারা রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন৷ আর যারা পোস্টের মাধ্যমে ভোট দিতে চান, তারা ব্যালট পেপার চাইতে পারেন৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ২৪: নির্বাচনের দিন

অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষণ৷ জার্মানির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর৷ সেদিন সকাল আটটায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে, চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত৷ ভোটগণনা সেদিনই শেষ হবে এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ রাতে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবে৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ২৫: বিজয়ী এবং বিজিত

সকল প্রতিনিধি এবং দলগত ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেয়া হবে ২৫ সেপ্টেম্বর৷ যদি কোনো প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জিততে ব্যর্থ হন, তা সত্ত্বেও দলগত জয়ের কারণে তিনি সংসদে একটি আসন পেতে পারেন৷

রাজনীতি

অক্টোবর ২৪: নতুন সাংসদরা সংসদে

নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে নতুন সাংসদদের সংসদে মিলিত হওয়ার নিয়ম রয়েছে৷ এ বছর সেই দিনটি হচ্ছে অক্টোবর ২৪৷ সেদিন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর নির্বাচিত হবেন৷

রাজনীতি

নভেম্বর ২৪: সবকিছু কি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে?

যদি কেউ জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান, তাহলে তার হাতে সময় থাকে নির্বাচন পরবর্তী দুই মাস৷ ভোটাররাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কেউ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখেন এই সময়ের মধ্যে৷