প্রগতি কি শুধুই মানুষের জন্য?

ইউরোপ কিংবা জার্মানিকে সমৃদ্ধি ও প্রগতির পরাকাষ্ঠা ভাবলে ভুল করা হবে, কেননা এই ‘প্রগতির' দাম দিচ্ছে যারা, তারা হলো জীবজন্তু, বিশেষ করে গৃহপালিত পশুপাখি৷ তৃতীয় বিশ্বও কি সেই পথেই যাবে? অরুণ শঙ্কর চৌধুরীর প্রশ্ন৷

পশুপালনের জার্মান শব্দটি হলো ‘টিয়ারহাল্টুং'; সেটা মোটামুটি নির্দোষ বলা চলে৷ কিন্তু তাতে যখন ‘মাসে' বা ‘ব্যাপক' কথাটি যুক্ত হয়, তখন ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে দাঁড়ায়৷ কিরকম? কিছু পরিসংখ্যান – যদিও ২০১৪ সালের, এবং ফেডারাল পরিসংখ্যান দপ্তরের কল্যাণে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে জার্মানিতে গরুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৭ লক্ষ, তার মধ্যে ৪৩ লক্ষ ছিল দুধেল গাই; শূকরের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮০ লক্ষ; মুরগির সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লক্ষ – এ তো শুধু খাওয়ার মুরগি, সেই সঙ্গে যোগ করতে হবে ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ ডিম দেওয়া মুরগি৷ এর সঙ্গে ভেড়া, টার্কি ও অন্যান্য গৃহপালিত জীব যোগ করলে দেখা যাবে, জার্মানিতে মানুষ যত, পোষা জীবজন্তুর সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ৷

Schlachthof Fleisproduktion Lohndumping Lohnsklaven VARIANTE AUSSCHNITT

জার্মানিকে বলা হয় ইউরোপের কসাইখানা৷ ইউরোপে সবচেয়ে বেশি শূকর নিধন করা হয় এই জার্মানিতে, বছরে ৫ কোটি ৮০ লক্ষ শূকর৷ গরু মারার ক্ষেত্রে ইউরোপে জার্মানির স্থান ফ্রান্সের পরেই দ্বিতীয়৷ ইউরোপের বৃহত্তম মুরগি মারার খামার হলো জার্মানির নিম্ন স্যাক্সনি রাজ্যের ভিৎসেতে, যেখানে একটি যন্ত্র মিনিটে ৪৫০টি মুরগি মারার ক্ষমতা রাখে৷

জার্মানির লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানাগুলোতো ২০১৩ সালে উৎপাদিত মাংসের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ লক্ষ টন৷ তার অর্ধেকের বেশি রপ্তানি করা হয়েছে৷ মাংসের রপ্তানি বেড়েই চলেছে; ২০০০ সাল থেকে ২০১০, এই দশ বছরে জার্মানি থেকে মাংসের রপ্তানি বেড়েছে আড়াই গুণ৷ কোথা থেকে এলো এই ‘প্রবৃদ্ধি?

বিশ্ব | 10.07.2015

প্রথমত জন্তুজানোয়ারদের রাখা হয় ক্রমেই আরো কম জায়গায়৷ মুরগির খামারগুলোর ৭০ ভাগ পঞ্চাশ হাজারের বেশি মুরগি পোষে – তাদের রাখার নিয়ম হলো প্রতি বর্গমিটারে ৩৩ কিলোগ্রাম মুরগি, অর্থাৎ ২০টি মুরগি৷

Bildergalerie Gegensätzliche Landwirtschaft in der EU Industrie Hühner

দ্বিতীয়ত, যত তাড়াতাড়ি ওজন বাড়ানো যায় – খামারে পোষা শূকরেদের ওজন বাড়ে ছ'মাসে ১০০ কিলোগ্রাম৷ টার্কি পোষার খাঁচায় দিনরাত আলো জ্বলে, যা-তে পাখিগুলো দিনরাত খাবার খেয়ে আরো তাড়াতাড়ি মোটা হয়৷

গরুরা অস্বাভাবিক পরিমাণ দুধ দেয় – বছরে ৮,২০০ লিটার৷

যেভাবে জন্তুজানোয়ারদের রাখা হয়, তাতে যে তাদের মধ্যে আগ্রাসন বাড়বে, সেটা স্বাভাবিক৷ তার কুফল এড়াতে বাচ্চা শূকরদের ল্যাজ কেটে দেওয়া হয়, হাঁস-মুরগির ঠোঁট ছোট করে দেওয়া হয়, গরুবাছুরের শিং কেটে ফেলা হয়৷

এর পরেও আছে পশুর খাদ্যের নামে নানা ধরনের হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিকের ককটেল৷ সে পর্ব শেষ হলো, তো আসছে বাস্তবিক নিধনের কাজটি, যা যত তাড়াতাড়ি ও কম পরিশ্রমে সম্ভব সম্পন্ন হওয়া চাই৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

তার আগেও থাকতে পারে অ্যানিমাল ট্রান্সপোর্ট নামের এক বিভীষিকা – ট্রাকে করে জীবিত পশুপাখি ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাঠানো, যা কিনা বাণিজ্যিক ইমপ্যারেটিভের অধীন৷

অথচ এই ঠান্ডা মহাদেশ এবং জার্মানি নামের ঠান্ডা দেশটিতে ৮০ ভাগ মানুষের প্রিয় খাদ্য এখনও মাংস৷ মাংস খাওয়ায় কোনো দোষ নেই, কিন্তু এই পরিমাণে, এই ধরনের মাংস খাওয়ার যে কিছু কুফলও থাকতে পারে, সেটা হয়ত এখন অনেকেই বুঝছেন এবং বুঝেছেন৷

সব দেখে ও শুনে মনে হবে, ইউরোপে মনুষ্যজীবন যত সমৃদ্ধ, সহজসাধ্য ও আরামদায়ক হয়ে উঠছে, ততই জীবজন্তুদের কপালে জুটছে আরো কম পরিসরে আরো কম সময় বেঁচে থেকে আরো বেশি ডিম-মাংস-দুধ দেবার ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য৷ যা দেখে বা শুনে বা বুঝে আমার গিন্নি ও দুই মেয়ে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন – এবং তারা শুধু একা নয়৷

মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, যে কোনো সভ্যতার মহত্ব ও নৈতিক প্রগতি যাচাই করা যায়, তারা কিভাবে তাদের জীবজন্তুর প্রতি আচরণ করে, তা থেকে৷ তাহলে কি আমরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষেরা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমি পশুপালনের এই বর্বরতাকেও আলিঙ্গন করব? সেটাই হলো প্রশ্ন৷

একজন প্রাপ্তবয়স্ক জার্মান গড়ে দিনে ১৫০ গ্রাম মাংস খান, অর্থাৎ সপ্তাহে যা ১০০০ গ্রামেরও বেশি৷ অথচ ডাক্তাদের মতে, একজন মানুষ সপ্তাহে ৬০০ গ্রাম মাংস খেতে পারেন এবং এর বেশি খাওয়া একেবারেই উচিত নয় যদি সে মাংস ‘রেড মিট’ হয়৷ গরু, ছাগল, শূকর, ভেড়া এবং ঘোড়ার মাংসকে ‘রেডমিট’ বলা হয়৷

পশুপালনের জার্মান শব্দটি হলো ‘টিয়ারহাল্টুং'; সেটা মোটামুটি নির্দোষ বলা চলে৷ কিন্তু তাতে যখন ‘মাসে' বা ‘ব্যাপক' কথাটি যুক্ত হয়, তখন ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে দাঁড়ায়৷ কিরকম? কিছু পরিসংখ্যান – যদিও ২০১৪ সালের, এবং ফেডারাল পরিসংখ্যান দপ্তরের কল্যাণে৷

মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে জার্মানিতে গরুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৭ লক্ষ, তার মধ্যে ৪৩ লক্ষ ছিল দুধেল গাই; শূকরের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮০ লক্ষ; মুরগির সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লক্ষ – এ তো শুধু খাওয়ার মুরগি, সেই সঙ্গে যোগ করতে হবে ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ ডিম দেওয়া মুরগি৷ এর সঙ্গে ভেড়া, টার্কি ও অন্যান্য গৃহপালিত জীব যোগ করলে দেখা যাবে, জার্মানিতে মানুষ যত, পোষা জীবজন্তুর সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ৷

Schlachthof Fleisproduktion Lohndumping Lohnsklaven VARIANTE AUSSCHNITT

জার্মানিকে বলা হয় ইউরোপের কসাইখানা৷ ইউরোপে সবচেয়ে বেশি শূকর নিধন করা হয় এই জার্মানিতে, বছরে ৫ কোটি ৮০ লক্ষ শূকর৷ গরু মারার ক্ষেত্রে ইউরোপে জার্মানির স্থান ফ্রান্সের পরেই দ্বিতীয়৷ ইউরোপের বৃহত্তম মুরগি মারার খামার হলো জার্মানির নিম্ন স্যাক্সনি রাজ্যের ভিৎসেতে, যেখানে একটি যন্ত্র মিনিটে ৪৫০টি মুরগি মারার ক্ষমতা রাখে৷

জার্মানির লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানাগুলোতো ২০১৩ সালে উৎপাদিত মাংসের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ লক্ষ টন৷ তার অর্ধেকের বেশি রপ্তানি করা হয়েছে৷ মাংসের রপ্তানি বেড়েই চলেছে; ২০০০ সাল থেকে ২০১০, এই দশ বছরে জার্মানি থেকে মাংসের রপ্তানি বেড়েছে আড়াই গুণ৷ কোথা থেকে এলো এই ‘প্রবৃদ্ধি?

প্রথমত জন্তুজানোয়ারদের রাখা হয় ক্রমেই আরো কম জায়গায়৷ মুরগির খামারগুলোর ৭০ ভাগ পঞ্চাশ হাজারের বেশি মুরগি পোষে – তাদের রাখার নিয়ম হলো প্রতি বর্গমিটারে ৩৩ কিলোগ্রাম মুরগি, অর্থাৎ ২০টি মুরগি৷

Bildergalerie Gegensätzliche Landwirtschaft in der EU Industrie Hühner

দ্বিতীয়ত, যত তাড়াতাড়ি ওজন বাড়ানো যায় – খামারে পোষা শূকরেদের ওজন বাড়ে ছ'মাসে ১০০ কিলোগ্রাম৷ টার্কি পোষার খাঁচায় দিনরাত আলো জ্বলে, যা-তে পাখিগুলো দিনরাত খাবার খেয়ে আরো তাড়াতাড়ি মোটা হয়৷

গরুরা অস্বাভাবিক পরিমাণ দুধ দেয় – বছরে ৮,২০০ লিটার৷

যেভাবে জন্তুজানোয়ারদের রাখা হয়, তাতে যে তাদের মধ্যে আগ্রাসন বাড়বে, সেটা স্বাভাবিক৷ তার কুফল এড়াতে বাচ্চা শূকরদের ল্যাজ কেটে দেওয়া হয়, হাঁস-মুরগির ঠোঁট ছোট করে দেওয়া হয়, গরুবাছুরের শিং কেটে ফেলা হয়৷

এর পরেও আছে পশুর খাদ্যের নামে নানা ধরনের হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিকের ককটেল৷ সে পর্ব শেষ হলো, তো আসছে বাস্তবিক নিধনের কাজটি, যা যত তাড়াতাড়ি ও কম পরিশ্রমে সম্ভব সম্পন্ন হওয়া চাই৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

তার আগেও থাকতে পারে অ্যানিমাল ট্রান্সপোর্ট নামের এক বিভীষিকা – ট্রাকে করে জীবিত পশুপাখি ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাঠানো, যা কিনা বাণিজ্যিক ইমপ্যারেটিভের অধীন৷

অথচ এই ঠান্ডা মহাদেশ এবং জার্মানি নামের ঠান্ডা দেশটিতে ৮০ ভাগ মানুষের প্রিয় খাদ্য এখনও মাংস৷ মাংস খাওয়ায় কোনো দোষ নেই, কিন্তু এই পরিমাণে, এই ধরনের মাংস খাওয়ার যে কিছু কুফলও থাকতে পারে, সেটা হয়ত এখন অনেকেই বুঝছেন এবং বুঝেছেন৷

সব দেখে ও শুনে মনে হবে, ইউরোপে মনুষ্যজীবন যত সমৃদ্ধ, সহজসাধ্য ও আরামদায়ক হয়ে উঠছে, ততই জীবজন্তুদের কপালে জুটছে আরো কম পরিসরে আরো কম সময় বেঁচে থেকে আরো বেশি ডিম-মাংস-দুধ দেবার ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য৷ যা দেখে বা শুনে বা বুঝে আমার গিন্নি ও দুই মেয়ে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন – এবং তারা শুধু একা নয়৷

মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, যে কোনো সভ্যতার মহত্ব ও নৈতিক প্রগতি যাচাই করা যায়, তারা কিভাবে তাদের জীবজন্তুর প্রতি আচরণ করে, তা থেকে৷ তাহলে কি আমরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষেরা সভ্যতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমি পশুপালনের এই বর্বরতাকেও আলিঙ্গন করব? সেটাই হলো প্রশ্ন৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরীর এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? জানান আমাদের, নীচের ঘরে৷

প্রতিদিন মাংস

জার্মানদের খাবারের তালিকায় প্রায় প্রতিদিনই মাংস থাকা চাই৷ মাংস রান্না বা সেদ্ধ অবস্থায়, এছাড়া সসেজ, সালামি, হ্যাম – কোনো না কোনোভাবে তাঁদের খাবার টেবিলে থাকে মাংস৷ তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এবং এতে নানা সমস্যা দেখা যায়, সে কথা জেনেও তাঁরা মাংস পছন্দ করেন৷

সপ্তাহে ৬০০ গ্রাম মাংস

একজন প্রাপ্তবয়স্ক জার্মান গড়ে দিনে ১৫০ গ্রাম মাংস খান, অর্থাৎ সপ্তাহে যা ১০০০ গ্রামেরও বেশি৷ অথচ ডাক্তাদের মতে, একজন মানুষ সপ্তাহে ৬০০ গ্রাম মাংস খেতে পারেন এবং এর বেশি খাওয়া একেবারেই উচিত নয় যদি সে মাংস ‘রেড মিট’ হয়৷ গরু, ছাগল, শূকর, ভেড়া এবং ঘোড়ার মাংসকে ‘রেডমিট’ বলা হয়৷

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

ডাক্তারদের মতে, কেউ দিনে ১০০ গ্রামের বেশি ‘রেডমিট’ খেলে তাঁর হৃদরোগের ঝুঁকি এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়৷ সে তুলনায় সাদা মাংস, অর্থাৎ মুরগি বা পাখির মাংস খেলে ঝুঁকি অনেক কম৷

পরিমিত পরিমাণ

মাংসতে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন ‘বি’৷ জার্মানির পট্সডাম রেব্র্যুক-এর খাদ্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড.গিজেলা ওলিয়াস বলেন, রেডমিট হৃদরোগ এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় ঠিকই৷ তবে মাংসের তৈরি সসেজ কিন্তু এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় আরো বেশি৷

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিটকাটার

জার্মান মাংসের দোকানের কর্মীরা প্রায় সকলেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত৷ এখানে যে কোনো জায়গায় কাজ করতে গেলে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকতে হয় – তা সে মাংস কাটার কাজ হোক, অথবা অন্য কোনো কাজ৷

গ্রিল মাংস

আগুনে পোড়ানো বা গ্রিল করা রসালো মাংস দেখতে যেমন লোভনীয়, তেমন খেতেও দারুণ মজা৷ তাই গ্রীষ্মকালে জার্মানরা প্রায়ই গ্রিল পার্টির আয়োজন করেন, যেখানে প্রচুর পরিমাণে মাংস খাওয়া হয়৷

আরো গ্রিল

নানাভাবে বিভিন্ন পশুর বিভিন্ন অংশের মাংস গ্রিল করা হয়৷ তবে জার্মানরা বেশিরভাগই গ্রিল করেন শূকরের মাংস৷ এসব লোভনীয় গ্রিল দেখে কারো কি মনে থাকার কথা যে, একজন মানুষের দিনে মাত্র ১০০ গ্রাম মাংস খাওয়া উচিত?

দামে সস্তা

গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় শূকরের মাংস দামের দিক দিয়ে অনেক সস্তা৷ আর সেজন্যই হয়ত শূকরের মাংস জার্মানিতে বেশি খাওয়া হয়ে থাকে৷ এবং সেটা হয়ে থাকে নানাভাবেই!

পাউরুটির সাথেও মাংস

জার্মানরা সকালের নাস্তা বা রাতে রুটির সাথেও মাংসের সসেজ বা মাংসের স্লাইস খান৷ এছাড়া, বিভিন্ন দোকানে, ক্যাফেতে নানা ধরনের রুটির মধ্যে ‘স্যান্ডউইচ’ আকারে মাংস ভরে খাবারও চল আছে জার্মানিতে৷

ড্যোনার কাবাব

জার্মানিতে অনেক তুর্কি রেস্তোরাঁ আছে এবং এসব রেস্তোরাঁর বেশিরভাগ খাবারই মাংস দিয়ে তৈরি৷ বিশেষ করে ‘ড্যোনার কাবাব’ তরুণদের কাছে বেশ প্রিয়৷ এটা একরকম পাতলা রুটির মধ্যে সবজি এবং গ্রিল করা মাংস দিয়ে তৈরি করে হয়৷ বলা বাহুল্য, জার্মানিতে ৪০ লাখ মুসলমানের বাস, যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই এসেছেন তুরস্ক থেকে৷

হালাল মাংস

জার্মানিতে তুর্কি দোকানগুলোতে হালাল মাংসও পাওয়া যায়৷ সেসব দোকানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলমানসহ জার্মানরাও মাংস কেনেন৷