পোস্টার যার হাতে শিল্প হয়ে ওঠে

ভিডিও দেখুন 02:19
এখন লাইভ
02:19 মিনিট
25.09.2017

যাঁর হাতে পোস্টারই শিল্প

ইওজেফ বয়েস-এর ছাত্রী কাটারিনা সিফ্যার্ডিং-এর শিল্পকলা মানে প্ল্যাকার্ড সাইজের ছবি, যেখানে আলোকচিত্র ও ছাপার হরফে কোনো না কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা হয়েছে৷

কাটারিনা সিফ্যার্ডিং-এর শিল্পকলা আকারে বড়, খুবই বড়: কিন্তু এ ধরনের ছবিই তাঁকে খ্যাতি এনে দিয়েছে৷ তাঁর ছবির বাণী কখনো পীড়াদায়ক, আবার কখনো প্ররোচনামূলক কিংবা শুধুই অদ্ভুত৷ কাটারিনা গত ৫০ বছর ধরে সমাজকে সচেতন করে তোলার কাজে তাঁর শিল্পকলাকে ব্যবহার করছেন৷

অন্বেষণ | 30.09.2015

কাটারিনা বলেন, ‘‘দুনিয়ায় যা কিছু ঘটে, আমি তা নিয়ে প্রতিদিন চিন্তাভাবনা করি৷ আমার শিল্পকলার একটা রাজনৈতিক দিক আছে বলে আমার ধারণা৷''

তাঁর সবচেয়ে পরিচিত শিল্পকর্মগুলির মধ্যে পড়ে ‘ডয়েচলান্ড ভিয়র্ট ডয়চার' – অর্থাৎ ‘জার্মানি আরো জার্মান হয়ে উঠছে'৷ ১৯৯০ সালে ‘ডি সাইট' পত্রিকার এই শীর্ষকটিকে নিয়ে ১৯৯৩ সালে কাটারিনা যে প্ল্যাকার্ডটির নকশা করেন, তাতে পুনরেকীকৃত জার্মানিতে উগ্র দক্ষিণপন্থি কার্যকলাপ বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে৷ 

কাটারিনার বক্তব্য: ‘‘আমি যে এখানে স্বভাবতই রাজনৈতিক মতামত ও ধ্যানধারণার রাজত্বে এসে পড়ি, এ ধরনের শিল্পকর্মের প্রকৃতিই হলো তাই৷ অপরদিকে রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷''

অন্বেষণ | 12.08.2015

বার্লিনের শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে কাটারিনা সিফ্যার্ডিং-এর সর্বাধুনিক ইনস্টলেশনটির নাম ‘টেস্টকাট্স': এখানে যে সাদাকালো ছবিগুলি বদলে বদলে যাচ্ছে, সেগুলিতে ৭২ বছর বয়সি কাটারিনার নিজের জীবনকাহিনির একাংশ ধরা আছে৷ এককালে ইওসেফ বয়েস-এর কাছে ভাস্কর্য শিখেছিলেন কাটারিনা – তাঁর জীবনদর্শনেও যার ছাপ রয়ে গেছে৷

কাটারিনা বলেন, ‘‘মনোভাব বলতে একচেটিয়া যা কিছু, যেরকম স্বীকৃতি বা সাফল্য....তাতে আমার  কোনো আগ্রহ নেই৷ কেননা তাহলে বার বার সেই পুরনো ছকে ফিরে যেতে হয়৷''

দুনিয়া সম্পর্কে কাটারিনার অনেক আপত্তি থাকলেও তিনি নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট; কাজেই তাঁর পক্ষে এই মনোভাবই স্বাভাবিক৷

ক্রিস্টিয়ান টিৎসে/এসি

সমাজ-সংস্কৃতি

সালভাদর মুন্ডি (৪৫ কোটি মার্কিন ডলার)

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা ২০টি ছবি অক্ষত ছবির একটি এটি৷ ধারণা করা হয়, ১৫০০ সালে এ ছবিটি আঁকা হয়৷ ১৯৫৮ সালে ছবিটিকে অনুলিপি ভেবে নিলামে মাত্র ৬০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল৷ যিশুখ্রিষ্টের এ ছবিটি ১০ কোটি মার্কিন ডলারে বিক্রি হবে ধারণা করা হলেও অজ্ঞাত এক ক্রেতা ৪৫ কোটি টাকা দিয়ে কেনেন এটি৷

সমাজ-সংস্কৃতি

আলজিয়ার্সের মহিলারা (১৭ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার)

স্পেনের চিত্রকর পাবলো পিকাসোর ১৯৫৫ সালে আঁকা এই ছবিটি নিলামে সর্বোচ্চ দাম পেয়েছে৷ ছবিটি নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টি’স সংস্থায় নিলাম করা হয় ২০১৫ সালে, কেনেন এক সংগ্রাহক৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নু কুশে (১৭ কোটি ৪ লাখ মার্কিন ডলার)

ইটালির চিত্রকর আমেদেও মোদিগলিয়ানি এই ছবিটি আঁকেন ১৯১৭ সালে, তাঁর মৃত্যুর তিন বছর আগে৷ ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কে ক্রিস্টি’স সংস্থার নিলামে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামের ছবির মর্যাদা পায় নু কুশে, কেনেন লিউ ইকিয়ান, শাংহাইয়ের এক বিলিওনেয়ার ব্যবসায়ী৷

সমাজ-সংস্কৃতি

লুসিয়ান ফ্রয়েডের তিনটি প্রতিকৃতি (১৪ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার)

আইরিশ চিত্রকর ফ্রান্সিস বেকন এই তিন খণ্ডের ছবিটি আঁকেন ১৯৬৯ সালে৷ ছবিতে যার আলেখ্য, তিনি হলেন ব্রিটিশ চিত্রকর লুসিয়ান ফ্রয়েড, পক্ষান্তরে মনস্তত্বের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েডের পৌত্র৷ ২০১৩ সালে ক্রিস্টি’স-এর নিলামে ছবিটির দাম ওঠে ১৪ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার৷ রয়েছে মার্কিন শিল্পকলা সংগ্রাহক এলেইন ওয়াইনের সংগ্রহে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

অঙ্গুলিনির্দেশ (১৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার)

সুইস ভাস্কর আলবের্তো জাকোমেত্তির সৃষ্টি এই মানুষ-সমান ব্রোঞ্জ মূর্তিটি নিউ ইয়র্কে ক্রিস্টি’স-এ নিলাম করা হয় ২০১৫ সালে, কেনেন স্টিভ কোহেন নামের এক হেজফান্ড ম্যানেজার৷ মূর্তিটি আজ বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্রয়যোগ্য ভাস্কর্য বলে গণ্য৷

সমাজ-সংস্কৃতি

সোনার আডেলে (১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার)

অস্ট্রিয়ার চিত্রকর গুস্তাফ ক্লিম্ট আডেলে ব্লখ-বাউয়ারের এই প্রতিকৃতিটি আঁকেন ১৯০৭ সালে৷ ম্যানহ্যাটানের ‘নয়ে গ্যালেরি’ নামের সংগ্রহশালার জন্য ২০০৬ সালে ছবিটি কেনেন মার্কিন ব্যবসায়ী রোনাল্ড লডার৷ ছবিটি কেনার ব্যবস্থা করে ক্রিস্টি’স সংস্থা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

চিৎকার (১১ কোটি ৯৯ লাখ মার্কিন ডলার)

নরওয়েজীয় চিত্রকর এডভার্ড মুঞ্চ ‘চিৎকার’ ছবিটি এঁকেছেন একাধিক বার ৷ দা ভিঞ্চির মোনালিসা ও ফান গখ-এর সূর্যমুখি ফুলের পরেই মুঞ্চের এই ছবিটিকে বিশ্বের খ্যাততম চিত্রকর্ম বলে গণ্য করা হয়৷ ছবিটির প্যাস্টেল রঙে আঁকা এই সংস্করণ নিলাম করা হয় ২০১২ সালে, নিউ ইয়র্কের সথেবি সংস্থায়৷ কেনেন মার্কিন শিল্পপতি লিয়ন ব্ল্যাক৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নগ্নমূর্তি, সবুজ পাতা, আবক্ষ (১০ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার)

পাবলো পিকাসো এই তেলরঙের ছবিটি এঁকেছিলেন মাত্র একদিনে – দিনটা ছিল ৮ই মার্চ, ১৯৩২৷ প্রায় অজ্ঞাত ছবিটি নিউ ইয়র্কের নিলামে বিক্রি হয় ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যে, কেনেন এক অজ্ঞাত ক্রেতা৷ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকলেও, ছবিটি লন্ডনের টেট মডার্ন গ্যালারিকে ধার দেওয়া হয়েছে ২০১১ সালে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

রুপোলি গাড়ি দুর্ঘটনা (১০ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার)

মার্কিন চিত্রকর অ্যান্ডি ওয়ারহল ১৯৬৩ সালে এই সিল্ক স্ক্রিন প্রিন্টটি সৃষ্টি করেন – যার বিষয়বস্তু হল একটি গাড়ি দুর্ঘটনা৷ ২০ বছর ধরে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকার পর ২০১৩ সালে সথেবি-তে ছবিটি নিলাম করা হয়৷ ক্রেতা অজ্ঞাতই থাকেন; তবে ছবিটি পপ আর্ট শিল্পী ওয়ারহলের সবচেয়ে দামী ছবি বলে গণ্য করা হয়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পাইপ হাতে কিশোর (১০ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার)

পাবলো পিকাসো এই তেলরঙের ছবিটি আঁকেন ১৯০৫ সালে৷ আজকের দর্শকের কাছে ছবিটির মূল আকর্ষণ সম্ভবত এই যে, কিউবিজম-এর জনক এখানে সম্পূর্ণ বাস্তবধর্মি ভাবে আঁকছেন৷ ২০০৪ সালে ছবিটি নিউ ইয়র্কে সথেবি-তে নিলামে ওঠে, এক অজ্ঞাত সংগ্রাহক সেটি কিনে নেন৷ সেই সংগ্রাহক ইটালির সুবিখ্যাত ব্যারিলা স্পাঘেট্টি কোম্পানির মালিক বলে কথিত আছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পদক্ষেপ (১০ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার)

আলবের্তো জাকোমেত্তির সৃষ্ট এই ব্রোঞ্জ মূর্তিটি লন্ডনে সথেবি সংস্থার নিলামে বিক্রি হয় ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যে৷ আজ তা ব্রাজিলের লিলি সাফ্রা-র সংগ্রহে৷ ১৯৬০ সালে সৃষ্ট এই মূর্তিটিকে বিংশ শতাব্দীর সুইশ শিল্পকলার শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলির মধ্যে ধরা হয়ে থাকে৷ আজও ১০০ সুইস ফ্রঁর নোটে জাকোমেত্তির এই শিল্পকর্মের ছবি দেখতে পাওয়া যাবে৷